Tag: অগ্নিসংযোগ

  • কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পর মৃত্যু; ধর্মীয় বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা

    কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পর মৃত্যু; ধর্মীয় বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ওই আস্তানার প্রধান শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

    শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মীয় বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের জেরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন আস্তানায় হামলা চালায়।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে উত্তেজনা

    স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজার বক্তব্য সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার কিছু বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসীর একাংশ। এরপর দুপুরের দিকে লোকজন জড়ো হয়ে আস্তানায় হামলা চালায়।

    হামলার সময় স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি শামীম রেজা ও তার অনুসারীদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

    স্থানীয়দের মতে, শামীম রেজা দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করছিলেন। ইসলামের প্রচলিত কিছু ইবাদত সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া এবং অনুসারীদের বিশেষ আচার পালনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল।

    এছাড়া অনুসারীদের দাফন কার্যক্রমে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কিছু আচরণ এবং ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে।

    আগেও ছিল মামলা

    জানা গেছে, শামীম রেজার বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২১ সালে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

    ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    চিতলমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, পুড়ল ৩০ বাড়ি—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে টানা প্রায় চার ঘণ্টার সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে।

    নিহত যুবকের নাম রাজিব শেখ (২০)। তিনি উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফারুক শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিংগড়িয়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। আগুনে একের পর এক বাড়ি পুড়তে থাকলেও তা নেভানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল। একটি পক্ষ বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্য পক্ষ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পক্ষ পরিবর্তন নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি একই এলাকায় সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন, যা বর্তমান সহিংসতার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাজিব শেখ নিহত হওয়ার পর সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

    ঘটনার পরপরই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এদিকে, এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

  • বাগেরহাটে যুবদল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    বাগেরহাটে যুবদল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় এবার জেলা সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে যুবদল নেতা আলিমুজ্জামান রানার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

    রবিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই যুবদল নেতার টিনশেড বাড়ীতে প্রতিপক্ষ দলের দুবৃর্ত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ফায়ার সাভির্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই অসবাবপত্র ও ১০ লখ টাকার মালামালসহ টিনসেড বাড়ীটি সম্পুর্ন পুড়ে শেষ হয়ে যায়। রাতেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এঘটনায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বাগেরহাট সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী আলিমুজ্জামান রানা তার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের জন্য প্রতিপক্ষ জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করে বলেন, এরআগে সংসদ নির্বাচনের পর দিন সকালে বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদের নেতাকর্মীরা আমার বাড়ীসহ মাদ্রা গ্রামে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিরাজসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের ১২টি বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। রবিবার দিবাগত রাতে আমার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাবার সময় জামায়াত নেতাকমীদের স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়েছে। আগুনে আমার বসত ঘরের অসবাবপত্র ও ১০ লখ টাকার মালামালসহ টিসেড বাড়ীটি সম্পুর্ন পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। যুবদল নেতার বাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার খবর যেয়ে সকালে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিএনপির প্রার্থী ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্দ জাকির হোসেনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ এঘটনায় জামায়াত নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।

    বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রায় যুবদল নেতা রানার বসত বাড়ীতে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। জড়িত দুবৃর্ত্তদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এরআগে এই এলাকায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • ভোররাতে যশোরে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়কের বাসে আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

    ভোররাতে যশোরে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়কের বাসে আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

    এবিএনএ: যশোর শহরের বাহাদুরপুর (মেহগনি তলা) এলাকায় গভীর রাতে পার্কিংয়ে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    বাসটির মালিক বাঘারপাড়া এলাকার খবির-উর-রহমান কলেজের অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী ওরফে বেলাল। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী সমর্থনে এলাকায় প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করায় ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক নাশকতা বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।

    মালিকের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে পার্কিংয়ে রাখা ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-০০৯৮ নম্বরের বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের তাপে পাশের আরেকটি বাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ১৪টি কাঁচ ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা আরেকটি বাসের চালক মকবুল হোসেন আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত মালিককে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা-এর ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলেন, নির্বাচনের পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের নাশকতা উদ্বেগজনক। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • নির্বাচনী উত্তাপে বাগেরহাটে আগুন! স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত মেডিকেল প্রকল্পে দুর্বৃত্তদের হামলা

    নির্বাচনী উত্তাপে বাগেরহাটে আগুন! স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত মেডিকেল প্রকল্পে দুর্বৃত্তদের হামলা

    এবিএনএ: বাগেরহাট শহরের স্টেডিয়াম-সংলগ্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি স্পিড বোর্ড ও আশপাশের কয়েকটি গাছ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে এম এ এইচ সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান পিন্স জানান, বাগেরহাটবাসীর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন ছিল তাদের। আগে জমি নির্ধারণও করা হয়েছিল। স্টেডিয়াম এলাকার ওই স্থানে আগে একটি স্থানীয় পত্রিকার অফিস ছিল, সেখানে দুটি সেমিপাকা ঘর ও সামনে একটি স্পিড বোর্ড রাখা ছিল। আগুনে বোর্ডটি ও বেশকিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় দুটি টিনশেড ঘর অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, কর্মীদের হুমকি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তার। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান পরিবারটি।

    বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার বেড়ে ৩১

    প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার বেড়ে ৩১

    এবিএনএ: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর এই ঘটনায় মোট আটককৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

    গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন—মো. জাকির হোসেন শান্ত (২৯), মো. স্বপন মন্ডল (৩০) এবং নিয়াজ মাহমুদ ফারহান (২১)।

    পুলিশ জানায়, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রমনার বেইলি রোড এলাকা থেকে মো. জাকির হোসেন শান্তকে আটক করে। অপরদিকে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর মোড় এলাকা থেকে মো. স্বপন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এ ছাড়া ডিবি সাইবার উত্তর বিভাগের একটি দল মঙ্গলবার রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাহমুদ ফারহানকে গ্রেপ্তার করে।

    ডিএমপি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। হামলা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া কার্যালয়ে সংঘটিত এই হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়।

  • সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা সরকার দৃঢ়ভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অল্প কিছু গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সেই আদর্শের সঙ্গে যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সমাজে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করা জরুরি।

    সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংবাদকর্মীদের ওপর আঘাত মানেই সত্য ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

  • বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগে থমথমে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা

    বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগে থমথমে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা

    এবিএনএ:  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকাতেও বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্দোলনকারীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ওই এলাকার একটি ভবনের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু বিক্ষোভকারী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অগ্নিসংযোগ করে এবং বাইরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও মিছিল ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান অব্যাহত ছিল।

  • ঢাকায় টানা ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগ: রাজধানীর তিন এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

    ঢাকায় টানা ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগ: রাজধানীর তিন এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকাজুড়ে গত শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত তিনটি স্থানে পরপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিস্ফোরণের মধ্যে একজন পথচারী আহত হয়েছেন। একই রাতে হাজারীবাগ এলাকায় একটি পার্কিং করা বাসেও অগ্নিসংযোগ করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, মধ্যরাতে হাজারীবাগ বেগম ফজিলাতুন্নেছা স্কুলের সামনে রাখা একটি বাসে হঠাৎ আগুন ধরিয়ে দেয় অজ্ঞাত ব্যক্তি বা দল। দ্রুত আগুন নেভানো হলেও বাসটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এর কিছুক্ষণ আগে রাত ৮টা ২০ মিনিটে আগারগাঁওয়ের এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ভবনের সামনে মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি ইমাউল হক জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায় এবং দায়ীদের শনাক্তে কাজ চলছে।

    শনিবার রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের কাছেও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। যদিও সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই।

    রোববার সকাল ৮টার দিকে মগবাজারের নিউ ইস্কাটনে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভার থেকে কেউ বিস্ফোরকটি নিক্ষেপ করেছে। এতে আব্দুর বাসির নামে এক ব্যক্তি আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম।

    বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ বলছে, সবগুলো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

  • খাগড়াছড়িতে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ নিহত, সেনা-পুলিশসহ বহু আহত

    খাগড়াছড়িতে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ নিহত, সেনা-পুলিশসহ বহু আহত

    এবিএনএ:  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় ভয়াবহ সহিংসতায় তিনজন পাহাড়ি প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় মেজরসহ অন্তত ১৩ সেনাসদস্য এবং থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয়ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আগে এই সংঘর্ষ ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানানো হয়েছে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, অবরোধের সমর্থনে রামসু বাজার এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দিয়ে পিকেটিং চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে উত্তেজনা বাড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    অবরোধকারীরা বাজারের সরকারি অফিস, দোকান ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত সম্পত্তিও পুড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রামসু বাজারের আশপাশের এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রশাসনের অবস্থান

    গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে ১৪৪ ধারা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসন জানায়, সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে পরিস্থিতি শান্ত করার।

    সহিংসতার পেছনের ঘটনা

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ২৪ সেপ্টেম্বর তিনজনকে আসামি করে মামলা হয় এবং পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে।

    অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি ডাকা হয়। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অবরোধকে কেন্দ্র করে শহরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়, যেখানে অন্তত ২৫ জন আহত হন। এর পরই প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে বিজিবি মোতায়েন করে।

    খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি পাহাড়ি জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।