নির্বাচনের আগেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, ‘বায়াসড’ অভিযোগে সরব রুমিন ফারহানা

এবিএনএ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসন আগেভাগেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, তাঁকে যেসব অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা না শুনেই একাধিকবার শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো কর্মকর্তার প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেননি; বরং একটি বক্তব্য বোঝাতে উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “যদি প্রশাসন শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে সেই প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?” তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শোকসভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে প্রকাশ্যে সমাবেশ করছে, মাইক ও স্টেজ ব্যবহার করছে, এমনকি খাবারের আয়োজনও করছে—কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন—কার বিরুদ্ধে কী পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দেবেন। তিনি দাবি করেন, প্রচার শুরু হওয়ার আগেই এ ধরনের নোটিশ আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বড় সমাবেশ আয়োজনের সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে জরিমানাও করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রুমিন ফারহানা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—যার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *