Author: ABNA NEWS

  • “আমি একাই সিনেমা টেনে নিতে পারি”— আত্মবিশ্বাসী বাঁধনের সাহসী বার্তা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে

    “আমি একাই সিনেমা টেনে নিতে পারি”— আত্মবিশ্বাসী বাঁধনের সাহসী বার্তা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে

    এবিএনএ,বিনোদন ডেস্ক:
    ‘আমি একা সিনেমা টেনে নিয়ে যেতে পারি’—এই আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ এখন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের পরিচয়। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’-এ তিনি অভিনয় করেছেন এক সাহসী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে, যা এখন আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রে।
    সিনেমাটি নারীকেন্দ্রিক; নেই কোনো নায়ক বা তারকানির্ভরতা, তবুও দর্শকের অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে।

    বাঁধন বলেন,
    “আমি এমন একজন হতে চাই, যাকে দর্শক স্পর্শ করতে পারেন। যারা বলেন, ‘আপু আপনি জিতলে মনে হয় আমরাও জিতেছি’, সেই ভালোবাসা আমাকে শক্তি দেয়।”
    তিনি জানান, সিনেমাটি এমন একটি গল্প বলে, যা মফস্বলের, প্রান্তিক মানুষের, বাস্তব জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এ কারণে তিনি সিঙ্গেল স্ক্রিন মালিকদের অনুরোধ করেছেন, যেন তারা সাহস করে সিনেমাটি চালান।

    বাঁধনের মতে, “সব সময় একই ধরনের সিনেমা চালালে দর্শকের রুচির পরিবর্তন হবে না। সিঙ্গেল স্ক্রিনেও নতুন ঘরানার গল্প পৌঁছাতে হবে। এটা সামাজিক দায়বদ্ধতা।”
    তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টার কর্তৃপক্ষের প্রতি, যারা তার সিনেমাটিকে স্ক্রিনে জায়গা দিয়েছে, যদিও সব শো হাউসফুল যাচ্ছে না।

    ঈদের অন্যান্য সিনেমা নিয়ে বাঁধনের মতামত:
    তিনি ‘উৎসব’ সিনেমাকে প্রশংসা করে বলেন, “এটি অনেক রাজনৈতিক ও জেন্ডার সংবেদনশীল সিনেমা। দর্শক যে এমন সিনেমাও গ্রহণ করছে, তাতে আমি আশাবাদী।”

    প্রচার-প্রচারণা নিয়ে তার বক্তব্য:
    তিনি বলেন, “আমি সুপারস্টারের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দর্শক টানার অপেক্ষা করি না। একা সিনেমা টেনে নেওয়ার শক্তি আল্লাহ দিয়েছেন। দর্শকের কাছে কাজ পৌঁছে দিতেই হবে।”

    মেয়ে মিশেল সম্পর্কে বলেন,
    “আমার সব শক্তির উৎস ও। সে শুধু সমালোচক নয়, বড় ভরসাও। এক ঈদের দিন হলে কম দর্শক দেখে মন খারাপ হলে মেয়েই সাহস দিয়েছে— ‘মা, সিনেমা একসময় ঠিকই মানুষ দেখবে।’ ”

    বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন:
    “নতুন নির্মাতাদের সুযোগ দিতে হবে। সফল নির্মাতাদের উচিত সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বুঝে এগিয়ে আসা।”

    নতুন কাজ প্রসঙ্গে জানান:
    “খুব শিগগির নতুন একটি সিনেমার শুটিং শুরু করব। ডিসেম্বরে আরেকটি ছবির কাজও শুরু হবে।”


  • জোরে বল করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ, লঙ্কানদের সুইং থেকে নিতে চায় শিক্ষা

    জোরে বল করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ, লঙ্কানদের সুইং থেকে নিতে চায় শিক্ষা

    এবিএনএ,স্পোর্টস ডেস্ক:
    বৃষ্টির বিরতির পর লঙ্কান পেসারদের দাপটে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৬১ রানের মধ্যে ৫টি মূল্যবান উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা, যার মধ্যে শেষ বেলার ২৬ রানের সময়েই পড়েছে ৫টি উইকেট। বিশেষ করে মিলান রত্নায়েকে দুর্দান্ত সুইং বোলিং করে তুলে নেন ৩টি উইকেট।

    এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, কীভাবে লঙ্কানদের বোলিং থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের বোলিং বিভাগে উন্নতি ঘটাতে চান তারা। তার মতে, বাংলাদেশের পেসাররা—বিশেষত হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা—দ্রুতগতিতে বল করতে পারেন এবং যদি তারা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন, তবে ম্যাচে ফায়দা তুলতে পারবেন।

    সালাউদ্দিনের ভাষায়:
    “লঙ্কানরা যেভাবে নতুন বল সুইং করিয়েছে ও বলের মেইনটেন্যান্স করেছে, তা আমাদের শেখার জায়গা। আমাদের পেসাররা যদি একইরকমভাবে বল পরিচালনা করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা সম্ভব।”

    তিনি আরও বলেন, গল টেস্টের উইকেট তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে, যা স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করবে।

    কোচের পর্যবেক্ষণ:
    “উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য উপযোগী। আমাদের ফিল্ডারদের দারুণ পরিশ্রম করতে হবে। পরিকল্পনামাফিক বল করতে হবে। তারা (লঙ্কানরা) যেমন করেছে, তেমনি আমাদেরও একই মানের বল করতে হবে। তাহলেই ফল আসবে।”

    নতুন বলে রিভার্স সুইং আদায়ের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন সালাউদ্দিন। তার মতে, বল ঠিকভাবে রিভার্স হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

    শেষ কথা:
    লঙ্কান সুইং আক্রমণের বিপরীতে এখন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ—জোরে এবং সঠিক লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। তরুণ পেসারদের হাতে সেই সুযোগ এখন।

  • সপ্তাহের কর্মদিবসে সড়ক বন্ধ নয়: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের কড়া বার্তা

    সপ্তাহের কর্মদিবসে সড়ক বন্ধ নয়: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানীর যানজট এবং জনভোগান্তি এড়াতে কর্মদিবসে সড়ক অবরোধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে রাজধানীর মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এবং পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত—বাধাগ্রস্ত হয়।”

    মঙ্গলবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত “সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে ডিএমপি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (GRSP)-এর আয়োজিত এ কর্মশালায় ডিএমপির ৬০ কর্মকর্তা অংশ নেন।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঢাকায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ করছি—অফিস চলাকালীন সময়ে যেন সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি না দেওয়া হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত করে কারণ চিহ্নিত করা গেলে তা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। তাই পুলিশ সদস্যদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা জরুরি।”

    অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সারওয়ার বলেন, “চালক, পথচারী ও যাত্রী—সবাই যদি নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলেন, তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।”

    এছাড়া কর্মশালায় অংশ নেন বিআইজিআরএস ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম, জিআরএসপি’র ব্র্যাট হারম্যান, পিটার জোনস এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজনসহ আরও অনেকে।

    ডিএমপি কমিশনার সকল ট্রাফিক সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন সড়কে গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইন বাস্তবায়নে আরও সচেষ্ট হতে।


  • শান্ত-মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে গলে প্রথম দিন বাংলাদেশের দখলে

    শান্ত-মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে গলে প্রথম দিন বাংলাদেশের দখলে

    এবিএনএ:  গল টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। একসময় মাত্র ৪৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে টাইগাররা। তবে এরপর দলকে টেনে তুললেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। উভয়ের সেঞ্চুরিতে দিন শেষে ৩ উইকেটে ২৯২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

    মঙ্গলবার গলে শুরু হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা একেবারেই হতাশাজনক ছিল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা বেশিদূর এগোয়নি।

    সাদমান করেন ৫৩ বলে ১৪ রান, আর মুমিনুল মাত্র ৩৩ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন। দলীয় সংগ্রহ তখন মাত্র ৪৫ রান। তিনটি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ কোণঠাসা, তখন শান্ত-মুশফিকের দৃঢ়তা ছিল এক অনন্য দৃশ্য।

    অধিনায়ক শান্ত খেলেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস। ২০২ বলে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট শতক পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে, প্রায় দশ মাস পর টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেন মুশফিক। ১৭৬ বল মোকাবেলা করে ১২তম শতকে পৌঁছান তিনি। দিন শেষে মুশফিক অপরাজিত থাকেন ১০৫ রানে, আর শান্ত ১৩৬ রানে।

    এই জুটির ব্যাটিংয়ে কেবল বাংলাদেশের ইনিংসই টিকে যায়নি, বরং প্রথম দিন পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।

  • বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    এবিএনএ: সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বুধবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল বের হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সচিবালয়ের বাদামতলা এলাকায় জড়ো হন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী। সেখানে বাংলাদেশ সচিবালয় ঐক্য ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির, মো. নুরুল ইসলাম এবং কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

    নেতারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলোচনায় বলেছেন যে, কর্মচারীদের আন্দোলন নাকি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আসলে কি আন্দোলন কমে আসছে? বরং আজকের জমায়েত গতকালের চেয়েও দ্বিগুণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বুধবার প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা মিছিল আসবে সচিবালয়ের দিকে।”

    তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, এই দাবি আমাদের সবার এবং পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

    ফোরামের আরেক কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবির বলেন, “এই আন্দোলন এখন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশে আমাদের সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছেন। আমরা অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

    বুধবার সকাল ১১টায় আবারও সবাইকে সচিবালয়ের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা আবারও বাদামতলায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন তদন্তে উদ্যোগ: জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

    বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন তদন্তে উদ্যোগ: জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

    এবিএনএ: বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে থাকা বিতর্ক অবসানের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ড. ইউনূস নিজেই। উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন এবং মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

    সরকারপ্রধানের দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আয়োজিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা নিরসনে নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। এ জন্যই তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে যে, বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর পেছনে যেসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল, তাদের তদন্তে আনতে হবে।”

    এছাড়া কমিশনের সদস্যরা আলোচনায় জানান, “জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে।”

    প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে পারব।”

    এ সময় লন্ডনে তার সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, “সেখানে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা সংস্কার প্রক্রিয়া ও ভোটাধিকার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এখনই পোস্টাল ব্যালটসহ সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করা দরকার।”

    বৈঠকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরুর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। নির্বাচনী সংস্কারে এই উদ্যোগ রাজনৈতিক পরিসরে নতুন অধ্যায় রচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে একসাথে এগিয়ে এলেন পুতিন ও এরদোয়ান

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে একসাথে এগিয়ে এলেন পুতিন ও এরদোয়ান

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানটান উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এই সংকট নিরসনে শান্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান।

    উভয় রাষ্ট্রপ্রধানই পৃথকভাবে জানিয়েছেন, তারা এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরান ও ইসরায়েলকে নিয়ে আগেও যে শান্তি প্রস্তাব রাশিয়া দিয়েছিল, তা এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রাশিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।”

    অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইরানের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এরদোয়ান এই ফোনালাপে জানান যে, সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে প্রস্তুত।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এ ধরনের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত চারদিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা, যার ফলে বেড়েছে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা। শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাশিয়া ও তুরস্কের এহেন আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

  • ডাকসু নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ: দায়িত্বে থাকছেন ১০ শিক্ষক

    ডাকসু নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ: দায়িত্বে থাকছেন ১০ শিক্ষক

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পুরোদমে। এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবার রিটার্নিং কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ জন করা হয়েছে। নেতৃত্বে রয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, যিনি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ডাকসু সংবিধানের ৮(এফ) ধারা অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

    বাকি নয়জন রিটার্নিং কর্মকর্তার তালিকায় রয়েছেন—

    • ড. এ এস এম মহিউদ্দিন (মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ),

    • ড. গোলাম রব্বানী (সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট),

    • ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক (তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ),

    • ড. কাজী মারুফুল ইসলাম (উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ),

    • ড. নাসরিন সুলতানা (স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট),

    • ড. মো. শহিদুল ইসলাম (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ),

    • ড. তারিক মনজুর (বাংলা বিভাগ),

    • ড. এস এম শামীম রেজা (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ),

    • এবং সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীর (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট)।

    প্রসঙ্গত, পূর্ববর্তী ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬। এবার সেটি বাড়িয়ে ১০ জন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে নির্বাচন পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।

    বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ডাকসু নির্বাচন কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে সবার কাছে।

  • শপথ নয়, দায়িত্বশীল আচরণই এখন জরুরি: আসিফ মাহমুদ

    শপথ নয়, দায়িত্বশীল আচরণই এখন জরুরি: আসিফ মাহমুদ

    এবিএনএ:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ইস্যু নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে মুখ খুললেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণই সকলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত।

    সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগ কোনো আইন লঙ্ঘন করেনি। গেজেট প্রকাশের পর মামলা বিচারাধীন ছিল এবং ততদিনে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে আইনি দিক থেকে শপথ গ্রহণের আর কোনো সুযোগ থাকেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারীদের কাছ থেকে আরও দায়িত্ববান ও পরিপক্ব আচরণ প্রত্যাশিত। নগর ভবন দখল করে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা এক ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং এটি সরাসরি আইনের শাসনের প্রতি অবমাননা।”

    অবরোধের প্রভাব তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “গত মাসে চলমান অবরোধের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নাগরিক সেবা হ্রাস পেয়েছে। তবুও আমরা নাগরিক সেবা চালু রাখতে ওয়াসা অফিসে বসেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যে নেতৃত্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক, তার কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ মোটেই কাম্য নয়।”

    উল্লেখ্য, ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রাতেও এর প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ঘিরে রয়েছে নানা জল্পনা।

  • ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তরের পাল্টা উত্তরের মাধ্যমে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

    এই হামলার জবাবে ইসরায়েল রাজধানীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজিয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

    তবে এখন পর্যন্ত এই নতুন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    এর আগে শনিবার রাতভর দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তাতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার রেশ না কাটতেই আবারও ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে মরিয়া।