Tag: আওয়ামী লীগ

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে নিহত ৩

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত লং মার্চ ও সমাবেশ ঘিরে চরম সহিংসতায় রূপ নেয় পরিস্থিতি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রশাসন জারি করেছে কারফিউ, মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যখন সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে নিহতরা হলেন—ইমন তালুকদার (১৮), রমজান কাজী (২২) ও দীপ্ত সাহা (২৫)। নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল।

    হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শহরের লঞ্চঘাট এলাকা, যেখানে দুপুর তিনটার দিকে গাড়িবহর অবরুদ্ধ করে হামলা হয়। এনসিপির সমাবেশের মঞ্চে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ইউএনওর গাড়িবহরেও হামলা চালানো হয়েছে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী মাঠে নামলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রশাসন সন্ধ্যা ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে এবং শহরজুড়ে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, পুরো গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে চলছে সংঘর্ষ, রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে গাছের গুঁড়ি ও ব্যারিকেড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির শীর্ষ নেতারা আপাতত নিরাপত্তার কারণে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

    উল্লেখ্য, জুলাই মাসজুড়ে পদযাত্রা ও গণসমাবেশের কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে এনসিপি। গোপালগঞ্জ ছিল তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    🔴 সাম্প্রতিক এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং ঘোষণা করেছে কারফিউ।

    নিহত দুইজন হলেন—উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫) এবং কোটালীপাড়া উপজেলার রমজান কাজী (১৮)। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিকেলে তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং উভয়েই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

    তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের অস্ত্রোপচার চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার দুপুর ২টার দিকে এনসিপির সভা শেষে গাড়িবহর যখন লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছায়। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এর আগে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে পৌর পার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    সমাবেশ কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোসহ ইউএনও’র গাড়িবহরেও হামলার ঘটনা ঘটে।

    জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরো গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাত ৮টা থেকে পরদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই কারফিউ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় শহরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি।

    এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

  • আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রে দেশে নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে: ফখরুলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রে দেশে নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে: ফখরুলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে সহিংস হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী দোসররা এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, দেশের ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতার পরিবেশকে অশান্ত করতে কিছু দুষ্কৃতিকারী নাশকতার পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, “এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনও’র গাড়িতে হামলা—সবই একটি সুপরিকল্পিত অরাজকতার অংশ।”

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্যমতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সেই অপশক্তি, যারা অতীতে স্বৈরশাসন চালিয়েছে এবং এখন আবারও ফায়দা লুটতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে আওয়ামী দোসররা অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে এখনই দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”

    মির্জা ফখরুল দাবি জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

  • শাহবাগ মোড় অবরোধে থমকে গেল ঢাকা, এনসিপির প্রতিবাদে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

    শাহবাগ মোড় অবরোধে থমকে গেল ঢাকা, এনসিপির প্রতিবাদে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এর ফলে বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার পর থেকে শাহবাগ এলাকায় সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় চরম যানজট।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে এনসিপির নেতাকর্মীরা হঠাৎ শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। তারা প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন, এতে বন্ধ হয়ে যায় শাহবাগ-মতিঝিল, শাহবাগ-ধানমন্ডি, শাহবাগ-নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যান চলাচল।

    বিক্ষোভকারীরা জানান, গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ লং মার্চ ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে গাড়িগুলোর ক্ষতি হয় এবং নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হামলার জন্য আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে এনসিপি।

    স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অতিরিক্ত ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শাহবাগে অবস্থানরত এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

    এই ঘটনায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহিংসতা রোধে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী সংঘাতে শহর রণক্ষেত্র

    গোপালগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী সংঘাতে শহর রণক্ষেত্র

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর লং মার্চ শেষে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা। এই ঘটনায় গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা, সৃষ্টি হয় রণক্ষেত্রের পরিবেশ।

    বুধবার বিকাল ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এই হামলার সূত্রপাত হয়। সড়ক অবরোধ করে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এনসিপির সমাবেশস্থলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    জুলাই মাসব্যাপী এনসিপি দেশের বিভিন্ন জেলায় লং মার্চ ও পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে আজ তারা গোপালগঞ্জে একটি লং মার্চ ও সমাবেশ করে। তবে শান্তিপূর্ণ সেই কর্মসূচির পরেই শুরু হয় সহিংসতা, যার জেরে পুরো শহরজুড়ে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যাতে করে কোনো ধরনের জনসমাগম না ঘটে এবং সংঘর্ষ আর না বাড়ে।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

  • নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের সঠিক ধারায় ফিরে আসা দরকার। বুধবার সকালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ-কে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে বিএনপি। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রে যাত্রার পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন সকল রাজনৈতিক দলকে মিলেই দেশের জন্য সঠিক পথ খুঁজে নিতে হবে। যত দ্রুত নির্বাচনমুখী ট্র্যাকে দেশ ফিরবে, ততই মঙ্গল।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা ভুল। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন না হলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে। আর সে কারণেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি। নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়, বরং দুটি একসাথে চলতে পারে।”

    এক প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ‘ফ্যাসিস্ট’ পন্থায় দেশ চালাচ্ছে এবং বিএনপি হচ্ছে সেই শাসনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম। তিনি বলেন, “আমার নামে রয়েছে ১১২টি মামলা, আমি ১৩ বার জেলে গিয়েছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

    শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে ফখরুল বলেন, “আমি মনে করি, শেখ হাসিনা হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে এবং যারা গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। প্রয়োজনে দলগতভাবে বিচার হওয়াও সময়ের দাবি।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়, শান্তি চায়, গণতন্ত্র চায়। এ জন্য একটি নির্বাচিত সরকার দরকার, যে সরকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, জবাবদিহিতার জায়গায় দাঁড়াবে।

  • গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একমাত্র পথ সুষ্ঠু নির্বাচন: খন্দকার মোশাররফ

    গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একমাত্র পথ সুষ্ঠু নির্বাচন: খন্দকার মোশাররফ

    এবিএনএ, ঢাকা :

    দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, “এই সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে নির্ধারিত সময়ে জনগণের সরকার গঠনে নির্বাচন দিতে হবে।”

    শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়। তাই শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে আমাদের শপথ নিতে হবে—এ দেশে একটি জনগণের সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে।”

    জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “শহীদ জিয়া দেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা করেছিলেন এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। বিএনপি তারই গঠিত আদর্শিক দল।”

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে গুম-খুন, নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েও সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার বারবার কোণঠাসা হয়েছে। অথচ খালেদা জিয়া আজো দেশের মাটিতে আছেন এবং তিনি এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যায় না। জনগণের কণ্ঠরোধ করা যায় না। তাই এখনই সময় সঠিক পথে ফিরে আসার—নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার।”

    এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বিএনপি আগামী দিনের রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে চায়।

  • নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “আমরা কখনোই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু সরকার নাটক করে পদত্যাগ দেখিয়ে পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ সরকার, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এজন্য সবাইকে একসাথে হতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে এক নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ।”

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে “তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। কিন্তু সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিরোধী ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দুর্নীতি আমরা ভুলে যাচ্ছি। অথচ গণতন্ত্রের জন্য আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখনই সময় একজোট হওয়ার।”

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সালাহউদ্দিন বলেন, “ব্রিটিশ আমলে ২০০ বছরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যত সম্পদ লুট করেছে, আওয়ামী লীগ তার চেয়েও বেশি লুটপাট করেছে। তারা ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, ব্যাংক থেকে ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে, এবং বিদ্যুৎ ও ব্যাংক খাতেও ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে ৩৬টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে তারা নাকি বিদেশি এজেন্ট। আসলে এসব কথা বলছে তারাই, যারা গণতন্ত্র ও পরিবর্তনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    তারুণ্যের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
    বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

    এই সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে একটাই বার্তা—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

  • ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন চায় বিএনপি

    ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন চায় বিএনপি

    এবিএনএ: 

    ডিসেম্বরে মধ্যে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য পরিষ্কার রোডম্যাপ চেয়ে এবং বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।

    বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। আলোচনার জন্য পূর্বে কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা জানানো হয়নি, তবে আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে একটি লিখিত প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছি।”

    তিনি আরও জানান, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রূপরেখা দাবি করে আসছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দেওয়া জরুরি।”

    বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীরা বহুমাত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড. মোশাররফ বলেন, “বিচারের প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে আগামীতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিচার করা হবে।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।

    স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি, এখন উনারা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে আশা করছি।”

    অন্যদিকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, “সব পক্ষ সংস্কার নিয়ে একমত হয়েছে, এটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।”

    ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন – এই তিনটি বিষয় আলাদা। একটির সঙ্গেও অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক নেই।”

    এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল, ডিবির হাতে আটক ১১ আওয়ামী কর্মী

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল, ডিবির হাতে আটক ১১ আওয়ামী কর্মী

    এবিএনএ: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকার গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রবিবার এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে দলটির ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, গুলিস্তানে আচমকা মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী। আইন ভঙ্গ করায় ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    প্রসঙ্গত, ছাত্র সাধারণ জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, চলতি বছরের ১২ মে সরকার একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ তাদের সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির যেকোনো প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি, সভা-সমাবেশ, মিছিল, কিংবা সম্মেলনের আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে মিছিল করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে। এমন ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পর যেকোনো ধরণের সংগঠনবদ্ধ কার্যকলাপ অপরাধের শামিল এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

    ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকার নিষিদ্ধ সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনার নতুন রূপ নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।