Category: লিড নিউজ

  • আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবি, ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ — রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

    আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবি, ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ — রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

    এবিএনএ: আন্দামান সাগরে একটি যাত্রীবোঝাই ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানায়, ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে আন্দামান সাগরে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    সংস্থাগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেড়েই চলেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সুযোগের সীমাবদ্ধতা মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

    এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় অনেকে পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। বিদেশে কাজের সুযোগ ও ভালো আয়ের আশ্বাস দিয়ে দালালচক্র অসহায় মানুষকে জীবনঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে আন্দামান সাগর বারবার পরিণত হচ্ছে মানবিক বিপর্যয়ের মঞ্চে।

    যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকে এবং আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়। অর্থায়ন কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

    বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর সময়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায় ভবিষ্যতেও প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনায় আরও অনেক মানুষের জীবন ঝরে যেতে পারে।

  • মহাখালীতে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির গাড়ি—আমতলী থেকে সাতরাস্তা অচল

    মহাখালীতে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির গাড়ি—আমতলী থেকে সাতরাস্তা অচল

    এবিএনএ: রাজধানীর মহাখালী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমতলী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে কয়েক ঘণ্টা ধরে যানবাহন প্রায় স্থির হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসফেরত মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই যানজট শুরু হয়। রাত পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই মহাখালী আমতলী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন।

    যাত্রীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেকেই বাসের ভেতরে আটকে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে যানজট মহাখালী ছাড়িয়ে গুলশানমুখী সড়ক এবং অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুরো এলাকায় যান চলাচল ধীরগতিতে নেমে আসে এবং দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

    চালকদের ভাষ্য, সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে যানজট বাড়তে শুরু করে এবং রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রায় একই ছিল। সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং ধীরগতির কারণে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

    ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালীর ওয়্যারলেস এলাকায় কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন। বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে ব্যস্ত সময়ে সড়ক বন্ধ থাকায় দ্রুতই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

    এছাড়া মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি তেলের পাম্পে বিভিন্ন পরিবহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় সড়কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অবরোধ ও জ্বালানি নিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইনের কারণে এই যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হামে বাড়ছে আতঙ্ক—হাসপাতালে ভর্তি শত শত শিশু

    ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হামে বাড়ছে আতঙ্ক—হাসপাতালে ভর্তি শত শত শিশু

    এবিএনএ: দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি পাঁচ শিশু উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

    একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ শিশু। এদের মধ্যে ৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের হিসাব ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে মোট ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫৬ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

    এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ হাজার ২৪ জন শিশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৫৪ জনকে। পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮ হাজার ৩৬৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় যে দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, তারা ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের।

    সংক্রমণের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে শনাক্ত হয়েছে চারজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুইজন। অন্য বিভাগগুলোতে নতুন করে কোনো শনাক্ত রোগীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দ্রুত শনাক্ত, আইসোলেশন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের বিস্তার: ৬ জেলায় মাঝারি গরম, রাতে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

    দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের বিস্তার: ৬ জেলায় মাঝারি গরম, রাতে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ছয়টি জেলা ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক এ তথ্য জানান।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ খুলনা বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কিছু এলাকায় এটি আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়তে পারে। ফলে গরমের অনুভূতি আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।

    সোমবার ও মঙ্গলবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, তবে বেশিরভাগ এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করলেও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকবে বা কিছুটা বাড়তে পারে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ১৬ মিলিমিটার। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে, যা দেশের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলছে।

  • গুলশানে অভিযান: ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ৩, জব্দ প্রাইভেটকার

    গুলশানে অভিযান: ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ৩, জব্দ প্রাইভেটকার

    এবিএনএ: রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নোটসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার জাল নোট এবং একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০), রেজাউল শেখ (৪০) এবং আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশান থানার একটি দল ৩৬ নম্বর সড়কে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে।

    অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে ৫০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে উদ্ধার হওয়া নোটগুলো জাল বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

    এ ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • ১৭ এপ্রিল রাতেই শুরু হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৭ এপ্রিল রাতেই শুরু হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ১৭ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান।

    রোববার অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আল্লাহর মেহমানদের সঙ্গে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে যাত্রীরা যেভাবে অবস্থান করবেন এবং প্রস্তুতি কার্যক্রম কেমন চলছে, তা সরেজমিনে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হজ ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

    এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    এবিএনএ: পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের আহ্বান জানান।

    শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান—দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট সব নৃগোষ্ঠীর মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান।

    জাতীয় সংস্কৃতির অংশ বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব উৎসব পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এবং সমাজে শান্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জাতীয় ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সমাজে সম্প্রীতির বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।

    সমান অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

    শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের সমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড় বা সমতল—যেখানেই বসবাস হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। এই ঐক্য ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    সুখ-শান্তির প্রত্যাশা

    বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ দেশের মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করেন।

  • বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    এবিএনএ: বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও প্রাণীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও মর্মাহত। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদ-উল-হাসান সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখালে চলবে না এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

    শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর বিরোধী দলের আপত্তি ও সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই স্পিকার মন্তব্য করেন, “দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে শুনতে হবে।”

    স্পিকার আরও বলেন, সংসদে মৌখিক বক্তব্যের সুযোগ সীমিত। সদস্যদের নোটিশের মাধ্যমে প্রস্তাব দিতে হবে এবং সেসব নোটিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং চাইলে সদস্যরা সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারেন।

    বর্তমান সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশ রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা সংসদীয় ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

    হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ তুলে ধরা উচিত। পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনী বিল আনার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারপক্ষ তা বিবেচনা করতে পারে।

    স্পিকার আরও জানান, গণতন্ত্রে মতভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    এবিএনএ: সংসদে তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। বিলটি অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান বিরোধী দল অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে।

    শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিলটি ভোটে পাস হওয়ার পর বিরোধী দল তাদের আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করে।

    পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগের ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে একে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

    বিরোধী দলের দাবি, বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং তাদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বিলটি পাসের পক্ষে অবস্থান নেয়।

    ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া হয়।