Tag: নির্বাচন ২০২৬

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জমা দেওয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন।

    যাচাই শেষে বিএনপির দাখিল করা সব প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর ফলে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে দলটির পূর্ণ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছে।

    বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গেল দলটি।

  • ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ: ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।

    পাটওয়ারীর অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও কেন্দ্র এলাকায় বহিরাগতদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর পরিকল্পিতভাবে তাকে ঘিরে ধরে প্রতিপক্ষের একদল কর্মী উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং হামলার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত।

    তিনি বলেন, কেন্দ্র এলাকায় প্রবেশের পর তার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করা হয় এবং একটি পক্ষ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও জানান, দুটি ভোটকেন্দ্রকে তিনি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন। তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন।

    ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় না পেয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

  • বাগেরহাটে ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৯

    বাগেরহাটে ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৯

    এবিএনএ, বাগেরহাট :  বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর সাউথখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর সোনাতলা গ্রামে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে জামায়াতের সাব্বির, তরিকুল, সোবহান, নাজমা ও ফরিদাসহ ১৫ জন এবং বিএনপির রফিকুল ও ছিদ্দিকসহ ৪ জন রয়েছে। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    একই সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ নাহিদ নামে এক যুবককে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তার কাছ থেকে রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও হাড়িখালী কাঠের পোল এলাকার ফার্নিচারের দোকান থেকে ছয়টি হাসুয়া, তিনটি করাত, তিনটি চাকু, একটি বড় হাতুড়ি ও সাতটি লোহার হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

    লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রউফ বলেন, আসন্ন নির্বাচনের সময় নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

    পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী জানান, কেউ কোনো ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন বলেন, “শরণখোলায় ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে, তবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।”

  • ঢাকা-১৭ আসনে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে

    ঢাকা-১৭ আসনে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে

    এবিএনএ: ঢাকা-১৭ আসনের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাচনী উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মফিজুল ইসলাম নামের এক ভোট এজেন্ট জানান, সকাল থেকেই কেন্দ্রের ভিতরে একটি পক্ষ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছিল। কেন্দ্রের ভেতরে বিএনপির চারজন এজেন্ট ছিলেন। প্রাথমিকভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে বিষয়টি পুলিশের এবং সেনাবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

    তবে, কেন্দ্রের ১০০ গজের ভেতরে বিএনপির বুথ অব্যাহত থাকা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।

    প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়নি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আমি ভোটকেন্দ্র মনিটর করছি এবং ভোটের পরিবেশ অনেক ভালো রয়েছে।”

    এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন।

  • যশোরে ভোটকেন্দ্রে অফিসিয়াল সিল চুরি, ভোটারদের লাইনে অপেক্ষা দীর্ঘ

    যশোরে ভোটকেন্দ্রে অফিসিয়াল সিল চুরি, ভোটারদের লাইনে অপেক্ষা দীর্ঘ

    এবিএনএ, যশোর: যশোরের রেল রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি অফিসিয়াল সিল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী বুথের ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভোটাররা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও কেন্দ্রের ভোটাররা জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার সময় একজন নারী ভোটার সুযোগ বুঝে সিলটি কেন্দ্র থেকে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিল নিখোঁজ হওয়ার কারণে নারী বুথে ভোটগ্রহণ কিছুক্ষণ থমকে যায়। এর ফলে কেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

    কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সিল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পরপরই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছি। কিছু সময় ভোটগ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল, তবে বিকল্প সিল আনার পর ভোট কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে।”

    বিজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষকরা জানান, এমন পরিস্থিতি ভোটগ্রহণে স্বাভাবিক গতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে বর্তমানে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় ভোটগ্রহণ চালাচ্ছে। ভোটাররা জানিয়েছেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন যাতে ভোটাভুটির সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।

  • নৌকাবিহীন ব্যালটে আওয়ামী লীগের ‘কৌশলী ভোট’ হতে পারে নির্বাচন নির্ধারক

    নৌকাবিহীন ব্যালটে আওয়ামী লীগের ‘কৌশলী ভোট’ হতে পারে নির্বাচন নির্ধারক

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে বৃহস্পতিবার, যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনকাল শেষে আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও শীর্ষ নেতাদের বিদেশে অবস্থানের কারণে দলটি এই নির্বাচনে অনুপস্থিত। তবে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    দলের কর্মী ও সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে কৌশলী বা ট্যাকটিক্যাল ভোট দিতে পারেন। নৌকা প্রতীক না থাকায় তারা নিজেরা ভোট কাকে দেবেন তা নির্ধারণ করছেন স্থানীয় নিরাপত্তা, প্রতিহিংসার ভয় ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করার ভিত্তিতে। সামাজিক মাধ্যমে “No Boat, No Vote” প্রচারণা দেখা গেছে, তবে বাস্তবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলী ভোট বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে প্রথমবার ভোটদাতারা এবং বয়সে ৩৫–৪০-এর নিচের ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবেন। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যাতে আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্থা জাগানো যায়।

    রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রশাসনিকভাবে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হলেও পুরোপুরি দমন করা যায় না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে ভোট কেন্দ্রে অংশ নিতে পারেন। ফলস্বরূপ, বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো এই ‘অন্যায় ও অনাথ’ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে।

    খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুরের মতো traditionally আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা এবার পরিবর্তিত চিত্র呈 করছে। বিএনপি ও জামায়াতের পোস্টার দৃশ্যমান। হিন্দু ভোটারদের কিছু অংশ নিরাপত্তা আশ্বাসে বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। জামায়াতও কৌশলগতভাবে এই ভোটারদের মধ্যে সহমর্মিতার রাজনীতি ব্যবহার করছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা এবার আবেগ নয়, বরং ‘অস্তিত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা’ ভিত্তিক কৌশলী ভোট দেবেন। ভোটাররা নিশ্চিত থাকবেন যে জয়ী প্রার্থী তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাবে না। নৌকাবিহীন ব্যালটে এই ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, সেদিকেই নির্বাচনের পাল্লা ভারী হবে। তাই আগামী নির্বাচন শুধু জয়-পরাজয়ের নয়, বরং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেরও পরীক্ষা হবে।

  • অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে রাত পোহালেই। দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনী সমন্বয়ে ভোটের মাঠ নিরাপদ করছে।

    প্রায় ৮ হাজার ৭৭০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ ও আনসার সদস্য নির্বাচনের নিরাপত্তায় কাজ করছে। কেন্দ্রে স্থির, ভ্রাম্যমাণ এবং স্ট্রাইকিং টিম হিসেবে বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে, যেমন সিসি ক্যামেরা, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন।

    নির্বাচনে লাইসেন্সধারী অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া হাজারেরও বেশি অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে “মশারির মতো” নিরাপদ করার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধী বা নাশকতাকারী সুযোগ না পায়।

    ডিএমপি ২৬,৫১৫ জন সদস্য, র‍্যাব ৮ হাজার সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিজিবি দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টার, বিশেষ টহল ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে নিরাপত্তা দেবে। সেনা ও নৌবাহিনীও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে।

    নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করতে সকল বাহিনী ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত। সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে—এটি নিশ্চিত করার জন্য মাঠে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রবাসী ও ভোটারদের মনিটরিং, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং তফসিল অনুসারে নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠু রাখার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

  • ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশেষ রোবাস্ট ও মোবাইল টহলের পাশাপাশি ফুট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছে; যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে না পারলে যানবাহন জব্দও করা হচ্ছে।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল কিংবা ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহিংসতায় জড়াতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হলে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঠেকাতে মাঠে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিজিবির টহল চোখে পড়ছে—সামনে পিকআপ, পেছনে এপিসি নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে টহল দল। সেনাবাহিনীও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিয়মিত টহল চলছে, যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নেই। তবু আগাম সতর্কতায় প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেল বলছে, চেকপোস্টের পাশাপাশি মোবাইল ও ফুট পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি চলছে।

    ভোটারদের উদ্দেশে ডিএমপি আশ্বস্ত করেছে—নিরাপত্তা বাহিনী পাশে আছে। নাগরিকরা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

  • ভোটের আগেই জেনে নিন নিজের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র—ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি এক নজরে

    ভোটের আগেই জেনে নিন নিজের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র—ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি এক নজরে

    এবিএনএ: আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিজের ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানা যাবে বলে জানিয়েছে ইসি।

    ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবাগুলো ব্যবহার করে ভোটাররা কেন্দ্র খুঁজে নিতে পারবেন আগেভাগেই। এতে ভোটের দিন সময় বাঁচবে এবং বিভ্রান্তি কমবে।

    পদ্ধতি–১: Smart Election Management BD অ্যাপ
    প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে Smart Election Management BD অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন। ড্যাশবোর্ডে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের নাম-ঠিকানা দেখা যাবে।

    পদ্ধতি–২: ১০৫ হটলাইন
    যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করুন। অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ জানালে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সেবা চালু থাকবে।

    পদ্ধতি–৩: ১০৫-এ এসএমএস
    মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে।

    পদ্ধতি–৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট
    ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনু থেকে অনুসন্ধান করা যাবে। এলাকা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে, অথবা এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সরাসরি নিজের তথ্য পাওয়া যাবে। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রের অবস্থান, দূরত্ব ও যাওয়ার পথও দেখা যাবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আগেই নিজের তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

  • ভোট উপলক্ষে টানা ছুটি! কোন সেক্টরে কয় দিন বন্ধ—জেনে নিন পূর্ণ সূচি

    ভোট উপলক্ষে টানা ছুটি! কোন সেক্টরে কয় দিন বন্ধ—জেনে নিন পূর্ণ সূচি

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বিভিন্ন খাতে একাধিক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নাগরিকদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    সারা দেশে সাধারণ ছুটি
    নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চার দিনের বিরতি পাচ্ছেন।

    দোকান ও শপিং মল
    বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব দোকান, মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ থাকবে।

    শিল্পাঞ্চল ও কারখানা
    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ১০ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন কারখানায় কাজ বন্ধ থাকবে। নির্বাচন শেষে প্রয়োজনে এক দিন অতিরিক্ত কাজ করানো যেতে পারে।

    ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, ফলে এ সময় লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

    স্কুল-কলেজে ৫ দিনের ছুটি
    নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি ধর্মীয় দিবস মিলিয়ে ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে। এ সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা টানা পাঁচ দিনের বিরতি পাবেন।

    মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি
    নির্বাচনী ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির পর মাদরাসাগুলোতে রমজান, স্বাধীনতা দিবস ও ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি শুরু হবে। ফলে আলিয়া ও কওমি ধারার মাদরাসায় শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে নির্ধারিত ছুটির সময় শেষ হওয়ার পর।

    নির্বাচন ঘিরে এই দীর্ঘ ছুটি একদিকে যেমন ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করবে, তেমনি বিভিন্ন খাতে স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।