Category: ফিচার

  • মমতাময়ী ‘মা’

    মমতাময়ী ‘মা’

    এবিএনএ : লেখাটি লিখতে গিয়ে ছেলে বেলার একটি ভাল লাগার কবিতার কথা মনে হল। কবিতাটির দুটি লাইন এমন-

    বাঁশ বাগানে মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ
    মাগো আমার শোলক বলার কাজলা দিদি কই।

    কবিতাটি পড়ে মায়ের গলায় জড়িয়ে ধরে বলতাম কাজলা দিদি কই। মায়ের তখন নানা কথা, আকাশে, নদীর ধারে, তারার মাঝে। যত বারই কবিতাটি পড়া হত, তত বারই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলা যেত কাজলা দিদি কই। বাবা মাঝে মাঝে বলতেন তোমার এই কবিতা ছাড়া আর পড়া নেই। কিন্তু বাবা কি বুঝত কবিতা পড়ার সাথে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরার সম্পর্ক আছে। কিন্তু মা ঠিকই বুঝত। একজন মা তার সন্তানকে যতটুকু বুঝতে পারে ততটুকু আর কেউ পারে না। একজন সন্তানের ব্যথায় মা যতটুকু ব্যথিত হয় ততটুকু আর কেউ ব্যথিত হয় না। একটি ছোট ঘটনা বললে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। একদিন একজন সন্তান সম্ভবা মা ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার তাকে তার সমস্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, “ ডাক্তার সাব আমার পেটের বাচ্চা প্রতিদিন এই আমার পেটে নড়াচড়া করে আর লাথি মারে, আমি তা বুঝতে পারতাম। কিন্তু কয়দিন হয় কোন নড়াচড়া বুঝতে পারি না, লাথিও মারে না। ডাক্তার হতবাক হলেন মাতৃত্বের এমন রূপ দেখে, বাচ্চা পেটে লাথি মারে তাতেও তার কষ্ট নেই। বাচ্চাটা নড়ছে না কেন তার জন্য দুশ্চিন্তার শেষ নেই। মা বলেই এমনটি সম্ভব। একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের চেয়ে বড় কিছু নেই। সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, দেশ বরেণ্য ব্যক্তি হল, নাকি গরিব হল কিংবা বড় হয়ে গেল, এসব বিবেচ্য নয়। মায়ের কাছে সন্তান যত বড় হোক সবসময় ছোট শিশু থাকে। যেমন আমার েেত্র তাই। আমি এখন চাকুরীর সুবাধে সিলেট থাকি। যখন বাড়ি যাই তখন মা আমায় স্নান করিয়ে দিবে। আমার কাতু কুতু লাগে কিংবা আমি অনেক বড় হয়েছি সেদিকে তার খেয়াল নেই। এখনও তার কুলে মাথা রেখে ঘুমনোর মত সুখ আর কোথাও পাই না। বাবার েেত্র তা হয় না। সন্তান বড় হলে বাবার কাছ থেকে কিছুুটা দুরে সরে যায়। বাবা তার সন্তানের সাথে কথা বলতে বা কোন দরকার থাকলে, এই যে তোমার সাথে একটু কাজ আছে। কেমন জানি পর-পর, আনুষ্ঠানিকতায় মোড়ানো। কিন্তু মায়ের সাথে আনুষ্ঠানিকতার স্থান নেই। মা এতই কাছের যে, অনেক সময় নিজেকে নিজের পর ভাবা যায়, কিন্তু মাকে না। হুমায়ুন আজাদের একটি কবিতার কয়েকটি লাইন এমন-
    আমার মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি/আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনির/ আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের/বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচন্ড চিলের মতো, তার ছায়া দেখলেই মুরগির বাচ্চার মতো আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পরতাম/ ছায়া স’রে গেলে বের হয়ে আকাশ দেখতাম/আমাদের মা ছিলো ধান তে-সোনা হ’য়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো/আমাদের মা ছিল দুধভাত-তিনবেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো/আমাদের মা ছিল ছোট্ট পুকুর- আমরা তাতে দিন রাত সাঁতার কাটাতাম। মা এমন এই। কিন্তু বর্তমান কালে যখন দেখি এই মা এই লাঞ্চিত হন, অবহেলিত হন, তার সন্তানের কাছে তখন হতবাক হই। এখন ছেলে বড় হয়ে বিয়ে করলে তার বউ এর কথায় মাকে ভূল বোঝে। কোন কোন েেত্র নির্যাতন ও করে। আমি এমনও দেখেছি কোন মায়ের যোগ্য পাঁচ সন্তান আছে। তারা স্ব-স্ব েেত্র প্রতিষ্ঠিত। বিয়ের পর তারা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, কেউ বৃদ্ধা মায়ের খবর রাখে না। মা তার জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য বাড়িতে কাজ করে। কিন্তু ওরা ভূলে যায় একদিন ওদের সন্তানও বিয়ে করবে, তখন তাদের অবস্থা এমন হবে। একজন সন্তান যদি তার মাকে সুখী রাখে, তার কোন দুঃখ থাকবে না এটা নিশ্চিত। একজন সন্তান যদি তার মাকে চিনতে পারে বা মায়ের মন জয় করতে পারে তার আর বিশ্ব চেনার দরকার নেই। হিন্দু ধর্মে একটি ছোট গল্প আছে। গল্পটি এমন- মা দূর্গার দুই সন্তান গণেষ ও কার্তিক। গণেষের বাহন ঈঁদুর এবং কার্তিকের ময়ূর। একদিন মা দূর্গা দুই সন্তানকে ডেকে বললেন তোমারে মধ্যে যে প্রথম বিশ্বঘুরে আমার কাছে আসবে আমি তাকে আমার গলার রত্মের হার দিব। কার্তিক ময়ূর নিয়ে বিশ্ব ঘুরতে বের হয়ে যান। এদিকে গণেষ তার মাকে প্রদণি করে বলেন, “আমি বিশ্ব ঘুরে এসেছি।” আমাকে রতেœর হার দাও। মা দূর্গা গণেশের মাতৃভক্তি দেখে মুগ্ধ হন এবং গণেষকে রত্মের হার উপহার দেন। একজন সন্তানের কাছে মায়ের চেয়ে বড় বিশ্ব আর কিছুই হতে পারে না। মা শব্দটির ছেয়ে বড় কিছু নেই। ছোট্ট সময় ছিলাম একটি কবিতা পড়েছিলাম-
    মা কথাটি ছোট্ট অতি/কিন্তু যেন ভাই/ইহার চেয়ে নাম যে মধুর/ত্রিভুবনে নাই।
    “মা” শব্দটি ছোট্ট কিন্তু ভালবাসায় ও গভীরতায় এর চেয়ে বড় শব্দ পৃথিবীতে নেই। “মা” দিবসে আমাদের সকলের এই প্রতিজ্ঞা হউক- “মায়ের প্রতি আমরা সব পরিবেশে সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকি। তার প্রতি কর্তব্য পালনে যেন পিছপা না হই।

    লেখক :- কলামিষ্ট ও সংস্কৃতি কর্মী

  • সম্পর্ক ভাঙার যত কারণ

    সম্পর্ক ভাঙার যত কারণ

    এবিএনএ : আধুনিক দিনে প্রযুক্তি আমাদের গোটা জীবনটাই বদলে দিয়েছে। জীবনটা এখন অনেকটাই যান্ত্রিক। সেইসঙ্গে সম্পর্কগুলো কেমন যেন হালকা আর ফিকে হয়ে গেছে। এখন আর মানুষের মধ্যে ভালোবাসার সেই গভীরতা নেই। এখন ভালোবাসায় আমরা আগের সেই আনন্দ উপভোগ করিনা। সবসময় মনের মধ্যে একটা দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই আবার একজনকে ছেড়ে আরও সুন্দরের পেছনে ছোটাছুটি করেন। কেউ কেউ আবার সামাজিক স্ট্যাটাসের সঙ্গে যায় এমন সঙ্গী খুঁজে ফেরেন। এভাবে এক সময় অনেক সৌন্দর্যের ভিড়ে আমাদের সম্পর্কটাই হারিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রত্যেক মানুষই তার জীবনে নিজের আত্মসন্তুষ্টির পথেই এগিয়ে যায়। এ কারণেই সম্পর্কগুলো ভেঙে যায়।

    এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা সম্পর্ক ভাঙার কতগুলো কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলো নিম্নরূপ-

    কারণ-১

    স্ত্রী/স্বামী, কারও সঙ্গে সত্যিকার বন্ধুত্ব, কাউকে কাজে ব্যবহার, কারও কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ প্রভৃতি সম্পর্কগুলো কিন্তু একেবারেই আলাদা। একেকজন মানুষ একেক ক্ষেত্রে থেকে তাদের আনন্দ খুঁজে নেন। এক্ষেত্রে কোন কোন মানুষ আছে যারা শুধু নিজের স্বার্থেই অন্যকে ব্যবহার করে। বাকিটা সময় তাদের উপেক্ষা করে। এভাবে উপেক্ষা ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে দূরত্বটা বাড়িয়ে দেয়। আবার আপনি যদি স্ত্রীকে বা স্বামীকে পর্যাপ্ত সময় না দেন তাহলেও কিন্তু ধীরে ধীরে দূরত্বটা বেড়ে যায়। আর এই দূরত্বটা সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ হতে পারে।

    কারণ-২

    আমাদের স্বপ্নগুলো অনেক বড়। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এ কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমরা ব্যস্ত সময় কাটাই। এ সময় সাফল্য এবং বস্তুগত বিষয়গুলোই আমাদের কাছে প্রাধান্য পায়। তখন যে কোন সম্পর্ক আমাদের কাছে দ্বিতীয় হিসেবে প্রাধান্য পায়। এ কারণেও সম্পর্ক টেকে না, ভেঙে যায়।

    কারণ-৩

    মাঝেমধ্যে কেবল আমাদের কোন জায়গা বিশেষ করে সিনেমা, রেস্টুরেন্ট, কফি শপ কিংবা শপিং করার সময় কারও প্রয়োজন পড়ে। ব্যস, এতটুকুই। আমরা কখনই তার আনন্দ-বেদনাগুলো গভীরভাবে শেয়ার করিনা কিংবা তাকে কোন সান্ত্বনা দেই না। এতে করেও সম্পর্ক ভাঙে।

    কারণ-৪

    প্রতিদিন আমরা নানা মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং কথা বলি। এটা ট্রেন, অফিস, কোন ইভেন্ট কিংবা কোন পার্টি হতে পারে। এ সময় আমরা আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের একটু বেশিই মূল্যায়ন করে থাকি। পরে এটা নিয়ে পরিবারে অনেক অশান্তি হতে পারে। সম্পর্ক ভাঙার এটাও আরেকটা কারণ হতে পারে।

    কারণ-৫

    আজকাল আমরা সঙ্গীর উপস্থিতির চেয়েও মোবাইল ফোনকে বেশি প্রাধান্য দেই। এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্কে একটা দূরত্ব চলে আসে , যা সম্পর্ক ভাঙনের জন্য দায়ী।

    কারণ-৬

    অনেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। তারা তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে আরও বেশি ভালোবাসা, আরও বিনোদন প্রত্যাশা করেন। আর এসবের মধ্যে কোন ঘাটতি খুঁজে পেলেই সে সম্পর্কে তারা বিরক্ত বোধ করেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সম্পর্কে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং সম্পর্ক ভাঙার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর ফলেও পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে যায়।

  • দাম্পত্য মধুময় হয় ভালোবাসার প্রকাশে

    দাম্পত্য মধুময় হয় ভালোবাসার প্রকাশে

    এবিএনএ : জীবনে চলার পথে নানা বাঁধা-বিপত্তি আসতেই পারে। তাই বলে তো আর জীবন থেমে থাকে না। সবকিছুকে জয় করে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হয়। সুখ-দুঃখ-আনন্দ মিলিয়েই দাম্পত্যজীবন। কাজেই এ সময় দুঃখের মাত্রা যেন বেড়ে না যায়, বিশ্বাস ভঙ্গ না হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে চিরদিন কীভাবে মধুময় রাখা যায় সে চেষ্টা কম-বেশি সবাই করে থাকেন। তবে কেবল একজনের চেষ্টা সংসার সুখের হতে পারে না। এজন্য দরকার দুজনের সম্মেলিত প্রচেষ্টা।

    এক্ষেত্রে সংসার সুখের করতে এক জার্মান বিশেষজ্ঞ কিছু উপায়ের কথা বলেছেন-

    জীবনসঙ্গী
    দাম্পত্যের শুরুতেই কিন্তু সমালোচনা বা অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। তাই শুরুতেই নিজের সঙ্গী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়ে একে অপরকে নিজের ইচ্ছা, পছন্দ, অপছন্দ আর প্রত্যাশার কথা ধীরে ধীরে জানিয়ে দিন। এতে করে দাম্পত্যে সুখ ধরে রাখা সহজ হবে।

    কিছুটা স্বাধীনতা সবারই প্রয়োজন
    ব্যক্তি বিশেষেই স্বাধীনতার প্রয়োজন রয়েছে। দাম্পত্য মানেই কিন্তু স্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়া নয়। এজন্য আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কিছুটা সময় নিজের জন্য বের করুন। এ সময় খেলাধুলা, ব্যায়াম বা পড়াশোনা কাজে ব্যয় করুন। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থাকলেই কেবল সংসার সুখের করা সম্ভব।

    সন্তানের জন্মের পর
    বাচ্চার জন্মের পর ওকে ঘিরেই দম্পতিরা সবসময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এটা ঠিক নয়। এ সময় দুজনই কাজগুলো ভাগাভাগি করলে কাজ অনেকটাই হালকা হয়। ব্যস্ততার মধ্যেও দুজনের জন্য খানিকটা সময় বের করুন। দেখবেন সুখে থাকা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।

    ‘কমপ্রোমাইজ’-এর বিকল্প নেই
    জীবনে একসঙ্গে বাস করতে গেলে ঝগড়া কিংবা মনোমালিন্য হতেই পারে। তাই বলে এতে অপরের সঙ্গে কথা বন্ধ রাখবেন এটা ঠিক নয়।  এক্ষেত্রে বিষয়টা মিটমাট করতে যে কোন একজনকে এগিয়ে আসতেই হয়। প্রিয়জনকে কেবল ‘সরি’ বলুন, দেখবেন সব সমস্যা মিটে গেছে।

    একঘেয়েমি দূরে করুন
    সময়ের বিবর্তনে ভালোবাসা এক সময় ম্লান হয়ে যায়। কাজেই সম্পর্কটা সবসময় সতেজ রাখতে সঙ্গী যে কোন সময় ছোটখাট উপহার দিন। চাইলে কোথাও খেতে, সিনেমা দেখতে কিংবা কোন অনুষ্ঠানে বেড়াতে যেতে পারেন। মাঝে মাঝে এমন করলে সম্পর্ক আর চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

    বোঝা বা জানার চেষ্টা
    আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে সংসার, সন্তান, পেশা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি নিয়ে নানা ঝামেলা আসতে পারে। যার প্রভাব আমাদের সাংসারিক জীবনে পড়তে পারে। কাজেই অকারণে একজন রেগে গেলে অন্যজন পাল্টা রাগ না করে রাগের আসল কারণ কি তা বরং জানার চেষ্টা করুন। এ সময় আলোচনা করে একে অপরকে সাহায্য বা পারামর্শ দিতে দিতে পারেন।

    বিশ্বাস
    যে কোন সম্পর্ক কেবল বিশ্বাসের জোরেই টিকে থাকে। কেউ যদি ভুল বা ইচ্ছে করে অন্য কারো সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে যান, তাহলে সে বিষয়ে কথা বলুন। হয় ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসুন, না হয় দাম্পত্যজীবনের বিচ্ছেদ ঘটান। অবিশ্বাস জিইয়ে রাখলে অনেক সময় সংসার টিকে থাকে ঠিকই কিন্তু তা কখনো সুখের কখনো হয় না।

    সেক্স নিয়ে কথা বলুন
    আনন্দময় যৌনমিলন ছাড়া মধুময় দাম্পত্যজীবন কখনোই সম্ভব না। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীদের এ ব্যাপারে আগ্রহ কম কিংবা স্বামীও তার মনের কথা ঠিকমতো বলতে পারছেন না। তাই এ বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করুন, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

    সন্তান বড় হয়ে গেলে
    বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তান বড় হয়ে গেলে মা-বাবারা নি:সঙ্গ বোধ করেন। কাজেই এ সময় নি:সঙ্গতা কাটাতে পুরানো হবিগুলো আবারও শুরু করুন। সবসময় দুজনেই পজিটিভ চিন্তা করলে দেখবেন সময়টাগুলো ভালো ও আনন্দে কেটে যাচ্ছে।

    ছুটি কাটান
    ছুটির দিনে দুজনে কোন জায়গায় ঘুরতে যান। মন যেভাবে চায় সেভাবেই পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান। দেখবেন দাম্পত্যজীবন অনেক মধুময় হয়ে উঠবে। তথ্যসূত্র: ডিডব্লিউ।

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

    শক্তির জন্য দেহে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন। ডায়াবেটিস হলে শর্করা ও অন্যান্য খাবার সঠিকভাবে শরীরের কাজে আসে না। তাতে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তবে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে ডায়াবেটিস অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে জীবনযাপন করা যায়।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চারটি নিয়ম মানতে হয় ক. নিয়ন্ত্রিত খাদ্যগ্রহণ; খ. সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম; গ. ওষুধ এবং ঘ. শিক্ষা।

    নিয়ন্ত্রিত খাদ্যগ্রহণ : ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ডায়াবেটিস হওয়ার আগে যে ধরনের থাকে, পরেও একই থাকে। পুষ্টির চাহিদার কোনো তারতম্য হয় না। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বাস্থ্য ভালো রাখা।

    ব্যায়াম : রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটলে শরীর যথেষ্ট সুস্থ থাকবে। শারীরিক অসুবিধা থাকলে সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম করতে হবে।

    ওষুধ : সব ডায়াবেটিক রোগীকেই খাদ্য, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে এ দুটি যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের দরকার হয়। টাইপ-২ ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক শর্করা কমানোর জন্য খাবার বড়ি দিতে পারেন।

    শিক্ষা : ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। সঠিক ব্যবস্থা নিলে এ রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলো রোগীকেই নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে। রোগীর পরিবারের সব সদস্যকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারে। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সর্ম্পকে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকটাত্মীয়দেরও এ রোগ সর্ম্পকে কিছু জ্ঞান থাকা দরকার।

    খাবার ও বাড়তি সতর্কতা : আঁশবহুল খাবার, যেমন ডাল, শাকসবজি, টক ফল ইত্যাদি বেশি খেতে হবে। উদ্ভিদ তেল অর্থাৎ সয়াবিন ও সরিষার তেল এবং সব ধরনের মাছ খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। চাল, আটা দিয়ে তৈরি খাবার, মিষ্টিফল ইত্যাদি কিছুটা হিসেব করে খেতে হবে। ঘি, মাখন, চর্বি, ডালডা, মাংস ইত্যাদি কম খেতে হবে। অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে অর্থাৎ অসুস্থ অবস্থায় বিশেষ খাদ্যব্যবস্থা জেনে নিতে হবে।

    লেখক : ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

    অধ্যাপক, শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

  • ডাকটিকিট আর মুদ্রার শৌখিন মুখ

    ডাকটিকিট আর মুদ্রার শৌখিন মুখ

    দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সারা দেশে একাধিক মুদ্রা ও ডাকটিকিট সংগ্রাহক তৈরি করার জন্য বেশকিছু সংগঠন গড়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে কয়েকটি ফিলাশপও। এই ফিলাশপগুলোতে ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খামসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ডাকবিভাগ থেকে বের হওয়া সব ধরনের ফিলাটেলিক আইটেম এবং বিশ্বের প্রায় সব দেশের ধাতব মুদ্রা ও ব্যাংক নোট পাওয়া যায়। যারা সংগ্রাহক তারা ফিলাশপগুলোতে ভিড় জমান। কিন্তু সব সময় আপনার পছন্দের মুদ্রা বা ডাকটিকিট পাবেন না, এর জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে, যা প্রত্যেক সংগ্রাহককে দিতে হয়। ১৯৪৭ সাল থেকে মো. হোসাইন চৌধুরী প্রথম বাঙালি যিনি মুদ্রা সংগ্রহ শুরু করেন।

    একাধিক দেশে ও দুর্গম জনপদে গিয়ে তাকে মুদ্রা সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৯৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন থেকে মুদ্রা সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করছেন। তার সংগ্রহে পৃথিবীর সব দেশ, বিলুপ্ত দেশসহ প্রাচীন যুগের শাসকদের মুদ্রা রয়েছে। এর মধ্যে বেঙ্গল সুলতান, দিল্লির সুলতান, মোগল শাসকদের মুদ্রাসহ আড়াই হাজার বছর আগের পাঞ্চমার্ক তার সংগ্রহে রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘরের সবচেয়ে বড় ডোনার।

    এর পর বাংলাদেশে একাধিক মুদ্রা সংগ্রাহক তৈরি হয়েছে যেমনÑ ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম, এম. এ. কাশেম, অমলেন্দ্র সাহা, মো. আকবর হোসাইন, রবিউল ইসলাম, এস. বি. সালাম তুহিন, রায়হান আহমেদ, সৈয়দ রশিদ আলম, মোঃ হারুনউজ্জামান, কামরুজ্জামান কায়সার, জিয়া ইবনে শাহজাহান, কাজী আলী রেজা করিম মার্শাল, শেখ আবু জাফর জুয়েল, শাহাদাত হোসাইন, মাহবুব হাসান, মো. নোমান নাসির, মোফিজুল ইসলাম বাবু, অ্যাডওয়ার্ড তরুণ রায় প্রমুখ । বর্তমানে সারা দেশে প্রায় এক হাজার মুদ্রা সংগ্রাহক রয়েছেন। প্রায় ৬৫ বছর থেকে মো. আবদুস সালাম ডাকটিকিট ও ডাক সংক্রান্ত সব উপকরণ সংগ্রহ শুরু করেন। তিনি হচ্ছেন প্রথম বাঙালি ডাকটিকিট সংগ্রাহক।

    জাতিসংঘের একটি ডাকটিকিটে আবদুস সালামের ছবি মুদ্রিত হয়েছে। এ দেশের যারা ডাকটিকিট সংগ্রাহক তাদের কাছে ও বিশ্বের প্রায় সব ডাকটিকিট সংগ্রাহকের কাছে এই ডাকটিকিটগুলো পরম মমতার সঙ্গে সংরক্ষিত হচ্ছে। তিনি দেশের প্রথম ফিলাশপ সালাম স্ট্যাম্প সেন্টার চালু করেন। যার বয়স বর্তমানে ৫০ বছর। ৫০টি বছর থেকে এই ফিলাশপটি ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে। যারা মনেপ্রাণে ফিলাটেলিস্ট, তাদের গুরু হচ্ছেন মো. আবদুস সালাম।

    কিভাবে ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খামসহ ডাকবিভাগ থেকে বের হওয়া সব উপকরণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, উপস্থাপন, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করতে হয়, এই কাজটি তিনি ডাকটিকিটপ্রেমীদের শিখিয়ে দিয়েছেন। তারপর বাংলাদেশে ডাকটিকিট সংগ্রহের আগ্রহকে তিনি আরও বেশি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হন। দেশ স্বাধীনের পর যেসব ব্যক্তি ডাকটিকিট সংগ্রাহক হিসেবে নিজেদের নামটি লেখাতে সক্ষম হন, তাদের কয়েকজন হলেন আনোয়ারুল কাদির, এস. বি. সালাম তুহিন, পারভেজ আনোয়ার আলী খান, আমিনুল হক মল্লিক, ইকবাল মজিদ, রাশেদ মনির নিপু।

    এছাড়াও সারা দেশে একাধিক ডাকটিকিট সংগ্রাহক তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ডাকবিভাগ নতুন নতুন ডাকটিকিট সংগ্রাহক তৈরি করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সারা পৃথিবীতে মোবাইলের গুরুত্ব থাকলেও ডাকবিভাগকে একই রকম গুরুত্ব দেওয়া হয়। যার ফলে সেসব দেশে নতুন করে প্রায় প্রতিদিন ডাকটিকিট সংগ্রাহক তৈরি হচ্ছে। হচ্ছে না শুধু বাংলাদেশে। কারণ বাংলাদেশ ডাকবিভাগের এ রকম কোনো পরিকল্পনা কোনোদিনই ছিল না। ডাকটিকিট সংগ্রাহকরা নিজেদের অর্থে মাঝেমধ্যে প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকেন।

    এর ফলে সেখানে যে সব ব্যক্তি যান তাদের ভিতর ডাকটিকিট সংগ্রহের আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু এই আগ্রহটা আর বাড়ে না। কারণ ডাকবিভাগ থেকে যদি নতুন করে ডাকটিকিট সংগ্রাহক তৈরি করার চেষ্টা করা না হয়, তাহলে কিভাবেই নতুন করে ডাকটিকিট সংগ্রাহক তৈরি হবে? বাংলাদেশ ডাকবিভাগ ইচ্ছা করলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম তৈরি করতে পারেন, বছরে একবার হলেও ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডাকটিকিট প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারেন।

    যারা মুদ্রা ও ডাকটিকিট সংগ্রহ করেন, তারা শুধু মুদ্রা বা ডাকটিকিট সংগ্রহ করছেন না, একই সঙ্গে ইতিহাস-ঐতিহ্য সংগ্রহ করছেন। সারা পৃথিবীতে মুদ্রা সংগ্রাহক ও ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হয়। এই কালচারটা বাংলাদেশে এখনো চালু হয়নি। আশা করি বিষয়টি নিয়ে সবাই ভাববেন। যারা মুদ্রা ও ডাকটিকিট সংগ্রহ করেন দেখা গেছে তারা সব সময় সব রকম খারাপ কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে এবং আলোকিত করতে পারছেন।

    সৈয়দ রশিদ আলম : মুদ্রা গবেষক এবং সাধারণ সম্পাদক, টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাব

  • মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক বিপর্যয়

    মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক বিপর্যয়

    এবিএনএ : মূল্যবোধের ভিত্তি হলো ধর্ম ও দর্শন। দীর্ঘ দিনের লালিত আচরণ-বিশ্বাস, সমাজের নিজস্ব আদর্শ ও নিয়ম-নীতি। সমাজে দীর্ঘদিনের রীতি-নীতি ও প্রথা মেনে চলা।সব ধরণের অর্জিত মানবীয় গুলাবলি সম্পর্কে সমাজের মানুষের যে ধারণা সেগুলোই হলো মূল্যবোধ।

    নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনে অনুসরণযোগ্য এমন কিছু আচরণবিধি, যা মানুষের জীবনব্যবস্থাকে করে  তোলে সুন্দর, নির্মল। এর সঙ্গে জড়িত সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, সর্বোপরি সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত হওয়া বিশেষ কতকগুলো গুণ। নৈতিকমূল্যবোধ মানবচরিত্রকে করে তোলে মহান। তাই মানুষের আত্মিক সামাজিক উৎকর্ষের জন্যে এবং জাতীয় জীবনে উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্যে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের লালন, চর্চা ও বিকাশের বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    জাতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে এক সর্বগ্রাসী অবক্ষয়ের কবলে পড়েছে বাংলাদেশ। দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ধারক-বাহক উচ্চবিত্ত এমনকি কিছু মধ্যবিত্ত শ্রেণি তাদের চিরায়ত মূল্যবোধ ও সামাজিক রীতিনীতির অবস্থান থেকে সরে এসে ভিন দেশি সংস্কৃতির প্রবাহে গা ভাসাচ্ছে। বিত্তশালীদের এসবভূমিকায় বিপর্যয়ের পথে দেশের আবহমান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ভয়াবহ হুমকির মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান দখল করছে বিকৃত মনোভাব সম্পন্ন একশ্রেণীর অতিবিত্তবান,উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের জ্ঞাণপাপী মানুষেরা।আধুনিকতার দোহাই দিয়ে বেলেল্লাপনার শেষ সীমা অতিক্রম করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

    পারিবারিক বন্ধনে শৈথিল্য, সন্তানদের প্রতি মা-বাবার উদাসীনতা, ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি অশ্রদ্ধা, বহিঃসংস্কৃতির সর্বগ্রাসী আক্রমণ, প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে মনোনিবেশ না করে ছাত্র অবস্থায় অর্থের পেছনে বেপরোয়া ছুটে চলা যুবসমাজকে বিকৃতির সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ আজ এক নাজুক অবস্থায়পৌঁছেছে।

    সমাজ-সভ্যতার বাহক ও রক্ষক উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত শ্রেণির আদর্শ বিচ্যুতি ও নির্লিপ্ততায় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিগুলোর প্রভাব-প্রতিপত্তির আওতা বিস্তৃত হচ্ছে। বিদেশি কিছু সিরিয়ালের প্রভাবে তরুন সমাজে যে সমস্ত নেতিবাচক দিক যেমন,নগ্নতা,ভায়োলেন্স,ইভ টিজিং,ইত্যাদিসামাজিক অবক্ষয়কে দিন দিন মহামারি আকারে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    বর্তমানে আমাদের সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের এই সর্বগ্রাসী অবক্ষয় চলছে তা রোধকল্পে কর্মসূচী গ্রহন করা এখন সময়ের দাবী । নতুবা সমাজ-রাষ্ট্রের নিশ্চিত অধঃপতন ঠেকানো যাবে না। এজন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের পাঠ্যসূচীতে  ছাত্র/ছাত্রীদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্তকরতে হবে । ছাত্র/ছাত্রীদের এক্সট্রা একাডেমিক কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করে শারীরিক ও মানুষিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে । তরুণ সমাজকে বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্ত ও উৎসাহ দানে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে ।

    পাশ্চাত্যকে অনুসরণ না করে বাঙালির দেশিও ঐতিহ্যে শালীন পোশাক-আশাকে সন্তানদের অভ্যস্ত করা, মিডিয়াকে কেবল বাণিজ্যের দিকে নজর না দিয়ে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নজর রেখে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

    পারিবারিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড করতে না পারলে এ অকল্যাণকর অবস্থা থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। পারিবারিক ভাঙন তথা যৌথ পরিবার প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। যৌথ পরিবার প্রথা অটুট রাখতে সমাজ বা রাষ্ট্রের করণীয় নিয়েওচিন্তা করা যেতে পারে।

    এই  অবক্ষয়কে থামাতে হলে প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা। যে ব্যক্তির মধ্যে নৈতিক শিক্ষা থাকে, মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে সে কখনও অপরাধ করতে পারেনা। বরং সে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। আর যে ব্যক্তির নৈতিক শিক্ষা নেই, যে মূল্যবোধের মর্ম বোঝে না, সে সমাজবিরোধী অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাই অবক্ষয়কে রুখতে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চা দুটোই অপরিহার্য। ভিনদেশি সংস্কৃতি বর্জন করতে না পারলে আমাদের হাজার বছর থেকে চলে আসা দীর্ঘ দিনের লালিত কৃষ্টিকালচার সংস্কৃতির অচিরেই হারিয়ে যাবে।

    একটি জাতির নীতি-নৈতিকতা,ধর্ম ও দর্শন ও মূল্যবোধ সমৃদ্ধ থাকে সেই জাতির সামাজিক-সাংস্কৃতিক গতি-প্রকৃতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অবস্থানকে উচ্ছে তুলে ধরে। যে জাতি যতো বেশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং নিজস্ব মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সে জাতি ততো বেশি সুসংহত ও উন্নত।নৈতিকতা ও মূল্যবোধ মানুষকে ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।

    সহনশীলতার অভাব, ধর্মের গুরুত্ব হ্রাস, নৈতিকতার অভাব, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা, নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, পেশীশক্তির প্রভাব, সুশাসনের অভাব ও মাদকের আগ্রাসনসহ বিভিন্ন কারণেমূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে বলে সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

  • এইডসের প্রতীক লালফিতা কেন

    এইডসের প্রতীক লালফিতা কেন

    এবিএনএ : ০১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, এইডস দিবসের প্রতীক হিসেবে ‘লালফিতা’ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন কেন এই লালফিতা? হয়তো ভেবেছেন বা ভাবেননি। কেউ হয়তো জেনে গেছেনও এর কারণ। তবুও জেনে নিন এইডসের প্রতীক লালফিতা হওয়ার কারণ।

    আবহমানকাল ধরে আমরা লাল রংকে ‘নিষিদ্ধ’ হিসেবে জানি। আমরা জানি, লাল দেখলে থেমে যেতে হয়। ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে খেলার মাঠের লাল কার্ড, ফায়ার সার্ভিস, অপারেশন থিয়েটারে লাল আলো। তাই লাল মানেই নিষেধাজ্ঞা।

    এছাড়া লাল রং মানে ‘চরম’র প্রতীক। আবার একই সঙ্গে লাল মানে পাপ, অপরাধ, আসক্তি, যৌনতা, সহিংসতা, রাগ, ভালোবাসা এবং দুঃসাহসিকতারও প্রতীক।

    ইতিহাস থেকে জানা যায়, রক্ত এবং আগুন- এই দুইয়ের লাল বর্ণকে লক্ষ্য করত প্রাচীন যুগের মানুষ। তারা দেখেছিল, রক্তপাত মানুষকে মেরে ফেলতে পারে; লাল আগুন সবকিছুকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। এসব বিবেচনা করে লাল সম্পর্কে তাদের মধ্যে একটা সমীহ গড়ে ওঠে।

    প্রাচীন মানুষরা এও দেখেছিল যে, নারীর ঋতুকাল সহবাসের পক্ষে অনুকূল নয়। আর রক্তের অনুষঙ্গে অবশ্যই লাল রংকেই মনে পড়েছিল তাদের। তাই লালকে একটা সীমানা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয় আদিকাল থেকেই। সেই সীমানা অতিক্রম করলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এক বার্তা অঘোষিতভাবে বলা হয়ে থাকে। তাই ক্রমেই লাল হয়ে ওঠে বিপদের রং।

    ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটি গঠনের পর থেকেই ০১ ডিসেম্বরকে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মধ্যদিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এইডসের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয় ‘লালফিতা’ বা ‘রিবন’।

    সেই থেকে লালফিতার মাধ্যমে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা, সতর্কতা ও ভালোবাসাসহ প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। ১৯৯১ সাল থেকে এটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

  • সরল পথের দিশা

    সরল পথের দিশা

    মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয জীবন চলার পথ নির্দেশ বা সরল পথের দিশা। স্রষ্টার সমস্ত নিয়ামত গুরুত্বপূর্ণ ও দামী। কিন্তু হেদায়েত এতই গুরুত্বপূর্ণ যে এর সামনে আর সকল নিয়ামতের মূল্য মূল্যহীন।

    আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় সবকিছুই দিয়ে থাকেন। পার্থিব অর্থ-সম্পদ মানুষ অর্জন করতে সক্ষম হয় ভালো ও মন্দ উভয় পথে। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী নির্বিশেষে দুনিয়ার কোনো নিয়ামত থেকে কাউকে বঞ্চিত করা হয় না। কিন্তু ”সিরাতুল-মুস্তাকিম’ বা সঠিক পথের দিশা পাওয়ার জন্য মানুষকে অনবরত প্রার্থনা করতে হয়। ”সিরাতুল-মুস্তাকিম’ পাওয়ার অর্থ আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ট নিয়ামতের সরোবরে অবগোহণ করা।
    মানুষ তার সুন্দর ও সফল জীবন যাপনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিটি কর্মে আল্লাহ তায়ালার হেদায়েতের মোহতাজ। সকল যুগের সকল পন্ডিতের জ্ঞানের সমষ্টি মানবদেহের জীবনচারণের সকল বিষয়ত দূরের কথা একটি বিষয়েও পথ নির্দেশ প্রদান অসম্ভবের অসম্ভব। সকল কালের সকল বিষয়ের ও সকল মানবের জন্যে স্রষ্টার বিধান ’আল কুরআন’ অবর্তীর্ণ হয়েছে। যাতে বিন্দু বিসর্গ সন্দেহ বা ভুলের কোন লেশমাত্রও নেই। হাজার হাজার বছর থেকে ইহা নির্ভূলতার এক জীবন্ত দলিল হয়ে আছে।

    এই কুরআন মানবতার জন্য হেদায়েতের যে মহামূল্যবান দৌলত বা সম্পদ নিয়ে এসেছে উহা বিশেষ দল বা গোষ্ঠির জন্য নয়, বরং বরং উহা জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য। এর অবদান বিশেষ কোন সময় ও কালের গন্ডিতে সীমিত নয়। এটি অবম্যম্ভাবী প্রয়োজন সকল কাল ও জামানার দেয়াল দিয়েছে তুলে।

    হেদায়েত অর্থ গন্তব্যের দিকে অনুগ্রহের দ্বারা পথপ্রদর্শন করা। মানুষকে হেদায়েত করতে পারেন শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা। হেদায়েতের প্রথম স্তর হচ্ছে জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও অনুভূতি। যার জ্ঞান নেই তার পক্ষে কোন কিছুই উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। আবার শুধু জ্ঞান দ্বারা মানুষ প্রকৃত সত্য উপলব্দি করতে সক্ষম হয় না। জ্ঞান মানুষকে জ্ঞানপাপী করে তুলতে পারে যদি না সেই জ্ঞানকে মানুষ তার বুদ্ধি, বিবেক ও অনুভূতি দিয়ে সঠিক পথে ধাবিত করে। হেদায়েত লাভের জন্য মহান আল্লাহ মানুষকে দান করেছেন জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও অনুভূতি। যার ফলে মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় সত্য ও মিথ্যার মধ্যে তফাৎ নিরূপণ করা। সত্য ও মিথ্যা তথা আলো ও অন্ধকারের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে সক্ষম না হলে মানুষ হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পারে না। বিশ্বাসীরা তাই বার বার প্রার্থনা করেন বুদ্ধি, বিবেক ও অনুভূতিকে জাগ্রত করার জন্য। কারণ বুদ্ধি, বিবেক ও অনুভূতি ব্যতিরেকে কারো পক্ষে সরল পথের দিশা পাওয়া সম্ভব নয়।

    যাদের মধ্যে সত্যকে গ্রহণ করার মন- মানসিকতা থাকে না তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারে না। যারা নিজেকে জ্ঞানী মনে করে তারা অন্ধকারকেই আঁকড়ে ধরে থাকে। সত্যের আগমনের পরও তারা সত্যকে গ্রহণ করে না। হেদায়েতের জন্য তাই প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন মন। যারা সুপথে, সরল পথে চলতে চান তাদেরকে পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে সরল পথের অনুসন্ধান করতে হবে। নতুবা সরল পথের দিশা পাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

    মানুষ যখন বুদ্ধি, বিবেক ও অন্তরের অনুভূতির সাহায্যে সত্যকে গ্রহণ করার মন-মানসিকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় তখনই সে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যেতে থাকে মনজিলে মকসুদের পথে বা অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে। মানুষের মধ্যে এমন অনুকূল অবস্থা ও পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে হেদায়েত করে থাকেন। হেদায়েত প্রাপ্তরাই কুরআনের মর্মবানী উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। যারা কুরআনের মর্মবানী উপলব্ধি করতে পারে তারা সে অনুযায়ী তাদের জীবনকে পরিচালনা করতে পারে। এদের পক্ষে কুরআনের হেদায়েত গ্রহণ করা এবং এর উপর আমল করা সহজসাধ্য হয়।

    হেদায়েত লাভের এ পক্রিয়া হঠাৎ করে অর্জন করা সম্ভব নয়। হেদায়েত লাভের জন্য মানুষকে সচেষ্ট হতে হবে। সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষ হেদায়েত প্রাপ্ত হয়। সত্য ও সুন্দরকে শুধু জানলে ও বুঝলেই হবে না সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়ম মাফিক নিরবিচ্ছন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বাসীরা ক্রমান্বয়ে সরল পথের দিশা পেতে থাকে। নেক আমল মানুষকে হেদায়েত প্রাপ্ত করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন ”যারা আমার পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্ঠা করে, আমি তাদেরকে আমার পথে আরো অধিকরত অগ্রসর হওয়ার পথ অবশ্যই দেখিয়ে থাকি।”

    অতএব, এটি স্পষ্ট যে, সরল পথের দিশা বা আলোকিত পথের সন্ধান লাভ একটি তাৎক্ষনিক ব্যাপার নয়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে, ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হতে মানুষ কামেলে ইনসানিয়াত-এ পোঁছে যেতে পারে। বস্তুত সরল-সঠিক পথের দিশা ছাড়া ইহকালীন ও পরকালীন কোনটিরই সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। মধ্যমপন্থী তারাই যারা সহজ-সরল ও সঠিক পথের অনুসারী। যারা কখনো কোনো কাজে সীমা অতিক্রম করে না। যারা অজ্ঞ, তারা অহংকারী, তারা সীমা লংঘনকারী। এরা হেদায়েতপ্রাপ্ত নয়। সরল পথের সন্ধান লাভ করাই মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। এর ফলে সে প্রকৃত জ্ঞানে জ্ঞানান্বিত হয় এবং সফলতা লাভ করে। সরল পথের সন্ধান পেতে যারা ব্যর্থ হয় তারা ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়।

    প্রকৃত বিশ্বাসীদের চুড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে তাই সঠিক পথের সন্ধান লাভ করা। মুসলমান বিশ্বাসীগণ তাই প্রতিদিন প্রার্থনায় ”সুরা ফাতিহা” পাঠের মাধ্যমে সঠিক পথের জন্য আল্লাহর দরবারে আকুতি জানিয়ে থাকেন। ”সুরা ফাতিহা” বলা হয়েছে ”উম্মূল কিতাব” বা কুরআনের জননী। বিশ্বাসী ব্যতিরেকে অন্যের পক্ষে সরল পথের দিশা পাওয়া সম্ভব হয় না। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে মানুষের ধারণা ও বিশ্বাস পরিষ্কার ও সঠিক না হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে এসে অটল বিশ্বাসে সুস্থির হয়ে না দাঁড়াবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার মন-মগজে ”সিরাতুল-মুস্তাকিম” পাবার আগ্রহ সৃষ্টি হবে না। এ কারণে ইসলাম ধর্মে আল্লাহর সত্তা, গুণাবলী এবং তাঁর সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক সম্পর্কে পরিষ্কার ও নির্ভূল ধারণার প্রতি সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ঠিক একই ভাবে যারা কিয়ামত বা প্রতিদান দিবসের উপর বিশ্বাসী নয় তারাও সরল পথের দিশা পেতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষের মনে এ সত্যটি প্রতিষ্ঠিত না হবে যে, ইহকালীন জীবনের পরে আরেকটি জীবন আছে এবং পরকালীন অনন্ত জীবনের সফলাতার জন্য তার চেষ্টা ও সংগ্রাম করা দরকার, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সহজ-সরল পথের জন্য আগ্রহী হবে না। যখন সে বুঝবে যে, মানব জীবনের পরম পাওয়ার জন্য তাকে সকল প্রকার স্বার্থপরতার ঊর্ধে উঠে সত্য, ন্যায় ও সঠিক পথে চলতে হবে তখনই সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স. প্রদর্শিত সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে অগ্রসর হবার জন্য প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টায় ব্রতী হবে।

    মানুষ যখন সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার জন্য আকুতি অনুভব করে তখন সে প্রকৃতপক্ষে তার প্রতিভা ও যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহর বিধি-নিষেধের উপরই চলতে শুরু করে এবং আস্তে আস্তে আল্লাহর পথে সে অগ্রসর হতে থাকে। ইসলামের এই পথ দীর্ঘ, তবে সহজ সরল ও নির্ভূল এবং এ কারণেই কল্যাণকর। এ পৃথিবীতে শাস্তি প্রতিষ্ঠা তখনই সম্ভব যখন মানবজাতি এ কল্যাণকর পথকে বেছে নেবে অর্থাৎ আল্লাহর নির্ধারিত জীবন ব্যবস্থাকে মানুষ সর্বাঙ্গে গ্রহণ করবে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাতের কাছ থেকে সরল সঠিক পথের দিশা খুঁজে নেবে।

    বিশ্বাসী মুসলমনরা প্রতিদিন পাঁচবার নামাযের সময় কমপক্ষে সতেরবার মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট এই বলে প্রার্থনা করেন যে, ”হে প্রভূ ! তুমি আমাদের সরল সোজা পথের দিশা দাও।” এ আকুতি ভরা প্রার্থনার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে, প্রতি কর্মে, প্রতি আচরণে আমাদের এমন বিধি ব্যবস্থা শেখাও যা একেবারে নির্ভূল ও খাঁটি। আমরা সেই পথের দিশা পেতে চাই যা ভ্রান্তিহীন। যে পথ অনুসরণ করে আমরা পৌঁছে যেতে পারি কাংখিত গন্তব্যে। যে পথে চলে আমরা সাফল্য ও সৌভাগ্যের অধিকারী হতে পারি। সিরাতুল মুস্তাকিম বা সঠিক পথের দিশা এমন এক মহান নেয়ামত যা পাওয়ার জন্য বিশ্বাসীরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। কারণ সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে পথ নির্দেশই ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা বিধানকারী। প্রকৃতপক্ষে সঠিক পথের হেদায়েত হচ্ছে সেই অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হওয়া যা মানুষকে প্রকৃত মানুষে রূপান্তর করতে পারে।

    প্রকৃত বিশ্বাসীরা তাই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন ঃ ”হে আল্লাহ ! আমাদের সরল পথের দিশা দাও এবং সে পথ চিনিয়ে দেবার পর আমাকে সেই পথে অবিচল থাকার শক্তি ও সাহস দাও।” কারণ সরল পথ চেনা এবং সে পথে টিকে থাকার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা। আল্লাহর অশেষ রহমত ব্যতিরেকে মানুষের পক্ষে সহজ-সরল ও সঠিক পথ চিনে নেয়া এবং সে পথে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই বিশ্বাসীরা প্রতিদিন বার বার মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট আকুল আকুতি নিয়ে প্রার্থনা করেন, ”তুমি আমাদের পথ দেখাও, আমার সামনে সত্যকে উম্মুক্ত করো, মিথ্যাকে দূরিভূত করো। চাকচিক্যময় এ পৃথিবীর অসংখ্য মত ও পথের মধ্য হতে আমাকে তুমি সেই পথ দেখাও যা আমার চিন্তা ও কর্মকে সাজুয্যপূর্ণ করতে পারে। আমাকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করতে পারে।”

    পার্থিব জীবনে শুধু মাত্র নামায, রোযার মাধ্যমেই ইবাদত হয় না। ইবাদত বহুভাবে করতে হয়। যেমন মহাগ্রন্ত আল কুরআন তিলাওয়াত ও ব্যাখ্যাসমূহের অনুধাবন করা ইবাদতের অংশ। ঠিক একই ভাবে সর্ব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা, নিজের ভূলের জন্য তওবা করা, হালাল উপার্জনের চেষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, প্রতিবেশী ও আত্ত্বীয়-স্বজনদের হক আদায় করা, মানুষকে সৎকাজের আদেশ ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখার চেষ্টা করা, রাসূলের সুন্নাত পালন করা ইত্যাদি সৎকর্মও ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত। হেদায়েত বা সরল পথের সন্ধান লাভের জন্য মানুষ এসব সৎকর্মের দ্বারা নিজেকে যোগ্য করে তুলতেই সে হেদায়েত লাভের আশা করতে পারে। হেদায়েতের জন্য ক্রমাগত প্রার্থনার পাশাপাশি নিজেকে যোগ্যরূপে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা না থাকলে আল্লাহর মহান অর্ঘ্য”সিরাতুল মুস্তাকিম” লাভ করা সম্ভব হয় না। মানুষ নেক কাজ যত বেশী করবে ততোবেশী সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে থাকবে। বস্তুত হেদায়েত হচ্ছে মানুষের জন্য এক মহান উপহার। এ উপহার পাবার জন্য নিজেকে তৈরী করতে হয়, প্রবল ইচ্ছা পোষণ করতে হয়। খাঁটি মনে মহান আল্লাহর দরবারে ক্রমাগত প্রার্থনা করা ছাড়া এ উপহার পাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া অনিচ্ছুক ব্যাক্তি সরল পথের দিশা পেতে পারে না। এটি কারো উপর চাপিয়ে দেয়া যায় না। যারা আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত তারা হেদায়েত প্রাপ্ত এবং যারা সৎকর্মশীল তারাই অনুগ্রহপ্রাপ্ত।

    অতএব এটি সহজেই বোধগম্য যে হেদায়েত বা সরল পথের দিশা সকল স্তরের মানুষের জন্য প্রয়োজন। যারা সাধনার দ্বারা, সৎকর্মের দ্বারা, ইবাদতের দ্বারা অনেক উচ্চ স্তরের মানুষে পরিণত হয়েছেন তারাও আরো আলোকপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য ”সিরাতুল মুস্তাকিমের” প্রত্যাশী। সাধারণ একজন বিশ্বাসী থেকে শুরু করে নবী-রাসূলগণ পর্যন্ত সকল স্তরের মানুষ এ মহান উপহার ক্রমাগত লাভ করে নিজেকে আরো উন্নত আলোকপ্রাপ্ত তথা কামিয়াব হতে চান। কেননা সরল পথে সন্ধান লাভ করাই সবচেয়ে বড় জ্ঞান ও সর্বাপেক্ষা বড় কামিয়াব।

    লেখক তারেক বিন হাম্জা

  • সমাজ উন্নয়নে গ্রন্থাগার

    সমাজ উন্নয়নে গ্রন্থাগার

    এবিএনএ : জ্ঞান অর্জনের দুটি উপায় রয়েছে। একটি হলো ভ্রমণ করে অন্যটি হলো বই পড়ে। ভ্রমণের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হলে বিত্তশালী হতে হবে। কেননা, ভ্রমণ করতে প্রচুর টাকা পয়সার প্রয়োজন। আর তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে আমাদের দেশের জনসাধারণের মধ্যে প্রায় ১৭ ভাগই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এছাড়া অনেকের বিত্ত আছে চিত্ত নেই। বিধায় আমাদের দেশের কথা মাথায় রেখে ভ্রমণ করে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমকে প্রাধান্য না দিয়ে, আমাদেরকে জ্ঞান অর্জনের জন্য জ্ঞানের অন্যতম মাধ্যম বই এর আশ্রয় নিতে হবে। জসীমউদ্দীন এর ভাষায় বলতে হয়, “বই আপনাকে অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সকল কালে নিয়ে যেতে পারে। যে দেশে আপনার কোনোদিন যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, বইয়ের রথে চেপে আপনি অনায়াসে সে দেশে যেতে পারবেন”। আর বই এর রাজ্য হলো গ্রন্থাগার। গ্রন্থের শ্রেণিবদ্ধ সংগ্রহকে গ্রন্থাগার বলা হয়। সাধারণ অর্থে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের তথ্য সেবা ও সুশিক্ষার জন্য জ্ঞানের সকল তথ্য ও উপাত্ত পদ্ধতিগত  ভাবে যেখানে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ  করা হয় তাকে গ্রন্থাগার বলে। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানে তথ্য সামগ্রী যেমন,বই,জার্নাল, গ্লোব, ম্যাপ ইত্যাদি পদ্ধতিগত ভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষিত থাকে এবং পাঠকদের প্রয়োজন মত সেবা প্রদান করে থাকে তাকে অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষনিক ব্যবহারের জন্য অথবা ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য পদ্ধতিগত ভাবে বই,পত্রপত্রিকা, পাণ্ডু্লিপি, সাময়িকী, জার্নাল ও অন্যান্য তথ্য সামগ্রী নিয়মিত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সুশৃঙ্খল পাঠের ব্যবস্থা করা থাকে যে প্রতিষ্ঠানে তাকেই গ্রন্থাগার বলে। গ্রন্থাগার হলো একটি উন্মুক্ত বিদ্যাপীঠ । এখানে যেকোন বয়সের, যে কোন পেশার লোক পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। একটি গ্রন্থাগারে খুব সহজে জনসাধারণ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায় অতি অল্প পরিশ্রমে নামেমাত্র বিনিময়ে। আবার কোন কোন  গণগ্রন্থাগারে বিনিময় বা সার্ভিস চার্জ নেওয়া   হয়না। একটি জাতির ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মসহ পুরাতন ও নিত্যনতুন তথ্য জানতে গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই। কেননা গ্রন্থাগারের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Library যা ব্যাখ্যা করলে পাওয়া যায়, L-  Latest, I-Information, B- By, R- Research, A – And, R- Reference, Y – You  অর্থাৎ  Latest Information  By Research And Reference For You. এবার আলোকপাত করা যাক গ্রন্থাগারের প্রকারভেদ নিয়ে। জ্ঞান অর্জনের দিক থেকে গ্রন্থাগার চার প্রকার। যথা: জাতীয় গ্রন্থাগার, গণগ্রন্থাগার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার ও বিশেষ গ্রন্থাগার। এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে পারিবারিক গ্রন্থাগার গড়ে তুলেন। গ্রন্থাগারে একজন পাঠক স্বাধীন ভাবে যেকোন ধরনের রুচিশীল বই পড়তে পারেন। কারণ গ্রন্থাগারের বুকশেলফে বিভিন্ন মতের লেখকের বই পাশাপাশি অবস্থান করে কোনও ধরনের  ঝামেলা ছাড়াই। এ থেকেই  প্রমাণিত হয় গ্রন্থাগার এক সম্প্রীতির স্থান। একটি জাতির ইতিহাস ঐতিহ্য তথা কৃষ্টি-কালচারের সংগ্রাহক, সংরক্ষক, ধারক ও বাহক হলো একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। একথা আমরা যেনো ভূলে না যাই। গ্রন্থাগার ও সমাজ এ শব্দ দুটি একে অপরের পরিপূরক। গ্রন্থাগার হলো যৌগিক সংস্কৃতির সুতিকাগার যা সমাজেরই সৃষ্টি।এবং সমাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়।  আমাদের দেশে সমাজ উন্নয়নে ও জাতীয় সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গ্রন্থাগার যেসব ভূমিকা পালন করে থাকে। তাহলো : গ্রন্থাগার একটি জাতির সভ্যতার ধারক ও বাহক। গবেষণায় গ্রন্থাগার। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সহযোগিতায় গ্রন্থাগার। গণশিক্ষায় গ্রন্থাগার। জাতীয় উন্নয়নে গ্রন্থাগার। রেফারেন্স সেবায় গ্রন্থাগার। জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার। এছাড়া ও গ্রন্থাগার সমাজের উন্নয়নে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। যেমন : গ্রন্থাগার সার্বক্ষণিক  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান  হিসেবে শিক্ষালাভের সুযোগ  করে দেয়। গ্রন্থাগার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে  মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রন্থাগার এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজের সংস্কৃতির বিকাশে গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তথ্য সরবরাহে গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ অবদান পালন করে থাকে। শিক্ষিত ও সচেতন জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা নিজ নিজ পেশায় কীর্তিমান, কিন্তু সামাজিক বিষয়ে সম্পূর্ণ আনাড়ি। গ্রন্থাগার তাদের আনাড়িপনা দূর করতে সহায়তা করে। গ্রন্থাগার নানারকম শিক্ষা মূলক কর্মসূচির আয়োজন করে সমাজ থেকে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূরীভূত করে থাকে। পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে অবগত করতে পারে। অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এবং জনসাধারণের ভ্রান্ত ধারনা দুরীভূত করে আধুনিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগার অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রন্থাগার সমাজ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। সামাজিক অবক্ষয় রোধ তথা বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক প্রথা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে গ্রন্থাগার বিশেষ অবদান রাখে। সমাজের সকল মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে সামাজিক অবক্ষয় দূর করে সমাজে উন্নততর জীবন যাপনের পরিবেশ  সৃষ্টি করে।

    প্রাচীন কাল থেকেই দেখা যায় সমাজে গ্রন্থাগারের কদর রয়েছে। তৎকালীন রাজা বাদশারা নিজ নিজ দায়িত্বে গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছেন। মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের একটি কোনে ধর্মীয় বই-পুস্তকসহ রাজকীয় ফরমান ও বংশ তালিকা গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করতেন বংশ পরস্পরায়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, যেদিন থেকে মানুষ লিখিত উপাত্ত গুলো দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষনের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করতে থাকে সেদিন থেকেই গ্রন্থাগারের মত সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি শুরু হয়। আর এভাবেই সমাজে গ্রন্থাগার গড়ে উঠে। তৎকালীন সময়ে গড়ে তোলা কয়েকটি গ্রন্থাগারের নাম এখানে উল্লেখ না করে পারছি না। যেমন, আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগার, ভারতীয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ইত্যাদি। এগুলি গড়ে উঠেছিল তৎকালীন রাষ্ট্র প্রধানদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায়। এ থেকে প্রমাণ হয় তৎকালীন সময়েও সমাজ উন্নয়নে গ্রন্থাগারের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    সমাজে যে হারে সন্ত্রাস,অন্যায়,অবিচার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার মূলে রয়েছে গ্রন্থাগার বিমুখতা।
    বর্তমানে যেভাবে আমাদের যুব সমাজ অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো যুব সমাজকে জ্ঞানচর্চা তথা গ্রন্থাগারমুখী করে তোলা। অত্যন্ত দূঃখের সাথে বলতে হয় আমাদের দেশের জেলা পর্যায়ের অনেক গণগ্রন্থাগারও সঠিক পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হবার উপক্রম। একইভাবে সব উপজেলা সদরেও গণগ্রন্থাগার জোরেশোরে গড়ে উঠেনি। আর গড়ে উঠলেও পরিচর্যা, পেশাগত গ্রন্থাগারিক না থাকা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেকটি বন্ধ হয়ে গেছে বা কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। এখানে একটি কথা উল্লেখ না করে পারছি না সীমিত আকারে হলেও  বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যা সময়ের দাবিতে একেবারেই অল্প। তাই সরকারের প্রতি বিনীত নিবেদন যে, প্রতিটি জেলা সদর, উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে সমৃদ্ধ গণগ্রন্থাগার গড়ে তুলুন। কারণ এদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে আমরা ভালোবাসি। দেশটা গড়েছেন আমাদের পূর্বসূরি, এখন কাজ করছি আমরা,ভবিষ্যৎ এ কাজ করবে আমাদের উত্তরসূরিরা। তাই সরকারের পাশাপাশি জনসাধারণকেও গ্রন্থাগার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।
    সুতরাং একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, সমাজ উন্নয়নে গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই। অর্থাৎ সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনে গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই। তাই আসুন দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে,  সরকার ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাড়ায় পাড়ায় গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে না পারলেও অন্তত ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে গণগ্রন্থাগার গড়ে তুলি।

  • প্রাণঘাতি এইডস থেকে বাঁচতে নতুন থেরাপি

    প্রাণঘাতি এইডস থেকে বাঁচতে নতুন থেরাপি

    এ বি এন এ : এইডস প্রাণঘাতি রোগ, এটা থেকে মুক্তি লাভ শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব। তবে এটিকে ভুল প্রমাণ করতে যাচ্ছেন একদল চিকিৎসক এবং গবেষক। এইডস থেকে আরোগ্য লাভের পদ্ধতি আবিষ্কারে ক্যামব্রিজের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, কিংস কলেজ লন্ডনের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা সম্মিলিতভাবে নতুন একটি পদ্ধতিটির ক্লিনিক্যাল নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, নতুন এ পদ্ধতিতে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে পুরোপুরিভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। তারা জানিয়েছেন, ওই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করানোর ফলে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিকের স্বাস্থ্যের বেশ উন্নতি হয়েছে। তাই ইতিবাচক কিছুই আশা করছেন তারা। এ পদ্ধতিতে ওই ব্রিটিশ নাগরিক যদি সম্পূর্ণরূপে সেরে ওঠেন, তবে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিশাল বিপ্লব নিয়ে আসবে। এইচআইভি পজিটিভ ওই ব্রিটিশ নাগরিকের রক্তে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি বিদ্যমান চিকিৎসাব্যবস্থায় ধরাই পড়েনি। পরে তাকে নতুন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। গবেষকরা বলছেন, এই চিকিৎসা ব্যবস্থার সফলতা সম্পর্কে এখনই কোনো মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না। তবে ব্রিটিশ নাগরিকের বেশ উন্নতি হওয়ায় ভালো কিছুরই আশা করছেন তারা। নতুন ওই থেরাপিটি ওই ব্রিটিশ নাগরিকসহ মোট ৫০ জন মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই থেরাপি দুটো ধাপে কাজ করে। এক. ভাইরাসটিতে আঘাত করা, দুই. ভাইরাসটিকে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। এইচআইভি ভাইরাস নির্মূলে এতদিন পর্যন্ত যতসব পদ্ধতি আলোচনায় এসেছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এটি ভাইরাসটির অবস্থান শনাক্ত করার পর সেটাকে ধ্বংস করে দেয়। পাশাপাশি এটি সেই সব সেলকেও মেরে ফেলে যেটা এইচআইভি ভাইরাস নির্মূলে বিদ্যমান চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাধার সৃষ্টি করে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মার্ক স্যামুয়েলস এইচআইভি ভাইরাস থেকে পুরোপুরি আরোগ্য লাভে এ পদ্ধতিকে প্রথম কোনো ‘গুরুতরধর্মী প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আর এই প্রজেক্টে অর্থায়ন দিতে ব্রিটেনের স্থাস্থ্য গবেষণা ইন্সটিটিউটকে আদেশ দিয়েছে দেশটির উচ্চ আদালত।