Category: ফিচার

  • লেনদেনে চুক্তিপত্র সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তা

    লেনদেনে চুক্তিপত্র সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তা

    এ বি এন এ : মানুষ মাত্রই  কোনো না কোনো লেনদেনের সাথে জড়িত। পণ্য দ্রব্য আমদানি-রপ্তানি, জমি-জমা ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়, নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা, ব্যাংকে মেয়াদি হিসাব খোলা, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া, দোকান পজিশন ভাড়া দেয়া-নেয়া, জমি বন্ধক রাখা, নগদ অর্থ হাওলাত দেয়া, হজ পালন কিংবা বিদেশ গমনের জন্য টাকা দেয়া ইত্যাদি। লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রায়শই অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। লেনদেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি এক পর্যায়ে পরস্পর দীর্ঘ শত্রুতার সৃষ্টি হয়। কখনো লেনদেনকে কেন্দ্র করে খুনো-খুনির ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে মামলা মোকদ্দমা রুজু হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বিচার হয়। কখনো কোর্ট-কাচারি পর্যন্ত যেতে হয়ে। মৌখিক কিংবা অলিখিত লেনদেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে।

    লেনদেন পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে লেনদেন করার পূর্বে উপযুক্ত সাক্ষীর উপস্থিতে চুক্তিপত্র সম্পাদনের জন্য কোরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন একে অপরের সাথে নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য ঋণের চুক্তি করো তখন তা লিখে রাখো; তোমাদের মধ্যকার যে কোনো একজন লেখক সুবিচারের ভিত্তিতে (এ চুক্তিপত্র) লিখে দিবে, যাকে আল্লাহ পাক লেখা শিখিয়েছেন, সে যেন কখনো (চুক্তিপত্র) লিখতে অস্বীকৃতি না জানায়, ঋণ গ্রহীতা বলে দিবে কী (শর্ত সেখানে) লিখতে হবে, (চুক্তিপত্রের) লেখকের অবশ্যই তার প্রতিপালক মহান আল্লাহকে ভয় করা উচিত, লেখককে (খেয়াল রাখতে হবে) তার কিছুই যেন বাদ না পড়ে; যদি সে ঋণ গ্রহীতা অজ্ঞ মূর্খ এবং দুর্বল হয়, অথবা (চুক্তিনামার কথাবার্তা বলে দেয়ার) ক্ষমতাই তার না থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে কোনো অভিভাবক ন্যায়ানুগ পন্থায় বলে দিবে (চুক্তিপত্রে) কী কী কথা লিখতে হবে; তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন পুরুষকে সাক্ষী বানিয়ে নিয়ো; যদি দুইজন পুরুষ (একত্রে) পাওয়া না যায় তবে একজন পুরুষ এবং দুইজন মহিলা (সাক্ষী হবে), যাতে করে তাদের একজন ভুলে গেলে দ্বিতীয় জন তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে; এমন সব লোকদের মধ্য থেকে সাক্ষী নিতে হবে যাদেরকে উভয় পক্ষই পছন্দ করবে, যখন (সাক্ষ্য প্রদানের জন্য) ডাকা হবে তখন তারা তা অস্বীকার করবে না; (লেনদেনের) পরিমাণ যত ছোট হোক কিম্বা বড় হোক তার দিনক্ষণসহ (লিখে রাখতে) অবহেলা করবে না; এটা আল্লাহর নিকট ন্যায্যতার ও সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে অধিক মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং (পরবর্তীতে) যাতে তোমরা সন্দিগ্ধ না হও, তার সমাধানের জন্যও এটা নিকটতর (উত্তম পন্থা), যা কিছু তোমরা নগদ (হাতে হাতে) আদান প্রদান করো তা (সব সময়) না লিখলেও তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই; কিন্তু ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় অবশ্যই সাক্ষী রাখবে, লেখক ও সাক্ষীদের কখনো (তাদের মত বদলানোর জন্য) কষ্ট দেয়া যাবে না; তারপরও তোমরা যদি তাদের এ ধরনের কষ্ট দাও তাহলে (জেনে রেখো) তা হবে (তোমাদের জন্য)  একটি মারাত্মক পাপ।’ (সূরা বাকারা, আয়াত:২৮২)।

    মনে রাখা উচিত, আমাদের কেউ যদি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হয়,  তাহলে চুক্তির শর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চুক্তিপত্রের শর্ত মেনে চলার জন্য স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা হুকুম দিয়েছেন। কারণ চুক্তি পত্রের শর্ত মানার মাধ্যমে পারস্পরিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সর্ম্পক মজবুত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কোরআনে এরশাদ হয়েছে,‘ যাদের সাথে তোমরা চুক্তি করেছো, তারা (চুক্তি রক্ষার ব্যাপারে) এতোটুকুও ত্রুটি করেনি- না তারা কখনো তোমাদের বিরুদ্ধে অন্য কাউকে সাহায্য করেছে, তাদের চুক্তি তাদের মেয়াদ শেষ হওয়া) পর্যন্ত অবশ্যই তোমরা মেনে চলবে।’ (সূরা তাওবা, আয়াত: ৪)। সুতরাং আমাদের নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সর্ম্পক অটুট রাখার জন্য লেনদেন করার পূর্বে কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করা আবশ্যক। এছাড়া লিখিত চুক্তিপত্র থাকলে আইনের আশ্রয় নেয়া যায়। যা মৌখিক কিম্বা অলিখিত লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

  • সেলফিতে আচ্ছন্ন জনতা!

    সেলফিতে আচ্ছন্ন জনতা!

    এ বি এন এ : এই ছবিটি দেখলে এ কথাই বলতে হবে যে, সবাই সেলফিতে আচ্ছন্ন। হিলারির দিকে তাই সবাই পীঠ ফিরিয়ে। আর তাতে মোটেই কষ্ট নেই হিলারির। তিনিও বেশ হাসিমুখ করে পোজ দিচ্ছেন ছবিতে। হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছাও জানাচ্ছেন। কিন্ত কাকে? সামনের জনতা তার দিকে ফিরেই নেই, সবাই উল্টো ফিরে সেলফিতে আচ্ছন্ন। সবারই একটাই চাওয়া পেছনে প্রিয় মানুষটিকে রেখে নিজের একটি ছবি তোলা। যুক্তরাষ্ট্রের ওরলান্ডো থেকে রোববার তোলা হয় ছবিটি।

    ২০১৬ সালের যখন এই চিত্র, ২০০৮ সালে তোলা হিলারির ক্যাম্পেইনের উপরের ছবিটি তাহলে দেখা যাক। সেখানে ক্লিনটনের সামনে জনতার ভিড়। সবাই তার দিকে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে একটু কাছে যাওয়ার চেষ্টা। কেউ বা কাগজ এগিয়ে দিয়ে চেয়ে নিচ্ছেন অটোগ্রাফ। কেউ আবার তুলছেন ফটোগ্রাফ।

    মাত্র আট বছরে পরিবর্তনটা সত্যিই অবাক করার মতো।

  • বিশ্বের বিস্ময়কর সুন্দর বিচ হোটেল

    বিশ্বের বিস্ময়কর সুন্দর বিচ হোটেল

    এ বি এন এ : পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে কার না মন চায়। এ প্রকৃতির রূপ-গন্ধ সৌন্দর্য কম বেশি সবারই উপভোগের তীব্র আকাঙক্ষা থাকে। সে আকাঙক্ষা থেকেই সবাই তার সাধ্য মতো বিশ্বের সৌন্দর্য উপভোগে মরিয়া হয়ে থাকেন।

    ভ্রমণের জন্য পর্যটকরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সমুদ্র, পাহাড়, পর্বত এবং গহীন অরণ্যকে প্রাধান্য দেন। ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্য চাই বিস্মরকর, সুন্দর ও আকর্ষণীয়  অবাসস্থল। যেখানে থেকে নিরবে অনুধাবন করা যাবে প্রকৃতির খাঁটি সৌন্দর্য।

    বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ বিশ্বের সমুদ্র তীরের বিস্ময়কর সুন্দর কিছু হোটেল ও রিসোর্টের ছবি প্রকাশ করেছে। যা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। ‘সিএনএন’র সৌজন্যে বাংলা বাংলানিউজের পাঠকের জন্য তা পরিবেশন করা হলো। চলুন, এবার ছবিগুলো দেখতে থাকি, আর মুগ্ধ হতে থাকি…

    ০১. লি গুয়ানহানি, সেইন্ট বার্থিলেমি।


    ০২. হোটেল ফেসনো, রিওডি জেনিরো, ব্রাজিল


    ০৩. হোটেল ডিউ প্যালিয়েস, বিয়ারিটস, ফ্রান্স।


    ০৪. ফোর সিজন রিসোর্টস দি বিল্টামোর, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।


    ০৫. ইন্টারকন্টিনেন্টাল ড্যানাংসান প্যানিসোলা রিসোর্ট, ড্যানাং, ভিয়েতনাম।


    ০৬. রকহাউজ হোটেল, ন্যাগরিল, জ্যামাইকা।


    ০৭. ডাব্লিউ বার্সেলোনা, বার্সেলোনা, স্পেন।


    ০৮. ইল নিডো প্যানগুলাসেইন আইল্যান্ড, পালাউন, ফিলিপাইন।


    ০৯. বেলমোন্ড ভিলা স্যান্ট অ্যান্ড্রিয়া, সিসিলি, ইতালি।


    ১০. সোনিভা ফুশি, মালদ্বীপ।

  • সম্পর্ক ঠিকপথে এগোচ্ছে তো?

    সম্পর্ক ঠিকপথে এগোচ্ছে তো?

    এ বি এন এ : টানাপোড়েন আর মান-অভিমানের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে যুগল সম্পর্ক। তবে সেই সম্পর্কটা সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না তা নিয়ে অনেকেই ভোগেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। অনেকেই এ ব্যাপারে ছুটেন মনোবিদদের কাছে। সম্পর্ক পাকাপোক্ত করতে তাদের পরামর্শ নেন। তবে এর আগে ঘরে বসে নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করেই বুঝে নিতে পারেন সম্পর্ক কোন দিকে এগোচ্ছে।

    # গত ছয় ‌মাসে কতগুলো নতুন কাজ একসঙ্গে করেছেন?‌ সিনেমা দেখা কিংবা রেস্তোরাঁয় খেতে তো অনেকেই যান। একসঙ্গে মাছ ধরতে যাওয়া কিংবা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার মতো একটু অন্যরকমভাবে সময় কাটিয়েছেন কি?‌ উত্তর যদি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে, সম্পর্কে একঘেঁয়েমি আসছে। কারণ, যেকোনো সম্পর্কই নতুন কাজের স্বাদ পেলে উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

    # নিজেকে প্রশ্ন করুন, যদি কোনো তৃতীয় কারও সঙ্গে যৌনতার সুযোগ পান এবং সেই যৌনতায় যদি ধরা পড়ার সম্ভাবনা না থাকে, সেটা সুযোগ কাজে লাগাবেন কি?‌ উত্তর যদি এক মুহূর্তের জন্যও হ্যাঁ হয়, ধরে নিন আপনার সম্পর্ক এক গভীর সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে।

    # সঙ্গীকে ভালোবাসেন, সেটা ভালো কথা। কিন্তু সঙ্গীর প্রতি আপনার শ্রদ্ধা আছে তো?‌ শ্রদ্ধা ছাড়া কোনো সম্পর্কই কিন্তু টেকে না।

    # নিজেদের মধ্যে যৌনতা কতটা উপভোগ করেন? বিছানায়‌ একঘেঁয়েমি এলেও, সেটা কাটানোর জন্য নানা রকমের টিপ্‌স দেন যৌনতাবিশারদরা। সেগুলো কাজে লাগান কি?‌ উত্তর হ্যাঁ হলে বুঝে নিন, আপনার সঙ্গীকে আপনি সত্যিই ভালোবাসেন।

    # যখন একসঙ্গে থাকেন না, তখন কি সবসময় সঙ্গীর কথাই ভাবতে থাকেন?‌ সাবধান!‌ কারণ এই অভ্যাস থেকেই আসে মাত্রাতিরিক্ত অধিকারবোধ। যা যেকোনো সম্পর্ককে নষ্ট করে দিতে বাধ্য।

    # ঝগড়া করেন?‌ করতেই পারেন। কারণ ঝগড়া প্রেমের অঙ্গ। তবে তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঝগড়ার পরে কত তাড়াতাড়ি মিটমাট করে নেন।

    # সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দেন?‌ পেশাগত জীবনের চেয়েও কি এগিয়ে রাখেন সম্পর্ককে?‌ যদি দেন তাহলে জানবেন, আপনারা একে অপরের ‘‌সোলমেট’‌।

    # জনসমক্ষে কোনো ঝামেলা হলে কি প্রকাশ্যেই সঙ্গীর পাশে দাঁড়ান? জেনে রাখুন, এই অভ্যাস আপনাদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

    # প্রিয় সঙ্গীর কোনো আলাদা নাম রেখেছেন তো?‌ জানবেন, ওই নামে তাঁকে যতবার ডাকবেন, ততবারই তাঁর মধ্যে ভালো লাগার মাত্রা ‌আরও বাড়বে।

  • উড়ন্ত পাখি ‘বড় নীল চটক’

    উড়ন্ত পাখি ‘বড় নীল চটক’

    এ বি এন এ : উড়ন্ত পাখি ‘বড় নীল চটক’। ইংরেজি নাম লার্জ ব্লু ফ্লাইক্লেসার (Large Blue Flycatcher)। বৈজ্ঞানিক নাম- Cyornis Magnirostris। এই পাখিটি দেখতে অনেকটা পাহাড়ি নীল চটকের মতোই।

    বাংলাদেশে প্রথম এই পাখিটিকে শনাক্ত করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খানের নের্তৃত্বে একটি বন্যপ্রাণি গবেষক দল।

    তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলায় ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে একটি ছোট গাছে পাশাপাশি দু’টি পাখি বসে থাকতে দেখেন। পরে শনাক্ত করে দেখেন, এটি বড় নীল চটক। পরবর্তী বছরগুলোতে এই পাখি আর দেখা যায়নি।

    সাধারণত মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভারত, নেপাল, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে এ পাখিগুলো দেখা যায়।
    পাখিটি প্রায় তিন সেন্টিমিটার লম্বা। পুরুষ পাখিটির মাথা, পিঠ ও দেহের পাশে গাঢ় নীল। স্ত্রী পাখির দেহের ওপরটা দেখতে বাদামি-ধূসর। পুরুষের লেজ নীল ও স্ত্রীর লালচে-বাদামি। উভয়ের ঠোঁট কালো ও পা কমলাটে।

    এরা সাধারণত হিমালয় অঞ্চলে বসবাস করে। শীতকালে এরা দক্ষিণ এশিয়ায় ঘুরতে আসে। উড়ন্ত পোকামাকড় ধরে ধরে খায়। যেহেতু এরা উড়তে পছন্দ করে তাই অনেকে এদেরকে উড়ন্ত চটক বলে থাকে।

  • মনীষীদের বন্ধু বিষয়ক বিখ্যাত উক্তি

    মনীষীদের বন্ধু বিষয়ক বিখ্যাত উক্তি

    এ বি এন এ : গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল, বন্ধু তেমনি একটি বিশেষ জাতের মানুষ -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    একটি বই একশটি বন্ধুর সমান.. কিন্তু একজন ভালো বন্ধু পুরো একটি লাইব্রেরির সমান -এ পি জে আব্দুল কালাম

    বন্ধুত্ব গড়তে ধীরগতির হও। কিন্তু বন্ধুত্ব হয়ে গেলে প্রতিনিয়তই তার পরিচর্যা করো।-সক্রেটিস

    বন্ধুদের সংখ্যার ওপর সত্যিকারের বন্ধুত্ব নির্ভর করে না। বরং এটি বন্ধুদের বিশ্বাস ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে।- স্যামুয়েল জনস্টন

    কিছু মৌমাছি এখনো যে গুঞ্জে জানি কোন সুরে মোরে ভরালে গো বন্ধু -গৌরী প্রসন্ন মজুমদার

    একজন বিশ্বস্ত বন্ধু দশ হাজার আত্মীয়ের সমান – ইউরিপিদিস

    কোন মানুষই অপ্রয়োজনীয় নয় যতোক্ষণ তার একটিও বন্ধু আছে-রবার্ট লুই স্টিভেন্স

    একজন সত্যিকারের বন্ধু, কখনো বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয় না -চার্লস ল্যাম্ভ

    বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো।-নিটসে

    কখনো কোন বন্ধুকে আঘাত করো না, এমনকি ঠাট্টা করেও না – সিসেরো

    প্রত্যেক নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়। কিন্তু, বন্ধুত্ব যতই পুরাতন হয়,ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়।-এরিস্টটল

    আহ্, কী ভালোই না লাগে – পুরনো বন্ধুর হাত -মেরি এঙলেবাইট

    সর্বোৎকৃষ্ট আয়না হলো একজন পুরনো বন্ধু – জর্জ হা

    বন্ধুদের মধ্যে সব কিছুতেই একতা থাকে-প্লেটো
    যে তোমার দোষ ধরে বন্ধু সেই জন, সম্মুখে তারিফ করে দুষমন সে জন -হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)

    আগন্তুকের কোনো বন্ধু নেই, আরেকজন আগন্তুক ছাড়া -শেখ সাদি
    বন্ধু কি? এক আত্মার দুইটি শরীর। -এরিস্টটল

    তুমি যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তি চাও, তোমাকে তোমার শত্রুদের সাথে কাজ করতে হবে, তাহলেই সে তোমার সহকর্মী হতে পারবে    -নেলসন ম্যান্ডেলা

    আমার সব থেকে ভালো বন্ধু হল আয়না, কারন আমি যখন কাঁদি তখন সে হাঁসে না -চার্লি চ্যাপলিন

    আমার বন্ধুর জন্যে সবচেয়ে বেশি যা করতে পারি তা হলে শুধু বন্ধু হয়ে থাকা। তাকে দেয়ার মতো কোন সম্পদ আমার নেই। সে যদি জানে যে আমি তাকে ভালবেসেই সুখী, সে আর কোন পুরস্কারই চাইবে না। এক্ষেত্রে বন্ধুত্ব কি স্বর্গীয় নয়?-হেনরি ডেভিড

    থিওরো শত্রুকে যদি একবার ভয় কর তবে বন্ধুকে অন্তত দশবার ভয় করিও, কারণ বন্ধু যদি কোনোসময় শত্রু হয় তখন তার কবল হইতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হইবে না- ইবনুল ফুরাত

    মনে রেখো তোমার শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু, আর তোমার শত্রুর বন্ধু তোমার শত্রু -হযরত আলী (রাঃ)

    আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও সেই জন্যই বন্ধুকে চাই -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে  -অস্কার ওয়াইল্ড

    আমাদের রহস্যময়তার পরীক্ষণে প্রাপ্ত সবচেয়ে সৌন্দর্যময় জিনিসগুলো হলো শিল্প, বিজ্ঞান এবং বন্ধুত্ব – অ্যালবার্ট আইনস্টাইন

    আমার বন্ধুরা আমার সাম্রাজ্য -এমিলি ডিকেনসন

    সবকিছুর শেষে আমরা আমাদের শত্রুদের বাক্য মনে রাখবো না, কিন্তু বন্ধুর নীরবতা মনে রাখবো -মার্টিন লুথার কিং

  • যৌথ পরিবার এবং সন্তানের মানসিক বিকাশ

    যৌথ পরিবার এবং সন্তানের মানসিক বিকাশ

    এক. সন্তান প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বাবা-মা কখনো সন্তানের অমঙ্গল কামনা করেন না, বরং শত দুঃখ-কষ্ট পেলেও সন্তানের জন্য শুভকামনা করেন। মহানবী (সা.) সন্তানদের সুশিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের সন্তানদের স্নেহ করবে এবং তাদের শিষ্টাচার শিক্ষাদান করবে। সন্তানকে সদাচার শিক্ষা দেওয়া দান-খয়রাতের চেয়েও উত্তম। তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞানদান কর। কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।’

    যুগের হাওয়ায় বাবা মায়েরা আজ অনেক ব্যস্ত। সন্তানের জন্য তাদের সময় এখন দুষ্প্রাপ্য। যৌথ পরিবার ভেঙে যেতে যেতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা এখন ৩ জন কিংবা ৪ জনে এসে ঠেকেছে। তদুপরি সবাই ব্যস্ত। এখনও যখন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একান্ত আলাপচারিতা দেখি, অধিকাংশ ব্যক্তিই তাদের একান্নবর্তী পরিবারের স্মৃতিচারণ করেন। পরিপূর্ণ আনন্দ যে ঘরভর্তি মানুষের মধ্যে নিহিত, অবলীলায় সবাই স্মরণ এবং স্বীকার করেন।

    দুই. আমি আমার ছেলেবেলার কথা মনে করে এখনও শান্তি পাই। মায়ের কাছে ছিলাম সব কাজের কেন্দ্রবিন্দু। দাদা, দাদী, নানা, নানী, চাচা, মামার কোলেই কেটেছে আমার শিশুকাল। বাড়ির কাজের মানুষ আমায় কোলে নিয়েছে এমন মনে পড়ে না। দাদার কোলের মধ্যে থেকে শুনতাম বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ, বিখ্যাত মানুষদের গল্প। বাসায় সারাদিন হৈ চৈ লেগেই থাকতো। ক্লাস ওয়ানে যখন ভর্তি হলাম, কাকু স্কুলে নিয়ে যেতো।

    চার বছর বয়সে ক্লাস ওয়ান, ভয় পাই কিনা এজন্য কাকু আমার সঙ্গে ক্লাসের মধ্যেই বসে থাকতেন। কোলে করে বাসায় নিয়ে আসতেন। স্কুল থেকে বাসায় এলে দাদীর খাবারের যন্ত্রনা। বেলা অবেলা নেই। আর সময় মত মায়ের আদর, স্নেহ, শাসন সবই ছিল। যখন মাধ্যমিকে উঠলাম, তখন আব্বুর তদারকিটা বেড়ে গেল। যদিও কাজের জন্য আব্বু কিছুটা ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু রাতের খাবারের সময় তার সঙ্গে বসতে হতো।

    সারাদিন কতটুকু পড়া করেছি, বিকেলে কাদের সঙ্গে খেলেছি, দুপুরে ঘুমিয়েছিলাম কিনা ইত্যাদি কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছিল আমার প্রতিদিনের কাজের অংশ। যৌথ পরিবারের কারণে আমার সামান্য অন্যায় করার সুযোগ ছিল না। ঘরে আমার অনেক অনেক অভিভাবক। এখনও আব্বু প্রতিরাতে আমাদের নিয়ে খেতে বসেন। পরিবারের সব সমস্যার সমাধান খাবার টেবিলেই হয়ে যায়।

    তিন. রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গল্পের ভাষায়, ‘তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই। শোভাও নাই, কোনো কাজেও লাগে না। স্নেহও উদ্রেক করে না, তাহার সঙ্গ সুখও বিশেষ প্রার্থনীয় নহে। তাহার মুখে আধো-আধো কথাও ন্যাকামি, পাকা কথাও জ্যাঠামি এবং কথামাত্রই প্রগলভতা।‘

    গল্পটির আরেক জায়গায় বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর সম্বন্ধে বলা হয়েছে, ‘তাহার চেহারা এবং ভাবখানা অনেকটা প্রভুহীন পথের কুকুরের মতো হইয়া যায়। ‘বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা নিয়ে লেখা এই গল্পটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপযোগী ছিল।

    কিন্তু দুঃখের বিষয়, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘ছুটি’ গল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি এখনও মনে করতে পারি, আমাদের স্কুলের বাংলা ক্লাসের দিনগুলো। বাংলা স্যার যখন প্রথম ‘ছুটি’ গল্পটি পড়ে শুনিয়েছিলেন, আমাদের ক্লাসের অনেক ছেলে ফটিকের কষ্টের জন্য কেঁদে ফেলেছিল। সেদিন অনেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিল আর কখনো স্কুল পালাবে না। মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। অনেকের মনে একটা ভয়ও তৈরি হয়েছিল।

    কারণ মন দিয়ে লেখাপড়া না করলে যদি দূরের কোনো আবাসিক স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়? এজন্যই আত্মোপলব্ধি সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ। অথচ আমরা বুঝে কিংবা না বুঝে আত্মোপলব্ধির সেই সুযোগও বন্ধ করে দিচ্ছি। যৌথ পরিবারের ইতিবাচক দিক এখন সন্তানরা বোঝে না। আত্মীয় স্বজন দেখলে বিরক্ত হয়। ফলে মনের প্রসারতা ও উদারতা তৈরি হয় না। অথচ যৌথ পরিবারে সন্তানরা খুব খারাপ সময়গুলোও সম্মিলিতভাবে আনন্দের সঙ্গে পার করতে পারে। বাবা-মা’র আত্মোপলব্ধি নষ্ট হয়েছে অনেক আগেই, এখন সন্তানের পালা।

    চার. আজকের বাবা-মায়েরা চাকরি, ব্যবসা, পার্টি নিয়ে অনেক অনেক ব্যস্ত। অর্থ বিত্ত আর ক্যারিয়ার নামক আজব নেশায় তাদের পেয়ে বসেছে। সন্তান সঠিকভাবে মানুষ করাও যে ক্যারিয়ারের অংশ সেটা তাদের বুঝাবে কে? শুধু দামি দামি জামা কাপড়, গাড়ি করে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে সন্তানের সব প্রাপ্তি নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন স্নেহ, ভালোবাসা, শাসন।

    ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালামের মতে,’যদি একটি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত এবং সুন্দর মনের মানুষের জাতি হতে হয়, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এক্ষেত্রে তিনজন সামাজিক সদস্য পার্থক্য এনে দিতে পারে। তারা হলেন- বাবা, মা এবং শিক্ষক।’ বর্তমানে অনেক বাবা মা আত্মীয়-স্বজন থেকে আলাদা থাকার মাধ্যমে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়ে চলেছেন। কতটা বোকা চিন্তা ভাবনা! আধুনিকতা মানেই নিসঙ্গতা নয়। একা একা যদি বসবাস করতে চান, তবে রবিনসনের মতো নির্জন দ্বীপে বসবাস করেন।

    সন্তান বাবা-মায়ের জন্য আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত। সেই নিয়ামত সঠিকভাবে পরিচর্চা করুন। আজ আপনি অবচেতনভাবে যেভাবে সন্তানদের অবহেলা করছেন, সন্তানও ভবিষ্যতে তাই করবে। অনেকেই সন্তান মানুষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ঠিক মতো সময় দিতে পারেন না। তাদের জন্য বলছি, যৌথ পরিবার বজায় রাখেন। আপনার সন্তান কখনও নিজেকে একা মনে করবে না। সন্তানের অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখা, মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার, সঙ্গদোষ এড়ানো, অপরিকল্পিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চাইলে, সব চিকিৎসা বাদ দিয়ে যৌথ পরিবার প্রথায় ফিরে আসুন। সন্তানের মানসিক বিকাশে সহায়তা করুন।

    লেখক: উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলা- ৫: রুমাল চুরি

    বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলা- ৫: রুমাল চুরি

    এ বি এন এ : প্রতিটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ খেলা। বাংলাদেশে প্রচলিত বহু গ্রামীণ-লোকজ খেলা রয়েছে। কিন্তু নগরায়ন, প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সেগুলো থেকে ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। শহরের শিশুরা অভ্যস্ত হচ্ছে কম্পিউটার, ট্যাব, মোবাইলে খেলায়। কৃত্রিম পার্কও তাদের অন্যতম গন্তব্য।

    অথচ গ্রামের শিশুরা ছোটবেলা থেকেই বাড়ির এক চিলতে উঠোন বা খোলা মাঠে তেমন কোনো উপকরণ ছাড়াই মেতে ওঠে গোল্লাছুট, নাটবল্টু, বউচির মতো বিভিন্ন মজার গ্রামীণ খেলায়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব খেলার প্রচুরতা আগের তুলনায় বেশ কম। বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলার পঞ্চম পর্বে থাকছে রুমালচুরি-

    রুমাল চুরি
    খেলার উপকরণ একটি রুমাল। ছোট্ট এক টুকরো কাপড় হলেও চলে। আট-দশজনের বড় দল হলে খেলতে মজা হয়।
    খেলোয়াড়রা সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে হাত তুলবে। হাত তোলার সময় হাতের তালু বা পাতা যেকোনো একটি উপরের দিকে রাখতে হবে। যদি হাতের তালুর সংখ্যা বেশি থাকে, আর হাতের পাতার সংখ্যা কম থাকে, তাহলে যাদের যাদের সংখ্যা কম তারা একে একে সরে যাবে। এভাবে শেষ পর্যন্ত যে থাকবে, সে হবে চোর। কিন্তু শেষবারে যদি দু’জন থাকে। আর হাতের একই দিক দেখায়, তাহলে যারা একে একে সরে গেছে তাদের মধ্যে থেকে একজন এসে আবার হাত পাতবে। তিনজনের মধ্য থেকে একজন চোর নির্বাচিত হবে। এবার খেলা শুরু।

    চোর বাদে দলের সবাই গোল হয়ে বসবে। চোর সবার পেছন দিয়ে রুমাল নিয়ে ঘুরতে থাকবে। ঘুরতে ঘুরতে এক সুযোগে রুমালটি গোল হয়ে বসা কোনো এক খোলোয়াড়ের পেছনে রেখে দেবে। চোর এরপর একবার ঘুরে আসার পর যার পেছনে রুমাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে, সে যদি টের না পায়, তাহলে চোর তাকে কিল মারতে থাকবে। তখন সে-ই হবে নতুন চোর। আর পুরোনো চোর বসে পড়বে নতুন চোরের স্থানে। এভাবে পুনরায় খেলা শুরু হবে।
    উল্লেখ্য, যদি রুমাল কারও পেছনে রেখে চোর ঘুরে আসার আগেই সে টের পেয়ে যায়, তবে রুমাল হাতে নিয়ে সে হবে নতুন চোর। আগের চোর খালি জায়গায় বসে পড়বে। এখানে আর নতুন চোরকে কিল দেবে না পুরনো চোর!

  • কারা তরুণদের অনুপ্রেরণা?

    কারা তরুণদের অনুপ্রেরণা?

    এ বি এন এ : স্বপ্ন নিয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কারা তাঁদের অনুপ্রেরণা দেন। টেলিফোনে মোট ২০ জন কিশোর-তরুণের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। স্বপ্ন নিয়ের ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও জানার চেষ্টা করা হয়েছে, কাকে তরুণেরা অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন। সেখানে গতকাল দুপুর পর্যন্ত মোট ৪৭ জন মন্তব্য করেছেন। যে ছোট্ট জরিপ আমরা করেছি, তাতে সারা দেশের তরুণদের আইকন বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যক্তিদের সবাই হয়তো উঠে আসেননি, কিন্তু এতে ভাবনার একটা দিক ধরা পড়েছে। এই ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেক তরুণ হয়তো নতুন করে ভাবতে পারবেন, কাদের অনুপ্রেরণায় তাঁরা এগিয়ে যাবেন।

    তরুণেরাই পরিবর্তন আনেন, যুগে যুগে, কালে কালে। সেই আগুয়ান তরুণদের চেতনার ক্যানভাস রাঙিয়ে দেন যাঁরা, তাঁরাই তো তাঁদের পথপ্রদর্শক! স্বপ্ন নিয়ের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয়েছে কাদের কাজে তাঁরা প্রভাবিত হন, কারা তাঁদের অনুপ্রেরণা।

    বেশি শোনা গেছে যে নামগুলো

    তরুণদের কথায় যে নামগুলো এসেছে, সেগুলো বৈচিত্র্যময়। যেমন রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাদার তেরেসা, নেলসন ম্যান্ডেলা, কাজী নজরুল ইসলাম; তেমনি আছেন ক্রিকেট মাঠের মাশরাফি বিন মুর্তজা থেকে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। দুনিয়া কাঁপানো এই ব্যক্তিত্বরা কেন তাঁদের অনুপ্রেরণা, সে কথাও শোনা হলো তাঁদের মুখেই।

    কেন তারা অনুপ্রেরণা?

    ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্রী মুন্নি আক্তার বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। মুন্নি বলেন, ‘তাঁর মতে, স্পষ্ট ভাষায় মানুষের অধিকারের কথা বলতে আর কাউকে দেখিনি।’ কুমিল্লার ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির সুলগ্না স্নেহা বলে, ‘নেলসন ম্যান্ডেলার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, সমাজের সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আদর্শ তিনি তৈরি করেছেন, তা আমাকে ভীষণভাবে আন্দোলিত করে।’

    ফেসবুক পেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মিজানুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘সত্যজিৎ রায়কে আমি রোল মডেল ভাবি। তাঁর বানানো সিনেমা, লেখা উপন্যাস যত দেখি বা পড়ি, তত মুগ্ধ হই। তাঁর অসংখ্য গুণের অন্তত একটা গুণ যেন আমি ধারণ করতে পারি।’

    রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শাহনেওয়াজ খানের আদর্শ হচ্ছেন মহান বিপ্লবী আর্নেস্তো চে গুয়েভারা। মানুষের কল্যাণ ও সুখের জন্য চের আত্মত্যাগ শাহনেওয়াজকে অনুপ্রাণিত করে। সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাইদ যেমন ই-কমার্স সাইট আলিবাবার নির্মাতা জ্যাক মাকে রোল মডেল ভাবেন। দিনাজপুর সরকারি কলেজের রেজাউল ইসলামের আদর্শ কাজী নজরুল ইসলাম। ‘সবার ওপরে যে মানুষ সত্য, এটাই ছিল নজরুলের সাহিত্য ও জীবন-চেতনার পরম সত্য। তাই তাঁর জীবনাদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করাই আমার একান্ত ব্রত।’ বেগম রোকেয়া ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জের ইফফাত রহমান। বলেছেন, ‘তাঁদের সাহস আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’

    ক্রীড়াবিদেরাও পিছিয়ে নেই

    বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিশফাকুর রহমানের আদর্শ সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের পরিশ্রমী জীবন তাঁকে অনুপ্রেরণা জোগায়। জামালপুরের ডিগ্রিরচর হেফাজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র তৌফিক হাসান বলেছে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা। তৌফিকের মতে, ‘বারবার ভেঙে পড়ার পরও কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়, মাশরাফি ভাই সেটা শিখিয়েছেন।’ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফরহাদ মৃত্তিকা দেশসেরা সার্ফার হতে চান। তাই তাঁর আদর্শ অদম্য সার্ফার বেথানি হ্যামিলটন। ‌‘দৃঢ়প্রত্যয়ী এই নারীর হাল না ছাড়ার মনোভাব আমাকে দারুণ অনুপ্রাণিত করে।’ মৃত্তিকা বলেন।

    পরিবারের কেউ হতে পারেন দৃষ্টান্ত

    শুধুই যে বিখ্যাত ব্যক্তি তাঁদের অনুপ্রেরণার উৎস, এমন নয়। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শেখ পূরবী যেমন অনুসরণ করেন তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবা শেখ মিজানুর রহমানের আদর্শ। আবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেহেরুন মৌরী একক কোনো ব্যক্তি নন, চারপাশের যত ভালো কিছু রয়েছে, তার সবই তিনি গ্রহণ করার চেষ্টা করেন।

    এ তো গেল শিক্ষার্থীদের কথা। শোনা যাক একজন শিক্ষকের কথা। সত্যিকার অর্থে কাকে রোল মডেল ভাববেন তরুণেরা। জিজ্ঞেস করেছিলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাকের শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী তাহসান রহমান খানকে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে তাঁর চিন্তা ও চেতনার জায়গা থেকে পছন্দের কাউকে অনুসরণ করে থাকেন। তবে প্রথম রোল মডেল তাঁর পরিবারের কেউ হতে পারেন। বাবা কিংবা মা। তাহলেই একজন মানুষের শুরুটা ভালো হয়।’

  • আপনার সন্তান জঙ্গি হচ্ছে না তো?

    আপনার সন্তান জঙ্গি হচ্ছে না তো?

    এ বি এন এ : রশিদ (ছদ্মনাম) সাহেবের একমাত্র ছেলে অনিক। ছোটবেলা থেকেই যথেষ্ট মেধাবী। পড়ছে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনিককে নিয়ে বাবা-মা বেশ গর্বিত। এই বয়সের ছেলেদের নিয়ে যেসব প্রচলিত শঙ্কা বাবা-মায়ের মনে থাকে, অনিক সেগুলোর ধারেকাছে নেই। সে নেশা করে না, সিগারেটও খায় না। ঠিক সময়ে বাড়ি ফেরে। কারণে-অকারণে টাকা চায় না। নির্ধারিত কয়েকজন বন্ধু ছাড়া তেমন কারও সঙ্গে মেশে না। মাঝে মাঝে রাত জেগে বন্ধুদের নিয়ে কম্পিউটারে নানা প্রজেক্ট বানায়। এমনকি ধর্মীয় অনুশাসনও কঠোরভাবে মেনে চলে। কখনো কখনো অবশ্য বন্ধুদের সঙ্গে দিন কয়েকের জন্য ঢাকার বাইরে বেড়াতে যায়। তখন নিয়মিত বাসায় ফোন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার রেজাল্টও ভালো। অনিকের মা আরও বেশি খুশি এই কারণে যে, তাঁর ছেলে এই বয়সে প্রেমও করে না!

    কিন্তু একদিন গভীর রাতে হঠাৎ বাসায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য। তাঁরা অনিকের ঘর তল্লাশি করতে চাইলেন। সেখানে পাওয়া গেল মারাত্মক অস্ত্র, জঙ্গিবাদ সমর্থক বই আর অনিকের কম্পিউটার ভর্তি জঙ্গি আক্রমণের কৌশলবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। একটি নাশকতার ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিল, এমন প্রমাণ বাবা-মাকে দেওয়া হলো। গ্রেপ্তার হলো অনিক। তার বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।

    বাবা-মায়েরা অনেক সময় ধারণাই করতে পারেন না যে তাঁদের শান্ত-সুবোধ সন্তান জঙ্গিবাদ আর চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সন্তানের ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার আর বাহ্যিকভাবে তার আচরণ দেখে বাবা-মায়েরা তৃপ্ত থাকলেও কখনো কখনো সন্তানের বহিরাবরণ ভেদ করে তার অন্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো দরকার। শিশুর অন্তঃকরণ জানতে হলে তার ধারণার জগৎটি কীভাবে গড়ে ওঠে, তা বাবা-মাকে খানিকটা বুঝতে হবে।

    সুইস মনোবিজ্ঞানী জ্যঁ পিয়াজে শিশুদের ধারণার জগৎ বা জ্ঞানীয় বিকাশের বিখ্যাত তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ৭ থেকে ১১ বছর বয়সের একটি শিশুর মধ্যে কংক্রিট অপারেশনাল পর্যায় দেখা যায়, যখন আশপাশ সম্পর্কে সে অনেক যুক্তি দিয়ে ভাবতে শেখে। কোনো বস্তুর ধারণায় সে গুণগত মানকে প্রাধান্য দেয়। আর ১১ বছরের পর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত তার মধ্যে ফরমাল অপারেশনাল পর্যায় দেখা যায়, যখন তার ধারণার জগৎটি অনেক বিস্তৃত হতে থাকে, বিমূর্ত হতে থাকে এবং কার্যকারণ বিবেচনা করে সে তার ধারণা প্রস্তুত করে। এই ফরমাল অপারেশনাল পর্যায়টি এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এই সময়টিতেই একজন তরুণের মধ্যে যেকোনো বিশ্বাস বা আদর্শ দানা বাঁধতে থাকে। এই বিশ্বাস বা আদর্শ হতে পারে পুরোপুরি আত্মকেন্দ্রিক ক্যারিয়ার-নির্ভর অথবা পার্থিব ভোগবাদে পরিপূর্ণ কিংবা পুরোপুরি পরার্থবাদী। আবার কখনো-বা হতে পারে মানবতাবিরোধী সন্ত্রাসনির্ভর কূপমণ্ডূক জঙ্গিধারণায় পরিপূর্ণ। তাই এই ১১-১২ বছরের পর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত সন্তানকে বুঝতে পারাটা খুব জরুরি।

    মার্কিন গবেষক লরেন্সকোহলবার্গ পিয়াজের ধারণার জগৎ বা জ্ঞনীয় বিকাশের পর্যায়গুলোর সঙ্গে নৈতিক বিকাশের যোগসূত্রও তুলে ধরেন। মানুষের নৈতিকতার বিকাশের পর্যায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোহলবার্গ তিনটি স্তরের বর্ণনা দেন। জন্ম থেকে প্রথম কয়েক বছর শাস্তি এড়াতে শিশুরা নিয়মকানুন মেনে চলে, এরপর বয়ঃসন্ধিতে সে নিজের কাজের স্বীকৃতির জন্য সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়—‘ভালো ছেলে’ বা ‘ভালো মেয়ে’ অভিধায় তারা ভূষিত হতে চায়। আর নৈতিকতার বিকাশের তৃতীয় স্তর—যা শুরু হয় ১৬-১৭ বছর বয়সের দিকে। তখন সে নৈতিকতাকে নিজস্ব ধারণার জগতের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে থাকে। তার ধারণার জগৎ বা জ্ঞানীয় বিকাশ যদি হয় প্রচলিত সমাজ-সংস্কৃতিপন্থী, তবে তার নৈতিকতার চর্চা হয় সমাজ অনুগামী। আর তার ধারণার জগতে যদি সে বিশ্বাস করে এই সমাজ, এই প্রচলিত রীতিনীতি ‘সঠিক নয়’, তখন সে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে চায়। পরিবর্তনের পন্থা হতে পারে প্রচলিত পদ্ধতিতে অথবা তার নিজস্ব বিশ্বাসের মতো করে। এই পরিবর্তনের যেকোনো পথকে সে নিজস্ব যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে। একজন তরুণের মনোস্তত্ত্ব এখানেই জঙ্গিবাদে মোড় নেয়। প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে তার মধ্যে জন্ম নেয় উগ্রবাদ আর ভ্রান্ত বিশ্বাস। কিন্তু ওই যে তার ধারণার জগৎটিই পাল্টে গেছে, তাই সেই উগ্রবাদ আর নিষ্ঠুরতাকে সে ন্যায্য বলে মনে করে। নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা আর সন্ত্রাস তার কাছে নিজের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার এক ‘উপযুক্ত’ পদক্ষেপমাত্র।

    বয়ঃসন্ধিকাল থেকে পরিণত বয়স, যেমন ২৫-২৬ বছর পর্যন্ত একজন তরুণের মনোজগতের এই পরিবর্তনটি আশপাশের সবাইকে বুঝতে হবে। এই বয়সে তার মনোজগতের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী—খেয়াল রাখতে হবে যে, এই পরিবর্তন যেন ইতিবাচক দিকে হয়—ধর্মান্ধতা বা জঙ্গিবাদের দিকে না হয়।

     

    এ জন্য অভিভাবক, বিশেষ করে বাবা-মায়েদের যে বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে, তা হলো—

    আচরণের পরিবর্তন

    হঠাৎকরে আপনার সন্তানের আচরণের পরিবর্তন ঘটছে কি না, নজর রাখুন। যেমন সে হঠাৎ করে আগের বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে মিশছে না, খানিকটা একা হয়ে গেছে—নতুন নতুন বন্ধু তৈরি হয়েছে, কথাবার্তা কম বলছে, স্বভাবটি চাপা হয়ে গেছে, পুরোনো বইপত্র, গানের সরঞ্জাম ফেলে দিয়ে নতুন নতুন বইপত্র পড়া শুরু করেছে ইত্যাদি।

     

    আচার-আচরণের পরিবর্তন

    ধর্ম পা​লনের যে স্বাভাবিক ও প্রচলিত রীতি–নীতি রয়েছে, হঠাৎ করে আপনার সন্তান সেই রীতি–নীতি থেকে ভিন্ন রকম আচরণ করছে কি না খেয়াল করুন। দেখুন হঠাৎ​ করে আগের চেয়ে তার আচরণে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না।

     

    বাড়ির বাইরে রাত কাটানো

    বেড়াতেযাওয়ার নামে বা বন্ধুর বাসায় থাকার নামে প্রায়ই বাসার বাইরে রাত কাটাচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন, সত্যিই কোথায় রাত কাটায়, কী করে জানার চেষ্টা করুন।

     

    ঘরে কী করছে

    অনেকসময় ঘরে দরজা বন্ধ করে একাকী বা নির্ধারিত বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটালে তাদের নিরুৎসাহিত করুন।

     

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী করছে

    আপনারসন্তান স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, তার খোঁজখবর করুন।

     

    কী ধরনের বই পড়ছে

    পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সে কী ধরনের বই পড়ছে, সেগুলোর দিকে মনোযোগ দিন। তার ঘরে থাকা বইগুলো প্রয়োজনে আপনিও পড়ুন এবং সেখানে কোনো উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদের তথ্যসমৃদ্ধ বই আছে কি না, যাচাই করুন। সে কোন ধরনের সিনেমা দেখছে খেয়াল রাখুন, প্রয়োজনে তার সঙ্গে বসে সেই সিনেমা আপনিও দেখুন।

     

    ইন্টারনেটে কী করে

    সে ইন্টারনেটে কী করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বন্ধু কারা, সে কোন কোন গ্রুপ ফলো করে, তার মন্তব্যগুলো কী রকম, তা জানার চেষ্টা করুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনিও তার বন্ধু থাকুন।

     

    কথাবার্তা খেয়াল করুন

    তার প্রতিটি কথাবার্তা এবং চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়াদি নিয়ে তার মন্তব্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিন। তার কোনো কথা বা মন্তব্যে আপনার যদি মনে হয় সেগুলো খুব বেশি র‌্যাডিকাল বা জঙ্গি ভাবাদর্শের প্রতি নমনীয়, তবে আপনার সন্তানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখুন।

     

    বিষণ্নতা আছে কি না দেখুন

    কখনো বিষণ্নতা, হতাশা বা তীব্র অবসাদ তরুণদের এই ধরনের জঙ্গি হওয়ার অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে। ফলে বিষণ্নতা বা হতাশার কোনো লক্ষণ আপনার সন্তানের মধ্যে আছে কি না, খেয়াল রাখুন।

    মনে রাখবেন, আপনার সন্তান সে যত মেধাবীই হোক, যতই তথাকথিত আধুনিকমনস্ক হোক না কেন, সে ছেলে হোক বা মেয়ে, যে মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পড়ুক না কেন—জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। জঙ্গিবাদ এমনই এক দানব, যা গ্রাস করতে পারে আমাদের আগামী প্রজন্মকে—দুর্বল একটি রন্ধ্র দিয়ে প্রবেশ করতে পারে আপনার প্রিয়জনের অন্তঃকরণে। প্রতিরোধের সময় কিন্তু এখনই।

     

    প্রতিরোধ যেভাবে

    ইন্টারনেটের ব্যবহার সীমাবদ্ধ করুন

    ১৮ বছর বয়সের আগে একান্তে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে সন্তানকে নিবৃত্ত করুন। বাড়িতে ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে রাখুন।

     

    উৎসাহিত করবেন না

    সন্তানের মধ্যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক আচরণ দেখলে সেগুলোকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করবেন না। তার কোনো জঙ্গিভাবাপন্ন মন্তব্যকে হেসে উড়িয়ে দেবেন না।

     

    পারিবারিকভাবে নৈতিকতা আর মুক্তচিন্তার চর্চা

    পরিবারে প্রকৃত ধর্ম আর নৈতিকতার চর্চা করুন। পাশাপাশি শিশুকে পরমতসহিষ্ণুতা শেখান, মুক্ত চিন্তাকে উৎসাহিত করুন। পারিবারিক পরিমণ্ডলে কখনোই সাম্প্রদায়িক বা উসকানিমূলক মন্তব্য করবেন না। আপনার শিশুর ধারণার জগৎ তাতে বিকৃত হয়ে যাবে।

     

    দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা উৎসাহ দিন

    নিজস্বসংস্কৃতির চর্চায় শিশুকে উৎসাহিত করুন। নববর্ষ, জাতীয় দিবস ইত্যাদিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। তার নাট্যচর্চা, নাচ, গানকে উৎসাহিত করুন। বাংলা গান, কবিতাকে ব্যঙ্গ করবেন না—ধর্মের নামে এই দেশীয় সংস্কৃতির চর্চাকে বাধা দেবেন না।

    বই-সিনেমা বাছাই করে দিন

    শিশুর মননশীলতা বিকাশে কার্যকর, মুক্তচিন্তার চর্চায় সহায়ক এমন ধরনের বই ও সিনেমা তাকে বাছাই করে দিন। তার মনটিকে জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হওয়ার আগেই আপনি তাকে সুকুমারবৃত্তি আর খোলা হাওয়ার দিকে পরিচালিত করুন।

     

    সন্তানের বন্ধু হোন

    সন্তানের ওপর গোপন নজরদারি না করে তার বন্ধু হোন, তার ধর্মাচরণসহ নানা বিষয়ে তার সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। তার ভুলগুলো বুঝতে তাকে সাহায্য করুন। রাগ বা অভিমান করে নয়, তাকে ভালোবেসে সঠিক পথে নিয়ে আসুন।

     

    আত্মতৃপ্তি নয়

    আমার সন্তান নেশা করে না, প্রেম করে না—কেবল একটু বেশি বেশি ধর্মচর্চা করে’ এই ভেবে আত্মতৃপ্তি পাবেন না। মাদকের নেশা ছাড়াও তার মধ্যে জঙ্গিবাদের নেশা থাকতে পারে। বিষয়টি মাথায় রাখুন।

     

    সন্তানের বন্ধুদের সম্পর্কে জানুন

    কারা ওর বন্ধু, তা জানার চেষ্টা করুন। বন্ধুদের মধ্যে কোনো জঙ্গি আছে কি না, যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে ওই ধরনের বন্ধুদের পরিহার করতে বলুন।

     

    প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ

    কখনো যদি মনে হয় আপনার সন্তান জঙ্গিবাদের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, তবে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জানান। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন। বিষণ্নতাসহ যেকোনো মানসিক সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করুন।

     

    গোপন করবেন না

    আপনার সন্তানের মধ্যে জঙ্গি ভাবধারা দেখা গেলে বা সে জঙ্গিদলে যোগ দিয়েছে, এমনটা প্রমাণ পেলে বিষয়টি গোপন না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই সমীচীন। কারণ, এতে তার প্রাথমিক মৃদু শাস্তি হলেও অকালমৃত্যুর হাত থেকে সে রক্ষা পেতে পারে—বড় ধরনের শাস্তির হাত থেকে সে রেহাই পেতে পারে; পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজ রক্ষা পেতে পারে বড় ধরনের নাশকতার হাত থেকে।