Author: ABNA NEWS

  • ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে রহস্যজনক এক মন্তব্য করে নতুন করে কৌতূহলের জন্ম দিলেন তিনি।

    সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ট্রাম্প নাকি ইরানে হামলার একটি পরিকল্পনায় মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি এখনই সেটি কার্যকর না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কারণ, তিনি মনে করছেন ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরে আসবে।

    এই প্রতিবেদন ঘিরেই শুরু হয় জোর বিতর্ক। ট্রাম্প এরপর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আমার ইরান সংক্রান্ত ভাবনা সম্পর্কে কিছুই জানে না!”

    তিনি আরও বলেন, “আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। সবাই আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করছে, কিন্তু আমি এখনো কিছু ঠিক করিনি। দেখা যাক সামনে কী হয়।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘রহস্যপূর্ণ কৌশল’ নতুন নয়— অতীতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন ধোঁয়াশাপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

  • পরিবেশ ধ্বংস করে নয়, টেকসই উন্নয়নই চাই: প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা

    পরিবেশ ধ্বংস করে নয়, টেকসই উন্নয়নই চাই: প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ:  বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়ন’ প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

    প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ও ব-দ্বীপ অঞ্চল, তাই পানিপ্রবাহ রক্ষা করা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।”

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হো ইউন জোং, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

    প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন—
    ১. নদী ও পানিপ্রবাহ সংরক্ষণ,
    ২. অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যা ও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনা,
    ৩. আন্তর্জাতিক সংযোগ ও আঞ্চলিক বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা

    তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প বন্যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। উঁচু রাস্তা, সেতু বা রেলপথ বানানোর সময় সেই অবকাঠামো জনগণের জন্য আশ্রয় হবে, না বিপদ ডেকে আনবে—তা ভাবতে হবে।”

    এ সময় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উপযোগী করিডোর পরিকল্পনার আহ্বান জানান এবং প্রকল্পে পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পাশাপাশি একটি জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেন।

    সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান উদাহরণ টেনে বলেন, “হাওর এলাকায় এক সময় বিশাল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু পরে দেখা গেছে তা পুরো ইকোসিস্টেম ধ্বংস করেছে এবং মানুষকে চরম বন্যায় ফেলেছে। তাই প্রকল্পের আগে পরিবেশগত প্রভাব ভালোভাবে বিবেচনা জরুরি।”

    এই বৈঠকে উন্নয়নকে টেকসই, সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

  • ডিউটিতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশে কড়া বার্তা

    ডিউটিতে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশে কড়া বার্তা

    এবিএনএ: ডিউটির সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর এই দায়িত্ব পালনের সময় মনোযোগে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মে মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি এসব কথা বলেন।

    তিনি জানান, “ডিউটি পোস্টে মোবাইল ফোন ব্যবহার পুলিশের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং কার্যকর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এটি বন্ধ করতে হবে।”

    আইজিপি আরও বলেন, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। জনগণ ডিএমপির কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আশা করে।” তিনি মোবাইল ডিউটি, গার্ড ডিউটি এবং কূটনৈতিক এলাকার দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় তিনি জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় জনগণকে একটি নিরপেক্ষ ও নিরাপদ ভোটদান পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ডিএমপির প্রতিটি সদস্যকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

    সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “অপরাধ ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতারে সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। সকল ইউনিটকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদ বোধ করে।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বে কোনো ধরনের পক্ষপাত যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

    সভায় মে মাসে দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    এই নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব সময়ে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।

  • জামায়াতের আপত্তি: নির্বাচনের সময় নয়, যৌথ বিবৃতিতে অসন্তোষ

    জামায়াতের আপত্তি: নির্বাচনের সময় নয়, যৌথ বিবৃতিতে অসন্তোষ

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য ক‌মিশ‌নের সংলাপে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশিত হয়েছে। লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যৌথ বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় নির্ধারণে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে যৌথ বিবৃতিতে তাদের প্রতি অবহেলা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির যৌথ বিবৃতি আমাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।” এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

    জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে, যেখানে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তারা মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরে টেলিভিশনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তা আরও গ্রহণযোগ্য হতো।

    দলটি জাতীয় ঐকমত্য ক‌মিশ‌নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা নিরপেক্ষভাবে সকল রাজনৈতিক দলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের মতে, যৌথ বিবৃতি দেয়ার আগে সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।

    এদিকে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা মনে করে, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মানবতাবিরোধীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে মতপার্থক্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে, তারা আশা করছেন, উভয় দল আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাবে।

    এখন দেখার বিষয় হলো, জাতীয় ঐকমত্য ক‌মিশ‌ন ও রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করে।

  • জামায়াতকে অতিরিক্ত সময়, ক্ষুব্ধ সিপিবি ও গণফোরাম সংলাপ ছেড়ে বেরিয়ে গেল

    জামায়াতকে অতিরিক্ত সময়, ক্ষুব্ধ সিপিবি ও গণফোরাম সংলাপ ছেড়ে বেরিয়ে গেল

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য সংলাপে জামায়াতে ইসলামিকে অতিরিক্ত সময় ও গুরুত্ব দেওয়ায় সংলাপের একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)গণফোরাম। তবে সাময়িক প্রতিবাদের পর আলোচনা সভায় তারা পুনরায় অংশ নেয়।

    বুধবার সকাল ১১:৩০টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার সংলাপের তৃতীয় দিনের আলোচনা। দুপুরের বিরতির পর বিকেল ২:৪৫ মিনিটে আবার সংলাপ শুরু হলে কিছুক্ষণ পর সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান স্থান ত্যাগ করেন।

    রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান,
    “জামায়াতের তিনজন নেতাকে সময় দেওয়া হলেও আমাদের একজনের বক্তব্য দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা বের হয়ে এসেছি।”

    গণফোরামের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ ওঠে— সংলাপে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে এবং কমিশন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যদি কমিশন নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে সংলাপে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”

    এই ঘটনার পর কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মনির হায়দার নিজে নিচে নেমে দলগুলোকে ফের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাজি করান।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, বিএনপি-সমর্থিত ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন,
    “জামায়াত তাদের বক্তব্যে বলেছেন, ‘আপনারা তো দশজন মানুষের প্রতিনিধিত্বও করেন না, অথচ আমরা লক্ষাধিক মানুষের প্রতিনিধি।’”
    তিনি আরও বলেন, “আমি ওয়াকআউট করিনি, বরং একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম।”

    শেষ পর্যন্ত সিপিবি ও গণফোরাম সংলাপে ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেন, তবে জামায়াতের প্রতি অগ্রাধিকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরদার হয়েছে।

  • ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের কর্মচারীরা আন্দোলনে আরও সক্রিয় হয়েছেন। এই দাবিতে তারা ফের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ২২ জুন থেকে সারাদেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর প্রদক্ষিণ করে একদল আন্দোলনরত কর্মচারী মিছিল করেন। পরে ভবনের নিচে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, “যদি আজকের মধ্যেই আমাদের দাবি মেনে সংশোধিত অধ্যাদেশ বাতিল করা না হয়, তাহলে আগামী রবিবার (২২ জুন) থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হবে।” তারা আরও জানান, এই কর্মসূচিতে দেশের সব সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে একযোগে আন্দোলনে নামা হবে।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সমাবেশে আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনের সামনে পুনরায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    নুরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবি আজই মানতে হবে। অন্যথায় ২২ জুন থেকে আমরা এমন কর্মসূচি নেব, যা পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অচল করে দিতে পারে।”

    এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এ ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চলেছে— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি ঘিরে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি দিলেন ধোঁয়াশাপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর।

    এক সাংবাদিক জানতে চান, “যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে?”
    এর জবাবে ট্রাম্প বলেন,
    “আমি এ বিষয়ে কিছু বলছি না… আপনি কি সত্যিই ভাবছেন যে আমি এমন প্রশ্নের জবাব দেব?”

    তিনি আরও বলেন,
    “আপনি জানেন না আমি কী করব। আমি হামলা চালাতেও পারি, নাও চালাতে পারি। কেউ জানে না আমি আসলে কী করতে যাচ্ছি।”
    এই বক্তব্যে যেন উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢাললেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্প আরও বলেন,
    “ইরান এখন অনেক সমস্যায় আছে। তারা আলোচনা করতে চায়। আমি আগেই বলেছিলাম— কেন তারা আগেই আমার সঙ্গে বসেনি? এত প্রাণহানি, এত ধ্বংসের আগেই তো আলোচনার সুযোগ ছিল। তারা যদি দুই সপ্তাহ আগে কথা বলত, তাহলে তাদের একটা দেশ থাকত।”

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সম্ভাবনা এড়িয়ে না গিয়ে বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন। তাঁর কথায় রয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ছায়া, যা পরমাণু উত্তেজনার সময় আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১২ জন, বরিশালেই অধিকাংশ ভর্তি

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১২ জন, বরিশালেই অধিকাংশ ভর্তি

    এবিএনএ:  দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ১১০ জনই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৬ জন, ঢাকার বাইরের এলাকায় ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনায় ১২ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

    চলতি জুন মাসের প্রথম ১৮ দিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আর সারা বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ৬৭৮ জন রোগী।

    তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ জন রোগী। মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮৭ জনে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিশ্ব এখন এক চুলের ব্যবধানে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে।”

    জাখারোভা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল বারবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে, যা গোটা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বকে ভয়াবহ পারমাণবিক সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।

    কূটনৈতিক পর্যায়ে চলছে আলোচনা:
    রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর নিয়মিত আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স-এর বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, মস্কো এই সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে নিরসনের পক্ষে কাজ করছে।

    রিয়াবকভ আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে যাবে। এতে শুধু এই অঞ্চলই নয়, গোটা পৃথিবী প্রভাবিত হবে।”

    বিশ্লেষকদের মত:
    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এমন হুঁশিয়ারি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে। একইসঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইসরায়েলের ওপর ইরান ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। বুধবার ইসরায়েলি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শুরু করে ইরান এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে শত শত ড্রোন, যার অধিকাংশই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

    এই হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০০ জনেরও বেশি। এছাড়া প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

    অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক বিশ্বসংস্থা দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তাল, এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।