Tag: ছাত্রদল

  • জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    এবিএনএ:  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত এক স্মরণ সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণই বিএনপির, তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।”

    রোববার রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

    ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে যদি তোমরা সাহস ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাও, তাহলে গণতন্ত্রকামী জনতা সবসময় তোমাদের পাশে থাকবে—ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    তারেক রহমান বলেন, “তোমরাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। লাখো সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর মুখ আজ আমার সামনে—এই শক্তির মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।”

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত দেড় দশকে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামলা, হামলা, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই আন্দোলনের সময়েই গ্রেফতার হন দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মী এবং শহীদ হন চট্টগ্রামের নেতা ওয়াসিমসহ অনেকেই।

    তারেক রহমান দাবি করেন, “স্বৈরাচারী শাসন বারবার দমন-পীড়ন চালালেও ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি। আজকের এই বিশাল জনসমাবেশ সেই সাহসিকতার প্রমাণ।”

    তিনি আবারও আহ্বান জানান, “সত্য ও সাহসকে ধারণ করো। কারণ গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।

  • মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি, আহত অন্তত ৩০

    মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তাল পরিস্থিতি, আহত অন্তত ৩০

    এবিএনএ:  কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যখন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেলে। পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সম্প্রচারিত একটি টিভি প্রতিবেদনের প্রতিবাদে এনসিপি ও ছাত্রলীগ সমর্থিত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবাদে পৃথক একটি মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

    দুই পক্ষের কর্মসূচি মুরাদনগর উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রথমে উত্তেজনা, পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় উভয়পক্ষ।

    এই ঘটনায় সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন: স্টার নিউজের আব্দুল্লাহ আল মারুফ, খোলা কাগজের শাহ ইমরান, বার্তা ২৪-এর মহিন নাসের খান রাফি, হাবিবুর রহমান মুন্না, মাহফুজ আনোয়ার সৌরভ ও এসএ টিভির ক্যামেরাম্যান মো. বাপ্পি।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বাকিদের কুমিল্লা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মিনাজুল হক জানান, “আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিতে বিএনপির লোকজন হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির মতো ইট ছোঁড়া হচ্ছে।”

    অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বলেন, “ছাত্রদলের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল। হঠাৎ এনসিপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন আমাদের অফিসের সামনে এসে হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হন।”

    মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) আমিন কাদের খান বলেন, “দুই পক্ষের কর্মসূচি একত্রে হওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” তিনি জানান, এখনো কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি, তবে উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এবিএনএ:  দলে একের পর এক অনিয়ম, সহিংসতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের কারণে চাপে পড়েছে বিএনপি। বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবার দলটি শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী এবং অপকর্মে যুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩ সালের পর থেকে যারা দলে এসেছেন এবং রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    সম্প্রতি পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে এক ভাঙারির ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলীয় ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় দায় চাপিয়ে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।

    ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    দলটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০০ জন বিএনপির, যাদের ৮০০ জন বহিষ্কৃত, ৭০০ জনকে নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের আরও প্রায় ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের প্রতি অভিযোগ

    বিএনপি অভিযোগ করেছে, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেমন, পাবনার সুজানগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বিএনপির নেতারা নিজ উদ্যোগে অভিযোগ করেন।

    নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    বহিষ্কার করেও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

    দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, অভিযোগ যাচাই ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ দ্রুতই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসছেন। খুলনায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন বহিষ্কৃত, তবুও সক্রিয় ছিলেন দলীয় কর্মসূচিতে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না।

  • পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    এবিএনএ:  পাবনার সুজানগরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দলীয় সদস্য সচিব গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি একযোগে ১০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এ তথ্য জানানো হয়। সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

    বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন—সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ, ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার, যুবদল নেতা মনজেদ শেখ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খা, সাবেক নেতা কামাল শেখ, যুবদল সদস্য মানিক খা, কলেজ শাখা সভাপতি শাকিল খা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি রুহুল খা, কর্মী লেবু খা এবং যুবদল কর্মী হালিম শেখ।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধ থেকে। পরে বুধবার রজনী ঘোষ সিনেমা হলের সামনে দুই পক্ষ ফের মুখোমুখি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    এসময় সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখ উভয় পক্ষকে থামাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকলেও তারা বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্র।

    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে।

  • ঢাবি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা ও সাম্য হত্যাকাণ্ড: ভিসি-প্রক্টরের পদত্যাগে ছাত্রদলের অনড় দাবি

    ঢাবি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা ও সাম্য হত্যাকাণ্ড: ভিসি-প্রক্টরের পদত্যাগে ছাত্রদলের অনড় দাবি

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্য হত্যাকাণ্ড, ছাত্রলীগের সহিংসতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি পুনরায় জোরালোভাবে তোলে।

    সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস লিখিত বক্তব্যে জানান, শহীদ সাম্য হত্যার তদন্তে চরম গাফিলতি লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রায় ১৩ দিন পর পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা ছিল ধোঁয়াসাপূর্ণ ও অস্পষ্ট। সাম্যকে একটি ছোট টেজার গান নিয়ে বিরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হলেও, ডাক্তারদের মতে, তার উরুতে সুচারুভাবে ছুরিকাঘাত করে গুরুত্বপূর্ণ ধমনী কেটে দেওয়া হয়, যার ফলে অল্প সময়েই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

    ছাত্রদল দাবি করে, এভাবে পরিকল্পিতভাবে একজন পরিচিত ছাত্রনেতাকে হত্যা কোনো সাধারণ ঘটনা নয় এবং এর পেছনে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে। তদন্তে প্রকৃত হত্যাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য এখনো পরিস্কার নয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে ছাত্রদল জানায়, হলসমূহে লুকিয়ে থাকা ছাত্রলীগের সহিংস কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বরং ক্ষমতাসীন দলের অনুগত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষমতায় বসিয়ে, প্রশাসন ছাত্ররাজনীতিতে বৈষম্যের পরিবেশ তৈরি করেছে।

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, সাম্য হত্যার বিচার দাবিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে প্রশাসন একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। ছাত্রদলের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ, সহনশীল পরিবেশ গঠনে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিলেও প্রশাসন একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ নেই। উপাচার্য ও প্রক্টর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারা ব্যর্থ হওয়ায়, তাদের পদত্যাগ এখন সময়ের দাবি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসি তামি, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম ভূঁইয়া ইমনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার তিন হামলাকারী

    ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার তিন হামলাকারী

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্য তার দুই বন্ধুর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ১০-১২ জনের একটি দল, যাদের মধ্যে কেউ একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাম্যের উরুতে আঘাত করে।

    ডিএমপি জানায়, মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সাম্য তার দুই বন্ধু নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ফিরছিলেন। পথে রমনা কালীমন্দিরের উত্তরে পুরনো ফোয়ারার কাছে একটি দল তাদের গতি রোধ করে মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে, হামলাকারীরা ইট দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে এবং এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাম্যের ডান পায়ের উরুর পেছনে আঘাত করে। রক্তক্ষরণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাম্য। হামলাকারীরা ভয় দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

    আহত অবস্থায় সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পরদিন ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্যের বড় ভাই শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিনজনকে শনাক্ত করে। গ্রেফতার তিনজন হলেন—তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) পলাশ সরদার (৩০)। তাদের শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয়।

    সাম্য ছিলেন স্যার এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর ওপর ধরনের নৃশংস হামলা গোটা শিক্ষাঙ্গনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ বাকি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা কত দ্রুত সম্ভব হয়।