Tag: নির্বাচন ২০২৬

  • উৎসবমুখর ভোট নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা, নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    উৎসবমুখর ভোট নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা, নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    এবিএনএ: আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, প্রচারণা পর্যায়ে কোথাও কটু বক্তব্য বা অশোভন আচরণ চোখে পড়েনি, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

    শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের তার বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

    ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনকভাবে এগিয়েছে। তবে সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শতভাগ নিখুঁত করা। ভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়—এটাই মূল লক্ষ্য।

    তিনি জানান, সামনে আসা সপ্তাহটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রত্যাশা, ভোটের দিনটি হবে উৎসবের মতো। নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, পরিবারসহ মানুষ অংশ নেবে ভোটের আনন্দে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতে একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি কয়েকটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যামেরার কার্যকারিতা যাচাই করেন।

    এছাড়া নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ এখন পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি। এই অ্যাপের মাধ্যমে কোনো কেন্দ্র বা কেন্দ্রের আশপাশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে সংকেত পৌঁছে যাবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

    প্রেস সচিব আরও বলেন, অতীতে দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • ঢাকা ও তিন জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

    ঢাকা ও তিন জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ তিনটি জেলায় ব্যাপক মোতায়েন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৩৮টি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে পিলখানার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নির্বাচনকালীন মহড়া শেষে এই তথ্য জানান বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন মোতায়েন থাকবে।

    নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বিজিবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা অনুসরণ করবে। এতে করে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে এবং ভোটাররা নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

    নিরাপত্তা জোরদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশির কাজ পরিচালনার জন্য মোতায়েন থাকবে বিশেষায়িত কে-নাইন ডগ স্কোয়াড। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের আগে ও চলাকালে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হবে।

    ২৯ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনকালীন বিশেষ মোতায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে ইতিমধ্যেই দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম, কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে। বডি ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি এবং অন্যান্য সিগন্যাল সরঞ্জাম দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ব্যাটালিয়ন সদরে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

    প্রিজাইডিং অফিসার যদি সহায়তা চায় বা কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা, জাল ভোট বা পরিস্থিতির অবনতি হয়, বিজিবি সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেবে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বলেন, সরকারের, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এবারের জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন হবে।

  • বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা আজ বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করছে, তাদেরই দুই নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি তখন এতটাই খারাপ হতো, তবে তারা কেন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসকের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিষয়ে ছিলেন আপসহীন। তিনি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল, আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যারা আজ বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে তাদের মন্ত্রিত্ব বহাল থাকাই প্রমাণ করে তারা এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মিথ্যাচার করছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলে একসঙ্গে কেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রেখে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তারা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশ প্রাঙ্গণ।

  • স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষে। সে সময় তাদের ভূমিকার কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি, বরং সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছি।

    তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন চাওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছেন তারা। বিএনপি কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

    কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষিকার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং নারীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

    এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই একই দেশের নাগরিক। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

    নির্বাচনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে রাজনীতিতে নৌকা ও ধানের শীষ ছিল প্রধান প্রতীক। বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতায় নৌকা নেই, নতুন প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এসেছে। এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    গণসংযোগে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রক্তচক্ষুকে ভয় নয়, আল্লাহভীতিতেই রাজনীতি: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমানের দৃপ্ত ঘোষণা

    রক্তচক্ষুকে ভয় নয়, আল্লাহভীতিতেই রাজনীতি: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমানের দৃপ্ত ঘোষণা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে নর্থ বেঙ্গলের মৃতপ্রায় নদীগুলোর পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নদী বাঁচলে এ অঞ্চলের জীবন-জীবিকাও নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য নর্থ বেঙ্গলকে একটি শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে রূপান্তর করা। এখানকার মানুষ অযৌক্তিক কিছু চায় না—তারা শ্রমনির্ভর জীবনযাপন করে এবং ন্যায্য সুযোগ পেলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, ভয় করি একমাত্র মহান আল্লাহকে। দেশে কোনো আধিপত্যবাদী প্রভাব দেখতে চাই না। তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই—কোনো খবরদারি নয়, আবার নিজেদের ভূখণ্ডে অন্যের খবরদারিও মেনে নেওয়া হবে না।

    ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার তুলতে হবে। সেই জোয়ারে পুরোনো ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেসে যাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    সমাবেশের শেষাংশে দশ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • চাঁদাবাজির রাজনীতি আর নয়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের

    চাঁদাবাজির রাজনীতি আর নয়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: সারাদেশে বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চলমান চাঁদাবাজির সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তা সম্পূর্ণ নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ইনসাফ নিশ্চিত না হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে মিরপুর-১০ এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় করের বাইরে এক ধরনের অবৈধ ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট দোকানদার, হকার, পথচারী এমনকি ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী চাঁদা নেবে না, চাঁদা দেবে না এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না।

    বিএনপির দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের সাময়িক সহায়তা স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এসব উদ্যোগে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়, যা অতীতে বহুবার দেখা গেছে।

    ইনসাফের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজে বৈষম্য, লুটপাট ও দুঃশাসনের মূল কারণ ন্যায়বিচারের অভাব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীরা কখনোই নিরাপদে দেশ ছাড়তে পারত না।

    গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শাসনে বহু মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখনো অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    জনসভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ আর কোনো ভোট ডাকাতকে ক্ষমা করবে না। যারা নিজেদের দলের ভেতরে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন করতে পারবে, তারাই দেশকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে সক্ষম হবে।

    মিরপুর এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, খালগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মিরপুরকে একটি আদর্শ এলাকায় পরিণত করা হবে। তরুণ সমাজকে কেবল সার্টিফিকেটধারী নয়, নৈতিকতা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

  • নির্বাচনের আগেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, ‘বায়াসড’ অভিযোগে সরব রুমিন ফারহানা

    নির্বাচনের আগেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, ‘বায়াসড’ অভিযোগে সরব রুমিন ফারহানা

    এবিএনএ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসন আগেভাগেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, তাঁকে যেসব অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা না শুনেই একাধিকবার শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো কর্মকর্তার প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেননি; বরং একটি বক্তব্য বোঝাতে উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

    রুমিন ফারহানা বলেন, “যদি প্রশাসন শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে সেই প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?” তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শোকসভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে প্রকাশ্যে সমাবেশ করছে, মাইক ও স্টেজ ব্যবহার করছে, এমনকি খাবারের আয়োজনও করছে—কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন—কার বিরুদ্ধে কী পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    এদিকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দেবেন। তিনি দাবি করেন, প্রচার শুরু হওয়ার আগেই এ ধরনের নোটিশ আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    অন্যদিকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বড় সমাবেশ আয়োজনের সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে জরিমানাও করা হয়।

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রুমিন ফারহানা প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—যার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

  • ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী সমঝোতা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নবগঠিত দল এনসিপিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। দলটির দাবি অনুযায়ী আসন না পেলে তারা জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচনী সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত এনসিপিকে ৩০টির মতো আসন ছাড়তে প্রস্তুত হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি আসন দিতে নারাজ। আগে যেখানে জামায়াত ১৮০ থেকে ১৯০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে এখন দলটি অন্তত ২০০ আসনে নিজস্ব প্রতীক দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রাখতে চায়।

    ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের পরিকল্পনা ছিল ১২ জানুয়ারি একযোগে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা। তবে আসন বণ্টনে ঐকমত্য না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব দল একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করবে।

    তবে জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আলোচনার বদলে জটিলতাই বাড়ছে। ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি এবি পার্টিও পর্যাপ্ত আসন না পেলে জোটে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

    জামায়াত সূত্র জানায়, এনসিপির পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছে। চরমোনাই পীরের দল শুরুতে ১৫০ আসন চাইলেও ধাপে ধাপে কমিয়ে এখন ৭০ আসনের নিচে নামতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।

    জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন পাবে ৪০টি আসন, এনসিপি ২৮ থেকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৪টি, এলডিপি ও খেলাফত মজলিস পাঁচটি করে এবং এবি পার্টি তিনটি আসন। বাকি প্রায় ২০০ আসনে জামায়াত নিজেই প্রার্থী দেবে।

    এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করছেন, জামায়াত তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে আসন ছাড়ছে না। বরং যেসব এলাকায় জামায়াত দুর্বল, সেসব আসনই চরমোনাইকে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত নিজের শক্ত অবস্থান থাকা এলাকাতেও এনসিপিকে ছাড় দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনে তারা এককভাবেও নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, এনসিপিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

    জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এনসিপির জনসমর্থন তাদের জরিপে প্রায় ৭ শতাংশ। সাংগঠনিক শক্তি না থাকায় এই ভোট বিএনপিতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জামায়াত নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে এনসিপিকে শক্ত অবস্থানে আনতে চায়।

    এদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ৩০ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের সমঝোতা মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে।

    মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এর আগেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলগুলোকে। না হলে ইসলামপন্থি এই বৃহৎ জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • গণভোট ইস্যু নিয়ে উত্তাপ, নির্বাচন বানচালের চক্রান্তের অভিযোগ করলেন মির্জা ফখরুল

    গণভোট ইস্যু নিয়ে উত্তাপ, নির্বাচন বানচালের চক্রান্তের অভিযোগ করলেন মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণভোটের নামে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল সচেতনভাবেই ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ব্যাহত করতে মাঠে নেমেছে।

    গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এ শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    ফখরুল বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের আমরা সমর্থন দিচ্ছি, তারাই এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা নির্বাচনের স্বাভাবিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যারা গণভোটের দাবি তুলেছে, তারা আসলে নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে।”

    তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি গণভোটের পক্ষে, তবে সেটি সংসদ নির্বাচনের দিনেই হতে হবে। তার ভাষায়, “দুটি ভোট আলাদাভাবে আয়োজন করলে জনগণের অর্থ ও সময় অপচয় হবে এবং মূল নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই গণভোট ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিনেই হওয়া উচিত।”

    সমাবেশ শেষে শোভাযাত্রা শান্তিনগর, মালিবাগ, মগবাজার হয়ে বাংলামোটরে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খানসহ দলের হাজারো নেতা-কর্মী।

    এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে গণতন্ত্রের চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে দেশে সংস্কারের সূচনা করেছিলেন। আজ তারেক রহমান নতুন সংস্কারের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।”

    গণভোট প্রসঙ্গে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “যে ঐকমত্য কমিশন মাসের পর মাস ধরে বৈঠক করেছে, সেই আলোচনার ফলাফল কোথায়? এখন আবার নতুন করে সাত দিনের সময়সীমা ঘোষণা করে কী বোঝাতে চায় উপদেষ্টা পরিষদ?”

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার নতুন চক্রান্ত চলছে। আমাদের আবারও ৭ নভেম্বরের চেতনায় ফিরে যেতে হবে— সেই পথেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

    সকালে বিএনপি নেতারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে মহানগর বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনও জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সারা দেশজুড়ে দিবসটি পালিত হয় সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায়।

    মির্জা ফখরুলের ভাষায়, “যে ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতা এক হয়ে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছিল, আজ সেই চেতনায় আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে।”

  • জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—একটি হলো জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্যটি আগামী নির্বাচনের ঘোষণা। বিএনপি উভয় ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “বিগত এক বছরে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেসব শহীদ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”

    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে দেবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতি একটি দোলাচলের অবসান ঘটাল।”

    বিএনপি নেতার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে এবং তা হবে ইতিহাসের অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা আশা করি, জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।”

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই দিনে ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন হয়েছিল। সেই রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামের যে ফসল, এখন তা গণতন্ত্রের শিকড়ে রোপণ করতে হবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হয়েছে এবং জাতির ভবিষ্যতের কাঠামো কীভাবে হবে তা নিয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সই সম্পন্ন হবে এবং তা বাস্তবায়নে বিএনপি সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে।”

    এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের এই ঘোষণার ফলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং নাগরিক জীবন আবার গতিশীল হবে।”

    এভাবেই জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের প্রস্তুতির মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে একটি নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তের দিকে—এই বার্তাই দিচ্ছে বিএনপি।