Tag: বাংলাদেশ অর্থনীতি

  • হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    এবিএনএ: দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দামে নতুন সমন্বয় করা হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্য হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    তিনি বলেন, রমজান মাস থেকেই ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে তাদের দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পায়। তবে প্রস্তাবিত পূর্ণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কম থাকে।

    সরকার আশা করছে, নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং রিফাইনারদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান দামেও তাদের ব্যয় পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন খরচ, খালাস ব্যয় ও রিফাইনিং খরচ যুক্ত করেই তারা মূল্য নির্ধারণ করেন বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নির্ধারণের সূত্র উন্মুক্ত।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দেশীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন দামের বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং খুচরা পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

  • এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এবিএনএ: দেশের বাজারে গত এক বছরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দেখিয়ে কয়েক দফায় মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি চাপ পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।

    বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর আর কখনো হাজার টাকার নিচে নামেনি এই জ্বালানির দাম।

    চার মাসেই বেড়েছে ৬৩৪ টাকা

    চলতি বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে এলপিজির মূল্য। জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এপ্রিলের শুরুতে বড় ধরনের লাফ দিয়ে দাম হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। পরে আবার বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে বছরের প্রথম চার মাসেই দাম বেড়েছে ৬৩৪ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতিফলন

    এলপিজি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম খরচ সঠিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছিল না। সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণে এসব বিষয় সমন্বয় করায় ব্যবসায়ীদের দাবি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    এলপিজি অপারেটরদের মতে, স্পট মার্কেটে আমদানির প্রিমিয়াম ও জাহাজ বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সরকারি দামের চেয়ে বেশি বাজারমূল্য

    সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকলেও খুচরা বাজারে সাধারণত তার চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও পরিবহন ও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

    বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্র্যান্ডের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বাড়তি চাপে জনজীবন

    জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার ধারাবাহিকতায় এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম বাড়ায় গৃহস্থালির খরচ বেড়েছে আরও বেশি।

    ভোক্তারা বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে, আবার এলপিজিও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে মাসিক খরচ বেড়ে কয়েক হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    যা বলছে বিইআরসি

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

  • প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গতি, আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গতি, আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    এবিএনএ:  প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহে আবারও শক্তিশালী হয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার পর এপ্রিলেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। এর ফলেই মোট রিজার্ভ ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

    এর এক মাস আগে ১৬ মার্চ মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট রিজার্ভ থাকে, সেটিই প্রকৃত শক্তি নির্দেশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করে থাকে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। মাসে গড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।

    এক সময় রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ায় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং অর্থপাচার রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। এতে রিজার্ভ আরও উন্নত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ডলারের মূল্য অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তখন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও বৈদেশিক চাপের কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি ব্যয়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

    পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয় এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হয়। আমদানি বিধিনিষেধও পর্যায়ক্রমে শিথিল করা হয়। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধার সহজ হয়।

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    গত কয়েক মাস ধরেই প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এতে রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে ফিরে আসছে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাজারে চাপ; টিকে থাকতে নতুন কৌশলের পথে শিল্প মালিকরা

    তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাজারে চাপ; টিকে থাকতে নতুন কৌশলের পথে শিল্প মালিকরা

    এবিএনএ: দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুটি বাজার—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে—রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই দুই অঞ্চলে অর্ডার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫১ শতাংশ কম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বড় বাজারে চাপ বাড়ছে

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখানে মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক যায়। এই বাজারে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.২ বিলিয়ন ডলারে। ইউরোপে ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চাপ এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে রপ্তানি কমে ৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যুক্তরাজ্যের বাজারেও সামান্য পতন হয়েছে, তবে কানাডায় রপ্তানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ কম।

    নতুন বাজারেও কমেছে রপ্তানি

    শুধু প্রচলিত বাজার নয়, নতুন ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে ৮.০৫ শতাংশ। পণ্যের ধরন অনুযায়ী নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৬.৪২ শতাংশ এবং ওভেন পণ্যে কমেছে ৪.৪৮ শতাংশ।

    বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন নতুন নকশা, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং টেকসই উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রচলিত কম দামের পণ্যে নির্ভরতা কমাতে হবে।

    কেন কমছে রপ্তানি

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব সরাসরি রপ্তানিতে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অর্ডার কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং চীনের কম দামের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উচ্চ শুল্ক এড়াতে চীন ইউরোপে কম দামে পণ্য সরবরাহ করায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

    শিল্প মালিকদের উদ্বেগ

    পোশাকশিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতিতে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তারা শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি খাতের জন্য সতর্কবার্তা। নতুন বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পণ্যে মনোযোগ দিলে রপ্তানি আবারও বাড়ানো সম্ভব।

    তাদের আশা, সঠিক কৌশল গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

  • বাগেরহাটে সবজির দাম দ্বিগুণ, চাপে ক্রেতা; স্বস্তিতে মাছ-মাংস

    বাগেরহাটে সবজির দাম দ্বিগুণ, চাপে ক্রেতা; স্বস্তিতে মাছ-মাংস

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই সবজির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যেসব সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে সেগুলোর দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। করল্লা, উচ্ছে, বেগুন ও পটলসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম এভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি লাউ, টমেটো, ঢেঁড়শ, শসা ও গাজরের দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি বাজারেই সবজির দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধিও মূল্যবৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

    স্থানীয় এক বিক্রেতা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি আসছে না। মৌসুমি উৎপাদন কম থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। এতে করে প্রতিদিনই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে এত দাম বৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। অনেকেই আগের মতো এক কেজি না কিনে অর্ধেক পরিমাণে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তাদের।

    একজন গৃহিণী জানান, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নার তালিকাতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। তার মতে, বাজারে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় কিছু বিক্রেতা সুযোগ নিচ্ছেন। তাই দ্রুত প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    তবে সবজির বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, এসব পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে এবং তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে।

    বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, খুব শিগগিরই যদি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে সবজির দামও কমে আসতে পারে। এদিকে সাধারণ ক্রেতারা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।

  • তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,মোংলা : দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পর্যটন খাতে। ডিজেলের অভাবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।

    পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আগাম বুকিং দেওয়া কোটি টাকার ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে, ফলে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা।

    প্রতি বছর এ সময় সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোর কোল, নীলকমল ও আন্দারমানিকসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। তবে এবার জ্বালানি সংকটে এসব এলাকা প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। নৌযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক গন্তব্যে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলাতেই শতাধিক পর্যটকবাহী লঞ্চ ও ট্যুর জাহাজ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের ট্যুর পরিচালনা করে। কিন্তু বর্তমান সংকটে এসব ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

    পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার নৌযান মালিক এবং ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকরা কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

    নৌযান চালকদের মতে, স্থানীয়ভাবে উচ্চমূল্যে অল্প পরিমাণ ডিজেল পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে গভীর বনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঝুঁকি এড়াতেই অনেকেই নৌযান চালাতে অনিচ্ছুক।

    সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়। কিন্তু পর্যটক কমে যাওয়ায় বন বিভাগের আয় কমছে। পাশাপাশি হোটেল, মোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যটকের অভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ। জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।

    এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, তেল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন থেকে তেল জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক এই বিশাল অর্থনৈতিক খাত ধসে পড়তে পারে। তাই পর্যটন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সবাই।

  • রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়লো মার্চ—এক মাসেই এলো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার!

    রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়লো মার্চ—এক মাসেই এলো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার!

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের ধারায় নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। এই এক মাসেই দেশে এসেছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি—এক মাসে যা সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য গতি তৈরি হয়েছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। যেখানে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার, সেখানে এবার তা ছাড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ডলার।

    এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার, যা মার্চে এসে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬২১ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (বিপিএম-৬) অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।

  • জ্বালানি সংকট কাটছে? শনিবার থেকেই স্বাভাবিক সরবরাহের আশ্বাস

    জ্বালানি সংকট কাটছে? শনিবার থেকেই স্বাভাবিক সরবরাহের আশ্বাস

    এবিএনএ: দেশজুড়ে পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ নিয়ে যে অস্বাভাবিক ভিড় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা শিগগিরই কেটে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভিড় ও আতঙ্কের কারণে পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    গ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, প্রয়োজনের বেশি জ্বালানি না কিনতে এবং অযথা পাম্পে ভিড় না করতে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

    তিনি আরও বলেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং গ্রাহকরা সংযম না দেখান, তবে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যা সবার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

    জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণ হিসেবে তিনি জানান, মার্চ মাসে টানা সরকারি ছুটির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য পাম্পগুলোতে তেলের ঘাটতি দেখা দেয়।

    তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক উল্লেখ করে তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। বরং স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করলে দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা হলে ১০-১৫ বছরেই কমতে পারে দারিদ্র্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা হলে ১০-১৫ বছরেই কমতে পারে দারিদ্র্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    এবিএনএ: দেশে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বিতরণ করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের দারিদ্র্য অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

    শনিবার যমুনায় আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যদি প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, তাহলে অনেক পরিবারই অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, যেসব পরিবারকে এভাবে সহায়তা দেওয়া হবে তাদের অনেকেরই পরবর্তী বছরগুলোতে আর যাকাতের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

    আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে হলে বিত্তবানদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সমাজে প্রভাবশালী আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

    তিনি জানান, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, ইসলামিক স্কলার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাকাতের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি সফল মডেল হিসেবে ইসলামী বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব।

    বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার যাকাত দেওয়া হয়। কারও কারও মতে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তবে সুসংগঠিত পরিকল্পনার অভাবে এই বিপুল অর্থ দারিদ্র্য দূরীকরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    রমজান মাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ত্যাগ, সংযম ও রহমতের মাস। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সময়েই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে। যারা এ ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের প্রতি তিনি এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার আয়োজন করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবার সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো শেষ আয়োজন হতে পারে।

  • অর্থনীতিতে ধাক্কা: কমে গেল জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৩.৬৯%

    অর্থনীতিতে ধাক্কা: কমে গেল জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৩.৬৯%

    এবিএনএ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

    এর আগে ২৭ মে বিবিএস তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত অর্থনীতির গতিধারা বিশ্লেষণ করে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক অনুমান দিয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, বাস্তব প্রবৃদ্ধি প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

    বিবিএস জানিয়েছে, পরবর্তীতে সব প্রান্তিকের চূড়ান্ত তথ্য বিশ্লেষণ শেষে জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে, যা সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়। সেক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগের বছর (২০২২-২৩) প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। স্থির মূল্যে শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে শিল্প খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে—গত প্রান্তিকে এর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ, যা গত বছর ছিল মাত্র ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি কমেছে; ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এই খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আগের বছর যা ছিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে।