Tag: সুন্দরবন

  • সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    এবিএনএ,বাগেরহাট : দেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। আজ (১ এপ্রিল) ভোর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম, যা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।

    বন বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুন্দরবন থেকে মোট ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু এবং ৩০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে নির্ধারিত হয়েছে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা।

    এবার আগাম বৃষ্টির কারণে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে খলিসা, গরান, পশুর ও হারগোজাসহ বিভিন্ন গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। ফলে ওইসব এলাকায় মৌমাছির উপস্থিতি বেড়েছে এবং মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। তবে পূর্বাঞ্চলের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তুলনামূলক কম বৃষ্টি এবং কম গাছপালা থাকার কারণে সেখানে মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত মধু পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ওই অঞ্চলের মৌয়ালরা কয়েকদিন পর থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবেন।

    মৌসুম শুরুর আগেই মৌয়ালরা নৌকা মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন। দলবদ্ধভাবে বনে প্রবেশ করে তারা প্রথমে খলিসা, গরান ও পশুর গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। পরে পর্যায়ক্রমে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু আহরণ করা হবে।

    গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জ থেকে প্রায় ৬৫০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল। মৌয়ালদের মতে, বন বিভাগের অনুমতি, রাজস্ব ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিজনের প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে মধু বিক্রি করে তারা উল্লেখযোগ্য লাভ করতে সক্ষম হন।

    শরণখোলার মৌয়ালরা জানান, গত মৌসুমে তাদের প্রতিটি সদস্য প্রায় দুই মণ করে মধু পেয়েছিলেন, যা বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। এবারও তারা আশাবাদী, তবে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অপহরণের ঝুঁকি থাকায় তারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

    বন বিভাগ জানিয়েছে, মধু আহরণের জন্য মৌয়ালদের ১৪ দিনের পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৌমাছি তাড়াতে আগুন বা রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ, বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা, নদীতে বিষ প্রয়োগ না করা এবং বন্যপ্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকা। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

    বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার গাছে ফুলের আধিক্য থাকায় মধু উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মৌয়ালদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    তবে জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মৌসুমের পুরো সময়জুড়ে মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সুন্দরী ও গেওয়া গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।

    সব মিলিয়ে আশা ও শঙ্কার মধ্যেই শুরু হলো সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী মধু আহরণ মৌসুম। মৌয়ালদের চোখ এখন নিরাপদ ও সফল একটি মৌসুমের দিকে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবন এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত আসাবুর বাহিনীর প্রধান সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসাবুর বাহিনীর প্রধান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিউল ইসলামকে অস্ত্রসহ সুন্দরবনে পাঠানো হয়।

    এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও নলিয়ান আউটপোস্টের সমন্বয়ে শিবসা নদীর কুমারখালি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    আটক রবিউল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সে আসাবুর বাহিনীর হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের ফলে আসাবুর বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং তাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল: সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেল পর্যটন কেন্দ্র

    ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল: সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেল পর্যটন কেন্দ্র

    এবিএনএ:  ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। বিশেষ করে সুন্দরবন এবং ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকাজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট—বিশেষ করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র—এবারের ঈদে ছিল পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী এবং দুবলার চরসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়।

    দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সীমিত সংখ্যক বনপ্রহরী দিয়ে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

    ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে কিছু ফুট ট্রেইল ভাঙা এবং অপরিষ্কার থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের মতে, পর্যটকদের সুবিধার্থে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকে টানা কয়েক দিনে করমজলেই প্রায় ১২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়েছে।

    অন্যদিকে, ঐতিহাসিক নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

    মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখে তারা দারুণ সন্তুষ্ট।

    এছাড়া শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী ইকোট্যুরিজম স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

    প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের চার দিনে প্রায় ২২ হাজারের বেশি দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

    পর্যটকদের এমন ব্যাপক আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে বাহিনীটি জানতে পারে যে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা চিলা ইউনিয়নের ফেলুরখন্ড-বৈদ্যমারী এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে বৈদ্যমারী বাজারের আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ইয়াছিন শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি ছোট সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবনের ধানসিঁড়ির চর খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনালা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    আটক ইয়াছিন শেখ মোংলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলিও জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

  • ঈদের ছুটিতে বাগেরহাট ভ্রমণ: ষাটগম্বুজ ছাড়িয়ে লুকানো দর্শনীয় স্থানগুলোর সন্ধান

    ঈদের ছুটিতে বাগেরহাট ভ্রমণ: ষাটগম্বুজ ছাড়িয়ে লুকানো দর্শনীয় স্থানগুলোর সন্ধান

    এবিএনএ,বাগেরহাট : ঈদের আনন্দ মানেই শুধু নতুন পোশাক আর সুস্বাদু খাবার নয়—এই উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে পারে একটি ছোট্ট ভ্রমণ। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গিয়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে বাগেরহাট হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির অনন্য মিশেলে এই জেলা যেন জীবন্ত এক ঐতিহ্যের ভাণ্ডার।

    অনেকের কাছে বাগেরহাট মানেই শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ। কিন্তু বাস্তবে এই জেলার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য অনেক বিস্তৃত। এখানে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন এবং প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান, যা একসঙ্গে উপভোগ করা যায় না একদিনেই।

    বিশ্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়া

    বাগেরহাটের অন্যতম আকর্ষণ সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ—দুটিই বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া। সুন্দরবনের করমজল, দুবলার চর কিংবা আলীবান্দা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা আর সবুজের সমারোহ মনকে প্রশান্ত করে।

    অন্যদিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি এক অসাধারণ স্থাপত্য নিদর্শন। প্রায় ৬০০ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদের গম্বুজ, কারুকাজ এবং পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাশেই অবস্থিত জাদুঘরটি ইতিহাস জানার জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

    ইতিহাসের পথে হাঁটা

    ষাটগম্বুজের কাছেই রয়েছে সিঙ্গাইর মসজিদসহ আরও অনেক প্রাচীন মসজিদ, যা সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলী তুলে ধরে। চুনখোলা, বিবি বেগুনি কিংবা রেজা খোদা মসজিদগুলো ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

    হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এবং সংলগ্ন দিঘি একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। দিঘির জলে ভেসে থাকা কুমির ও মাছ পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা এনে দেয়। কাছেই নয় গম্বুজ মসজিদ, যা সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের এক চমৎকার উদাহরণ।

    ব্যতিক্রমী আকর্ষণ

    যাত্রাপুর এলাকায় একটি বজ্রপাতে মৃত গাছকে কুরআনের রিহাল আকারে রূপান্তর করা হয়েছে, যা শিল্প ও ধর্মীয় ভাবনার এক অনন্য নিদর্শন।

    এছাড়া বারুইপাড়ার অযুদ্ধার মঠ ১৬ শতকের স্থাপত্য ঐতিহ্য বহন করে। পোড়ামাটির অলংকরণ আর নকশা দর্শকদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

    বিনোদন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

    বাগেরহাটে শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। চন্দ্রমহল, বারাকপুর ও দশানী পার্কে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা, যা পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য উপযোগী।

    শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরে অবস্থিত রিভারভিউ ইকোপার্কে গিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারবেন মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত। নদীর পাড়ে সময় কাটানো কিংবা ছবি তোলা—সবকিছুই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

    আরও যেসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন

    বাগেরহাটে ঘুরতে গেলে মোংলা বন্দর, দড়াটানা সেতু, ফকিরহাটের জোড়া শিব মন্দির, লাউপালার রথ মন্দির, মুনিগঞ্জ সেতু এবং ডিসি ইকোপার্কও তালিকায় রাখতে পারেন। প্রতিটি স্থানেই রয়েছে আলাদা আকর্ষণ।


    ঈদের ছুটিতে স্বল্প খরচে যদি ইতিহাস, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা পেতে চান, তবে বাগেরহাট আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। এখানে কাটানো একটি দিনও হয়ে উঠতে পারে আজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি।

  • সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণ! মুক্তিপণে ৬০ হাজার টাকা দাবি বনদস্যুদের

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। ‘আল আমিন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র দস্যু তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অপহৃত জেলে মিজান শেখ (৪০) মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজ্জাক শেখের ছেলে।

    মিজানের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই আল আমিন শেখ জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি (পাস) নিয়ে তারা গত ১৪ মার্চ সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মাছ ও কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। ১৬ মার্চ রাতে বনাঞ্চলের একটি খালে অবস্থানকালে হঠাৎ করে দস্যুরা তাদের ঘিরে ফেলে।

    এ সময় দস্যুরা মিজান শেখকে জোরপূর্বক নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে তার সঙ্গে থাকা আল আমিন শেখকে নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি বাড়িতে গিয়ে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের খবর দেন।

    অপহরণের পরপরই বনদস্যুরা মিজানকে মুক্তি দিতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় মিজানের বড় ভাই হুমায়ন শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ঋণ করে জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েছিল আমার ভাই। এখন একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চাপ—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।”

    তবে মোংলা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মহরম জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় কর্মরত জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: ডাকাতের কবল থেকে জীবিত ফিরলেন ৬ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: ডাকাতের কবল থেকে জীবিত ফিরলেন ৬ জেলে

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ধর্ষ ডাকাতচক্র ‘নানা ভাই বাহিনী’র হাতে জিম্মি ছিলেন।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গত ৭ মার্চ মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ৬ জেলে অপহরণের শিকার হন। পরে ডাকাতরা তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি ১০ দিন পর কোস্ট গার্ডের জরুরি নম্বর ১৬১১১-তে জানানো হলে অভিযান প্রস্তুতি শুরু হয়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মার্চ ভোর ৫টার দিকে কোস্ট গার্ডের নলিয়ান আউটপোস্ট শিবসা নদীর কাছাকাছি কালির খাল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতরা দ্রুত বনের ভেতরে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল (৩০), আলামিন (২৬), ইসমাঈল শানা (২৪) (খুলনার কয়রা থানা) এবং রমজান আলী (৩৬), রেজওয়ান (২২), মিয়া রাজ (১৮) (সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানা)।

    বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • লোকালয়ে ছাগল গিলে ফেলেছিল বিশাল অজগর! সুন্দরবনে অবমুক্ত

    লোকালয়ে ছাগল গিলে ফেলেছিল বিশাল অজগর! সুন্দরবনে অবমুক্ত

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে এসে আস্ত ছাগল গিলে খেয়ে ঝোপের মধ্যে পড়ে ছিল বিশাল এক অজগর। ছাগলের মালিক তার নিখোঁজ ছাগল খুঁজতে গিয়ে দেখতে পান এই দৃশ্য। পরে সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়োজিত ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও কমিউনিটি পেট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যদের খবর দিলে তারা গিয়ে অজরটি উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে। অজগর সাপে ছাগল গিলে খাওয়ার খবর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ জড়ো হন সেখানে। পরে অজগরটি সুন্দরবেন অবমুক্ত করে বনবিভাগ।

    সুন্দরবনের ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফেসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের দিনমজুর সোহরাব ফরাজীর পোষা ছাগলটি আগেরদিন সোমবার বাড়ির কাছাকাছি বনসংলগ্ন চরে ঘাস খেতে যায়। কিন্তু ওইদিন ছাগলটি আর ফিরে আসেনি। পরেরদিন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বনের কাছাকাছি একটি ঝোপের মধ্যে ছাগল খেয়ে অজগরটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরা গিয়ে অজরটি উদ্ধার করে বনবিভাগের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়িতে হস্তান্তর করেন। সুন্দরবন থেকে অজগরটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসেছিল। ১৮ ফুট লম্বা অজগরটির ওজন প্রায় ৫০ কেজি। আর গিলে খাওয়া ছাগলটির ওজন হবে ২০ কেজির মতো। ছাগলটি খেয়ে অজগরটি নড়াচড়া করতে পারছিল না।

    সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ছাগল খেয়ে অজগরটি কিছুটা অসুস্থ ছিল। তবে সতর্কতার সাথে অজগরটি উদ্ধার করেন প্রশিক্ষিত পরিবেশ কর্মীরা। দুপুর ১টার দিকে অজগর সাপটি সুন্দরবনের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ির বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দয়াল বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,মোংলা : সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্য আটক।

    মঙ্গলবার ১০ মার্চ  বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সদস্য রসদ সরবরাহের নিমিত্তে সুন্দরবনে গমন করবে।  তথ্যের ভিত্তিতে  ১০ মার্চ  মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক দাকোপ থানাধীন শিবসা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহকারী আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়।

    পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতের তথ্যের ভিত্তিতে, আজ দুপুর ১টায় দাকোপ থানাধীন টাকাতোলা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত আব্দুল হালিম (৩৬) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ দয়াল বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ছাত্রনেতা মাসুম হত্যার প্রতিবাদে শরণখোলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

    ছাত্রনেতা মাসুম হত্যার প্রতিবাদে শরণখোলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

    এবিএনএ,শরণখোলা(বাগেরহাট): শরণখোলায় ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুমকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে এবং হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ৬ মার্চ (শুক্রবার) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর খুড়িয়াখালী গ্রামে নিহত মাসুমের বাড়ির সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেয়। উল্লেখ্য গত ১ মার্চ রাতে মাসুমকে হত্যা করা হলে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকী আসামীরা পালিয়ে যায়।

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীরা বলেন, মাসুমের হত্যায় যারা জড়িত তারা পূর্বে বনদস্যুতার সাথে যুক্ত ছিলো। বর্তমানেও পালিয়ে যাওয়া আসামীরা সুন্দরবনে অবস্থান করছে এবং রাতে তারা তাদের নিজেদের বাড়ীতে থাকে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন।

    নিহত মাসুমের পরিবার জানায়, আসামীর পরিবারের নারীরা সন্ধ্যা হলেই ধারালো দা নিয়ে রাস্তায় বের হয়। গতকাল রাতে নিহত মাসুমের বড় ভাইকে একা পেয়ে দা- বটি নিয়ে তেড়ে আসে অভিযুক্ত আসামী পরিবারের দুই নারী সদস্য। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে ওই নারীরা পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো বটি উদ্ধার করে।

    এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অভিযুক্ত আসামীরা ঘটনার পর থেকে এলাকা থেকে পালিয়েছে। তবে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে।