Tag: আন্তর্জাতিক খবর

  • মানবিক সিদ্ধান্ত জার্মানির: পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ আফগান শরণার্থী পাচ্ছেন আশ্রয়

    মানবিক সিদ্ধান্ত জার্মানির: পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ আফগান শরণার্থী পাচ্ছেন আশ্রয়

    এবিএনএ: পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ জন আফগান শরণার্থীকে জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা এসব শরণার্থীর জন্য আশার আলো দেখলো মানবিক আশ্রয় প্রক্রিয়া।

    জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট স্থানীয় সময় ১৮ ডিসেম্বর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থায়ীভাবে ভর্তির অনুমোদন পাওয়া আফগান শরণার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব জার্মানিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই অধিকাংশ মামলার প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, এই শরণার্থীরা পূর্ববর্তী সরকারের একটি বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে কর্মসূচি স্থগিত থাকায় তারা পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

    এর আগে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রায় ৬৫০ জনকে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বসবাসের দাবি প্রত্যাহারের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যদিও অল্পসংখ্যক মানুষ এতে সম্মতি জানান।

    এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ২৫০টির বেশি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৮০০ আফগান নাগরিক এখনো পাকিস্তানে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন। এসব সংস্থা দ্রুত তাদের জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে যে বার্তা দিল ভারত, জানাল উদ্বেগ ও অবস্থান

    বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে যে বার্তা দিল ভারত, জানাল উদ্বেগ ও অবস্থান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে তাকে ডেকে পাঠানো হয়। পরে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারত জানায়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকের সময় বাংলাদেশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হাইকমিশনারকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে ‘কিছু গোষ্ঠীর’ তৎপরতা নিয়েও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

    ভারতের দাবি, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে কয়েকজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লি যথেষ্ট সতর্ক বলে জানানো হয়।

    এ ছাড়া সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে ঘিরে একটি পক্ষ যে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়ানোর চেষ্টা করছে, ভারত তা নাকচ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যৌথ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে। ভারত বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে এবং অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করা হয়।

  • ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ:  ফিলিস্তিনের পাসপোর্টধারী নাগরিকসহ আরও সাতটি দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং তথ্য বিনিময়ে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় ও জননিরাপত্তা সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এর আগেও গত নভেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। ওই তালিকায় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কিউবা, ইরান, হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    পরে ৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ করে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নতুন করে যুক্ত দেশগুলোর নাম তখন প্রকাশ করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং সাতটি দেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়, যা এখনো বহাল আছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১৫টি দেশের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে নাইজেরিয়াও রয়েছে।

    ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পর এসব সিদ্ধান্ত আরও কঠোর হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা ট্রাম্পের: তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

    অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা ট্রাম্পের: তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিবাসন নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হতে পারে। শুধু তাই নয়, যারা এখনো মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেনি, তাদের জন্য ফেডারেল সুবিধা ও সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাতেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তবে কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়িত হবে— সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ট্রাম্পের পূর্বে করা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আদালত এবং কংগ্রেসে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।

    এর আগে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পরই অভিবাসন স্থগিতের বিষয়ে নতুন বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসি জানায়, তাঁর পোস্টে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো কোনগুলো তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণ ধারণায় ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে দরিদ্র, অস্থিতিশীল ও কম মানব উন্নয়ন সূচকসম্পন্ন দেশগুলোকে বোঝানো হয়।

    ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, মানব উন্নয়ন সূচকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ ও নাইজার। এ তালিকায় উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    হোয়াইট হাউসের ঘটনার পর আটক হয়েছেন একজন আফগান নাগরিক। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধায় দেশে প্রবেশ করা আফগান নাগরিকদের অভিবাসন আবেদনও ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, “যারা আমাদের দেশের জন্য কল্যাণকর নয়, তাদের দেশ ছাড়তে হবে।”

    গ্রিন কার্ড পুনর্বিবেচনায় ১৯ দেশ
    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের দেওয়া গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার প্রধান জোসেফ এডলো জানিয়েছেন, উদ্বেগজনক দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড যাচাই করতে প্রেসিডেন্ট বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

    অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, গত জুনে হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় যে দেশগুলোর নাম উল্লেখ ছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ।