Tag: এনসিপি

  • মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা, কিন্তু সহিংসতা থামছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা, কিন্তু সহিংসতা থামছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এবিএনএ: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব কালচার’ বন্ধে সরকারের ঘোষণার পরও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এক পীরকে হত্যার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    শনিবার রাতে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধান পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছে। দলটির মতে, এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

    আদালতের বদলে ‘মব বিচার’ নিয়ে উদ্বেগ

    এনসিপি বলেছে, ধর্ম অবমাননা বা সংবেদনশীল যেকোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু এ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। অতীতেও রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর পর হামলা

    দলটির দাবি, নিহত পীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর দুপুরের দিকে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম ব্যবস্থা নিতে পারেনি—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি।

    সরকারের দ্বৈত অবস্থানের অভিযোগ

    এনসিপি অভিযোগ করেছে, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত পক্ষের কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ চাপের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার উদাহরণও তুলে ধরা হয়।

    দলটির মতে, ‘মব কালচার’ শব্দটি এখন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

    বিবৃতির শেষে এনসিপি বলেছে, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে না এবং দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক দল ও প্রতীকের উপস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্যমতে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫০টি নিবন্ধিত দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২০২৮ জন প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

    ভোটাররা এবার ব্যালটে দেখতে পাবেন ১১৯টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ পরিচিত প্রতীকের পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে—যা নির্বাচনী ইতিহাসে আরেকটি ব্যতিক্রমী সংযোজন।

    নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বর্জনের চিত্র
    বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি ভোটে নেই। নিবন্ধিত আরও আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ইসির তালিকা অনুযায়ী সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী নেই।

    ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেখানে ২৮টি দল ও ৬৯টি প্রতীক ছিল, সেখানে এবারের অংশগ্রহণ ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ—যা ভোটের মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

    প্রার্থী বিন্যাস ও দলীয় শক্তিমত্তা
    ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লায় ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙলে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
    এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের ট্রাকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তেতে ৬৫ জন, বাসদের মইয়ে ৩৯ জন, খেলাফত মজলিসের রিকশায় ৩৪ জন, এনসিপির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির ঈগলে ৩০ জনসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

    ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের কথা বললেও চূড়ান্ত তালিকায় জাসদের ছয়জন প্রার্থীর নাম দেখা যাচ্ছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

    সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে ফিরে দেখা
    স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বারবার বদলেছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নানা সময় বর্জন, বিতর্ক ও অংশগ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।

    সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক দল, প্রতীক ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

  • ফেরি উদ্বোধন ঘিরে হাতিয়ায় উত্তেজনা: বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নলচিরা, আহত অন্তত ১০

    ফেরি উদ্বোধন ঘিরে হাতিয়ায় উত্তেজনা: বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নলচিরা, আহত অন্তত ১০

    এবিএনএ: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি চলাচল উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নলচিরা ঘাট এলাকায় এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরি চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঘাট এলাকায় জড়ো হন। উদ্বোধনের কৃতিত্ব কে নেবেন—এ নিয়ে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুরো নলচিরা ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন জানান, ফেরি চালুর কৃতিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একদল আরেক দলকে এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে সংঘর্ষ বাধে, এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়া থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    অন্যদিকে বিএনপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম দাবি করেন, এনসিপির লোকজনই বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এবার উন্মুক্ত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওমর ফারুকের মা রুবি আক্তার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে তিনি এ দাবি জানান।

    চট্টগ্রামে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচনী সফরকালে বোয়ালখালীর ফুলতলায় আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে রুবি আক্তার বলেন, এই আসনে দলীয় হিসাবের চেয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এলাকার মানুষ যাকে চেনে ও বিশ্বাস করে, তাকেই ভোট দিতে চায়।

    এই দাবি উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ১০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জোটের ভেতরে ও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা শুরু হয়।

    মনোনয়ন যাচাইয়ে জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিস—এই তিন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে খেলাফত মজলিস প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এনসিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    যদিও পরে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তবু মাঠপর্যায়ে আবু নাছেরের সমর্থকদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকে। এতে ভোটের সমীকরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় ডা. আবু নাছের একজন পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণায় এনসিপির প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন বলেই আলোচনা চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবি আক্তার বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কখনো বিক্রি হয়নি এবং স্থানীয় মানুষের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জোটের ভোটের হিসাব সীমিত হলেও স্থানীয় ভোটই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

    এদিকে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ দাবি করেন, জোট ঐক্যবদ্ধ থাকলে আসন ধরে রাখা সম্ভব। তবে রুবি আক্তারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত না কি স্থানীয় জনগণের রায়।

  • বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন ক্রমেই একপেশে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার (১৯ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে। সরকার সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই পরিবেশ এখনও দৃশ্যমান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে সংবিধান ও আইন স্পষ্ট থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের—নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব তৈরি, আগাম প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কমিশনের আচরণ পক্ষপাতমূলক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

    গণভোটের পক্ষে প্রচারণাকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তা বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পোস্টার, ফেস্টুন, শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আগের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো এবারও দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি এনসিপির প্রার্থীদের শো-কজ নোটিশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    এনসিপির নেতারা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা স্পষ্ট করে জানান, কোনো পরিকল্পিত বা ইঞ্জিনিয়ারড নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের মানুষ ২০০৮ সালের মতো নয়, বরং ১৯৯১ সালের মতো অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

  • ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী সমঝোতা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নবগঠিত দল এনসিপিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। দলটির দাবি অনুযায়ী আসন না পেলে তারা জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচনী সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত এনসিপিকে ৩০টির মতো আসন ছাড়তে প্রস্তুত হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি আসন দিতে নারাজ। আগে যেখানে জামায়াত ১৮০ থেকে ১৯০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে এখন দলটি অন্তত ২০০ আসনে নিজস্ব প্রতীক দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রাখতে চায়।

    ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের পরিকল্পনা ছিল ১২ জানুয়ারি একযোগে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা। তবে আসন বণ্টনে ঐকমত্য না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব দল একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করবে।

    তবে জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আলোচনার বদলে জটিলতাই বাড়ছে। ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি এবি পার্টিও পর্যাপ্ত আসন না পেলে জোটে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

    জামায়াত সূত্র জানায়, এনসিপির পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছে। চরমোনাই পীরের দল শুরুতে ১৫০ আসন চাইলেও ধাপে ধাপে কমিয়ে এখন ৭০ আসনের নিচে নামতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।

    জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন পাবে ৪০টি আসন, এনসিপি ২৮ থেকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৪টি, এলডিপি ও খেলাফত মজলিস পাঁচটি করে এবং এবি পার্টি তিনটি আসন। বাকি প্রায় ২০০ আসনে জামায়াত নিজেই প্রার্থী দেবে।

    এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করছেন, জামায়াত তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে আসন ছাড়ছে না। বরং যেসব এলাকায় জামায়াত দুর্বল, সেসব আসনই চরমোনাইকে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত নিজের শক্ত অবস্থান থাকা এলাকাতেও এনসিপিকে ছাড় দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনে তারা এককভাবেও নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, এনসিপিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

    জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এনসিপির জনসমর্থন তাদের জরিপে প্রায় ৭ শতাংশ। সাংগঠনিক শক্তি না থাকায় এই ভোট বিএনপিতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জামায়াত নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে এনসিপিকে শক্ত অবস্থানে আনতে চায়।

    এদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ৩০ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের সমঝোতা মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে।

    মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এর আগেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলগুলোকে। না হলে ইসলামপন্থি এই বৃহৎ জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি দল। নতুনভাবে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দুই দলের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ সময় এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে তারা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এনসিপি নিজস্ব উদ্যোগে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলেও জানান তিনি।

    জোটের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসন নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি শেষ সময়ে যোগ দেওয়ায় কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে, তবে মনোনয়নপত্র জমার পর আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে জোট কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

    এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যার দিকে দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মাধ্যম এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ডা. তাসনিম জারা জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাঁরা তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন, তাঁদের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কারও অর্থ রাখার নৈতিক অধিকার তাঁর নেই।

    শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জারা লেখেন, সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কোনো দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েই তিনি পদত্যাগ করেন। ঢাকা-৯ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ডা. তাসনিম জারার নাম আলোচনায় থাকলেও পদত্যাগের ফলে সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। বিকল্প হিসেবে হুমায়রা নুরকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে, যদিও ওই আসন জামায়াত ছাড়বে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

    দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নারী নেতা জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এই তালিকায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ দলীয় নেতৃত্বের কাছে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

    ডা. তাসনিম জারা জানান, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষর সংগ্রহের আহ্বানও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তিনি গণচাঁদার মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন তিনি। বিকাশে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য একটি ফর্ম পূরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অনুদানের ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়া জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করে ৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট কিংবা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি নীতিগত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।

    শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, দলের ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে’ সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার আলোচনা দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কৌশলগত সুবিধার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছরে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নারী নেত্রীদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

    এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    নেতারা আরও বলেন, এনসিপি একটি গণঅভ্যুত্থান-উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় বহন করে। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের সমর্থকভিত্তি ক্ষয় হবে।

    চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

    স্মারকলিপির শেষে তারা সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যৎ জোটনীতি নির্ধারণে নীতিগত প্রশ্নগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে।

  • ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে দেশে সহিংসতা, বিভাজন ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে দলটি জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে জামায়াতের ভূমিকা উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

    বিবৃতিটি পাঠান এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। এতে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার যে প্রমাণ-ভিত্তিক বক্তব্য দেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত।

    এনসিপি দাবি করে, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৭ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষের সময় গুলি চালানো তুষার মণ্ডলের পরিচয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে—তিনি জামায়াতের কর্মী। তাকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করে এনসিপি।

    দলটি আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও জামায়াত সেই পথ অনুসরণ না করে পুরোনো সহিংসতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাইছে। নতুন রূপে ‘সহিংস খেলায়’ অংশ নিতে চাইছে—যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অশুভ সংকেত।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মের অপব্যবহার, অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি ও সংঘাত সৃষ্টি—এসবই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করে এনসিপি। পাশাপাশি তারা জামায়াতকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

    এর আগে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন—নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো কিছু দল অস্ত্রের মহড়ায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রোববার এক প্রতিক্রিয়া বিবৃতিতে জামায়াত এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া, অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করে এবং আখতার হোসেনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।