Category: রাজনীতি

  • শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    এবিএনএ: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা এই ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

    পররাষ্ট্রনীতি: সমমর্যাদা ও কৌশলগত বন্ধুত্ব

    ইশতেহারে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা

    প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াতের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শতভাগ সামরিক আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। এজন্য একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি এবং প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।

    সামরিক বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু ও সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    এবিএনএ: নির্বাচনী পরিবেশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পটুয়াখালীর বাউফলে দলটির থানা কার্যালয়ে পরিচালিত পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে এ আহ্বান জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাউফল থানা জামায়াত কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ তল্লাশি চালালেও কোনো আপত্তিকর বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

    তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন, যা থেকে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে-বিদেশে দলটির একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে। এ ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে প্ররোচিত হয়ে অভিযান চালানো অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন অবস্থায় তাকে দায়িত্বে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। পাশাপাশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

  • ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা ও ঋণখেলাপিমুক্ত করতে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে—ডাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায়ের মধ্য দিয়েই দেশের জন্য নতুন পথ উন্মোচিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা গণতান্ত্রিক ধারাকে অস্বীকার করে, তাদেরকে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ভোট কেনাবেচা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কেউ যদি অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আগের দিনের অনিয়মের সংস্কৃতি আর চলবে না—এমন বার্তাও দেন তিনি।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ে কিছু গোষ্ঠী দুর্নীতির পথে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়ে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

    চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান।

  • নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    এবিএনএ: নারী সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ইশরাক হোসেন জানান, সম্প্রতি কর্মজীবী কয়েকজন নারী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা। গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামের পথে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রনেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনাও তুলে ধরেন।

    ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হবে কেবল কোনো দল নয়—জয়ী হবে বাংলাদেশ ও এর জনগণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিপক্ষের কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। দেশজুড়ে বিএনপির যে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তা নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। তার মতে, বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

    বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদানের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

    এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ সাহেদ মন্টুসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের হয়ে মাঠে কোকোর স্ত্রী

    ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের হয়ে মাঠে কোকোর স্ত্রী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেও সারাদেশের প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে নিজ এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি।

    এবিএনএ: শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় সুবাস্তু নজর ভ্যালি মার্কেটের সামনে থেকে তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শুরু করেন শামিলা রহমান সিঁথি। এরপর তিনি গুলশান এলাকার ডিএনসিসি মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

    এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে তারেক রহমানের জন্য দোয়া ও ভোট কামনা করেন। গণসংযোগকালে শামিলা রহমান সিঁথি বলেন, তিনি ভাইয়ের পক্ষ থেকে ভোটারদের কাছে এসেছেন এবং সবাইকে তারেক রহমানের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

    এই প্রচারণায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিনের স্ত্রী ব্যারিস্টার মেহেনাজ মান্নানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।

  • নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানালেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে কী ঘটবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

    তার দাবি, কয়েকজন প্রার্থীর আচরণ ও তৎপরতা লক্ষ্য করে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বাস্তবতা উপলব্ধি করা জরুরি। একটি বিশেষ মহল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গেও তিনি নির্বাচন করেছেন, তবে তখন এমন বিষোদগার হয়নি বলে উল্লেখ করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি পক্ষ সারাদিন তার নাম নিয়ে কটূক্তি করছে এবং উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব কৌশলে তিনি বিচলিত নন বলেও জানান। তিনি বলেন, “আমি বহু নির্বাচন মোকাবিলা করেছি। এ ধরনের আচরণে আমি অভ্যস্ত।”

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে যে আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিন দেখা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • শেরপুরের হত্যাকাণ্ডে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন জনতার পরীক্ষায়

    শেরপুরের হত্যাকাণ্ডে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন জনতার পরীক্ষায়

    এবিএনএ: শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় জনগণ এখন দেখতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং জাতিকে কেমন নির্বাচন উপহার দেয়।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বাক্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে মাওলানা রেজাউল করিম মারা যান।

    এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কোনো ধরনের গড়িমসি জনগণ মেনে নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমেই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানকে সাক্ষাত করেন।

    সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে থাকবে।”

    তিনি আরও জাতিসংঘ, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি ফিলিস্তিন পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দোয়া, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    উত্তরে রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বাংলাদেশের আন্তরিক সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙায় বাগেরহাটে বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙায় বাগেরহাটে বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

    এবিএনএ: দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বাগেরহাট জেলার ছয়জন নেতাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এজন্য তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মেহেবুবুল হক কিশোর। এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান টুটুল, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শেখ রফিকুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রনি মিনা এবং যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শেখ সোহেল হোসেন।

    দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

  • বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা আজ বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করছে, তাদেরই দুই নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি তখন এতটাই খারাপ হতো, তবে তারা কেন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসকের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিষয়ে ছিলেন আপসহীন। তিনি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল, আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যারা আজ বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে তাদের মন্ত্রিত্ব বহাল থাকাই প্রমাণ করে তারা এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মিথ্যাচার করছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলে একসঙ্গে কেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রেখে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তারা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশ প্রাঙ্গণ।