Tag: সৌদি আরব

  • শাবানের চাঁদ দেখা গেল না সৌদিতে, মধ্যপ্রাচ্যে কবে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাস?

    শাবানের চাঁদ দেখা গেল না সৌদিতে, মধ্যপ্রাচ্যে কবে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাস?

    এবিএনএ: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদের দেখা মেলেনি। ফলে রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হচ্ছে এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    রোববার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত চাঁদ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হলেও কোথাও তা নিশ্চিত করা যায়নি। নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য না পাওয়ায় সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট ও সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    সৌদি প্রেস এজেন্সিসহ দেশটির সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় জানানো হয়, সোমবার রজব মাসের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে এবং পরদিন মঙ্গলবার থেকে শাবান মাসের সূচনা হবে।

    ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান রমজানুল মুবারকের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। এ মাসে মুসলমানরা বেশি বেশি নফল রোজা, ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধিতে মনোযোগ দেন। হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অন্যান্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে অধিক নফল রোজা পালন করতেন।

    সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে ভিত্তি করে কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ তাদের হিজরি মাস নির্ধারণ করে থাকে। ফলে এসব দেশেও একই দিনে শাবান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে মাসের সূচনা নির্ধারণ করা হয়। সে কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে একদিনের পার্থক্য দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে শাবান মাস শুরুর তারিখ ঘোষণা করবে।

    শাবান মাস মুসলমানদের জন্য তওবা, আত্মসমালোচনা এবং পবিত্র রমজানের জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতির এক বিশেষ সময়।

  • সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: হারদামাউতে বিমান হামলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: হারদামাউতে বিমান হামলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    এবিএনএ: সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তজুড়ে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী ও বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউতে ব্যাপক লড়াই চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত ডিসেম্বরের শুরুতে প্রদেশটি দখলে নেয় দক্ষিণ ইয়েমেনভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)।

    দীর্ঘদিন ধরে হারদামাউত ছাড়ার জন্য সৌদি আরবের আহ্বান উপেক্ষা করে আসছিল এসটিসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রদেশটির গভর্নর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় সৌদি বাহিনী।

    হারদামাউত সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শুরু থেকেই এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল রিয়াদ। এর আগে গত সপ্তাহে প্রদেশটির মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট প্রথম দফা বিমান হামলা চালায়।

    এই দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এসটিসি সেখানে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ ইয়েমেনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অভিযোগ রয়েছে, এ লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের সহযোগিতা করছিল। তবে ইয়েমেন সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমিরাতকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলে সৌদি আরবও তাতে সমর্থন জানায়। পরে আমিরাত সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

    এসটিসির হারদামাউত শাখার এক নেতা দাবি করেছেন, সৌদি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর পাল্টা জবাবে ইয়েমেন সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় এসটিসির যোদ্ধারা। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এদিকে ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে এসটিসির সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়েছিল। তবে আলোচনায় তারা কোনো সহযোগিতা দেখায়নি বরং হারদামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও জোরদার করেছে।

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, জানাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, জানাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    এবিএনএ:  সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা অভিযানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ৩১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মোট ২২ হাজার ৭২ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি দেশব্যাপী পরিচালিত বৃহত্তর নিরাপত্তা অভিযানের অংশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩৩ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক হয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৪ হাজার ৬২৪ জন এবং শ্রম আইন অমান্যের জন্য ৩ হাজার ৬১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা দেশের আইন ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সৌদি আরবে হজে ৪৪ বাংলাদেশির মৃত্যু, ফিরেছেন ৭৬ হাজারের বেশি হাজি

    সৌদি আরবে হজে ৪৪ বাংলাদেশির মৃত্যু, ফিরেছেন ৭৬ হাজারের বেশি হাজি

    এবিএনএ:  ২০২৫ সালের হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৭৬ হাজার ৭৬৮ জন বাংলাদেশি হাজি। তবে এই সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৪ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন এবং নারী ১১ জন।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বুলেটিনে জানানো হয়, মৃত্যুবরণকারী হাজিদের মধ্যে ২৬ জন মক্কায়, ১৪ জন মদিনায়, ৩ জন জেদ্দায় এবং ১ জন আরাফায় মারা গেছেন।

    চলতি বছর হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১৫৭ জন সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তাদের যাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল এবং শেষ হয় ৩১ মে। আর হজ পালনের পর ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ১০ জুন থেকে, যা চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হজ শেষে ২০০টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন মোট ৭৬ হাজার ৭৬৮ জন হাজি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৮৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৬৫ হাজার ৯৯৩ জন।

    হাজিদের ফিরিয়ে আনতে তিনটি এয়ারলাইন্স অংশ নেয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৪ হাজার ৮ হাজিকে, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৪টি ফ্লাইটে ২৬ হাজার ৬৮৩ জনকে এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২৮টি ফ্লাইটে ১০ হাজার ৩৮৮ জনকে দেশে ফেরত এনেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ফিরেছেন আরও ৫ হাজার ৬৮৯ জন।

    এছাড়া জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি আরও ৩২৫ জন হাজি বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    এই বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক উন্নতি দেখা গেলেও, হাজিদের মৃত্যুর ঘটনা এখনও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর

    যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ঐতিহাসিক ১৪২ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র চুক্তি সই হয়েছে।

    এই চুক্তি দুটি দেশের মধ্যে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি শক্তিশালী করবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিক্রয় চুক্তি, যা আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি প্রতিরক্ষা কোম্পানি সৌদি আরবকে অত্যাধুনিক যুদ্ধ সামগ্রী এবং সেবা সরবরাহ করবে।

    এছাড়া, চুক্তির অংশ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজ বিষয়ক স্মারক, ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য আগ্রহপত্র, মহাকাশ গবেষণা এবং সংক্রামক ব্যাধির প্রতিরোধে সহযোগিতা নিয়ে নতুন সমঝোতা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যখন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন অনুষ্ঠানস্থল ছিল করতালিতে মুখরিত। এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে তার “বন্ধু” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

    তবে এই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়ে এখনও অনেক তথ্য অজানা রয়ে গেছে। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে আমরা পরস্পরকে খুব পছন্দ করি।”

    উল্লেখ্য, এই সফরটিই হচ্ছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বড় বিদেশ সফর। তিনি বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন।

    চুক্তি সইয়ের পর, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমঝোতা বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।


    এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়নকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা শুধুমাত্র দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।