বাগেরহাটে সবজির দাম দ্বিগুণ, চাপে ক্রেতা; স্বস্তিতে মাছ-মাংস

এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই সবজির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যেসব সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে সেগুলোর দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। করল্লা, উচ্ছে, বেগুন ও পটলসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম এভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি লাউ, টমেটো, ঢেঁড়শ, শসা ও গাজরের দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি বাজারেই সবজির দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধিও মূল্যবৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

স্থানীয় এক বিক্রেতা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি আসছে না। মৌসুমি উৎপাদন কম থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। এতে করে প্রতিদিনই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে এত দাম বৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। অনেকেই আগের মতো এক কেজি না কিনে অর্ধেক পরিমাণে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তাদের।

একজন গৃহিণী জানান, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নার তালিকাতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। তার মতে, বাজারে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় কিছু বিক্রেতা সুযোগ নিচ্ছেন। তাই দ্রুত প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে সবজির বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, এসব পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে এবং তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, খুব শিগগিরই যদি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে সবজির দামও কমে আসতে পারে। এদিকে সাধারণ ক্রেতারা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *