Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নির্দিষ্ট দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তার এই মন্তব্যের ভাষা ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা কূটনৈতিক শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

    এর আগে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, কর্নেল পদমর্যাদার ওই পাইলট বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    জানা গেছে, গত শুক্রবার একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে থাকা দুইজনের একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হলেও অপরজনকে খুঁজে পেতে সময় লাগে। পরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।

    ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানি বাহিনীও ওই পাইলটকে খুঁজছিল এবং প্রায় ধরতে সক্ষম হয়েছিল। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয় না। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় একাধিক ধাপে অভিযান চালিয়ে দিনের আলোতেই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এখন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর দেওয়া স্থল অভিযান সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, যা নতুন করে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সামনে আসে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন জেনারেল এই নির্দেশ বাস্তবায়নে আপত্তি জানান। এর জেরে হোয়াইট হাউস এবং Pentagon-এর মধ্যে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

    এই পরিস্থিতিতে Joint Chiefs of Staff-এর চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা এটিকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে অন্যতম বড় রদবদল হিসেবে দেখছেন।

    এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই অস্বীকৃতি কি কোনো ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি অধিকার, নাকি এটি সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল? একপক্ষ বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে এই অবস্থান নিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ জেনারেলদের সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শূন্য পদগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কী হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক অভিযান চালালেও তা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবির ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সেটি আসলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হতে পারে।

    এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। অন্যদিকে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পাইলট জীবিত নাকি নিহত—এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাস্থলের আকাশে নজরদারি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধার অভিযানে একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু ইরানি বাহিনীর বাধার কারণে হেলিকপ্টারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সেনাদের সক্রিয় প্রতিরোধের কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো ব্যর্থ রয়েছে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত মার্চ মাসে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তবে সে সময় পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে জরুরি অবতরণ করে প্রাণে রক্ষা পান।

    বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    এবিএনএ:  বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি পুনরায় পুরোপুরি সচল করা তাদের জন্য কঠিন নয়, তবে এতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আর কিছুটা সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারব। তখন এখান থেকে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

    অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এই পথ দিয়ে ১৬টি জাহাজ অতিক্রম করেছে, যা টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    সংস্থাটি আরও জানায়, এসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চলাচল করছে এবং তারা লারাক দ্বীপ সংলগ্ন রুট ব্যবহার করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাহাজ নিরাপদে চালাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল হচ্ছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও অনেক কম।

    বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই রুটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।

  • স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমির হাতামি সম্ভাব্য স্থল হামলার বিরুদ্ধে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থলপথে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কাউকেই জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। সেখানে তিনি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুপক্ষের প্রতিটি নড়াচড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে।

    সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুর কৌশল বুঝে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তার মতে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

    সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

    বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় এক মাস অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন হামলার ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি করা হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর পাশাপাশি একটি বিমানবাহী রণতরীও ওই অঞ্চলে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ব পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর করা যুদ্ধবিরতির দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং এই সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য।

    বুধবার ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তেহরান প্রতিনিধি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-ও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাদের লক্ষ্য কোনো অস্থায়ী সমাধান নয়। বরং চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায় তেহরান।

    বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ইরান এই অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত বলেও বারবার জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে প্রতিপক্ষ নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।

    অন্যদিকে, Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনীর ঘোষণা। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তারা ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কাদিরভ-সমর্থিত এই বাহিনী চলমান সংঘাতকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করছে। তাদের ভাষায়, এটি ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই’, যেখানে তারা ইরানের প্রতিরক্ষায় অবস্থান নিতে চায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি স্থাপনা ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি।

    এদিকে, এই সংঘাতে অন্য দেশের সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এটিকে সরাসরি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

  • ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

    সোমবার স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে স্পেন তার আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    এর আগে থেকেই স্পেন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো বলে জানা গেছে।

    এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা কোনো সংঘাতে সমর্থন না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন। তার অবস্থান স্পষ্ট—এ ধরনের যুদ্ধে স্পেন কোনোভাবেই অংশ নিতে চায় না।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সব মিলিয়ে, স্পেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    এবিএনএ:  ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত সরে আসবে।

    সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, কেউ চাইলে বলতে পারেন—এই লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়ে গেছে।

    তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামরিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি করতে আরও কিছুদিন অভিযান চালানো হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র চায় ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

    এর আগে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশটি এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশল।

    যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের মিশন শেষ করে ফিরবে।

    ভ্যান্স আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে দীর্ঘদিন অবস্থান করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং যত দ্রুত সম্ভব অভিযান গুছিয়ে নিয়ে দেশটি সরে আসবে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন সামরিক অর্জন নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপ এড়াতেও দ্রুত কৌশল বদল করছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মন্তব্য করেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, সেগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

    ২০২৫ যুদ্ধ ও নীতি পরিবর্তন

    শেখারচি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে আমরা কারও ওপর আক্রমণ চালাইনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন করব না। তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত চালাব যতক্ষণ না শত্রু ধ্বংস হয়।”

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে সতর্কবার্তা

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখারচি বলেন, “এই অঞ্চলের অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, যা সকল দেশকে মানতে হবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে নিজেদের উপস্থিতি দৃঢ় করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের এলাকায় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা

    মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ক্ষমতা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাহিনী ক্রমাগত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করছে, যাতে যে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।