Tag: অগ্নিকাণ্ড

  • মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    এবিএনএ: মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সানদাকান শহরের একটি ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩২ মিনিটে উপকূলীয় এলাকার কামপুং বাহাগিয়া নামের ভাসমান গ্রামটিতে আগুন লাগে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানা যায় এবং ভোর ৪টার দিকে এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

    দমকল বিভাগ জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পুড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর বেশিরভাগই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

    ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে অথবা অন্যদের সহায়তা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দমকল বিভাগ, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার ও সাবাহ রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, তিন ইউনিটের লড়াই—কারণ অজানা

    গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, তিন ইউনিটের লড়াই—কারণ অজানা

    এবিএনএ: গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকার একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে বস্তির ভেতরে আগুন লাগে। আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত হতাহতেরও কোনো খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর বস্তির মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আশপাশের ঘরবাড়িতে পানি ছিটাচ্ছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের ঠিক আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে ৯টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

    ঈদের আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক ব্যবসায়ীর জন্য এসব দোকানই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম।

    ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি জানান, ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন পণ্য মজুদ ও দুটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

    অন্যদিকে ‘মীম অ্যান্ড মুন’ সারের দোকানের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা পুরোপুরি আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র, লন্ড্রি ও সেলুনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • শরণখোলায় আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষকের বাড়ি, মুহূর্তেই ছাই সবকিছু

    শরণখোলায় আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষকের বাড়ি, মুহূর্তেই ছাই সবকিছু

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিক্ষকের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

    রবিবার (৮ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের ছেলে এবং এসবি তাফালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সালেহের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় তার স্ত্রী শিশুদের জন্য রান্না করতে চুলা জ্বালিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পরবর্তীতে আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ও ফ্রিজ বিস্ফোরণের মতো শব্দে ফেটে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আবু সালেহ জানান, আগুনে তার শিক্ষাগত সনদপত্র, চাকরির নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, জমির দলিল, নগদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা, তার স্ত্রী ও মায়ের স্বর্ণালংকারসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আফতাব ই আলম বলেন, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে এলাকার রাস্তা সরু হওয়া এবং আশপাশের খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সমস্যা হয়।

    এদিকে সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি দিয়ে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস এলেও পানির সংকটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয়।

    শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

  • মাতুয়াইলে ভয়াবহ আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ ঢাকা

    মাতুয়াইলে ভয়াবহ আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ ঢাকা

    এবিএনএ: ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল টানা কয়েকদিন ধরে আগুনে পুড়ছে। ময়লার স্তূপে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ডেমরা, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল বর্জ্যস্তূপের বিভিন্ন অংশে একযোগে আগুন জ্বলছে। ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে ভেসে আশপাশের জনপদ ঢেকে দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকের কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার সমস্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

    আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, আগুন এক জায়গায় নয়—ময়লার পাহাড়ের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকায় নেভাতে সময় লাগছে। বিশাল আয়তনের ল্যান্ডফিলে আগুনের উৎস শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    পরিবেশবিদরা বলছেন, ঢাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যার বড় অংশই শেষ পর্যন্ত ড্রেন, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ল্যান্ডফিলে বারবার অগ্নিকাণ্ড এই দুর্বল ব্যবস্থাপনারই ফল।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের তাগিদ দিয়ে পরিবেশ সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি নেই। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে মানুষকে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হয় না। ল্যান্ডফিলে ফেলে শুধু ময়লা পুঁতে রাখার বদলে প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিলে দূষণ কমবে এবং অর্থনৈতিক মূল্যও তৈরি হবে।

    এদিকে, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও নির্ধারিত স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও দূষণ রোধ সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই ঢাকার বর্জ্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

  • শরণখোলায় আগুনে ভস্মীভূত ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়

    শরণখোলায় আগুনে ভস্মীভূত ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়

    এবিএনএ,শরণখোলা: বাগেরহাটের শরণখোলায় আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর ১ নং সোনাতলা ওয়ার্ডে। সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থাকা ১ নং সোনাতলা ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়টি সম্পুর্নরুপে ভস্মীভূত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ মনসুর বলেন, বিএনপি অফিসের পাশেই আমার দোকান। আমি দোকানের মধ্যেই ঘুমে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দ পেয়ে আমি দোকানের বাইরে আসলে পাশে থাকা বিএনপি অফিস পুড়তে দেখে আশেপাশের সবাইকে ডাক দেই।

    স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজু গাজী বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি রাতেই সেখানে যাই। স্থানীয়রা অফিসের সামনে থেকে দুই লিটারের একটি কেরোসিনের বোতল পেয়েছে। যা পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগানোকেই নির্দেশ করে।

    সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন বলেন, নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমেই বিএনপি অফিস ভস্মীভূত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ওয়ার্ডে উত্তাপ বিরাজ করছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

  • বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুন: পুরোনো শীত কাপড় মার্কেট পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

    বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুন: পুরোনো শীত কাপড় মার্কেট পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

    এবিএনএ: বাগেরহাট শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরোনো শীত কাপড় মার্কেটের ১৫টি দোকান ও একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

    মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত পুরোনো শীত কাপড়ের এই মার্কেটে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ১৫টি পুরোনো কাপড়ের দোকানের সব মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঈদ সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী নতুন পণ্য মজুদ করছিলেন, পাশাপাশি দোকানে নগদ অর্থও ছিল বলে জানান তারা।

    আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অন্যতম মালিক জাহিদ চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। আগুনে আমাদের সব যন্ত্রপাতি ও কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

    একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ব্যবসায়ী লিটু খান জানান, ঋণ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। ঈদের প্রস্তুতির জন্য দোকানে পণ্য ও নগদ টাকা রাখা ছিল, আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

  • বনানীর ব্যস্ত এলাকায় আতঙ্ক: বহুতল ভবনের গোডাউনে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট ঘটনাস্থলে

    বনানীর ব্যস্ত এলাকায় আতঙ্ক: বহুতল ভবনের গোডাউনে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট ঘটনাস্থলে

    এবিএনএ: রাজধানীর বনানীতে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটির পাঁচ তলায় অবস্থিত একটি গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় তারা। খবর পাওয়ার পর দ্রুত চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

    ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, ভবনটি পাঁচ তলা এবং উপরের তলায় থাকা একটি গোডাউনে আগুন লাগে। ভবনটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসের পাশাপাশি বসবাসযোগ্য ফ্ল্যাটও রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, গোডাউনটি কী কাজে ব্যবহৃত হতো, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

  • ভোরের আগুনে মৃত্যুপুরী উত্তরা: সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ৬ জনের

    ভোরের আগুনে মৃত্যুপুরী উত্তরা: সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল ৬ জনের

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান ছয়জন, আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও ১৩ জনকে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টার দিকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—ফজলে রাব্বী (৩৮), হারিস হোসাইন (৫২), রাহাব (১৭), আফসানা, রোদেলা আক্তার (১৪) এবং আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে হঠাৎ কাচ ভাঙার শব্দ শুনে দরজা খুলতেই চারদিকে ঘন ধোঁয়া দেখতে পান। দ্রুত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভবন ত্যাগ করেন তিনি। ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা মিলিয়ে একটি ডুপ্লেক্স ইউনিট ছিল, যেখানে কাঠের সিঁড়ি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    এ ঘটনায় কয়েকজন ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে গেট তালাবদ্ধ থাকায় সিঁড়িতে আটকে পড়েন। ফলে ধোঁয়ার মধ্যে তারা বের হতে পারেননি।

    ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ঘরের ভেতরে বিপুল পরিমাণ আসবাব থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • হঠাৎ আগুনে আতঙ্ক গুলিস্তানে, শপিং কমপ্লেক্সে নিয়োজিত ৯ ইউনিট ফায়ার সার্ভিস

    হঠাৎ আগুনে আতঙ্ক গুলিস্তানে, শপিং কমপ্লেক্সে নিয়োজিত ৯ ইউনিট ফায়ার সার্ভিস

    এবিএনএ: রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানে একটি শপিং কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।

    শুক্রবার বিকেল ৫টা ২৮ মিনিটের দিকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টসংলগ্ন খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সের আটতলা ভবনের ছাদের ওপর অবস্থিত একটি গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে পাঠানো মোট ৯টি ইউনিট আগুন নেভাতে একযোগে কাজ করছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না বা ভবনের ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কি না—এ বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী তথ্য জানাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।