অর্থ বাণিজ্য

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাজারে চাপ; টিকে থাকতে নতুন কৌশলের পথে শিল্প মালিকরা

৯ মাসে ৫.৫১% কমেছে রপ্তানি, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক চাহিদা পরিবর্তনে উদ্বেগ; নতুন বাজার ও উচ্চমূল্যের পণ্যে জোর

এবিএনএ: দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুটি বাজার—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে—রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই দুই অঞ্চলে অর্ডার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫১ শতাংশ কম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বড় বাজারে চাপ বাড়ছে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখানে মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক যায়। এই বাজারে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.২ বিলিয়ন ডলারে। ইউরোপে ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চাপ এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে রপ্তানি কমে ৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যুক্তরাজ্যের বাজারেও সামান্য পতন হয়েছে, তবে কানাডায় রপ্তানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ কম।

নতুন বাজারেও কমেছে রপ্তানি

শুধু প্রচলিত বাজার নয়, নতুন ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে ৮.০৫ শতাংশ। পণ্যের ধরন অনুযায়ী নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৬.৪২ শতাংশ এবং ওভেন পণ্যে কমেছে ৪.৪৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন নতুন নকশা, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং টেকসই উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রচলিত কম দামের পণ্যে নির্ভরতা কমাতে হবে।

কেন কমছে রপ্তানি

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব সরাসরি রপ্তানিতে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অর্ডার কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং চীনের কম দামের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উচ্চ শুল্ক এড়াতে চীন ইউরোপে কম দামে পণ্য সরবরাহ করায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

শিল্প মালিকদের উদ্বেগ

পোশাকশিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতিতে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তারা শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি খাতের জন্য সতর্কবার্তা। নতুন বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পণ্যে মনোযোগ দিলে রপ্তানি আবারও বাড়ানো সম্ভব।

তাদের আশা, সঠিক কৌশল গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button