Tag: ছাত্রদল

  • শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    এবিএনএ: রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে কথিত গুপ্ত রাজনীতি এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

    একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এ সময় থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও অবস্থান করছিলেন।

    ঘটনার পর থানার বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা: কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি

    ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা: কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনটিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

    ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠনের প্রত্যাশা এখন সংগঠনের ভেতরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রদল

    ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ছাত্র রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

    বিশেষ করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা কমে গেলেও সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আবারও সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    নতুন কমিটি নিয়ে জোর গুঞ্জন

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একটি বৈঠকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরপর থেকেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অনেক পদপ্রত্যাশী নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোডাউন, ইফতার মাহফিল এবং সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

    উপরে বাঁ থেকে মমিনুল ইসলাম জিসান, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মনজরুল রিয়াদ, মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। নিচে বাঁ থেকে আমানউল্লাহ আমান, খোরসেদ আলম সোহেল, শরিফ প্রধান শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল।

    কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে

    ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এবার ‘সিলেকশন’ পদ্ধতির পরিবর্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের উদাহরণ তৈরি হয়েছে।

    ২০২৫ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এতে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

    নেতাকর্মীদের অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরাও উৎসাহিত হবেন।

    নেতৃত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতৃত্বের

    ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানিয়েছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    দলীয় সূত্র বলছে, সংগঠনের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    উপরে বাঁ থেকে বিএম কাউসার, সাইফ খান, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, আবিদুল ইসলাম খান। নিচে বাঁ থেকে আল আমিন, মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, ইমাম আল নাসের মিশুক।

    নেতৃত্বের দৌড়ে যেসব নাম আলোচনায়

    আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৮ থেকে ২০১২ সেশনের নেতাদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন মমিনুল ইসলাম জিসান, খোরসেদ আলম সোহেল, মনজরুল রিয়াদ, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আমানউল্লাহ আমান এবং শরিফ প্রধান শুভসহ আরও কয়েকজন নেতা।

    এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সেশনের একাধিক নেতা সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    নতুন নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা

    ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের এবার নেতৃত্বে মূল্যায়ন করা উচিত।

    তারা মনে করেন, যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সাংগঠনিক দক্ষ নেতাদের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হলে ছাত্রদল আবারও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবে।

  • বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    বাগেরহাটে প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে উত্তেজনা

    এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় জামায়াত কর্মীরা পিটুনিতে সাইথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নিহত হয়েছে। রবিবার (১লা মার্চ) রাত ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডের পর শরণখোলা উপজেলাজুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের মরদের ময়না তদন্ত সোমবার দুপুরে জেলা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

    নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার সাইথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে ও সাউথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রদল নেতা মাসুম মালয়েশিয়া চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

    এঘটনায় নিহত ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রবিবার দিবাগত রাতেই অভিযান চালিয়ে এঘটনায় ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামের এই তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।

    নিহত ছাত্রদল নেতার পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

    এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানান, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তরাই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাÐ ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকাÐে জড়িত জামায়াত ও শিবির কর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

    অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে জামায়াতের উপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।

    শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুমকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল নেতা মাসুম মোবাইল ফোনে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে জামায়াত কর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা মাসুম ও সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা ভর্তি করার পর মাসুম মারা যায়।

    পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের তিনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় এই তিনজন এজাহারনামীয় আসামী।

    সোমবার দুপুরে নিহতের ময়না তদন্ত বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

  • তিন দফা দাবিতে অনড় ছাত্রদল, সোমবার সকালেই ইসির সামনে ফের ঘেরাও কর্মসূচি

    তিন দফা দাবিতে অনড় ছাত্রদল, সোমবার সকালেই ইসির সামনে ফের ঘেরাও কর্মসূচি

    এবিএনএ: ব্যালট পেপারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ছাত্রদল। তবে সোমবার সকাল থেকেই আবারও কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

    রোববার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, সোমবার বেলা ১১টা থেকে পুনরায় ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

    তিনি বলেন, রোববার সকাল থেকে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুরো কর্মসূচি ছিল সুশৃঙ্খল এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    রাকিব আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু মহল আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত। আমাদের মূল তিনটি দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অবগত রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কমিশন সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশন ভবনে এসে একাধিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিষয়টি ইসির নজরে আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন প্রভাব খাটাতে না পারে, সে বিষয়ে কমিশন সতর্ক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

    তিনি জানান, রোববারের মতো ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে শেষ করা হলেও সোমবার আবারও তা শুরু হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, ২২ জানুয়ারির পর যদি কোনো ষড়যন্ত্র বা কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে ছাত্রদল তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

    এর আগে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

    কর্মসূচির কারণে নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সরাসরি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

    ছাত্রদলের উত্থাপিত তিন দফা অভিযোগ হলো—পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে ইসির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি।

  • সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি কাণ্ড: সাবেক ছাত্রদল নেতা রনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা

    সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি কাণ্ড: সাবেক ছাত্রদল নেতা রনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা

    এবিএনএ: সঞ্চয়পত্রের সার্ভার ব্যবহার করে কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মারুফ এলাহী রনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক আসামিকে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল খায়ের মো. খালিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার গ্রাহক মো. আরিফুর রহমান মিম।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রদত্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে গোপনে সিস্টেমে প্রবেশ করেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের হিসাব তথ্য ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেন। এর মাধ্যমে তারা কয়েকটি সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে লাখো টাকার অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন।

    এ ঘটনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার সাবেক ছাত্রদল নেতা মারুফ এলাহী রনির হিসাবে দুইটি সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপে অর্থটি আটকে যায় এবং পরে সরকারি খাতে ফেরত দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে মহাহিসাব নিরীক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা এস এম রেজভীর ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নগদায়ন করে এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুরের রানীগঞ্জ উপশাখায় আরিফুর রহমানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে টাকাটি ঢাকার দুটি শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়।

    মতিঝিল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আরিফুর রহমান প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে এবং তার সঙ্গে অন্য আসামিদের যোগাযোগের তথ্য অনুসন্ধান চলছে।

    মোহাম্মদ মারুফ এলাহী রনি দাবি করেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁর ডাচ্-বাংলা ব্যাংক হিসাবটি ছাত্রজীবনে খোলা, যার লেনদেন সীমা পাঁচ লাখ টাকা এবং বর্তমানে স্থিতি মাত্র ৩৫ হাজার। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই এমন অপচেষ্টা হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিল অফিসের তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার। ঘটনাটি তদন্তে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ ও এনআরবিসি ব্যাংকের পৃথক কমিটি কাজ করছে।

    এই ঘটনার পর থেকে সঞ্চয়পত্রের অনলাইন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা সুদ বা আসল নগদায়নে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদারের পর আগামী রোববার থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে।

  • জবি ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা: ছাত্রী বর্ষা আক্তার আটক

    জবি ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা: ছাত্রী বর্ষা আক্তার আটক

    এবিএনএ: পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়েদ হোসেন হত্যার ঘটনায় তার ছাত্রী বর্ষা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে নূর বক্স রোডের রৌশান ভিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ছাত্রী বর্ষা আক্তারের বাসায় টিউশনিতে যেতেন জুবায়েদ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসাতেই তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

    লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী সাংবাদিকদের জানান, “ছাত্রী বর্ষাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে আরও দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে, যাদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

    এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিউশনির বাসার সিঁড়িতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন জুবায়েদ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর মিডফোর্ট হাসপাতালে পাঠায়।

    ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও পিবিআই ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে আলামত সংগ্রহ শেষে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

    জুবায়েদের হত্যায় পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।

  • চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    চট্টগ্রামে কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ, আহত যুবক হাসপাতালে

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে একটি কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেওয়া কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শরীফ (২৩) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটকে ভাঙচুরের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    জানা গেছে, মোটরসাইকেল উৎপাদক একটি প্রতিষ্ঠান ওই কনসার্টের আয়োজন করেছিল, যেখানে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল পরিবেশনা করছিল। কনসার্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। শুরুতেই একদল দর্শক ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিলে অন্য পক্ষ আপত্তি জানায়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী মো. নাঈম জানান, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে ছাত্রদলের সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি ছোড়ে, এতে কয়েকজন আহত হন।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনীহা দেখাচ্ছেন, ফলে প্রকৃত কারণ জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কনসার্টে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁদের কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    খুলশী থানার ওসি শাহীনুর জামান জানান, প্রতিষ্ঠানটির মোটরসাইকেল প্রদর্শনীর অনুমতি থাকলেও কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি ছিল না। স্লোগান ঘিরে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। কনসার্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • রাবিতে অচলাবস্থা, পিছিয়ে গেল রাকসু নির্বাচন ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত

    রাবিতে অচলাবস্থা, পিছিয়ে গেল রাকসু নির্বাচন ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত

    এবিএনএ, রাজশাহী :

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পিছিয়ে গেলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। পূর্ব নির্ধারিত ২৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে নতুন তারিখ ধরা হয়েছে ১৬ অক্টোবর। সোমবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিশনের জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই নির্বাচনের উপযোগী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, পূজার ছুটি এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক-কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করছে। তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন নিশ্চিত করতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, “এ মুহূর্তে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘ আলোচনার পর কমিশন ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

    অন্যদিকে, নির্বাচন পেছানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনের দাবি, কমিশন বারবার নির্বাচন স্থগিত করে আস্থা হারাচ্ছে। শিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা ৩৫ বছর ধরে এমন প্রহসন দেখে বিরক্ত। তারা ২৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচন আয়োজন চান।

    এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “তারা চাইছে না, তবে মানতেই হবে। বর্তমান অবস্থায় ভোট সম্ভব নয়।”

    ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি

    পোষ্য কোটাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা ও পূজার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলসহ অন্তত পাঁচটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট স্থগিতের দাবি জানায়। তবে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বরং আগের তারিখেই ভোট চায়।

    রাবি ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা

    এদিকে, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখন অচলাবস্থায়। সকাল থেকে প্রশাসন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তালা ঝুলছে, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ, ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা। খাবার দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

    জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও অফিসার সমিতির ঘোষণার পর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কার্যকর রয়েছে। ফলে আসন্ন রাকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

  • জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর ছাত্রদলের বিক্ষোভে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস

    জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর ছাত্রদলের বিক্ষোভে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস

    এবিএনএ:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বিক্ষোভে নামে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি নতুন কলাভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর পর্যন্ত যায়।

    এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন— “বয়কট বয়কট, জাকসু বয়কট”, “প্রহসনের জাকসু, মানি না, মানবো না”

    মিছিল চলাকালে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদল দাবি করে, নির্বাচন ছিল অনিয়ম ও কারচুপিতে ভরা, তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

  • বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    এবিএনএ:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বৃহস্পতিবার নানা বিশৃঙ্খলা, অভিযোগ ও বিরোধিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার পরও বেশ কিছু হলে রাত পর্যন্ত ভোট চলে। বিশেষ করে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট হয়, যেখানে সর্বাধিক ভোটার সংখ্যা ৯৯১।

    তবে দুপুর গড়াতেই নির্বাচন ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানায়। অপরদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে।

    ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় ছবি নেই, কিছু হলে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আবার মেয়েদের হলে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি একে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী স্মরণ এহসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, “শুরু থেকেই প্রার্থিতা বাতিল থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত অনিয়ম চলেছে। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।”

    এদিকে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব জানান, প্রশাসনের প্রস্তুতির অভাবে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি ও ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগও তাদের পক্ষ থেকে তোলা হয়।

    দিন শেষে ছাত্রদল ভোট বর্জন করলেও শিবির সমর্থিত জোটের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি করতে চাই। তারা ফিরলেও আমরা একসাথে থাকব।”

    ভোটগ্রহণ চলাকালে একাধিক হলে সাময়িক সময়ের জন্য ভোট বন্ধ হয়ে যায় বিশৃঙ্খলার কারণে। অভিযোগ ও প্রতিবাদে ঘেরা এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন, তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।