বাংলাদেশ

চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও আহত অন্তত ২০ জন

এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে টানা প্রায় চার ঘণ্টার সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম রাজিব শেখ (২০)। তিনি উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফারুক শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিংগড়িয়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। আগুনে একের পর এক বাড়ি পুড়তে থাকলেও তা নেভানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল। একটি পক্ষ বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্য পক্ষ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পক্ষ পরিবর্তন নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি একই এলাকায় সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন, যা বর্তমান সহিংসতার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজিব শেখ নিহত হওয়ার পর সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

ঘটনার পরপরই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button