Tag: উদ্ধার অভিযান

  • দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পদ্মায় বাস ডুবি, জীবিত উদ্ধার ১১—নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া স্বজনরা

    দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পদ্মায় বাস ডুবি, জীবিত উদ্ধার ১১—নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া স্বজনরা

    এবিএনএ,রাজবাড়ী: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর অন্তত ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

    ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখনও অনেক যাত্রীর খোঁজ মেলেনি, যা স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে।

    ঘাট এলাকায় নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রিয়জনের খোঁজে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

    এদিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শুরুতে কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছে।

    ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি করছেন।

    রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।

    জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী ফেরি ‘হামজা’সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

  • ফায়ার সার্ভিসকে প্রকৃত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

    ফায়ার সার্ভিসকে প্রকৃত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

    এবিএনএ: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি বলেছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে আয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দরবার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    দরবারে মহাপরিচালককে অভিবাদন

    দরবার অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক উপস্থিত হলে পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, পিএসসি তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানান এবং দরবার পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর অধিদপ্তরের ধর্মীয় শিক্ষক মুহাদ্দিস কাজী শরিফ উল্লাহ ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করেন।

    পরবর্তীতে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দরবার গ্রহণ করেন।

    উন্নয়ন ও অপারেশনাল কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ

    দরবারে মহাপরিচালক তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়া এবং সফল অপারেশনাল কার্যক্রম প্রশংসনীয়।

    তিনি বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এসব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সবার প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

    এ সময় তিনি সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।

    কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত ও প্রশ্নের জবাব

    দরবারে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অনলাইনে যুক্ত বিভিন্ন বিভাগের সদস্যদের মতামত ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন মহাপরিচালক। তিনি ধৈর্যের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের সম্মাননা

    দরবার শেষে সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে একটি গভীর নলকূপ থেকে শিশুকে জীবিত উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী ছয়জন সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    মহাপরিচালক তাদের হাতে সনদপত্র, ‘মহাপরিচালকের প্রশংসা’ ইনসিগনিয়া এবং নগদ অর্থ তুলে দেন।

    উপস্থিতি ও সমাপ্তি

    অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক, ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগের উপপরিচালক ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দরবারে যুক্ত হন।

    দুপুর ১টায় দরবার অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

    ছবি ও তথ্য: ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব ইসরায়েলে: বেইত শেমেশে নিহত ৯, বহু আহত

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব ইসরায়েলে: বেইত শেমেশে নিহত ৯, বহু আহত

    এবিএনএ: ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের বেসামরিক এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার রাতে বেইত শেমেশ শহরে আঘাত হানলে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

    ঘটনার পরপরই ইসরায়েলের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা মেগান ডেভিড অ্যাডম উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের বের করতে উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। গুরুতর আহতদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো যাচাই করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ছে—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও তীব্র হচ্ছে।

    সংঘাতের উত্তাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অবিলম্বে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

  • প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতায় ২ ঘণ্টায় অপহরণ নাটকের অবসান:চামেলীবাগ থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্র

    প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতায় ২ ঘণ্টায় অপহরণ নাটকের অবসান:চামেলীবাগ থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্র

    এবিএনএ: রাজধানীতে অপহরণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সরকারি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পরপরই অভিযান জোরদার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোর রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    ঘটনার দিন বিকেলে সাইকেল চালাতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোর। কিছুক্ষণ পর পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে পৌঁছালে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    এরপর ডিএমপির একটি দল রাজধানীর চামেলীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে অপহৃত কিশোরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। অভিযানে রমনা বিভাগের কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দেন। উদ্ধার-পরবর্তী মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।

    উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ছেলেকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। অপহরণকারীরা প্রথমে বেশি অঙ্কের টাকা দাবি করলেও পরে দ্রুত অর্থ দিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং কাউকে জানালে ক্ষতির হুমকি দেয়।

    পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতরা ওই এলাকার অপরাধচক্রের সদস্য। বিষয়টি আরও তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রাজধানীতে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • মীরসরাইয়ে ১৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিল পুলিশ

    মীরসরাইয়ে ১৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিল পুলিশ

    এবিএনএ,মীরসরাই: মীরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ১৫০টি মোবাইলফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে মীরসরাই থানা পুলিশ। তার ধারাবাহিকতায় গত সাপ্তাহে উদ্ধার হওযা ৫ টি ফোন উদ্ধার করে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মীরসরাই থানায় এই মোবাইলফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    মোবাইল উদ্ধারকারী অফিসার এএসআই মোঃ শামিনুর রহমান সুমন বলেন ” যখন কোন ব্যক্তির মোবাইল ফোন চুরি,ছিনতাই বা হারিয়ে যাওয়ার পর জিডি করার জন্য অসহায়ের মত থানায় আসেন এবং বলেন মোবাইলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আছে তখন তাদের দেখে খুবই মায়া লাগে এবং নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিজের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে মোবাইল উদ্ধারে চেষ্টা করি”।

    মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ভুক্তভোগীদের হাতে তাদের প্রিয় ফোনগুলো তুলি দিয়ে বলেন বিভিন্ন সময় মানুষের মোবাইল হারিয়েযায়, চুরি চিন্তায় হয়ে যায় সে প্রেক্ষিতে থানায় এসে তারা জিডি করে, আমি আসার পর থেকে এই পর্যন্ত ১৫০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি এবং গত এক সাপ্তাহে আমরা ৫টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    তিনি আরো বলেন নানা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমরা মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সব ফোন উদ্ধার করা সবসময় সম্ভব না হলেও পুলিশের আইসিটি টিম এ বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং আগামীতেও এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    দীর্ঘদিন পর নিজের হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • ভয়াবহ দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়: পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ জন

    ভয়াবহ দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়: পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ জন

    এবিএনএ: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮২ জন। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

    স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম ‘কম্পাস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে পশ্চিম বান্দুং জেলার পাসিরলাঙ্গু গ্রামে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে একাধিক বসতঘর ও অবকাঠামো মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুরো এলাকাটি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৩০ হেক্টর বা ৭৪ একর। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ জুড়ে পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

  • সিইপিজেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

    সিইপিজেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: চার ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয়, তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুরু হওয়া আগুন চার ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

    দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেড এলাকার অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অ্যাডামস কারখানায় তোয়ালে ও ক্যাপ উৎপাদন হয়, আর জিহং মেডিকেল কোম্পানিতে তৈরি হয় সার্জিক্যাল গাউন। সাততলা ভবনের উপরের তলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

    আগুন লাগার পর মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, “কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাছে যেতেও বেগ পেতে হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

    চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০ শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কারখানায় কাজ করতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সবাই বেরিয়ে আসায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই সিইপিজেড, বন্দর, আগ্রাবাদ ও কেইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ৯টি ইউনিট যুক্ত হয়, মোট ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    আগুন নেভাতে শুরু থেকেই সিইপিজেডে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর টিম কাজ করছে। বিকেলে নৌবাহিনীর ৫টি ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর একটি ইউনিটও অভিযান যোগ দেয়। সন্ধ্যা নাগাদও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে আগুন যাতে পাশের ভবনে না ছড়িয়ে পড়ে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু! চলছে রাতভর উদ্ধার অভিযান

    টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু! চলছে রাতভর উদ্ধার অভিযান

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্যান অ্যান্টোনিও শহর ও আশপাশের এলাকা। তীব্র বর্ষণে গুয়াদালুপ নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে নদীতীরবর্তী এক খ্রিষ্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে ২৭ শিশু

    স্থানীয় সময় শুক্রবার, স্যান অ্যান্টোনিও শহরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার বা ২৯ ফুট পানি বেড়ে যায়। ক্যাম্প মিস্টিক নামে পরিচিত সেই গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পটিতে অবস্থান করছিল প্রায় ৭৫০ শিশু। আকস্মিক বন্যার ফলে ক্যাম্পটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    কার কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা ল্যারি লেইথা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। শনিবার সকালে পানি নামা শুরু করলে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    কারভিল শহরের নগর ব্যবস্থাপক ডাল্টন রাইস জানান, ক্যাম্পের ২৭ শিশু এখনো নিখোঁজ এবং তাদের খুঁজে পেতে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    এই উদ্ধার অভিযানে ১ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী অংশ নিয়েছেন, যারা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। গাছের উপরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাহায্যে এগিয়ে এসেছে মার্কিন কোস্টগার্ডও।

    এদিকে, জাতীয় আবহাওয়া পরিষদ (NWS) জানায়, যদিও কার কাউন্টিতে আপাতত জরুরি অবস্থা কমে এসেছে, তবে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি রয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে।”

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, উপড়ে গেছে গাছপালা। আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু কের কাউন্টিতে একরাতে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ

    টেক্সাসজুড়ে এই বন্যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, আর নিখোঁজ শিশুদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অধীর অপেক্ষায় গোটা দেশ।

  • ইন্দোনেশিয়ার সাগরে ভয়াবহ ফেরিডুবি, ৪৩ জন এখনও নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ার সাগরে ভয়াবহ ফেরিডুবি, ৪৩ জন এখনও নিখোঁজ

    এবিএনএ: ইন্দোনেশিয়ার বালির উপকূলে ঘটে গেল ভয়াবহ এক নৌদুর্ঘটনা। বুধবার রাতে ‘কেএমপি তুনু প্রতমা জয়া’ নামের একটি ফেরি পূর্ব জাভার কেতাপাং বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বালি দ্বীপের গিলিমানুক বন্দরের দিকে। কিন্তু রওনা দেওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফেরিটি সাগরে ডুবে যায় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (BASARNAS)।

    ফেরিটিতে ছিল ৫৩ জন যাত্রী, ১২ জন ক্রু এবং ২২টি যানবাহন। যানবাহনের মধ্যে ১৪টি ছিল বড় আকারের ট্রাক। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

    এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অনেকেই ঢেউয়ের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে ভেসে থাকায় শারীরিকভাবে দুর্বল ও অচেতন হয়ে পড়েন।

    বানিউয়াঙ্গি জেলার পুলিশপ্রধান রামা সামতামা পুত্রা জানান, “২০ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।”

    জাতীয় উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, সমুদ্রপথে ফেরি চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি, নিখোঁজদের সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

    এই দুর্ঘটনা আবারও ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলার ডুবি, দুই পুলিশসহ নিখোঁজ ৭ যাত্রী

    মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলার ডুবি, দুই পুলিশসহ নিখোঁজ ৭ যাত্রী

    এবিএনএ 

    নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে ভয়াবহ এক ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন অন্তত ৭ জন যাত্রী। শনিবার বিকালে করিম বাজার সংলগ্ন ডুবারচর এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে ৩৯ জন যাত্রী বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্যও।

    হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা জানান, “ভাসানচর থেকে একটি ট্রলার দুপুর ২টার দিকে আলী বাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন রোহিঙ্গা রোগী, চার পুলিশ সদস্য, আনসার, ও বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা। ট্রলারটি মেঘনার উত্তাল পানিতে পড়লে ৭-৮ কিলোমিটার যেতেই সেটি ডুবে যায়।”

    ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয় এবং তারা দ্রুত উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়। এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

    ভাসানচর থানার ওসি কুতুব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, “এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে ৩২ জন যাত্রী জীবিত রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।”

    এদিকে এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার সময় নদী ছিল অতি উত্তাল এবং হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রোধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।