Tag: বাংলাদেশ সংবাদ

  • জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না লিল্লাইহী রাজিউন)।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ আগামীকাল সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে।

    মৃত্যুকালে দিলারা হাফিজ স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    জানাজা অনুষ্ঠান আগামী ৩০ মার্চ সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজা-তে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে শায়রুল কবির জানিয়েছেন।

  • বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ, নতুন ইউনিফর্ম পুনর্বিবেচনার পথে সরকার

    বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ, নতুন ইউনিফর্ম পুনর্বিবেচনার পথে সরকার

    এবিএনএ: বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা বর্তমান ইউনিফর্মে সন্তুষ্ট নন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনী যাতে ঐতিহ্যবাহী ও কার্যকর ইউনিফর্ম ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

    শনিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে ৪৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পুলিশ সংস্কার ও কমিশনের গুরুত্ব

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণতান্ত্রিক সংস্কারের আওতায় রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মধ্যে অন্যতম হলো পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। অচিরেই এর সুফল সবাই অনুভব করবে।”

    মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের লক্ষ্য হলো পুলিশ ইউনিফর্মের মান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং সদস্যদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মদক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান বৃদ্ধি পাবে।

  • চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে টানা প্রায় চার ঘণ্টার সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে।

    নিহত যুবকের নাম রাজিব শেখ (২০)। তিনি উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফারুক শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিংগড়িয়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। আগুনে একের পর এক বাড়ি পুড়তে থাকলেও তা নেভানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল। একটি পক্ষ বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্য পক্ষ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পক্ষ পরিবর্তন নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি একই এলাকায় সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন, যা বর্তমান সহিংসতার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাজিব শেখ নিহত হওয়ার পর সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

    ঘটনার পরপরই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এদিকে, এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

  • ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট! রাজধানীর পাম্পে ‘অকটেন নেই’—ভোগান্তিতে চালকরা

    ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট! রাজধানীর পাম্পে ‘অকটেন নেই’—ভোগান্তিতে চালকরা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির কারণে রাজধানীতে জ্বালানির সরবরাহে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক সংকট। ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় অর্থ পরিশোধ জটিলতা তৈরি হওয়ায় বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে অকটেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা—উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী ও গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ থাকলেও সেখানে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

    পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে নতুন করে তেল আসার নির্দিষ্ট কোনো সময় তারা জানেন না। ফলে অনেকেই এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।

    রাইড শেয়ারিং চালক রায়হান কবির জানান, এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যেতে গিয়ে গাড়ির অবশিষ্ট জ্বালানিও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও ধীর করে দিয়েছে।

    উত্তরার আজমপুর এলাকার একটি পাম্পের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার তেল পাওয়ার কথা, সেখানে অনেক সময় মাত্র কয়েক হাজার লিটার সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এই সীমিত তেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের বার্তার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বার্তা না আসা পর্যন্ত পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীর জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ চালক থেকে শুরু করে পরিবহন খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

  • ২৫ মার্চে ব্ল্যাকআউট বাতিল: শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা

    ২৫ মার্চে ব্ল্যাকআউট বাতিল: শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা

    এবিএনএ:  একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যা স্মরণে সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানানো হয়, নির্ধারিত ২৫ মার্চ রাতের ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি আর বাস্তবায়ন করা হবে না।

    এর আগে, ২৩ মার্চ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল—গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী অন্ধকার কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রসঙ্গত, এরও আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ বছর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ২৫ মার্চের ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তও জ্বালানি সাশ্রয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বিশেষ করে কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষসহ ফেনী ও হবিগঞ্জের দুর্ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রোববার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ঈদের আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা জাতির জন্য গভীর বেদনার। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। রেলক্রসিং, সেতু ও সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বার্তায় উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া ও কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন।

    আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এই কমিটিগুলো গঠন করেছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এছাড়াও ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

  • কুমিল্লার ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহত ১২ জনের পরিচয় প্রকাশ, নেপথ্যে কী কারণ?

    কুমিল্লার ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহত ১২ জনের পরিচয় প্রকাশ, নেপথ্যে কী কারণ?

    এবিএনএ: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার বই থেকে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (৪৬), যশোরের সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুরের সায়েদা (৯), ঝিনাইদহের জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম (৬৮)।

    এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায় ট্রেনটি।

    দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। এই দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে সকাল ৮টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

    দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • এনএসআইয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

    এনএসআইয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

    এবিএনএ: জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই)-এর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন তিনজন অতিরিক্ত পরিচালক, ছয়জন যুগ্ম পরিচালকসহ মোট ১৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তা।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য দুদকের ১৩ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করতেই এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

    যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, এম এস কে শাহীন ও মোহাম্মদ জহীর উদ্দিন। পাশাপাশি যুগ্ম পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, জি এম রাসেল রানা, এফ এম আকবর হোসেন, মো. নাজমুল হক, বদরুল আহমেদ ও শেখ শাফিনুল হকও তালিকাভুক্ত রয়েছেন।

    এছাড়া উপপরিচালক পদমর্যাদার কামরুল হাসান, আমিনুল হক, শেখ খাইরুল বাসার ও জহরলাল জয়ধরের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে কবরস্থানে চাঞ্চল্য, একই পরিবারের ৪টি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি!

    ঠাকুরগাঁওয়ে কবরস্থানে চাঞ্চল্য, একই পরিবারের ৪টি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি!

    এবিএনএ, ঠাকুরগাঁও:


    ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় একটি কবরস্থান থেকে একই পরিবারের চারটি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক এবং ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের মীরডাঙ্গী মহেষপুর এলাকার কবরস্থানে স্থানীয়রা গরু-ছাগল চরাতে গিয়ে খোঁড়া কবর দেখতে পান।

    স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে চারটি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে যায়। চুরি হওয়া কবরগুলো একই পরিবারের সদস্যদের বলে জানা গেছে।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দলে দলে কবরস্থানে ছুটে যান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাণীশংকৈল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সফিকুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন,

    “আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কবরস্থান পরিদর্শন করেছি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কে বা কারা এর সাথে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হবে।”

    এ ঘটনার পেছনে কোনো অসাধু চক্রের সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন,

    “গত তিন মাসে জেলায় পাঁচটি কবরস্থান থেকে এ ধরনের কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এর কোনো কার্যকর প্রতিকার এখনো হয়নি।”

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক স্পর্শকাতর এমন ঘটনায় প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা প্রয়োজন।