Tag: সুন্দরবন

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে কাঁকড়া পাচার: বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে কাঁকড়া পাচার: বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনের গভীর এলাকা থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ পাঁচজন কাঁকড়া ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলা।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতভর পরিচালিত অভিযানে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১২ মন ২৫ কেজি বা প্রায় ৪৯০ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

    শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম চলাকালীন সময়ে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে এসব কাঁকড়া সংগ্রহ ও মজুত করা হচ্ছিল।

    আটককৃত ব্যবসায়ীরা হলেন— তরুণ সরকার, মনজুর ঢালী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গাজী, মাসুম বিল্লাহ ও মোহাম্মদ আজাদ সানা। তারা সবাই খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকার বাসিন্দা।

    জব্দকৃত কাঁকড়া ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কাঁকড়ার প্রজনন সুরক্ষায় প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার, পরিবহন ও বেচাকেনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।

  • সুন্দরবনের রহস্যময় অপহরণ নাটকের অবসান: যৌথ অভিযানে উদ্ধার তিন পর্যটক

    সুন্দরবনের রহস্যময় অপহরণ নাটকের অবসান: যৌথ অভিযানে উদ্ধার তিন পর্যটক

    এবিএনএ: সুন্দরবনে ভ্রমণে এসে অপহৃত দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট পরিচালককে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার রাতে কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিয়াশান্তা ইউনিয়নের একটি রিসোর্টসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে।

    দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযানে অপহৃত তিনজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঢাকা থেকে নারী-পুরুষসহ চারজন পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন। তারা ঢাংমারী এলাকার একটি রিসোর্টে বুকিং নিয়ে অবস্থান করছিলেন। বিকেলে রিসোর্টের মালিকসহ পর্যটকরা একটি নৌকায় করে বনের ভেতরের ছোট খালে ঘুরতে বের হলে সশস্ত্র দস্যুরা তাদের জিম্মি করে।

    ঘটনার রাতে দুই নারী পর্যটককে ছেড়ে দেওয়া হলেও রিসোর্ট পরিচালক ও দুই পুরুষ পর্যটককে আটকে রেখে দস্যুরা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বলে জানা যায়। অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হবে।

  • সুন্দরবনে সশস্ত্র দস্যুদের হাতে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক অপহৃত

    সুন্দরবনে সশস্ত্র দস্যুদের হাতে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক অপহৃত

    মাসুদ রানা,এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিকসহ  তিন পর্যটক অপহৃত হয়েছেন। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার কেনুর খাল হতে তাদের অপহরন করেছে সশস্ত্র বনদস্যু বাহিনী।
    শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটলেও কথিত রির্সোট সংগঠন এ নিয়ে লুকোচুরিসহ নানা নাটকীয়তার জন্ম দিচ্ছে। অপহৃত দুই পর্যটক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দ বলে জানা গেলোও তাদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রির্সোট সংগঠনের নেতারা রির্সোট মালিকসহ দুই পর্যটককে ছাড়িয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে দেনদরবার করছে বলে জানা গেছে। তবে অপহরনের শিকার পর্যটকদের ভাগ্যে কি জুটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ জানাতে পারেনি।
    বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি)  চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত ‘রিসোর্ট গোলকানন’ এ বুকিং নিয়ে রাত যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকালে গোলকানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
    রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল হতে  পর্যটকদের তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা মুক্তিপন দাবি করেছে। তবে মুক্তিপন হিসেবে কত টাকা দাবি করেছে তারা, তা জানা যায়নি।
     এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড়।
    এদিকে এ ঘটনা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের ঢাংমারী স্টোশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী। তবে কোন দস্যু বাহিনী এ পর্যটকদের অপহর করেছে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
    বনে পর্যটক অপহরনের ঘটনায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী রিসোর্ট এলাকায় কোন ট্যুর নৌযান কিংবা পর্যটক যাতায়াত করেনি। পর্যটাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছন স্থানীয়রা।
    দাকোপ থানা পুলিশের তথ্য মতে, অপহৃত দুই পর্যটক মো: সোহেল ও জনি বলো জানানো হয়েছে।
    এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আতিকুর রহমান জানান, সুন্দরবনে অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধারে থানা ও নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালাছে।
  • অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

    অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): সাগরে ভাঙছে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা। সাগরে বিলীন হয়ে গেছে বনরক্ষীদের ব্যারাক, চলাচলের রাস্তা, পুকুর, রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও গাছপালা। অপরদিকে, জৌলুস হারাচ্ছে কটকার আরেকটি পর্যটন স্পট জামতলা সী-বীচ।

    সরেজমিনে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ক্রমান্বয়ে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে কটকার বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত দুই বছরে কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা, রাস্তা ও গাছপালা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরের ভাঙনের কবলে রয়েছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা সাগরে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকার বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস ভবন, চলাচলের রাস্তা, একটি পুকুর এবং বিপুল পরিমাণ গাছপালা সাগরে তলিয়ে গেছে। কয়েকবার স্টাফ ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। বর্তমানে সাগর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যমান ব্যারাক, অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক ফেলা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

    অপরদিকে, সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট কটকার জামতলা সী-বীচ তার জৌলুস হারাতে বসেছে। সী-বীচে এখন তেমন বালু নেই; বীচটি অনেকটাই কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক কারণে বীচের বালু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে সরে গেছে। জামতলা সী-বীচে ঘুরতে আসা পঞ্চগড় জেলার পর্যটক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জামতলা সী-বীচের রূপ ও জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে সী-বীচের আগের সৌন্দর্য নেই। কর্দমাক্ত বীচে হাঁটাচলা করা কষ্টকর বলে জানান তিনি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন বনাঞ্চল। কটকায় বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য: তিন ট্রলারসহ ১৩ জেলে আটক, জব্দ জাল ও ডিঙ্গি

    সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য: তিন ট্রলারসহ ১৩ জেলে আটক, জব্দ জাল ও ডিঙ্গি

    এবিএনএ, শরণখোলা: সুন্দরবনের সুপতি অভয়ারণ্যের খালে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় বনরক্ষীদের হাতে তিনটি ট্রলারসহ ১৩ জেলে আটক হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাছ ধরার জাল ও ৬টি ডিঙ্গি নৌকা। আটক জেলেদের আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা শনিবার সন্ধ্যায় সুপতি ষ্টেশনের আওতাধীন বড়কটকা খালে নিয়মিত টহলের সময় একটি ট্রলারের জেলেদের অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেখে এগিয়ে যায়। বনরক্ষীরা ৯ জেলেসহ একটি ট্রলার আটক করে। এ সময় আরও ৬টি ডিঙ্গি ও মাছ ধরার জাল জব্দ করেন বনরক্ষীরা।

    আটক জেলেরা হচ্ছেন, শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামের আলাউদ্দিন পঞ্চায়েত (৩০), রেজাউল হাওলাদার (২৫) ও মোঃ রাকিব হাওলাদার (২৫); বাগেরহাটের গোপালকাঠী গ্রামের লিটন সরদার (৪৮), মিলন সরদার (৩৫) ও জলিল শেখ (৪৫); শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের জাফর হাওলাদার (৩৮) ওরবিউল ইসলাম (২৩); পিরোজপুর জেলার কালিকঠি গ্রামের জালাল হাওলাদার (৩০)।

    অপরদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় বনরক্ষীরা সুপতির পোতারখাল এলাকায় টহলের সময় দুইটি ট্রলারসহ ৪ জেলেকে আটক করেন। আটক জেলেরা হচ্ছেন, পাথরঘাটা জেলার সাহেরাবাদ গ্রামের বিজন হালদার (৩৫), শিশির হালদার (৩৫), ইসা খান (২৬) ও সাত্তার খন্দকার (৪৫)। এ সময় জব্দ করা হয়েছে মাছ ও কাকড়া।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ ফয়সাল আহমেদ বলেন, আটক জেলেরা সুপতি অভয়ারণ্য কেন্দ্রের আওতাধীন খালে অবৈধভাবে মাছ ধরছিলো। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে দুইটি পৃথক বন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামী জেলেদের শনিবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের বাগেরহাট জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

  • টানা তিনদিনের ছুটিতে মুখরিত পূর্ব সুন্দরবন, কটকায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

    টানা তিনদিনের ছুটিতে মুখরিত পূর্ব সুন্দরবন, কটকায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): বড়দিনসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে সুন্দরবনের কটকা এখন দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারনায় মুখর। শুক্রবার এ মৌসুমের সর্বোচ্চ সংখ্যক দুই সহস্রাধিক পর্যটক কটকা ভ্রমণে গেছেন। গত এক সপ্তাহে চার সহস্রাধিক পর্যটক কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে গেছেন বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের অন্যতম পর্যটন স্পট কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবনে পর্যটকের ঢেউ লেগেছে। প্রতিদিন লঞ্চ ও জাহাজে করে শত শত পর্যটক সুন্দরবনে আসছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) একদিনে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৮টি জাহাজে করে দুই সহস্রাধিক পর্যটক কটকা পর্যটন কেন্দ্রে এসেছেন। পর্যটকেরা কটকায় মায়াবী চিত্রল হরিণের ছোটাছুটি এবং নদী ও খালের চরে কুমিরের রোদ পোহানোর দৃশ্য দেখে পুলকিত হচ্ছেন। তা ছাড়া পর্যটকরা কটকার জামতলা সীবীচে ঘোরাঘুরি এবং কেউ কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন বলে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।

    সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবীর বলেন, বড়দিনসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকের ঢল নেমেছে। শুক্রবার বিপুল সংখ্যক দেশী বিদেশী পর্যটক করমজলে বেড়াতে এসেছেন।

    ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবন (টোয়াস) এর সেক্রেটারী নাজমুল আযম ডেভিট বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে পর্যটকের প্রবাহ বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এ বছর কম সংখ্যক পর্যটক সুন্দরবনে যাচ্ছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটকের যাতায়াত বেড়েছে। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য বিভাগীয় দপ্তর থেকে ২৫ ডিসেম্বর ১৮টি ট্যুর পারমিশন ইস্যু করা হয়েছে। ১৮টি পারমিশনে ৬১১ জন দেশী ও ১৩ জন বিদেশী পর্যটক সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব জমা দিয়েছেন। সুন্দরবনে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের গাইড সাপোর্টসহ সার্বিক নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা নিরলস কাজ করেন বলে ডিএফও জানিয়েছেন।

  • সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    এবিএনএ,শরণখোলা: সুন্দরবন থেকে হরিণের মাংস পাচারের সময় রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে আড়াই মণ হরিণের মাংসসহ বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়েছে এক হরিণ চোরাশিকারী। আটক শিকারীকে মোবাইল কোর্টে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাথরঘাটার চরদুয়ানী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারী লিটন হাওলাদার (৪৯) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বস্তায় ভরা ১০২ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেন বনরক্ষীরা। আটক শিকারী পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের রুস্তম হাওলাদারের পুত্র। সে সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে মাংস দুটি বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছিলো বলে বনরক্ষীরা জানান।

    পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, চরদুয়ানী বাজার এলাকায় হরিণের মাংসসহ আটক শিকারীকে পাথরঘাটা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ পনির মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করেন। জব্দকৃত হরিণের মাংস কেরোসিন দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।

  • ৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ

    ৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ

    এবিএনএ: আজ ৭ ডিসেম্বর। মোংলা ও সুন্দরবন মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হারিয়ে এই অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করেন।

    মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ জানান, মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম.এ. জলিল, সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও কবির আহমেদ মধুর নেতৃত্বে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন এলাকা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

    সেই সময়ে সুন্দরবনে স্থাপিত পাঁচটি ক্যাম্পে সেনা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা মোংলা, মোড়লগঞ্জ, রামপাল, শরণখোলা ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতেন। এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে থাকা পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ “এম.ভি মাকরন” ধ্বংস করা হয় মুক্তি নৌ কমান্ডের সদস্যদের মাধ্যমে।

    আবুল হাসেম শেখ আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা এই অঞ্চলের নিরীহ মানুষদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। দামেরখন্ড ও রামপালের ডাকরার বধ্যভূমি আজও সেই ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমাত্রিক পরিকল্পিত আক্রমণে পাক সেনারা পশুর নদীতে মাইন বসিয়ে যুদ্ধজাহাজ মাকরন ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই ৭ ডিসেম্বর মোংলা ও সুন্দরবন পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।”

    স্বাধীনতার পরে মোংলা পোর্ট পৌরসভা পৌর পার্কে নির্মিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে যুদ্ধজাহাজসহ বিজয় স্তম্ভও আছে।

    উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের মোট ২৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

  • মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট, থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছাপ

    মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট, থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছাপ

    এবিএনএ:  আগামী মঙ্গলবার থেকে বাজারে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নকশার ১০০ টাকার নোট। প্রাথমিকভাবে মতিঝিল কার্যালয় থেকে ছাড়ার পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শাখা থেকেও এটি পাওয়া যাবে। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন নোটের নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

    বর্তমানে প্রচলিত নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকলেও নতুন নোটে তা থাকছে না। তবে পুরনো সব নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চলবে। এছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিনিময়যোগ্য নয়—এমন ১০০ টাকার নমুনা নোটও ছাপা হয়েছে, যা মিরপুরের টাকা জাদুঘর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

    গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত নতুন নোটের আকার ১৪০ মিমি × ৬২ মিমি এবং এটি ১০০ শতাংশ সুতি কাগজে মুদ্রিত। নোটে জলছাপ হিসেবে থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ। রঙের আধিক্য নীল এবং সামনের বাঁ পাশে মুদ্রিত হয়েছে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ। মাঝের ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে শাপলার ছবি, আর পেছনে থাকছে সুন্দরবনের দৃশ্য।

    নতুন নোটে যুক্ত হয়েছে ১০ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪ মিমি প্রশস্ত লাল-রুপালি রঙের নিরাপত্তা সুতা, যেখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ ও ‘১০০ টাকা’ খোদাই রয়েছে। নোট নড়াচড়া করলে সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে তিনটি উঁচু বৃত্ত, যা স্পর্শে অনুভূত হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ১ জুন বাজারে আসে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসংবলিত নতুন নোট বাজারে ছাড়ায় সাময়িক বিরতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা পরবর্তীতে এই নতুন নকশার মাধ্যমে পুনরায় চালু হচ্ছে।

  • উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    উত্তাল সাগরে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে, চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা

    এবিএনএ: বঙ্গোপসাগরে টানা ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে মাছ ধরার শত শত ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে সুন্দরবনের বিভিন্ন নিরাপদ খালে। মোংলা, কচিখালী, কটকা, সুপতি ও দুবলা এলাকা থেকে শুরু করে শরণখোলা এবং রাজৈর উপকূলেও দেখা গেছে ট্রলারভর্তি খাল।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। ফলে সমুদ্রজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ংকর ঢেউ ও ঝড়ো বাতাস। এরই প্রেক্ষিতে মোংলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, উত্তাল সমুদ্রের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

    বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অসংখ্য ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে ঠাঁই নিয়েছে। যেহেতু ১ জুন থেকে সুন্দরবনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই এই ট্রলারগুলোর উপর কড়া নজরদারি চলছে। কেউ আশ্রয়ের অজুহাতে মাছ ধরতে গেলে, তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা হবে।”

    মোংলা বন্দরে টানা বৃষ্টির কারণে পণ্য ওঠানামাও ব্যাহত হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সাতটি জাহাজে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েকদিনেও সাগরে ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোতেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।