Tag: বাংলাদেশ অর্থনীতি

  • চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    এবিএনএ:  গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেওয়া হতো, এখন তা বেড়ে দেড় বা দুই টাকা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এতে অনেক পক্ষ জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত।”

    তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফেরার সম্ভাবনা ফেব্রুয়ারিতে

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফেরত আসতে পারে। বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও এ নিয়ে আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফার্মগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে কিছু বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজও করা হয়েছে। তবে সঠিক অঙ্ক জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলতে পারবেন।”

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ডিসেম্বরে

    তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে ডিসেম্বরে চালু হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রের জ্বালানি এসে গেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুপারিশ বাস্তবায়ন চলছে। তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি।

    ব্যক্তিগত মতামত

    ড. সালেহউদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, তার মন্ত্রী হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি যোগ করেন, “আমি যেখানে কাজ করেছি, সততার সঙ্গে করেছি। তিনটি সরকারের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি।”

    খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সমস্যা

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি বলেন, “আমাদের খাদ্যাভ্যাস এখনো সুষম নয়। চালের ওপর নির্ভরতা বেশি, আমিষ গ্রহণ কম। ডিমের মতো সহজলভ্য আমিষও অনেকেই কিনতে পারছে না।”

  • কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ খরা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব এ পরিস্থিতিকে মহামারীর মতো ছড়িয়ে দিয়েছে।

    শনিবার আয়োজিত এক অনলাইন সংলাপে তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিখন উভয় ক্ষেত্রেই দেশ পিছিয়ে পড়েছে, ফলে তরুণরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।

    পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। কভিড-১৯, রাজনৈতিক স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৫১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগী রয়েছেন, ৪০ শতাংশ মানুষ ক্রমাগত ঋণের বোঝা বইছেন।

    গবেষণায় আরও বলা হয়, ১২ শতাংশ দরিদ্র পরিবার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ৩৬ শতাংশ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারছে না। কর্মসংস্থান বিবেচনায় ৩৮ শতাংশ মানুষ বেকার এবং ৪৫ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

    অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, দারিদ্র্যের হার সবসময়ই বেশি ছিল, কিন্তু কোনো সরকারই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই অন্তত ১৮-২৪ মাসের একটি শক্তিশালী কর্মসূচি নিতে হবে।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তথাকথিত ‘চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি’। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে আটকে আছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ জিডিপির ১ শতাংশেরও নিচে। এ হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অসম্ভব।

    এছাড়া ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন সতর্ক করেন, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বিশেষত শহরাঞ্চলে কমছে, যা শ্রমবাজারের জন্য উদ্বেগজনক।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

    সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • তিন বছরে সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি আগস্টে, ভোগান্তি রয়ে গেল সাধারণ মানুষের

    তিন বছরে সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি আগস্টে, ভোগান্তি রয়ে গেল সাধারণ মানুষের

    এবিএনএ: আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানায়, মাসটিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এই হার ছিল ১০.৪৯ শতাংশ।

    তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দামে সামান্য উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। জুলাইয়ে খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৫৬ শতাংশ, যা আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৭.৬০ শতাংশ। অপরদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম কমায় সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতি নেমে এসেছে ৮.৯০ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৯.৩৮ শতাংশ।

    প্রতিবেদন বলছে, গত জুনে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯.০৫ শতাংশ, পরে জুলাইয়ে কমে দাঁড়ায় ৮.৫৫ শতাংশে। সেখান থেকে আগস্টে আরও ০.২৬ শতাংশ কমেছে।

    তবে আয়-ব্যয়ের ফারাক সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে। দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৮.১৫ শতাংশে। এতে টানা ৪৩ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি, ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আরও সংকটে পড়েছে।

  • বৃহস্পতিবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি: কী থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায়?

    বৃহস্পতিবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি: কী থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায়?

    এবিএনএ: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (Monetary Policy Statement – MPS) ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুদ্রানীতির রূপরেখা তুলে ধরবেন ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য সংবাদ সম্মেলনে মুদ্রানীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো ব্যাখ্যা করবেন গভর্নর।


    📊 কী থাকছে এবারের মুদ্রানীতিতে?

    নতুন মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হবে চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগে উৎসাহ এবং ঋণপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রণোদনামূলক রাখা। বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, ডলারের বাজার, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের বর্তমান প্রবণতাও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রধান, মুখ্য অর্থনীতিবিদ ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।


    📈 কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মুদ্রানীতি?

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতির উচ্চহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবারের মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

    ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও রয়েছে আগ্রহ—ব্যাংক ঋণের সুদহার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থান কেমন হবে তা জানতে।

    এখন দেখার পালা, বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবভিত্তিক এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক একটি নীতি উপস্থাপন করতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বিপর্যয়ের মুখে, চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখ

    যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বিপর্যয়ের মুখে, চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখ

    খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল, এবিএনএ: আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে দেশের রপ্তানি খাত ও শ্রমবাজারে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস।

    এই পরিস্থিতিকে কেবল বাণিজ্য সংকট না বলে “জাতীয় জরুরি অবস্থা” হিসেবে অভিহিত করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দেরিতে পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, “এটি শুধু পোশাক খাতের সমস্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেসব বড় ব্র্যান্ড একাধিক দেশের জন্য অর্ডার দেয়, তারা যদি একবার আস্থা হারায়, তাহলে বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইনে ভয়াবহ ধস নামবে।”

    এক ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার জানান, “এই শুল্ক সংকটের সমাধান না হলে আমাদের এখানে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা হারাবে এবং আমরা বিকল্প উৎস বিবেচনা করতে বাধ্য হব।”

    বর্তমানে পোশাক খাতে সরাসরি ৪০ লাখ শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। যদি অর্ডার হ্রাস পায়, তাহলে মাত্র দুই মাসেই চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

    চট্টগ্রামের শীর্ষ রপ্তানিকারক এশিয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের ৯৩% রপ্তানি মার্কিন বাজারমুখী। সরকার যদি উপযুক্ত কূটনৈতিক সমঝোতায় না আসে, তাহলে আমাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।”

    এদিকে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, লেভিস, সিঅ্যান্ডএ সহ বড় বড় ব্র্যান্ড বর্তমানে ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে পুনর্বিবেচনায় রয়েছে। অনেক বায়িং হাউস ইতিমধ্যেই উৎপাদন ও চালান স্থগিত করতে বলেছে। হা-মীম গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৯০ কোটি টাকার মজুরি ঝুঁকিতে রয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২,৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করেছে, যাদের মধ্যে ৮০১টি প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রমুখী—এরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

    এছাড়া, স্পিনিং, ডাইং, এক্সেসরিজ, পরিবহন, গুদাম ও ব্যাংকিং খাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবসাগুলোও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ কূটনীতিতে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষ সুবিধা আদায় করেছে, অথচ বাংলাদেশ এখনো বাণিজ্যিক ছাড় পায় না।

    শোভন ইসলাম বলেন, “চীন ট্রাম্প যুগে শুল্কের কারণে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হারিয়েছিল। বাংলাদেশকেও তেমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।”

    বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটি রাজনৈতিক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের বিষয়। দলমত নির্বিশেষে কূটনৈতিক উদ্যোগে ঐকমত্য দরকার।”

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি এবং ১৫ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে।”


    যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে তা শুধু একটি বাণিজ্য সংকট নয়—বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বৃহৎ দুর্যোগে রূপ নিতে পারে। এখনই সময় দ্রুত ও কৌশলী কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের।

  • মঙ্গলবার থেকে আমদানি-রফতানির সনদ কেবল অনলাইনে, এনবিআরের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা

    মঙ্গলবার থেকে আমদানি-রফতানির সনদ কেবল অনলাইনে, এনবিআরের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা

    এবিএনএ:  আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে আরও স্বচ্ছতা ও সময়-সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন এক নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই মঙ্গলবার থেকে আমদানি-রফতানির সকল ছাড়পত্র ও অনুমতিপত্র শুধুমাত্র অনলাইনে ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ)’ প্ল্যাটফর্মে জমা দিতে হবে।

    সোমবার এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, দেশের ১৯টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইস্যুকৃত যেকোনো সার্টিফিকেট, লাইসেন্স কিংবা পারমিট (সিএলপি) কাগজপত্র হিসেবে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে জমা না দিলে সেই আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

    এই পদক্ষেপের ফলে ম্যানুয়াল বা হাতে লেখা কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত অনুমোদন কার্যকর হবে না।

    বিএসডব্লিউ সিস্টেমের সুবিধাসমূহ:

    • একটি প্ল্যাটফর্মেই সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমতির আবেদন, প্রাপ্তি এবং যাচাইকরণ সম্ভব।

    • সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

    • সময় ও খরচ কমবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা তৈরি করবে।

    এনবিআরের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে এই সিস্টেমের মাধ্যমে ৩.৮৯ লাখ ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫.৯৭ শতাংশ সনদ এক ঘণ্টার মধ্যে এবং ৯৪.৬৩ শতাংশ একদিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু হয়।

    আগামী ১ জুলাই থেকে অন্তত ১৬টি সংস্থার ইস্যুকৃত ছাড়পত্র সিস্টেমে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে হটলাইন ১৬১৩৯ অথবা www.bswnbr.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সহায়তা নেওয়া যাবে।

    এনবিআর আশা করছে, এ পদক্ষেপ আমদানি-রফতানির প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও গতিশীল করবে, একইসাথে সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে।