Tag: সৌদি আরব

  • ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    এবিএনএ : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক পর পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৯৬৭ সাল থেকে জোটটির সদস্য থাকা দেশটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    সৌদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার দিকে কেন্দ্রীভূত।

    উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তোষ

    দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের নির্ধারিত তেল উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল আমিরাত। দেশটির অভিযোগ, এই সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছিল না, যা সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ওপেকে থাকার যৌক্তিকতা আর দেখছিল না আবুধাবি।

    আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরবকে এতদিন জোটটির নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আর উৎপাদন সীমা নিয়ে আমিরাত এটিকে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখত।

    নেতৃত্বের দূরত্বও স্পষ্ট

    সাম্প্রতিক এক উপসাগরীয় সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ওপেক ছাড়ার ঘোষণা—এই দুটি ঘটনাকে কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে।

    ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সময়ে আমিরাত আরও কিছু আন্তর্জাতিক জোট বা সংগঠন থেকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    পুরনো দ্বন্দ্ব আরও জোরালো

    ইতোমধ্যে সুদান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। তার সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: সৌদি আরবে আটকে পড়া ৩৩ জন বাংলাদেশি উমরাহ যাত্রী অবশেষে দেশে ফিরেছেন। ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। তারা একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মার্চের ২৪ তারিখে ওই যাত্রীরা উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তাদের ৫ এপ্রিল দেশে ফেরানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন টিকিট দেয়নি। এতে তাদের দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

    পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা আরও বিপাকে পড়েন। এ অবস্থায় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর বিষয়টি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

    বিষয়টি জানার পর ধর্মমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেন। কনসাল জেনারেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।

    এই প্রতিনিধি দলে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর, হজ অফিসের কর্মকর্তাসহ কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যাতে যাত্রীরা কোনো জটিলতায় না পড়েন, সে বিষয়ে সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়।

    শেষ পর্যন্ত ২৩ এপ্রিল আটকে পড়া উমরাহ যাত্রীদের সর্বশেষ দলটি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    উল্লেখ্য, গত মাসেও একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া কিছু উমরাহ যাত্রী একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন। তখনও সরকারি হস্তক্ষেপে তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

  • হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    এবিএনএ: চলতি বছরের হজকে সামনে রেখে মিনায় অস্থায়ী তাঁবুর শহর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজির আবাসন নিশ্চিত করতে বিশাল এই অস্থায়ী নগরী গড়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    পুরো মিনা এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু স্থাপন, চলাচলের পথ উন্নয়ন এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি হাজিদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

    হাজিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প, জরুরি সহায়তা কেন্দ্র এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে অসুস্থ বা বয়স্ক হাজিরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

    বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজিদের কথা মাথায় রেখে পরিবহন ব্যবস্থা ও বিশ্রামস্থল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এতে তাদের চলাচল সহজ হবে এবং ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া প্রতিটি তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মান যাচাই করা হচ্ছে কঠোরভাবে। হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

  • মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    এবিএনএ: আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিক কিংবা সৌদি আরবের বাসিন্দাদের কেউই মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন না। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেক বিদেশির কাছে বৈধ পারমিট থাকতে হবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাদের কাছে হজ ভিসা নেই কিংবা কাবা শরিফ সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদন নেই, তাদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনুমতিহীন প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্টে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্টদের ফেরত পাঠানো হবে।

    এদিকে, যেসব ব্যক্তির কাছে ওমরাহ ভিসা রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মক্কা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এসব ভিসাধারীদের শহর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি প্রশাসন বলছে, হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

  • সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার সংঘটিত এই হামলার তথ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ঘাঁটির অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব

    রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছেন, যারা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সমন্বয় কার্যক্রমে কাজ করেন।

    এই ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিচালনা করা হয়, যা আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সংঘাতের পটভূমি

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

    এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়।

    এই অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    পাল্টা হামলায় ইরান

    এর জবাবে ইরানও একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তেহরান।

    সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—এই দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    আগের হামলার রেশ

    এর আগে মার্চের শুরুতেও একই ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, যেখানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। পরে তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে চলা সংঘাতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। একই সঙ্গে বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে।

  • সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি—ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শুক্রবার

    সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি—ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শুক্রবার

    এবিএনএ: সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ)। এর ফলে দেশটিতে রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিনে সম্পন্ন হচ্ছে।

    বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে দেশের কোথাও নতুন চাঁদের দেখা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই নতুন মাস শুরু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই একই নিয়ম অনুসরণ করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ৩০ রোজা পূর্ণ করে ঈদ উদযাপন করা হবে।

    এদিকে, দেশটির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় আগেই ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। বেসরকারি ও অলাভজনক খাতের কর্মীদের জন্য বুধবার রাত থেকে ছুটি কার্যকর হচ্ছে, যা পরবর্তী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, আগাম ছুটি ঘোষণার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারছে এবং কর্মীরাও নির্বিঘ্নে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারছেন।

    এবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবের জনগণ ৩০টি রোজা পূর্ণ করার পর শুক্রবার ঈদুল ফিতরের আনন্দে শামিল হবেন।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—সৌদি, কাতার ও আমিরাতের তেল স্থাপনা খালি করতে ইরানের হুমকি

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—সৌদি, কাতার ও আমিরাতের তেল স্থাপনা খালি করতে ইরানের হুমকি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরান সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দিয়েছে এবং সেসব এলাকা দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়েছে।

    বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব স্থাপনায় আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

    সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের সামরেফ পরিশোধনাগার ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা এখন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব স্থাপনা এখন ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সতর্কবার্তা সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ইরানের সাউথ পার্স ও আসালুয়েহ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান এই কঠোর সতর্কতা জারি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে এবং সম্ভাব্য বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে তিন দেশ থেকে দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদি আরব, ওমান ও সাইপ্রাসে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পাঠানো নোটিশে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

    রিয়াদে হামলার পর সতর্কবার্তা

    রিয়াদ-এ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আক্রমণ ঘটতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ওমান ও সাইপ্রাসেও নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ওমানসাইপ্রাস-এ পাঠানো বার্তায় সংক্ষেপে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

    সোমবার সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুকম বন্দরেও একাধিক ড্রোন আক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও পড়ছে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ওয়াশিংটন।

  • ২০২৬ হজের প্রস্তুতিতে বড় ঘোষণা, রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে ভিসা ইস্যু

    ২০২৬ হজের প্রস্তুতিতে বড় ঘোষণা, রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে ভিসা ইস্যু

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। ১৪৪৭ হিজরি সনের হজের জন্য আগামী রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    মন্ত্রণালয় জানায়, হাজিদের আগমনের বহু আগেই সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভিসা ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করা।

    ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় বিশ্বব্যাপী হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রাথমিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁবু, আবাসন ও পবিত্র স্থানসংক্রান্ত তথ্য আগেভাগেই সরবরাহ করা হয়েছে।

    ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবাসন ও প্রয়োজনীয় সেবা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যক্রম শুরু হয় রবিউল আউয়াল মাস থেকে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হাজি নিবন্ধন ও পরিচালনাগত তথ্য চূড়ান্ত করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনার আবাসন, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবার চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হলেও মার্চে তা চূড়ান্ত করা হবে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক হাজিরা দেশটিতে প্রবেশ করতে শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়েই হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ হাজি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় আর্থিক লেনদেন ও বুকিং প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হচ্ছে।

  • সময় ফুরোচ্ছে, প্রস্তুতি নেই! সৌদিতে বাড়ি ভাড়া জটিলতায় হজযাত্রা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    সময় ফুরোচ্ছে, প্রস্তুতি নেই! সৌদিতে বাড়ি ভাড়া জটিলতায় হজযাত্রা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: হজের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও সৌদি আরবে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়ার কাজ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এতে শেষ পর্যন্ত অনেক হজযাত্রীর হজে যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট লিড হজ এজেন্সিগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ৩০টি লিড এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী হজ এজেন্সির কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাবেন।

    সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বারবার তাগিদ সত্ত্বেও নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ২৬ জানুয়ারির অগ্রগতি প্রতিবেদনে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, মক্কায় মাত্র ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মদিনায় ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মাত্র একটি করে এজেন্সি মক্কা ও মদিনায় শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে পেরেছে। একটি এজেন্সি এখনো কার্যক্রম শুরুই করেনি, বাকিগুলো আংশিক অগ্রগতি দেখিয়েছে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো সমন্বয়কারী এজেন্সি লিড এজেন্সিকে সহযোগিতা না করলে তা লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা না করায় ‘কালকিনী হজ ট্রাভেলস’ নামের একটি এজেন্সির কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে মন্ত্রণালয়। এজেন্সিটির অধীনে ৩৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধিত থাকলেও বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। মন্ত্রণালয়ের মতে, এজেন্সির দেওয়া ব্যাখ্যা হজ ব্যবস্থাপনা আইনের লঙ্ঘনের শামিল। এ কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।