Category: ফিচার

  • মাস্ক ব্যবহার নিয়ে যা বললেন দেবী শেঠী

    মাস্ক ব্যবহার নিয়ে যা বললেন দেবী শেঠী

    এবিএনএ : করোনাভাইরাস ঠেকাতে বিভিন্ন রকম মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়। বিভিন্ন জন বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কোনটি উত্তম আর কোনটি অধম। তবে এবার কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. দেবী শেঠী।

    তিনি মনে করেন, সার্জিক্যাল মাস্কের মতোই কাপড়ের মাস্ক নিরাপদ। তাই কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে সাহস দিয়েছেন। সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় এমন পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি অপারেশনের সময় সার্জিক্যাল মাস্ক পরি; যাতে কাশি দিলে আমার রোগী সংক্রমিত না হন।’ তিনি জানতে চান, সবাই কেন সার্জিক্যাল মাস্ক পরছেন? ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকসরা করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। তাদের মাস্কগুলো সবাই কেন পরছে? যে কারণে চিকিৎসকরা মাস্ক পাচ্ছেন না। ফলে ডাক্তার-নার্সরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

    দেবী শেঠী বলেন, ‘সার্জিক্যাল মাস্ক মাত্র ৬ ঘণ্টা ব্যবহার করা যায়। এরপর বাড়ি গিয়ে সেটি টেবিলে বা কোথাও রেখে দেন। আপনার শিশু তা স্পর্শ করতে পারে। এভাবে একটি মাস্ক থেকে সেও সংক্রমিত হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নিঃশ্বাস নির্গত উপাদান এই মাস্ক শুষে নিতে পারে না। আপনি যখন এটি ডাস্টবিনে ফেলেন, তখন ময়লাওয়ালা এটি আবার ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে ভাইরাস পুনরায় উৎপাদন হবে।’

    তবে ভাববেন না যে, মাস্ক পরার দরকার নেই। আপনাকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। তবে দয়াকরে কাপড়ের মাস্ক পরুন। কাপড় কোনো কিছু শুষে নিতে পারে। এটি ধুয়ে দিতে পারেন, শুকাতে পারেন, আবারও পরতে পারেন। তাই মনে রাখবেন, ব্যবহারের জন্য কাপড়ের মাস্ক কিন্তু সার্জিক্যাল মাস্কের মতোই নিরাপদ। এতে টাকাও বাঁচলো, নিরাপদও থাকলেন। চিকিৎসকদের আর মাস্ক সংকটে পড়তে হবে না। সুতরাং আপনি ডা. দেবী শেঠীর পরামর্শটি মানতে পারেন।

  • প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

    প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

    আচ্ছা কখনো কী একবার ভেবে দেখেছেন, গতকাল রাতে আপনি যেই রুমের বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন তার পরের দিন আপনি সেই রুমের বিছানায় নেই। আপনি ঠিক অন্য কোনো রুমের অন্য কোনো বিছানায় শুয়ে আছেন। এমনকি বিছানার চাদরের রংটিও বদলে গেছে। আশেপাশের কাউকেই আপনি ঠিক চিনতে পারছেন না। সবকিছু যেন ঠিক বদলে গেছে। ঐ মুহূর্তে আপনি ঠিক কি করবেন?

    অনেকেই হয়তো হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলবেন যে, “এসব আবার সম্ভব নাকি, হাহা।” কিন্তু আমি যদি বলি, হ্যাঁ, এটি  সম্ভব। প্যারালাল ইউনিভার্স থিউরী বলছে এটা সম্ভব। আমরা মহাবিশ্বে বাস করি। কিছু কিছু বিজ্ঞানীর মতে ঠিক এই বিশ্বের সমান্তরালে ভলে আরও একটি বা অনেক বিশ্ব, যেখানে আমি আছি আপনিও আছেন (মাইরালাইচ্ছে)।

    আমরা জানি বিগ ব্যাং এর সাথে সাথে সৃষ্টি এই মহাবিশ্বের। কিছু কিছু মানুষের মতে (বিখ্যাত মানুষ) ঠিক আমার আপনার সমান্তরালে চলছে আরেকটি বা একাধিক বিশ্ব। যদি টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব হয়, তাহলে এর পিছনে থাকবে এই প্যারালাল ইউনিভার্স চলুন বিস্তারিত প্রলাপ জানা যাক।

    ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের ফলে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল এই মতবাদ বহু পুরনো। এ নিয়েও মতভেদের কমতি নেই। বিগ ব্যাং-এর  ৯.১ বিলিয়ন বছর পর পৃথিবী গঠিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, যে ভয়ানক বিস্ফোরণেরকে বিগ ব্যাং বলা হয়, তা আসলে আমাদেরই মতো ভিন্ন দুটি ব্রহ্মাণ্ডের সংঘর্ষের ফল। আর সেখান থেকেই পুরো বিশ্বের সৃষ্টি। আমাদের বিশ্বের পাশাপাশি কল্পিত ভিন্ন ব্রহ্মাণ্ডকেই বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন প্যারালাল ইউনিভার্স। সেই ব্রহ্মাণ্ডর ঠিক আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের মতোই। সেখানে রয়েছে হুবহু আমাদেরই মতো দেখতে মানুষজন, ঠিক যেন আমাদেরই জেরক্স কপি। বিজ্ঞানীদের ধারণা এ রকম হওয়াটা একেবারে অসম্ভব নয়! প্যারালাল ইউনিভার্স হচ্ছে আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের মতো আরও একটি বা একাধিক ব্রহ্মা যা ঠিক আমাদেরই মতো। সেখানকার প্রকৃতি, ভূমণ্ডল এমনকি প্রাণিজগৎও একেবারে আমাদেরই মতো। হুবহু আমাদেরই মতো দেখতে সবকিছু। একেবারে যেন আমাদের যমজ বিশ্ব। আমাদের পৃথিবীতে এখন যা ঘটছে সেখানেও ঠিক তাই ঘটছে। আমাদের পৃথিবীতে আমরা যা করছি সেখানে আমাদের ‘জেরক্স কপি’ ঠিক তাই করছে। এই ব্যাপারটা পুরোপুরি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আওতায় পড়ে। ১৯৫৬ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী হাগ এভাবেই সর্বপ্রথম কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাহায্যে প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোথায় আছে এই প্যারালাল ইউনিভার্স? অনেকের মতে, আমাদের খুব কাছেই, একেবারে নাগালের মধ্যেই আছে এই যমজ ব্রহ্মা । আবার কারও কারও মতে পৃথিবী থেকে বহু বহু দূরের কোনো গ্যালাক্সিতে রয়েছে এটি। তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও আশ্চর্যজনক যে তত্ত্বটি খাড়া করেছেন কয়েকজন গবেষক তা হলো- প্যারালাল ইউনিভার্সের অস্তিত্ব রয়েছে আমাদের জানা তিনটি ডাইমেনশন বা মাত্রার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বাইরে। অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার বটে। যেখানে রয়েছে ঠিক আমাদের  মতো ‘জেরক্স কপি’।
    অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, প্যারালাল ইউনিভার্সের সংখ্যা এক নয়, একাধিক। আমাদের
    ব্রহ্মাণ্ডের একেবারে পাশাপাশি রয়েছে এসব ব্রহ্মান্ড । বলতে গেলে একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। ক’দিন আগে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, এরকম একাধিক প্যারালাল ইউনিভার্সের ঘর্ষণের ফলেই ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্টেম্ফারণ ঘটেছিল। আর দুই প্যারালাল ইউনিভার্সের ঘর্ষণের ফলেই নতুন আরেকটি ইউনিভার্স অর্থাৎ
    পৃথিবীর উৎপত্তি। কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে গেষণায় মগ্ন বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বটি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন। কিন্তু সত্যিই কি প্যারালাল ইউনিভার্স কিংবা জেরক্স কপি বলে কিছু আছে? আপনার কি মনে হয়?

  • টয়লেটের ফ্ল্যাশে দু’টি বাটন থাকে কেন?

    টয়লেটের ফ্ল্যাশে দু’টি বাটন থাকে কেন?

    এবিএনএ : আধুনিক জীবনযাত্রায় অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। তারমধ্যে আধুনিক টয়লেটে ফ্ল্যাশের ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্য। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সবাই ফ্ল্যাশের বাটনে চাপ দেন। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, সেই ফ্ল্যাশে দু’টি বাটন রয়েছে? কেন দু’টি বাটন রাখা হয়েছে, তা হয়তো অনেকের জানা নেই। আসুন তাহলে জেনে নেই-

    কেউ হয়তো কাজ সেরে সঠিকভাবে টয়লেট পরিষ্কার রাখল না। আবার কেউ এতোই পানি ব্যবহার করল যে, তাকে অপচয়ই বলা যায়। সেই বদ অভ্যাস ও অপচয় রোধের জন্যই ফ্ল্যাশের ব্যবস্থা করা হয়। যদিও আগে টয়লেটের ফ্ল্যাশে থাকত টানা দড়ি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্যান্ডেল থেকে তা চলে এসেছে বাটনে। ফলে আধুনিক টয়লেটের ফ্ল্যাশ হিসেবে দু’টি বাটন রাখা হয়।

    যেহেতু জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান হারের কারণে দিন দিন বাড়ছে পানির চাহিদা। অথচ চাহিদা বাড়লেও দিন দিন কমে আসছে ব্যবহার্য পানির পরিমাণ। তাই শৌচকার্যে পানির অপচয় রুখতে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখান থেকেই দু’টি বাটনের পরিকল্পনা আসে ফ্ল্যাশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাথায়।

    একটি বড় ফ্ল্যাশে সাধারণত ৬ থেকে ৭ লিটার পানি খরচ হয়। আগে যে কোন ফ্ল্যাশে ঠিক এ পরিমাণই পানি খরচ হতো। আর ছোট ফ্ল্যাশে খরচ হয় ৩ থেকে সাড়ে ৪ লিটার পানি। ফলে বড় কোন প্রয়োজন ছাড়া বড় ফ্ল্যাশ না চাপাই ভালো। সে ক্ষেত্রে ছোট বাটনটি চাপা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    flash-cover.jpg

    তাই আমাদের টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম-কানুন জেনে রাখা দরকার। একটু সচেতন হলেই অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা অপচয় এড়িয়ে যাওয়া যায়। যদিও অনেক দেশে টিস্যু পেপার দিয়েই কাজ শেষ করা হয়। আবার কোন কোন ফ্ল্যাশে বাটন একটিই থাকে। সেসব ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা।

  • বিশ্ব মা দিবস আজ

    বিশ্ব মা দিবস আজ

    এবিএনএঃ আজ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। বিশ্ব মা দিবস। সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য, মাকে যথাযথ সম্মান দেয়া, ভালোবাসা। দিনটি উপলক্ষে দেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে মাকে ভালোবাসা জানিয়েছেন বহু সন্তান।

    জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে আনা জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জার্ভিসের উদ্যোগে মা দিবসের সূচনা হয়। আনা জার্ভিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর ও ওহাইওর মাঝামাঝি ওয়েবস্টার জংশন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিস সারা জীবন ব্যয় করেন অনাথ-আতুরের সেবায়। মেরি ১৯০৫ সালে মারা যান। লোকচক্ষুর অগোচরে কাজ করা মেরিকে সম্মান দিতে চাইলেন মেয়ে আনা জার্ভিস। অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব মাকে স্বীকৃতি দিতে আনা জার্ভিস প্রচার শুরু করেন।

    সাত বছরের চেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় মা দিবস। ১৯১১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে মা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

    তবে মা দিবসের প্রবক্তা আনা জার্ভিস দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, মাকে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো, তাকে দুই কলম লেখার সময় হয় না। চকলেট উপহার দেয়ার অর্থ হলো, তা নিজেই খেয়ে ফেলা।

  • আরবদের বহু বিবাহ প্রথা ও কিছু কথা

    আরবদের বহু বিবাহ প্রথা ও কিছু কথা

    এবিএনএ: বিয়ে একটি সামাজিক ও ধমীয় প্রথা। তবে একাধিক বিয়ে নিয়ে রয়েছে নানা মত। একাধিক বিয়ে নিয়ে কেউ সুখী আবার কেউ বা দুঃখী। যেমন, আমিরাতের (ইউএই) আরবদের একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত ধ্যান-ধারণা কৌতুহলোদ্দীপক। একাধিক বিয়ে বা বউ নিয়ে তারা অত্যধিক সুখী না হলেও দুঃখী কাউকে দেখা যায় না। একাধিক বিয়ে নিয়ে  আরবদের অনেকেই তেমন কিছু বলতে চান না। তবে অনেক ঘনিষ্ঠজনের কাছে প্রসঙ্গক্রমে বলেন অনেক কিছুই- সেসব থেকে জানা কিছু কিছু বিসয় তুলে ধরা হরো এখানে।

    আমিরাতে বিয়ে করতে গেলে কনে পক্ষকে বিপুল পরিমাণ মোহরানার অর্থ দিতে হয়। এ কারণে বেশ কিছু আরব স্থানীয় আরব মেয়ের পরিবর্তে ভিনদেশি  মেয়েদের বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আর আরব মেয়েরাও এতে তেমন একটা পিছিয়ে নেই। অবশ্য এখন অনেকেই একাকী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। তাদের মতে সতীনের সঙ্গে ঘর করার চেয়ে একা থাকাই ভালো। এ কারণে অনেক আরব মেয়ে বিয়ে করেননি।

    আবার অনেকে বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করে পিতৃগৃহে বা নিজ ঘরে বসে আছেন। এখানে তালাক দেওয়া-নেওয়ার ঘটনা প্রচুর। যাদের ঘরে তিন-চারটা মেয়ে রয়েছে, তাদের ২-১ জনের বিয়ে হলেও ঘুরে ফিরে আবার তাদের বাপের বাড়িতেই দেখা যায়।

    আহমদ আল শামসির (ছদ্মনাম) বয়স ৩৪, একটা কম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তার দুজন স্ত্রী এবং চারটি সন্তান। বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতেই বলে ওঠেন, “এখন পর্যন্ত দুটো। তবে চারটা পর্যন্ত করার ইচ্ছে। এখন দুইজনকে দুই ঘরে রাখি, ঝামেলা তেমন একটা হয় না।” কৌশলে সব কিছু ম্যানেজ করেন বলে জানান তিনি। তার বাবার, শ্বশুরের আর দাদারও দুটো করে বউ ছিল বলে জানান।

    এস হারিবের (ছদ্মনাম) বয়স ৩২, একটি সরকারি অফিসের বিশেষ বিভাগের প্রধান। বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জানান, বউ তার একটাই। তবে ছয়জন ছেলেমেয়ে। ২২ বছর বয়সে নিজের কাজিনকে বিয়ে করেন তিনি।

    হারিব আরও জানান, তার বাবার তিন বউ, শ্বশুরের চার বউ।  আর বিয়ে করবেন কিনা জানতে চাইলে জানান, অন্তত দুই থেকে তিনটি বিয়ে করবেন তিনি। তবে এখন নয়- তা হবে চল্লিশের পর।

    তিনি আরো জানান, তার তিনটি মোবাইল, একটি মোবাইলে তিন চারজন গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ। পরে হয়তো এদের কাউকে বিয়ে করতে পারেন বলে জানান। বউয়ের সঙ্গে এদের কোনো সমস্যা হবে  কিনা প্রশ্ন করলে তিনি  জানান, এসব কিছু ম্যানেজ করতে হবেই। শুধু বাড়ি, গাড়ি আলাদা করে দিলেই হলো। তবে তার বউ  নাকি নিশ্চিত তার আরো দুই তিনজন সতীন আসবে।

    আবু জিদান (ছদ্ম নাম) অর্থাৎ জিদানের বাবার বয়স ৫২ বছর। তার ছেলের নাম  জিদান তাই তাকে সবাই আবু জিদান বলেই ডাকেন। আরবে কোনো ব্যক্তিকে তার বড় ছেলের নামের আগে আবু যুক্ত করে ডাকার রেওয়াজ রয়েছে। আবু জিদান একজন চৌকস ব্যবসায়ী, ঘরে রয়েছে তিনজন বউ। আলাদা দুই বাড়িতে দুই বউকে, আর তৃতীয়জনকে রেখেছেন একটি ফ্লাটে। ছেলেমেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করতেই মুচকি হেসে বলেন, “অনুমান করেন, কয়টি হবে?” বললাম, “১০ জন হবে।” মুচকি হেসে ‘হাঁ’ বললেন এ বুড়ো খোকা।

    জানলাম, কয়েক মাস পূর্বে জর্ডান থেকে আরেকটি বিয়ে করে নিয়ে এসেছেন। তার আগে আনলেন মরক্কো থেকে একটি। কেন এসব করছেন- জিজ্ঞেস করলে বলেন, “মন তো আরো বেশি চায়।”

    সালমা আলীর (ছন্দনাম) বয়স ৩৬। একটি সরকারি অফিসে ভালো চাকরি  করতেন। চার সন্তান নিয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন তিনি। চাকরির সুবাদে আলাপ ও দেখা হত ২৬ বছরের যুবক আলীর সঙ্গে। প্রতিদিনের আলাপে ফেঁসে যান আলী। একদিন সালমা আলীর ঘরে বউ হয়ে আসেন। তাদের রয়েছে এখন চারটি ছেলেমেয়ে। আগের ঘরের ছেলেরাও মায়ের সঙ্গে থাকেন। সালমা জানেন, সুযোগ বুঝে আলীও কয়েকটি বিয়ে করবেন।

    তবে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে একাধিক প্রেমের প্রবণতা প্রবল থাকলেও বিয়ের প্রবণতা অনেক কমেছে। আরবের অনেক শেখের উপযুক্ত ছেলেরাও এখনো  বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চান না। যাদের পেতে বা বিয়ে করতে অনেক মেয়েই পাগল। আরবের নতুন প্রজন্মও বোঝে, বিয়ে বা বহু বিবাহ সব সমস্যার সমাধান নয়। বহু বিবাহ তাদের রীতি; বাপ দাদারা করে এসেছেন, তাই তারা করেন। কিন্তু এখন অনেকেই এক বউ বা এক সংসারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যদিও নারী আসক্তিটা তাদের কমবেশি রয়েছেই।

  • যে কারণে দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিত নয়

    যে কারণে দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিত নয়

    এবিএনএ: তৃষ্ণার্ত হলে পানি খাব। এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু পানি খাওয়ার পদ্ধতি ও শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা না জানলে তা বিপদ ডেকে আনে বলেই দাবি চিকিৎসকদের। তাদের মতে, শরীরের পেশী, হাড়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থান, সব কিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই খেতে হবে পানি। পানি তেষ্টা পেল, আর যেমন অবস্থাতেই থাকি না কেন, পানি খেয়ে নিলাম— এ নিয়মে বিপদ আছে বলে আশঙ্কা চিকিৎসক মহলে।

    পানি কেবল তেষ্টাই মেটায় না, শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কতটা পানি কোন কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার মাত্রাও ঠিক হয়। কী ভাবে পানি খান? বসে না দাঁড়িয়ে? না কি অত কিছু ভাবেনও না পানি খাওয়ার সময়? তা হলে এ বার ভাবুন।

    চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার চেয়ে বসে পানি খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। রক্তচাপ, স্নায়বিক ক্রিয়াকলাপ, কিডনির কার্যকারিতা ইত্যাদি নানা দিক খতিয়ে দেখে, বসে পানি খাওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ গৌতম গুপ্ত ও কিডনি বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ তরফদার।

    দাঁড়িয়ে পানির বিপদ:

    স্নায়বিক উত্তেজনার দিক খতিয়ে দেখলে বসে পানি খাওয়াই ভাল। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি খেলে স্নায়ু উত্তেজিত হয় ও বাড়ে রক্তচাপ। বেশির ভাগ সময়ে দাঁড়িয়ে পানি খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়।শরীরের ভিতরের ছাঁকনিগুলি কুঁচকে যায় ও নেফ্রনগুলি শরীর থেকে টক্সিন সরানোর সুযোগ পায় কম। তাই শরীরকে পরিশ্রুত করার কাজ বাধা পায়। দাঁড়িয়ে পানি খেলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে ধাক্কা মারে। পাচকরসের ক্ষরণ কমে হজমের সমস্যা দেখা যায়। ​এ ভাবে পানি খেলে তা হৃদযন্ত্রের উপরেও অতিরিক্ত চাপ ফেলে। বুকের পেশীর উপর এই চাপের ফলে বিষম খাওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসরোধ পর্যন্ত হতে পারে।

  • ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পদে বাংলাদেশের রুদমিলা

    ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পদে বাংলাদেশের রুদমিলা

    স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দূরের কথা, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিও হয়নি তাঁর। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকারের উচ্চ পদে কাজ করছেন বাংলাদেশের মেয়ে রুদমিলা। অভিবাসন আইনের কড়াকড়ি, নাগরিকত্বের ভিন্নতা কিংবা লাল পাসপোর্টধারীদের দাপট—সবকিছুই হার মেনেছে সবুজ পাসপোর্টধারী এই বাঙালি মেয়ের মেধার কাছে।

    পুরো নাম রুদমিলা আজাদ। দুর্নীতি দমনে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াস ফ্রোড অফিস—সিএফও’-এ চাকরি করছেন তিনি। তাঁর পদের পোশাকি নাম—ফাইন্যান্স বিজনেস পার্টনার। ‘সিরিয়াস ফ্রোড অফিস’ বা এসএফওর কাজ হলো বড় বড় আর্থিক দুর্নীতি ও প্রতারণার তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা। যুক্তরাজ্যে সরকারি চাকরিতে সাধারণত পাঁচটি ধাপ বিদ্যমান। রুদমিলার পদটি তৃতীয় ধাপের। বাংলাদেশের হিসেবে রুদমিলার পদটিকে বলা যেতে পারে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার। এর এক ধাপ পরই সর্বোচ্চ পদ ‘সিনিয়র সিভিল সার্ভেন্ট’; যাঁরা স্থায়ী সচিব বা বিভাগীয় প্রধানের কাজ করেন।

    সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের নিউহামে রুদমিলার বাসায় বসে তাঁর গল্প শোনা হলো। স্বামী মাহমুদ শওকত আজাদও সঙ্গ দিলেন আলাপচারিতায়।

    এসএফওতে যেভাবে নিয়োগ

    যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকেরা কাজের অনুমতি থাকলে সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে অনলাইনে আবেদন করেন রুদমিলা। প্রাথমিক বাছাই শেষে তিনটি ধাপে—মৌখিক, গাণিতিক ও পরিস্থিতিগত বিবেচনা-বিষয়ক পরীক্ষা। তারপর সাক্ষাৎকার। এই পর্যায়ে কেবল দুজন উত্তীর্ণ হন। তাঁদের চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক। রুদমিলা অনেকটা একই সময়ে ‘ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স’ বিভাগের সমপর্যায়ের একটি পদেও আবেদন করেন। দুটিতেই নিয়োগের চূড়ান্ত ডাক পান। তিনি এসএফওর পদটি বেছে নেন।

    যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাউনাইন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বেতনভোগী ছাড়া যেকোনো বাংলাদেশি বিদেশি সরকারের কাজ করতে পারেন। তিনি রুদমিলার সাফল্যকে বাংলাদেশিদের জন্য গৌরবের বলে মন্তব্য করেন।

    রুদমিলার কাজটা কী

    সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে একজন নির্বাহী পরিচালকের অধীনে তিনটি বিভাগ রয়েছে—চিফ ইনভেস্টিগেটর, জেনারেল কাউন্সিলর ও চিফ অপারেটিং অফিসার। এগুলোর আছে আবার উপবিভাগ। জেনারেল কাউন্সিলের অধীনে ‘ব্রাইবারি অ্যান্ড করাপশন ডিভিশন’। এই বিভাগেই প্রধান (ফাইন্যান্স বিজনেস পার্টনার) রুদমিলা। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি এ কাজে যোগ দেন। তাঁর বিভাগের কাজ নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব, বাজেট প্রণয়ন, খরচের পূর্বাভাস, লোকবল নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্য যাচাই ইত্যাদি। রুদমিলা বললেন, এসএফও স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর বোর্ডে নির্বাহী পরিচালকদের জবাবদিহির জন্য আছেন অনির্বাহী পরিচালকেরা। তবে বিচার বিভাগের অধীন এই প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জবাবদিহি করে। অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্তের শুরু থেকে এর নিজস্ব হিসাব নিরীক্ষক ও আইনজীবীরা যুক্ত থাকেন।

    আমেরিকান দূতাবাস দিয়ে শুরু

    ২০১০ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসেন রুদমিলা। বিয়ের পর ২০১৫ সালে ‘স্পাউস ভিসায়’ স্থানান্তরিত হলে পেয়ে যান পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ। পড়াশোনা তখনো শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে প্রথম চাকরির কথা চিন্তা করেন। শুরুতেই লন্ডনের আমেরিকান দূতাবাস। ব্রিটিশ, মার্কিন বা ইউরোপীয়—সব আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে রুদমিলা সেখানে ‘গ্র্যাজুয়েট অ্যাকাউন্টস পেয়েবল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদে যোগ দেন।

    ঝটপট কাজ, বুদ্ধিদীপ্ত কথার ধরন দিয়ে এই বাঙালি মেয়ে বুঝিয়ে দেন একজন বাংলাদেশিকে চাকরি দিয়ে ভুল করেননি নিয়োগকর্তারা।              একপর্যায়ে অন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। ‘ই-ইনভয়েসিং’ বিষয়ে ১১০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বছরের সেরা কর্মীর স্বীকৃতি ‘ইনডিভিজ্যুয়াল মেরিটোরিয়াস অনার অ্যাওয়ার্ডস’ জিতে নেন। পুরস্কার হিসেবে তাঁকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয় ‘বেসিক ইনভয়েস এক্সামিনেশন’ বিষয়ে এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণে। ২০১৬ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এ কাজে ছিলেন তিনি।

    যুক্তরাজ্যে নিজের কর্মক্ষেত্রে রুদমিলারাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিরল অভিজ্ঞতা

    ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে দেশে দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের রদবদল শুরু হয়। লন্ডন দূতাবাসে প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন কর্মী নিয়ে গঠিত হয় যাচাই-বাছাই কমিটি। ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে ছিলেন রুদমিলা। এই কমিটি মূলত সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের স্বার্থের দ্বন্দ্বের (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে।

    রুদমিলা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দেয়। লন্ডনের জন্য আগ্রহী ছিলেন প্রায় ২৫০ জন। সেখান থেকে উডি জনসন নিয়োগ পান।

    তুখোড় শিক্ষাজীবন

    আরিফ আহমেদ ও রাজিয়া বেগম দম্পতির এক ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে রুদমিলা বড়। জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের উইলিয়াম কেরি একাডেমিতে শিক্ষাজীবন শুরু। এখান থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা ‘আইইএলটিএস’-এ                   পেয়েছেন ৯। ২০১০ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে আসেন যুক্তরাজ্যে। ভর্তি হন লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে অর্থায়ন বিষয়ে প্রথম শ্রেণি পেয়ে স্নাতক করেন। তারপর ব্রাইয়ারলি প্রাইস প্রাইয়র (বিপিপি) বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বা এসিসিএ পড়া শুরু করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স’ বিষয়ে ২০১৫ সালে ‘ডিসটিংকশন’ পেয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এসিসিএ শেষ হয় ২০১৭ সালের জুলাইতে। বিপিপিতে পড়া অবস্থায় ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’র শেফার্ড বুশ শাখার সভাপতি ছিলেন। রুদমিলা দেশটির ‘হায়ার এডুকেশন একাডেমি’র সহযোগী ফেলো। অর্থাৎ দেশটিতে তিনি শিক্ষকতাও করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে বা নির্ভরশীল হয়ে আসা বাংলাদেশিরা সাধারণত শ্রমনির্ভর কাজ  করেন। বেশি হলে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের চেষ্টা করেন। মেধাবীরাও এর বাইরে চিন্তার সাহস পান না। রুদমিলার এই সাফল্যের গল্প বাংলাদেশিদের ‘বৃত্তের বাইরে’ চিন্তার খোরাক জোগাবে।

  • পুরুষের যে বিষয়গুলো নারীকে আকৃষ্ট করে!

    পুরুষের যে বিষয়গুলো নারীকে আকৃষ্ট করে!

    পুরুষের কাছে নারী যেমন আকর্ষণীয়; তেমনই নারীর কাছেও পুরুষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। নারীরা সাধারণত পুরুষের কিছু বিষয়কে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে। শুধু সুদর্শন হলেই যে নারীরা আকৃষ্ট হবে এমন না-ও হতে পারে। আসুন জেনে নেই বিষয়গুলো সম্পর্কে-

    সুদর্শন
    প্রথমত দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় দর্শনে। সে ক্ষেত্রে সুদর্শন পুরুষ নারীর পছন্দের তালিকায় প্রথমেই থাকবে। তবে এর বাইরেও কথা থেকে যায়। কারণ জগতের সব মানুষই সুদর্শন নয়।

    দক্ষতা
    সুদর্শন না হলেও পুরুষটির অন্য যে কোনো দক্ষতা নারীকে আকৃষ্ট করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড প্রাধান্য পেতে পারে। যেমন কারো গান, কারো কবিতা, কারো অভিনয় নারীকে কাছে টেনে নিতে সাহায্য করে।

    মাধুর্য
    পুরুষের হাসিতে এক ধরনের মাধুর্য রয়েছে। সে মাধুর্যে তার ব্যক্তিত্বও ফুটে ওঠে। আর এসব মিলিয়েই পুরুষের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে নারীরা।

    কথাবার্তা
    পুরুষের কথাবার্তা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। তার রসবোধও চমৎকার প্রভাব বিস্তার করতে সাহায্য করে। কারণ নারীরা রসাত্মক কথা খুব পছন্দ করে।

    প্রত্যয়ী
    নারীরা এমন একজন পুরুষকেই খোঁজেন, যার ওপরে সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করা যায়। এ জন্য আত্মপ্রত্যয়ী পুরুষদের পছন্দ করে নারীরা।

    সাহসী
    নারী প্রথমত চায় তার নিরাপত্তা। নিরাপত্তাহীন সমাজে নারীর প্রথম পছন্দ একজন সাহসী পুরুষ। যে কিনা যে কোনো সংকটে সাহসিকতার সঙ্গে প্রিয়তমার পাশে দাঁড়াতে পারবে।

    গল্পবাজ
    গম্ভীর পুরুষকে খুব বেশি পছন্দ করে না নারীরা। তবে এর মানে এই নয় যে, তারা বাচালকে পছন্দ করবে। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, অবসরে বা বিশ্রামে দারুণ গল্প করতে পারা পুরুষকে সব নারীরই পছন্দ হয়।

    বিশ্বাসী
    নারীরা পছন্দের মানুষের প্রতি বিশ্বাসী থাকতে চায়। এ জন্য তারা বিশ্বাসী পুরুষকেই খোঁজে। নারীর কাছে বিশ্বাসী হতে না পারলে সে সম্পর্কও বেশিদিন টেকে না।

  • মাদক ছাড়লে যা হয়

    মাদক ছাড়লে যা হয়

    এবিএনএ : মাদকাসক্তি যুবসমাজকে ধ্বংস করে দেয়। ক্ষতি করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। এতে আসক্ত হওয়া যত সহজ, ছেড়ে দেওয়া তার চেয়েও বেশি কঠিন। তবে মানসিক শক্তিমত্তায় একবার ছাড়তে পাড়লে বেশকিছু উপকার হয়। আসুন জেনে নেই উপকারগুলো-

    রাতে ভালো ঘুম
    মাদক ছেড়ে দিলে আগের চেয়ে ভালো ঘুম হয়। কারণ মাদকাসক্তির কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। মাদকের নিকোটিন ঘুম কেড়ে নেয়। মাদক গ্রহণ বন্ধ করলে স্বাভাবিক ঘুমের চাহিদা বৃৃদ্ধি পায়।

    পরিমিত খাদ্য
    মাদক গ্রহণের ফলে খাবারের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়। পেটে খাবার না থাকলেও পেট ভর্তি ভর্তি মনে হয়। কখনো কখনো ক্ষুধা থাকলেও খেতে ইচ্ছা হয় না। কিন্তু মাদক ছেড়ে দেওয়ার পরই খাবারের স্বাভাবিক চাহিদা অনুভূত হয়। পরিমিত খাবার খেতে সাহায্য করে।

    ‘ধূমপান ক্যান্সারের কারণ’ স্লোগানটি মাদকের মোড়কের গায়েই লেখা থাকে। তবে মাদক ছেড়ে দিলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

    ত্বকের উজ্জ্বলতা
    মাদক গ্রহণের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমতে থাকে। বিশেষ করে ধূমপানের কারণে মুখের রং কালসিটে হয়ে যায়। তাই মাদক ছেড়ে দিলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকে।

    টাকার সাশ্রয় 
    অর্থের বিনিময়েই তো মাদক সংগ্রহ করতে হয়। নিয়মিত মাদক গ্রহণ করলে একটি পরিবারের ভরণ-পোষণের সমান টাকা খরচ হতে পারে। তাই মাদক ছেড়ে দিলে টাকার সাশ্রয় হবে। ফলে পরিবারে এমনিতেই স্বচ্ছলতা চলে আসে।

  • ক্যান্সার মোটেই ভয়ের অসুখ নয়

    ক্যান্সার মোটেই ভয়ের অসুখ নয়

    এবিএনএ : জ্ঞান বিজ্ঞানের যেরকম অগ্রগতি হয়েছে তা দেখে ও জেনে আজকাল অনেকেই জানতে চান ক্যান্সার রোগ হিসেবে এখন আর কতটা ভয়াবহ? এই রোগ চিকিৎসাযোগ্য কিনা বা নিরাময়যোগ্য কিনা! এই লেখায় আমরা এরকম ভাবনার কিছু উত্তর খুঁজে দেখবো কিন্তু তার আগে আমাদের জানা দরকার ক্যান্সার কী?

    আমরা সবাই জানি যে কোনও প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এই পুরানো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারণভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। যখন এই কোষগুলো ‘কোনও কারণে’ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বেনাইন (নির্দোষ) বা মলিগন্যান্ট (ক্ষতিকর) হতে পারে।

    খুব সাধারণভাবে যদি কেউ বুঝতে চান তাহলে এই রোগ কিছুতেই আর দশটা রোগের চাইতে আলাদা কিছু নয়। শরীরের যে কোনও অসুখ ক্রমান্বয়ে একজন মানুষ, প্রাণী বা উদ্ভিদকে মৃত্যুর দিকে টেনে নিতেই পারে। ক্যান্সার রোগকে আমরা যেদিন থেকে বুঝতে শুরু করেছি, সেই শুরু থেকেই, আমরা এখনও তার কারণ পুরোপুরি হদিস করতে পারিনি, যেরকম হয়েছে অন্য আর সব রোগের বেলায়ও। অজানা কারণ হয়তো একে দুর্বিষহ করেছে বিশেষ করে পরিবারের জন্যে, যেহেতু এর চিকিৎসায় খরচ তুলনামূলকভাবে বেশিই পড়ে।

    আমাদের জানা দরকার যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্যান্সারকে আজকাল অন্য আর সব রোগের মতোই বিবেচনা করা হয়। উন্নত বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের ৫০% ভাগই এখন নিরাময় লাভ করেন বা ক্যান্সার হয়নি এমন মানুষদের মতোই গড় আয়ু পেয়ে থাকেন। আমাদের মতো গরিব দেশগুলোর অসুবিধা হলো, আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি নিয়ে বেশি একটা খবর রাখি না বা পাইও না। যাদের পাওয়া উচিত (যেমন চিকিৎসক-সমাজ, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী) তারা এই নিয়ে বেশি একটা খোঁজ করেন না বলে তাদের কাছে অনেক খবর ঠিকমতো পৌঁছায় না।

    ক্ষেত্র বিশেষে পৌঁছালেও ধারাবাহিক মেডিক্যাল জ্ঞানের অভাবে এসবের অগ্রগতির তাৎপর্য তারা ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। ফলে ক্যান্সার রোগের মতো যে রোগগুলো অসংক্রামক তা নিয়ে আমাদের দেশে চিকিৎসা জগতের তেমন কোনও প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। আর এই সুযোগে ওষুধ কোম্পানিগুলো জেঁকে বসে আমাদের বেশি দামের ওষুধ কিনে নিতে বাধ্য করছে।

    উন্নত বিশ্বে যা হয়, আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় একটি পরিপূর্ণ নিরীক্ষণ পরিকল্পনা নিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়। এর জন্যে অনুসরণ করা হয় চিকিৎসার ভেদ অনুযায়ী নির্ধারিত অনুসরণিকা বা গাইড লাইন। আমাদের দেশে সেরকম উপযোগী গাইড লাইন না থাকায় ও স্থানীয় পর্যায়ের গবেষণার সুযোগ কম থাকায় নানা রকম পরীক্ষায় পাঠানো হয় রোগীদের। এর ফলে প্রচুর টাকা খরচ হয় শুধু রোগ নির্ণয় করতেই। তার সঙ্গে হয়রানি তো আছেই।

    ক্যান্সার সঠিকভাবে সনাক্ত করা গেলে এই রোগ মোটেই ভয়ের কোনও অসুখ নয়। স্তনের ক্যান্সার–সহ অনেকগুলো প্রাথমিক চিকিৎসায় ভালো হয়। জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে এখন টিকা আবিষ্কার হয়েছে এবং বাংলাদেশেও তা পাওয়া যাচ্ছে।

    আমাদের বুঝতে হবে ভয় পেয়ে এই রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে নিজের ও পরিবারের দুর্ভোগ বাড়ানো উচিত নয়। আমাদের দেশে এখন অনেকগুলো চিকিৎসা কেন্দ্র সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি হয়েছে যেখানে মোটামুটি ক্যান্সার নির্ণয়ের ও চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।

    সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যানসার এমন কোনও রোগ নয় যে এর ফলেই কারও মৃত্যু অনিবার্য আর অন্য কোনও রোগে মৃত্যু হবে না বা জীবন দীর্ঘস্থায়ী হবে। বরঞ্চ ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ নিজের মৃত্যু আসন্ন জেনেও বাকি জীবনের অনেক পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারেন যা হৃদরোগ বা আরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

    ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের শেষ জীবনে যেসব শারীরিক উপসর্গ হয় তাতে কোনও কোনও ক্ষেত্রে রোগী বেশ কষ্ট পেয়ে থাকেন। বিজ্ঞানীগণ এই ব্যাথার মাত্রা নির্ণয় করে এখন সঠিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম ওষুধ মাত্রাভেদে প্রয়োগের ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছেন।

    ‘প্রশমন যত্ন’ হিসেবে এই সেবা এখন মোবাইল ফোনেও দেওয়া হচ্ছে যাতে বাড়ি থেকেই রোগী তার ডাক্তারের কাছে ব্যাথা ও অবসাদের মাত্রা জানাতে পারেন। আমাদের দেশেও এই সেবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে চালু হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানী মিলে এখন উপায় বের করেছেন কী করে একজন ক্যান্সার রোগীকে বাড়ি রেখেই (পরিবারের অন্য সব সদস্যদের বিরক্ত না করেই) উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া যায়।

    এছাড়া এখন বিজ্ঞানীগণ ক্যান্সারের জন্যে যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ণয় করেছেন যার ফলে ওষুধের মাত্রা (কেমোথেরাপি নামে পরিচিত) সঠিকভাবে অনুসরন করে প্রয়োগ করা হলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় খুব সামান্যই (যেমন চুল পড়ে যাওয়া, বমি বা অবসাদের উপসর্গ হওয়া)। শুধু আমাদের এইসব বিষয়ে কিছুটা সতর্ক জ্ঞানের দরকার।

    অনেক পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবসাদ ও দুর্ভাবনায় ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের একটি বড় অংশ মারা যায়। যা কখনও কাম্য হতে পারে না। পরিবারের একজন সদস্যের শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকা খুব জরুরি হয় যেখানে তিনি ভূমিকা পালন করে থাকেন।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ এই নিয়ে অনেক কাজ করছেন এবং আশা করছি এর সুফল ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা শিগগিরই পাবেন।

    লেখক- পরিচালক, আমাদের গ্রাম ক্যান্সার চিকিৎসা ও ই-হেলথ গবেষণা কেন্দ্র।