Tag: আওয়ামী লীগ

  • বাংলামোটরে আওয়ামী লীগের মিছিল, মোটরসাইকেলসহ আটক ৬

    বাংলামোটরে আওয়ামী লীগের মিছিল, মোটরসাইকেলসহ আটক ৬

    এবিএনএ:  রাজধানীর বাংলামোটরে আকস্মিকভাবে মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে মিছিল শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া শতাধিক নেতাকর্মী স্লোগান দেন—‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।

    পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। তিনি জানান, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিকেল ৩টার দিকে মিছিল বের করে। সেখান থেকে মোটরসাইকেলসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের রমনা থানায় নেওয়া হয়েছে।”

    পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    ডাকসু নির্বাচনে আঁতাতের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ-শিবিরকে দায় দিলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় জামায়াত শিবির বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, ছাত্রলীগের ভোট জামায়াতকে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় প্রয়াত বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “ডাকসুর নির্বাচনে বিএনপি হেরেছে বলা যেতে পারে। কিন্তু আমি বলতে চাই, এত ভোট জামায়াত কোথা থেকে পেল? আসলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমেই ছাত্রলীগের ভোট তারা নিয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডাকসুর নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ২০০৮ সালের মতো আবারও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। তখন যেমন হয়েছিল, এবারও তাই ঘটেছে। জামায়াত একটি ‘মোনাফেকের দল’, অথচ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আঁতাত থেকেই এসব সম্ভব হয়েছে।”

    নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “যেভাবেই হোক তারা জয়ী হয়েছে। আমি এই কমিটিকে স্বাগত জানাই। আশা করি তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”

    আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা সবসময় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে চায়। আজও সেই ষড়যন্ত্র চলছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অথচ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ আছে শুধু বিএনপির হাতেই।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

  • মান্নার কড়া মন্তব্য: ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ টালমাটাল, সুশাসনের পথে সংগ্রাম অব্যাহত

    মান্নার কড়া মন্তব্য: ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ টালমাটাল, সুশাসনের পথে সংগ্রাম অব্যাহত

    এবিএনএ:  নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ভোটের রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধি ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পারলেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

    সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক ঐক্যের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মান্না বলেন, পুলিশের আচরণেও বৈষম্য দেখা যায়। নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীদের অন্যায় দেখলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে দ্বিধা করে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রশাসন যাকে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি মনে করে, তাকেই আগেভাগে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন দফায় নির্বাচনের নামে দেশে যা হয়েছে, তাতে মানুষের ভোটাধিকার হরণ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা জনগণের ভোটাধিকারকে তামাশায় পরিণত করেছেন এবং আগের রাতে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা নাগরিক ঐক্যের নেত্রী রাজিয়া সুলতানা ইভা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার সজীব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমান সাগর, মামুনুর রশিদ, মকুল হাসান বাবু, আলিফ হোসেন ও রাজ বাহাদুরসহ স্থানীয় নেতারা।

    কর্মী সভা শেষে মান্না তার নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) এর বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন।

  • একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    এবিএনএ: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। অন্যদিকে আসামি পক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে মঙ্গলবারও একই বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে বিষয়টি আজকের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছিল।

    এ বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত তখন বলেন, মামলাটি আইনগতভাবে টেকসই ছিল না এবং অভিযোগপত্রটি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

    পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ১ জুন আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দেয়।

    উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

    ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে খালাস দেন।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চলছে, যা মামলার ভবিষ্যৎ বিচারিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ঢাকা জেলা জাপার মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন।

    জি এম কাদের বলেন, “যখন আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। একইভাবে বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।”

    তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় অংশ নিয়ে জাপা ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। এবারও চাপের মুখে দলকে কঠিন অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই মাসে আদালত তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বললেও সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তিনি পুনরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরেছেন।

    সভায় জাপা চেয়ারম্যান দাবি করেন, তিনিই জুলাইয়ের আন্দোলনকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

    সম্প্রতি ৯ আগস্ট, দল থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আলাদা কাউন্সিল ডেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন।

    এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, “সরকারের দমন-পীড়নে থেমে যাব না। লাঙ্গল প্রতীক অন্য কাউকে দিলে রাজপথে আন্দোলন করব। জনগণের স্বার্থে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব।”

    সভায় জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    এবিএনএ: রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পূর্বতন কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এখন নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ফিরছে আলোচনায়। প্রায় এক বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা ১০ তলা ভবনটির দেয়ালে এবার স্থান পেয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার।

    গত বুধবার থেকে ভবনটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভবনটিতে অন্তত ১০-১২ জন শ্রমিককে বিভিন্ন তলায় পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, পুরো ভবন পরিষ্কার করে হস্তান্তর করা হবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের হাতে।

    ভবনের সামনে বেশ কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায় এবং আগ্রহী পথচারীরা ভবনটির ছবি তুলছেন। তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া, দোতলার আবর্জনা ও অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

    পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত কয়েকজন জানান, ভবনটি গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ও শহীদ পরিবারের দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে। তবে ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ বিষয়ে তারা কিছু জানাতে রাজি হননি, বলেন— কীভাবে ভবনটি ব্যবহার হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গুলিস্তানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর থেকে ভবনটি কার্যত বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। ভাসমান মানুষ ও রিকশাচালকদের শৌচাগার ও আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছিল জায়গাটি।

    এরই মাঝে কিছু মাস আগে ‘জুলাই যোদ্ধাদের প্রধান কার্যালয়’ ব্যানার টাঙানো হলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবার নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা শুরু হওয়ায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

    জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটিতে ছিল সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

    পরিত্যক্ত ভবনের পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন কৌতূহলী, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও এটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে— ভবিষ্যতে এই কার্যালয়ের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় নতুন ২ মামলা, আসামি সংখ্যা ছুঁল ৯ হাজার ৮৫০

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া থানায় এই মামলাগুলো দায়ের করেছে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।

    সর্বমোট মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫০ জনকে। এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ৩১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

    মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় বাদী হয়েছেন জেলার বাসিন্দা তানিয়া জামান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    এ মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্ল্যা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০০ থেকে ১,০০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এমএম নাসির আহম্মেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম জুলকদর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মুনির হিটলার, সাবেক জিপি দেলোয়ার হোসেন সরদার, জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু এবং মুকসুদপুরের সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল।

    এছাড়াও কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও ওড়াকান্দি এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার নামও এজাহারে রয়েছে। মামলার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলা ও উচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

  • গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউ আরও একদিন বাড়ানো হলো

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ না কাটায় ফের বাড়ানো হয়েছে কারফিউ। শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ কার্যকর থাকবে বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে শনিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল থাকবে, তবে শহরের রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল এখনো সীমিত।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির একটি পদযাত্রা কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ওই সংঘর্ষে গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওইদিনের সংঘর্ষে ৫ ঘণ্টার ভেতর প্রাণ হারান অন্তত চারজন, যাদের একজন বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মারা যান।

    সংঘর্ষের সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এরপর বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত থাকায় সরকার কারফিউ তুলে না নিয়ে তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার বিরতি দিয়ে কারফিউ জারি থাকে। এরপর বিকালে আবারও কারফিউ বাড়িয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আংশিক শিথিলতা থাকলেও, রাত ৮টার পর পুনরায় কঠোর কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

  • কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫০০, গ্রেপ্তার ১২

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও প্রাণহানির পরদিন কোটালীপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে দেড় হাজার নেতাকর্মীকে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কোটালীপাড়া থানার এসআই উত্তম কুমার সেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এতে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১ হাজার ৩৪৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল আলিম, মহিবউল্লাহ শেখ, সিরাজুল শেখ, দীপ্ত কাজী, প্রিন্স অধিকারী, মোরশালিন মুন্সী, রিফাত বিশ্বাস, সাগর শেখ, মানিক শেখ, সজল দাড়িয়া, আব্দুল হাকিম ও টুটুল হাওলাদার।

    তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ওয়াবদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়েছে।

    এর আগে বুধবার গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পদযাত্রা চলাকালে সংঘর্ষে প্রাণ হারান পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল রানা, ইমন এবং রিকশাচালক রমজান মুন্সী।

    সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপিনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ আলী আরও একটি মামলা করেন, যাতে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবারও কারফিউ কার্যকর রাখা হয়।

    স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে পুরো এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রশাসন বলছে, শান্তি বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও ৯০ জন গ্রেপ্তার, অভিযান অব্যাহত

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতভর মুকসুদপুর ও কাশিয়ানি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ।

    তিনি জানান, কাশিয়ানির সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ২৪ জন, মুকসুদপুর এলাকায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জনকে সদর থানার একটি মামলায়, ২০ জনকে কাশিয়ানির মামলায় এবং বাকি ১০ জনকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    এদিকে সদর থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, তাঁদের থানার দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির গোপালগঞ্জ সমাবেশ শুরুর আগেই শহরের পৌর পার্কে দলটির মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা চেয়ার ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কড়া নজরদারির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন থানায় নতুন করে আরও মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।