জাতীয়বাংলাদেশ

সিইপিজেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে দাহ্য পদার্থে ভরা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে আগুন নিয়ন্ত্রণে অভিযান

এবিএনএ: চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুরু হওয়া আগুন চার ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেড এলাকার অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অ্যাডামস কারখানায় তোয়ালে ও ক্যাপ উৎপাদন হয়, আর জিহং মেডিকেল কোম্পানিতে তৈরি হয় সার্জিক্যাল গাউন। সাততলা ভবনের উপরের তলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন লাগার পর মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, “কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাছে যেতেও বেগ পেতে হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০ শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কারখানায় কাজ করতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সবাই বেরিয়ে আসায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই সিইপিজেড, বন্দর, আগ্রাবাদ ও কেইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ৯টি ইউনিট যুক্ত হয়, মোট ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

আগুন নেভাতে শুরু থেকেই সিইপিজেডে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর টিম কাজ করছে। বিকেলে নৌবাহিনীর ৫টি ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর একটি ইউনিটও অভিযান যোগ দেয়। সন্ধ্যা নাগাদও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে আগুন যাতে পাশের ভবনে না ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button