Tag: জ্বালানি

  • পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    এবিএনএ: কারিগরি ত্রুটি মেরামত শেষে আদানি পাওয়ারের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হয়েছে। দুই ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রি

    কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে থাকা আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট মেরামত শেষে আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির দুই ইউনিট থেকেই এখন পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

    পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটের দিকে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে দুই ইউনিট থেকেই একযোগে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। নিরাপত্তার কারণে তখন ইউনিটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আংশিক কমে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও কিছুটা প্রভাবিত হয়।

    ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, সমস্যা সমাধান করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ায় এখন আবার স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে প্ল্যান্টটি।

    দুই ইউনিট একসঙ্গে চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ডে বাড়ছে উৎপাদন।

  • এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এবিএনএ: দেশের বাজারে গত এক বছরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দেখিয়ে কয়েক দফায় মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি চাপ পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।

    বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর আর কখনো হাজার টাকার নিচে নামেনি এই জ্বালানির দাম।

    চার মাসেই বেড়েছে ৬৩৪ টাকা

    চলতি বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে এলপিজির মূল্য। জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এপ্রিলের শুরুতে বড় ধরনের লাফ দিয়ে দাম হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। পরে আবার বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে বছরের প্রথম চার মাসেই দাম বেড়েছে ৬৩৪ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতিফলন

    এলপিজি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম খরচ সঠিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছিল না। সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণে এসব বিষয় সমন্বয় করায় ব্যবসায়ীদের দাবি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    এলপিজি অপারেটরদের মতে, স্পট মার্কেটে আমদানির প্রিমিয়াম ও জাহাজ বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সরকারি দামের চেয়ে বেশি বাজারমূল্য

    সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকলেও খুচরা বাজারে সাধারণত তার চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও পরিবহন ও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

    বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্র্যান্ডের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বাড়তি চাপে জনজীবন

    জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার ধারাবাহিকতায় এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম বাড়ায় গৃহস্থালির খরচ বেড়েছে আরও বেশি।

    ভোক্তারা বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে, আবার এলপিজিও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে মাসিক খরচ বেড়ে কয়েক হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    যা বলছে বিইআরসি

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

  • জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত: গ্যাস-তেলের দামে চাপ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং

    এবিএনএ,ঢাকা: দেশের বিদ্যুৎ খাতে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বড় শহরগুলোতেও লোডশেডিং বাড়ছে। গ্যাসের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

    বর্তমানে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই গ্যাস, কয়লা ও তেলনির্ভর। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় এসব কেন্দ্রের বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অলস পড়ে আছে।

    কয়লা আমদানির খরচ বেড়ে চাপ

    দেশে চালু থাকা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা এলেও এর বড় অংশ আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    এর পাশাপাশি জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে, ফলে কয়লা আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে এসেছে।

    তেল ও এলএনজি বাজারে অস্থিরতা

    বিশ্ববাজারে ফার্নেস তেলের দামও ওঠানামা করছে। মার্চ মাসে দ্রুত বাড়ার পর বর্তমানে কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় এখনও বেশি। একইভাবে এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা কাটেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজির দাম বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে।

    এই তিন জ্বালানির সম্মিলিত সংকটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরবরাহে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ বহু কেন্দ্র

    দেশে গ্যাসভিত্তিক ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমিয়েছে। বেশ কিছু কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গ্যাসের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

    প্রতিদিন বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও উৎপাদন কম

    তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি অংশ ফার্নেস তেলের সংকটে বন্ধ রয়েছে। অনেক কেন্দ্র কম সক্ষমতায় চলছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষও এই খাতে উৎপাদন সীমিত রাখছে।

    ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রেও কম উৎপাদন

    কয়লা সংকটের কারণে বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তবে কিছু কেন্দ্র এখনও তুলনামূলকভাবে ভালো উৎপাদন বজায় রেখেছে, যা সামগ্রিক সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

    বেড়েছে লোডশেডিং

    দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে।

    লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে কয়েকশ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর বড় অংশ পড়েছে ঢাকায়, এরপর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলে।

    ভর্তুকির অপেক্ষায় বিদ্যুৎ বিভাগ

    আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরি ভর্তুকি চেয়েছে। এই অর্থ না পেলে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতামত

    বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। অন্যথায় বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের তুলনায় কয়লা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় কয়লা আমদানি বাড়ানোই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হবে।

  • বৈশাখের ছুটিতেও তেল সংকট, রাজধানীর পাম্পে ৬ ঘণ্টার লাইন—চালকদের চরম ভোগান্তি

    বৈশাখের ছুটিতেও তেল সংকট, রাজধানীর পাম্পে ৬ ঘণ্টার লাইন—চালকদের চরম ভোগান্তি

    এবিএনএ: পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি। তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে চালকদের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা নগরজীবনে নতুন করে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির বিশাল লাইন জমেছে। অনেক পাম্প ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে সীমিত কয়েকটি স্টেশনে।

    তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের লাইন মহাখালী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাইভেট কারের সারি নাখালপাড়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অনেকেই জানান, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দ্রুত তেল পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    একজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এখনও তেল পাননি। তার ভাষায়, ছুটির কারণে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় যেগুলো খোলা রয়েছে সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

    একই চিত্র দেখা গেছে আসাদগেট, শাহবাগ ও মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে। চালকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    এদিকে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে চালু করা হয়েছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপ। এই ব্যবস্থায় অ্যাপ ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বেশি তেল নিতে পারছেন, অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বরাদ্দ সীমিত রাখা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ সত্ত্বেও পাম্পে ভিড় ও অপেক্ষার সময় কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোগান্তি কিছুটা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি জাহাজ, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

    মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি জাহাজ, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ ধাপে ধাপে দেশে আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে গ্যাসবাহী আরেকটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। এতে দেশে তরল গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর পরদিন সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে আসার সূচি রয়েছে।

    এলপিজি বা লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ। এটি সিলিন্ডারে ভরে গৃহস্থালি রান্না, রেস্তোরাঁ এবং কিছু যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাইপলাইন সুবিধা নেই এমন এলাকায় এলপিজিই রান্না ও ক্ষুদ্র শিল্পের তাপ উৎপাদনের প্রধান উৎস।

    অন্যদিকে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষিত হয় এবং প্রধানত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় শিল্পকারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার, টেক্সটাইল, সিরামিকসহ ভারী শিল্পে প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সমুদ্রগামী জাহাজ ও দূরপাল্লার ভারী যানবাহনেও এলএনজির ব্যবহার বাড়ছে।

  • তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    এবিএনএ: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

    সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে পেট্রলের শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায় এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ভোক্তা নাকি কোম্পানি—কে বেশি উপকৃত?

    এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে দেশে জ্বালানির দাম স্থির রাখা হয়েছিল।

    এর ফলে এসব কোম্পানি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। শুল্ক কমানোর মাধ্যমে সেই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    পটভূমি: কেন এই সিদ্ধান্ত

    গত বছর সরকার জ্বালানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো থেকে বিরত থাকতে সরকার দাম বাড়ায়নি।

    ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, সরকারের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হলো জ্বালানির দাম বাড়ানো, অন্যটি হলো আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে জনগণকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরবরাহ পরিস্থিতি

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস

    ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

    সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাস কোনো সংকট ছাড়াই সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আপাতত বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে জ্বালানির দাম।

  • এলপিজির দামে পরিবর্তন আসছে? চলতি মাসের নতুন মূল্য জানাবে রোববার

    এলপিজির দামে পরিবর্তন আসছে? চলতি মাসের নতুন মূল্য জানাবে রোববার

    এবিএনএ: চলতি জানুয়ারি মাসের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য ঘোষণা করা হবে রোববার (৪ জানুয়ারি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিইআরসি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত জানুয়ারি ২০২৬ মাসের সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুসারে বেসরকারি খাতের এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের দাম সমন্বয় করা হবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা রোববার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

    এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে এখনও অসন্তোষ রয়েছে।

    নতুন ঘোষণার মাধ্যমে চলতি মাসে এলপিজির দামে পরিবর্তন আসে কি না, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।