Category: লিড নিউজ

  • সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    এবিএনএ: কিছু রাজনৈতিক শক্তি সংস্কারের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলছে তারা নারীর স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। এসব কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও নারীবিষয়ক কমিশনও রয়েছে। কিন্তু একটি মহল শুধুমাত্র সংবিধান ইস্যু সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা সহজ করা, ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা কিংবা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তারা কোনো বক্তব্য দেয় না।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অতীতেও বিভিন্ন সময় একই কৌশলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু মহল এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে দেশের উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। তখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার নিয়ে কথা বলতেও সাহস পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু বড় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বিএনপি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কমিশনের কাছে বিএনপি নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোন বিষয়ে একমত আর কোন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে—সবকিছুই স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর আগে সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছান তারেক রহমান। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তিনি জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

  • বাংলাদেশে জিলকদের চাঁদ দেখা যায়নি, ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু

    বাংলাদেশে জিলকদের চাঁদ দেখা যায়নি, ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে অনুযায়ী আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

    বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে দেশের কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শাওয়াল মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হচ্ছে এবং ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু হবে।

    সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, ওয়াকফ প্রশাসনের প্রতিনিধি, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্পারসোর বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চাঁদ না দেখা গেলে চলমান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী মাস শুরু হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই এবার শাওয়াল মাস পূর্ণ করে জিলকদ মাস শুরু হচ্ছে।

  • তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি এলাকাতেও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকাসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এসব অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিলেট বিভাগের কিছু এলাকা এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এবিএনএ: আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে তীব্র গরমের সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় বসছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উদ্বেগে রয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার সময়েই বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, পুনরাবৃত্তি কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম নগরীর এক শিক্ষার্থী নাছরিন জানায়, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও কাজ করে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানায় আনোয়ারা উপজেলার আরেক পরীক্ষার্থী রিজভী। তার ভাষ্য, রাতের দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

    অভিভাবকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে লোডশেডিং চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এসব কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে সাময়িকভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ৯ ঘণ্টা লাইনে থেকেও তেল মেলেনি: রাজধানীর পাম্পগুলোতে দুর্ভোগে মানুষ, দিনশেষে খালি হাতে ফেরা

    ৯ ঘণ্টা লাইনে থেকেও তেল মেলেনি: রাজধানীর পাম্পগুলোতে দুর্ভোগে মানুষ, দিনশেষে খালি হাতে ফেরা

    এবিএনএ: বৈশাখের তপ্ত গরমে জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এমন দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিদিনের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ‘তেল শেষ’ ঘোষণায় ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন চালকরা।

    বাড্ডা এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন জাহিদুর রহমান। মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি নিতে সকাল ৮টায় লাইনে যোগ দেন তিনি। ধীরে ধীরে সারি গলি পেরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে যায়।

    প্রচণ্ড গরমে প্রায় ৯ ঘণ্টা মোটরসাইকেলের ওপর বসেই কাটান তিনি। সেখানেই সেরে নেন সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার। বিকেলের দিকে পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালেও হঠাৎ ঘোষণা আসে—পেট্রোল ও অকটেন শেষ। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।

    জাহিদুর রহমান বলেন, যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলই তার প্রধান ভরসা। কয়েকদিন ধরেই তেলের জন্য চরম ভোগান্তিতে আছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে তিনি বলেন, সারাদিন শুধু মনে হচ্ছিল নজেল আর কত দূরে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পাওয়া গেল না।

    একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর অন্যান্য পাম্পেও। রমনা এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাইড শেয়ারিং চালক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, তেল না পেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে আয়ও থাকে না। তাই ঘুম-খাওয়া বাদ দিয়ে সারারাত বাইকের ওপর বসে থাকতে হচ্ছে।

    পাম্প মালিকদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। তাদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ মিলছে না। আগে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও মিলছে না। এতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের ক্ষোভও তাদের সামলাতে হচ্ছে।

    উত্তর বাড্ডা এলাকায় প্রাইভেটকারের লাইন নতুন বাজার পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। অনেক চালক জানান, সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে তেল নিয়ে এরপর অফিস বা অন্যান্য কাজে যেতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

    অনেকের মতে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আয়-রোজগার কমে যাচ্ছে। ফলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে অকটেন সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, সরবরাহ বাড়লে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি কমে আসবে।

    তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে অকটেন সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও এপ্রিল মাসে এসে তা কমে গেছে। ফলে মাঠপর্যায়ে সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    এবিএনএ:  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সব স্তরে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়লেও সরকার জনগণের স্বার্থে দাম বাড়ায়নি; বরং প্রতিদিন বিপুল ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি। এতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক পর্যায়েও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি খাতে অপচয় কমাতে সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে।

    স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

    অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) সহ ১৫ জন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

    সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

    নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। দলীয় ইশতেহার ও ঘোষিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কয়েকজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

  • সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: শূন্যপদ পূরণে ৫ লাখ সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় বড় পরিকল্পনা

    সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: শূন্যপদ পূরণে ৫ লাখ সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় বড় পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে বড় আকারের নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

    এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শূন্যপদ পূরণে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোতে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই

    শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হবে।

    এর ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী সহজে ব্যবহার করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইউনিয়ন ও উপজেলায় খেলার মাঠ

    তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। শহর ও গ্রামে মাঠ নির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি কাজ করছে বলে সংসদে জানান সরকার প্রধান।

    বিদেশে পড়তে শিক্ষাঋণের সীমা বাড়ল

    বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ভিসা পাওয়ার আগেই যোগ্যতার প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে এই ঋণ পাওয়া সহজ হবে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাবে।

    বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রমসহ শিক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    এবিএনএ,ঢাকা: দেশের বিদ্যুৎ খাতে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বড় শহরগুলোতেও লোডশেডিং বাড়ছে। গ্যাসের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

    বর্তমানে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই গ্যাস, কয়লা ও তেলনির্ভর। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় এসব কেন্দ্রের বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অলস পড়ে আছে।

    কয়লা আমদানির খরচ বেড়ে চাপ

    দেশে চালু থাকা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা এলেও এর বড় অংশ আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    এর পাশাপাশি জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে, ফলে কয়লা আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে এসেছে।

    তেল ও এলএনজি বাজারে অস্থিরতা

    বিশ্ববাজারে ফার্নেস তেলের দামও ওঠানামা করছে। মার্চ মাসে দ্রুত বাড়ার পর বর্তমানে কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় এখনও বেশি। একইভাবে এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা কাটেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজির দাম বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে।

    এই তিন জ্বালানির সম্মিলিত সংকটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরবরাহে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ বহু কেন্দ্র

    দেশে গ্যাসভিত্তিক ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমিয়েছে। বেশ কিছু কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গ্যাসের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

    প্রতিদিন বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও উৎপাদন কম

    তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি অংশ ফার্নেস তেলের সংকটে বন্ধ রয়েছে। অনেক কেন্দ্র কম সক্ষমতায় চলছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষও এই খাতে উৎপাদন সীমিত রাখছে।

    ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রেও কম উৎপাদন

    কয়লা সংকটের কারণে বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তবে কিছু কেন্দ্র এখনও তুলনামূলকভাবে ভালো উৎপাদন বজায় রেখেছে, যা সামগ্রিক সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

    বেড়েছে লোডশেডিং

    দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে।

    লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে কয়েকশ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর বড় অংশ পড়েছে ঢাকায়, এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলে।

    ভর্তুকির অপেক্ষায় বিদ্যুৎ বিভাগ

    আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরি ভর্তুকি চেয়েছে। এই অর্থ না পেলে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতামত

    বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। অন্যথায় বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের তুলনায় কয়লা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় কয়লা আমদানি বাড়ানোই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হবে।

  • হাম আতঙ্ক বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু—হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    হাম আতঙ্ক বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু—হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    এবিএনএ: দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকি আট শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১০৫ শিশু। একই সময়ে ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে সরাসরি আক্রান্ত হয়ে ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৬৪ জন। এতে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

    এ সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসা মোট রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২৩১ জন। তাদের মধ্যে ভর্তি হতে হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ জনকে। পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার ৮৯৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৩০৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জ্বর, র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • বৈশাখের ছুটিতেও তেল সংকট, রাজধানীর পাম্পে ৬ ঘণ্টার লাইন—চালকদের চরম ভোগান্তি

    বৈশাখের ছুটিতেও তেল সংকট, রাজধানীর পাম্পে ৬ ঘণ্টার লাইন—চালকদের চরম ভোগান্তি

    এবিএনএ: পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে চালকদের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা নগরজীবনে নতুন করে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির বিশাল লাইন জমেছে। অনেক পাম্প ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে সীমিত কয়েকটি স্টেশনে।

    তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের লাইন মহাখালী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাইভেট কারের সারি নাখালপাড়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অনেকেই জানান, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দ্রুত তেল পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    একজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এখনও তেল পাননি। তার ভাষায়, ছুটির কারণে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় যেগুলো খোলা রয়েছে সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

    একই চিত্র দেখা গেছে আসাদগেট, শাহবাগ ও মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে। চালকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    এদিকে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে চালু করা হয়েছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপ। এই ব্যবস্থায় অ্যাপ ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বেশি তেল নিতে পারছেন, অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বরাদ্দ সীমিত রাখা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ সত্ত্বেও পাম্পে ভিড় ও অপেক্ষার সময় কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোগান্তি কিছুটা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।