Tag: বাংলাদেশ ক্রিকেট

  • মিরপুরে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

    মিরপুরে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

    এবিএনএ: ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আবারও পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারানোর গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারিয়েছে টাইগাররা।

    টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট হাতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভার ৩ বলে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের ইনিংসে শুরুটা ভাল না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পারভেজ ইমন ও তাওহিদ হৃদয়। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন তাঁরা। হৃদয় ৩৬ রান করে ফিরলেও ইমন করেন অপরাজিত ৫৬ রান। তাকে সঙ্গ দেন জাকের আলি, যিনি ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

    এর আগে, মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন এবং গড়েন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম রান খরচ করে বোলিংয়ের রেকর্ড। তাসকিন আহমেদ ২২ রানে পান ৩ উইকেট।

    পাকিস্তানের হয়ে ফখর জামান একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন, তিনি ৪৬ রান করলেও রান আউট হয়ে যান। বাকি ব্যাটাররা একে একে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে।

    বাংলাদেশের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বড় এক সাফল্য। দীর্ঘ ৯ বছর পর পাকিস্তানকে হারানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যেন আবারও টি-টোয়েন্টি মর্যাদার জায়গায় ফিরে আসার বার্তা দিল।

    ক্রিকেটবিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এটি একটি শক্ত ভিত তৈরি করল টাইগাররা।

  • মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে পাকিস্তান, মুস্তাফিজের দুর্দান্ত রেকর্ডে উল্লসিত বাংলাদেশ

    মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে পাকিস্তান, মুস্তাফিজের দুর্দান্ত রেকর্ডে উল্লসিত বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখালো বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে দিল টাইগাররা। এই সংস্করণে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৬ সালে মিরপুরে ১২৯ রান।

    ইনিংসের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ একাই তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসে শেষ ছাপ টানেন। মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলারদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি। তবে আলোচনার কেন্দ্রে মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম রান দেওয়া বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন।

    এর আগে, পাকিস্তানের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ৫০ রান পূরণের আগেই তারা হারায় ৫ উইকেট। ফখর জামান ৪৪ রান করলেও রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে। খুশদিল শাহ করেন ১৭ রান। বাকিরা ছিলেন নড়বড়ে। শেখ মেহেদী, তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেনের সুশৃঙ্খল বোলিংয়ে ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।

    বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান। নিজের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন তার বোলাররা। নতুন বল হাতে শেখ মেহেদী প্রথম ওভারেই সুযোগ তৈরি করেন, যদিও ক্যাচ ছাড়েন তাসকিন। পরের ওভারেই সেই ভুলের শোধ নেন তিনি সাইম আইয়ুবকে ফিরিয়ে।

    পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা ৯ বলে করেন মাত্র ৩ রান। মোহাম্মদ হারিস, হাসান নওয়াজরা ছিলেন আরও ব্যর্থ। রান আউট, ক্যাচ আউট আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কারণে একের পর এক উইকেট হারায় সফরকারীরা।

    বাংলাদেশ একাদশে একমাত্র পরিবর্তন ছিল শরিফুল ইসলামের বদলে তাসকিন আহমেদের প্রত্যাবর্তন। সেই সিদ্ধান্তই দলের পক্ষে বড় সুবিধা বয়ে আনে। স্পিনারদের সঙ্গে পেসারদের দুর্দান্ত সমন্বয়ে গড়া একাদশ পাকিস্তানকে রীতিমতো ধসিয়ে দেয়।

    এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ২১টি টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩টি জয় পেয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা সফরের সাফল্যের পর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ এবার শুরুতেই বার্তা দিল—তারা এবার ভিন্ন কিছু করতে প্রস্তুত।

    বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলি, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজ, তাসকিন, তানজিম।

    পাকিস্তান একাদশ: ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ হারিস, হাসান নওয়াজ, সালমান আগা (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নওয়াজ, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, আব্বাস আফ্রিদি, সালমান মির্জা, আবরার আহমেদ।

  • ফাইনালমুখী ম্যাচে আগে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নতুন মুখ শেখ মেহেদী ও তানজিম

    ফাইনালমুখী ম্যাচে আগে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নতুন মুখ শেখ মেহেদী ও তানজিম

    এবিএনএ: টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করে টাইগাররা। ডাম্বুলায় ৮৩ রানের বড় জয় এনে শ্রীলঙ্কাকে সমতায় ফেলে সিরিজকে করে তোলে ১-১। আজ সেই সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক প্রকার ফাইনালে। এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে টস ভাগ্যে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

    লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, আগে ফিল্ডিং করতে নামছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।

    এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে এসেছে দুইটি পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাদের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ও তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব।

    📋 বাংলাদেশ একাদশ:
    লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলি, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ জয়ের পরও একাদশে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, যা ম্যাচ পরিকল্পনার কৌশলগত অংশ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

    এখন দেখার বিষয়, সিরিজের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিল্ডিং দিয়ে শুরু করে কতটা সফলতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।


    এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করবে সিরিজ জয়ী দল—তাই আজকের মাঠের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুই দলের জন্য।

  • লঙ্কানদের ধ্বংস করে দুর্দান্ত জয়, সমতায় ফিরল বাংলাদেশ টি-২০ সিরিজে!

    লঙ্কানদের ধ্বংস করে দুর্দান্ত জয়, সমতায় ফিরল বাংলাদেশ টি-২০ সিরিজে!

    এবিএনএ: ডাম্বুলার রাঙগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে একেবারে গুড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা ভুলে লঙ্কানদের ৯৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে সফরকারীরা।

    টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা হতাশাজনক হলেও, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল। উদ্বোধনী দুই ব্যাটার পারভেজ ইমন (০) ও তানজিদ তামিম (৫) দ্রুত আউট হলেও, তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন লিটন-হৃদয়। হৃদয় ২৫ বলে করেন ৩১ রান, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা।

    অফ ফর্ম কাটিয়ে ফিরে আসা লিটন দাস তুলে নেন ঝকঝকে এক অর্ধশতক। তার ৫০ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও একটি চার। অপরদিকে শামীম হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৪৮ রান, যার মধ্যে পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চার ছিল। এই দুই ইনিংসেই বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ, স্কোর দাঁড়ায় ১৭৮ রান।

    লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৩০ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারায় দলটি। ওপেনার কুশল মেন্ডিস (৮) রানআউট হন। কুশল পেরেরা (০), আভিস্কা ফার্নান্দো (২) ও আশালঙ্কা (৫) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন।

    তবুও একমাত্র ওপেনার নিশাঙ্কা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে তিনিও ফেরেন ২৯ বলে ৩২ রান করে। এরপর দাশুন শানাকার ২০ রানের ইনিংসটি ছিল লঙ্কানদের শেষ প্রতিরোধ।

    বাংলাদেশি বোলারদের দাপটে শতরানও ছুঁতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। শরিফুল ইসলাম মাত্র ১২ রান খরচায় দুই উইকেট নেন, রিশাদ হোসেন ৩.২ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট, সাইফউদ্দিন ২১ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। মুস্তাফিজ ও মেহেদী হাসান মিরাজও একটি করে উইকেট দখল করেন।

    তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই, একই ভেন্যুতে।

  • টস হারলেও শুরুতেই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুস্তাফিজ ও জাকের! চমক নাঈম-সাইফউদ্দিন

    টস হারলেও শুরুতেই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুস্তাফিজ ও জাকের! চমক নাঈম-সাইফউদ্দিন

    এবিএনএ: টেস্টে শান্ত, ওয়ানডেতে মিরাজ—দুই সিরিজেই হারের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। এবার টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব লিটন দাসের কাঁধে। তবে পাল্লেকেলেতে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই টসের সময় ভাগ্য সহায় হয়নি লিটনের, জিতেছে শ্রীলঙ্কা, আর বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ।

    এই ম্যাচের একাদশে রয়েছে বেশ কিছু চমক। অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও মিডল অর্ডার ব্যাটার জাকের আলী একাদশের বাইরে। পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন নাঈম শেখ ও অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

    বাংলাদেশ এদিন চার অলরাউন্ডার নিয়ে মাঠে নেমেছে—শামীম পাটোয়ারি, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিম সাকিব ও লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। ওপেনিংয়ে খেলছেন তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন, লিটন দাস ও ফিরতি ম্যাচে সুযোগ পাওয়া নাঈম শেখ। মিডল অর্ডারে থাকছেন তাওহীদ হৃদয়।

    শ্রীলঙ্কা তাদের দলে এনেছে কিছু পরিবর্তন। ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার স্থানে জায়গা পেয়েছেন স্পিনার জেফরি ভ্যান্ডারসে। আবার একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার দাশুন শানাকা। তবে পেস আক্রমণে মাথিশা পাথিরানার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়।

    🔹 বাংলাদেশ একাদশ:
    তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন, লিটন দাস (অধিনায়ক), নাঈম শেখ, তাওহীদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারি, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিশাদ হোসেন, তানজিম সাকিব, তাসকিন আহমেদ।

    🔹 শ্রীলঙ্কার একাদশ:
    পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, আভিস্কা ফার্নান্দো, চারিথ আশালঙ্কা, দাশুন শানাকা, চামিকা করুনারত্নে, জেফরি ভ্যান্ডারসে, মহেশ থিকসানা, নুয়ান থুসারা, বিনোরা ফার্নান্দো।

    এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে টি-২০ সিরিজের উত্তাপ। পরিবর্তিত একাদশের বাজি কতটা কাজে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

  • শ্রীলঙ্কায় ইতিহাস গড়ার সামনে বাংলাদেশ, সিরিজ জয়ের লক্ষ্য ২৮৬ রান

    শ্রীলঙ্কায় ইতিহাস গড়ার সামনে বাংলাদেশ, সিরিজ জয়ের লক্ষ্য ২৮৬ রান

    এবিএনএ:  পাল্লেকেলের সবুজ উইকেটে ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের নির্ধারক ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৮৫ রান। এই রান তাড়া করে জিতলেই প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয় করবে টাইগাররা।

    শুরুটা অবশ্য দুর্বলই ছিল লঙ্কানদের। মাত্র ৩ রানে আউট হন ওপেনার মাদুশকা। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস গড়েন ৫৬ রানের ভিত্তি। নিশাঙ্কা আউট হন ৩৫ রানে, তানভীর ইসলামের বলে। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।

    এক পর্যায়ে ১০০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে দলের হাল ধরেন কুশল মেন্ডিস ও চারিথ আসালাঙ্কা। তাদের ১২৪ রানের জুটি লঙ্কান ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়। কুশল মেন্ডিস তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ওয়ানডে শতক—বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তার দ্বিতীয়। তার ইনিংসে ছিল ১১৪ বলে ১২৪ রান। আসালাঙ্কা করেন ৫৮ রান, ৬৮ বলে।

    শেষদিকে অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররা ফের আক্রমণে ফেরে। কুশল ও আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে বড় জুটি গড়তে দেয়নি তারা। লিয়ানাগে (১২), ভেল্লালাগে (৬) দ্রুত ফিরলে ইনিংস থমকে যায়। তবে শেষ ওভারে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ১৮* ও চামিরা ১০* রানে অপরাজিত থেকে দলকে respectable সংগ্রহ এনে দেন।

    বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ, দুজনেই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট পান তানজিম হাসান সাকিব, তানভীর ইসলাম ও শামীম হোসেন।

    এখন অপেক্ষা টাইগার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে জবাব দেখার। ২৮৬ রানের চ্যালেঞ্জ জয় মানেই হবে ইতিহাস!

  • তানজিদের ফিফটির পরেই রান আউট শান্ত, চাপের মুখে বাংলাদেশ

    তানজিদের ফিফটির পরেই রান আউট শান্ত, চাপের মুখে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২৪৪ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতে ইতিবাচক সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তবে একশ’ রানের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেতে হয় দলকে—রান আউট হয়ে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত।

    চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা। দলটির পক্ষে অধিনায়ক চারিথা আশালঙ্কা খেলেন অনবদ্য এক সেঞ্চুরি—১২৩ বলে ১০৪ রান। এছাড়া কুশল মেন্ডিস ৪৫ ও জানিথ লিয়ানাগে করেন ২৯ রান। শেষদিকে মিলান রত্নায়েকে ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দলের স্কোরে যুক্ত করেন সমান ২২ রান।

    বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তিনি শিকার করেন ৪টি উইকেট। তানজিম সাকিব নেন ৩ উইকেট এবং তানভীর ইসলাম ও শান্ত ভাগ করে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা মোটামুটি হলেও ওপেনার পারভেজ ইমন দ্রুতই ফেরেন সাজঘরে—১৬ বল খেলে ১৩ রান করেন তিনি। অন্যদিকে অপর ওপেনার তানজিদ তামিম দেখিয়েছেন দুর্দান্ত ব্যাটিং দক্ষতা। তিনি তুলে নিয়েছেন তার ফিফটি এবং খেলেছেন ৬১ রানের কার্যকরী ইনিংস।

    তানজিদের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল শান্তর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি। কিন্তু সেই জুটি ভাঙে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রান আউটের মাধ্যমে। ২৬ বল খেলে ২৩ রান করে ফিরে যান শান্ত, দলের স্কোর তখন ঠিক একশ’।

    ক্রিজে এখনো রয়েছেন তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। ম্যাচের পরবর্তী অংশে কী ঘটে, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ দল জয়ের পথে কতটা এগোতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

  • জ্বরে ছিটকে পড়তে পারেন রিশাদ, তানভীরের অভিষেকের সুযোগ প্রথম ওয়ানডেতেই?

    জ্বরে ছিটকে পড়তে পারেন রিশাদ, তানভীরের অভিষেকের সুযোগ প্রথম ওয়ানডেতেই?

    এবিএনএ:  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ম্যাচের একাদশ থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

    সূত্র জানায়, অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে রিশাদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগের দিন দুপুর পর্যন্ত অনুশীলনে থাকলেও হোটেলে ফেরার পর থেকেই শরীর খারাপ অনুভব করেন তিনি। বর্তমানে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে এবং দলের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতেও তিনি ছিলেন না।

    রিশাদের শারীরিক অবস্থা ম্যাচের দিন সকালে চূড়ান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। এই পরিস্থিতিতে একাদশে তার পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম

    🔺 বাংলাদেশ ওয়ানডে দল (প্রথম ম্যাচের জন্য সম্ভাব্য স্কোয়াড):

    • মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক)

    • তানজিদ হাসান তামিম

    • পারভেজ হোসেন ইমন

    • নাঈম শেখ

    • নাজমুল হোসেন শান্ত

    • তাওহীদ হৃদয়

    • লিটন দাস

    • জাকের আলি অনিক

    • শামীম হোসেন পাটোয়ারী

    • রিশাদ হোসেন

    • তানভীর ইসলাম

    • মুস্তাফিজুর রহমান

    • তানজিম হাসান সাকিব

    • তাসকিন আহমেদ

    • নাহিদ রানা

    • হাসান মাহমুদ

    বাংলাদেশ দলের সামনে এই হঠাৎ পরিবর্তন একপ্রকার কৌশলগত পরীক্ষাও হতে পারে। এখন দেখা যাক, তানভীর ইসলাম সুযোগ পেলে কেমন পারফর্ম করেন প্রথম ওয়ানডেতেই।

  • তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক কেন সঠিক নয়—সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন শান্ত

    তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক কেন সঠিক নয়—সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন শান্ত

    এবিএনএ: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্ময়কর ঘোষণা দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত—তিনি আর বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়, বরং গভীর চিন্তা ও দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

    শান্ত বলেন, তিন ফরম্যাটে তিনজন আলাদা অধিনায়ক থাকলে মাঠের বাইরের বিভাজন ড্রেসিংরুমেও ছড়ায়। দলীয় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই তিনি নিজ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

    বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরের আগে বিসিবি মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে ভাবার কথা শান্তকে জানায়। এরপরই সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেন তিনি—শুধু টেস্ট ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করে দলীয় ঐক্যে ভাঙন ধরাতে চান না।

    সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, “আমি বিভিন্ন দলের হয়ে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক বাস্তবসম্মত নয়। এতে দলে গ্রুপিং তৈরি হয়, যা ক্ষতিকর।”

    ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করেন, একজন অধিনায়কের পছন্দের খেলোয়াড়দের বারবার দলে জায়গা পাওয়া এবং অন্য অধিনায়কের সেই খেলোয়াড়দের না চাইলে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওয়ানডে অধিনায়কের পছন্দ টেস্ট অধিনায়ককে না মানলে, কিংবা টি-২০ অধিনায়ক সেই খেলোয়াড়কে দলে না চাইলে বিভক্তি তৈরি হয়।

    এর আগেও বিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যখন মাহমুদউল্লাহ টি-২০, মাশরাফি ওয়ানডে এবং সাকিব টেস্ট দলের নেতৃত্বে ছিলেন। সেসময়ের ড্রেসিংরুমে বিরূপ পরিবেশের উদাহরণ শান্তের সিদ্ধান্তে নতুন করে উঠে এলো।

    শান্তর এই আত্মত্যাগ দলীয় ঐক্যের প্রতি তার দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। তিন অধিনায়ক তত্ত্ব কার্যকর হলেও, সেটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের মানসিকতা এবং নেতৃত্বদানে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে বলেও অনেকে মনে করেন।

  • কলম্বো টেস্ট: শ্রীলঙ্কার দাপটে দ্বিতীয় দিনেই কোণঠাসা বাংলাদেশ

    কলম্বো টেস্ট: শ্রীলঙ্কার দাপটে দ্বিতীয় দিনেই কোণঠাসা বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  কলম্বো টেস্টে প্রথম দিনের শেষে ব্যাট হাতে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ, দ্বিতীয় দিনে বোলিংয়েও হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিল। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের দাপটে দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচ একপ্রকার নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছে স্বাগতিক দল।

    নিশাঙ্কার নির্ভার সেঞ্চুরি, চান্ডিমালের দৃঢ়তা
    বাংলাদেশকে মাত্র ২৪৭ রানে থামিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। ওপেনার লাহিরু উদারার ৪০ রানের ইনিংসের পর মূল দৃশ্যপটে আসেন পাথুম নিশাঙ্কা ও দিনেশ চান্ডিমাল। দুজনে গড়ে তোলেন ১৯২ রানের বিশাল জুটি। নিশাঙ্কা অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন ১৪৬ রানে (২৩৮ বলে, ১৮ চার)। চান্ডিমাল মাত্র সাত রান দূরে থেকে ৯৩ রানে আউট হয়ে যান। উইকেট দুটি আসে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের ঝুলিতে।

    বাংলাদেশের বোলিংয়ে ছন্দহীনতা
    বাংলাদেশের বোলাররা দ্বিতীয় দিনেও কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি। শুরুতেই এবাদত বল হাতে এলেও অন্যপ্রান্তে ছিল স্পিন। নাহিদ রানার উপর ভরসা রাখতে পারেননি অধিনায়ক শান্ত, যদিও নতুন বলে তাকে আক্রমণে আনার পরামর্শ ছিল বোলিং কোচ শন টেইটের। রানা ১২ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে ছিলেন ব্যর্থ, হৃদয়কেও বোলিংয়ে আনা হয়নি। নাঈম হাসান ৮ ওভারে দেন ৪৫ রান। তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত ছিলেন শুধু তাইজুল।

    প্রথম ইনিংসে আড়াইশ’ রানের সংগ্রহে থামল বাংলাদেশ
    দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই এবাদতের উইকেট হারিয়ে যায় বাংলাদেশ। তাইজুলের ৩৩ রানের ইনিংসেই কোনো রকমে ২৪৭ পর্যন্ত পৌঁছায় দলটি। এই ইনিংসটি টিকে ছিল মাত্র ৭.৩ ওভার।

    মুশফিক-লিটনের আত্মঘাতী শট
    এক পর্যায়ে বাংলাদেশ যখন ৭৬ রানে ৪ উইকেট হারায়, তখন ভরসা হয়ে ওঠেন মুশফিক ও লিটন। দুজন মিলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। কিন্তু এরপরই দুটি ব্যর্থ শটে ফিরে যান দুজনেই—লিটন ৩৪ এবং মুশফিক ৩৫ রানে।

    লাঞ্চের পর সাদমান-শান্তর ব্যর্থতা
    শুরুর দিকে এনামুল ও মুমিনুল দ্রুত আউট হয়ে গেলে দায়িত্ব নেয় সাদমান ও শান্ত। কিন্তু লাঞ্চের পর পরই দুজনই ফিরে যান পরপর। সাদমান ৪৬ ও শান্ত ৮ রানে আউট হন।

    সোনালের চমক জাগানো অভিষেক
    প্রথমবার জাতীয় দলে খেলা সোনাল দিনুশা বাজিমাত করেছেন। ৩ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল নায়ক। তাঁর শিকার হয়েছেন লিটন, মুশফিক এবং শেষ উইকেট তাইজুল।