Tag: আবহাওয়া

  • দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: দেশের একাধিক অঞ্চলে রাতের মধ্যে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে Bangladesh Meteorological Department। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি নদীবন্দরকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার রাতে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়সহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, রাত ১টার মধ্যে আবহাওয়ার এ পরিবর্তন ঘটতে পারে।

    এছাড়া ঢাকা, বরিশাল, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলেও অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    এ কারণে ওইসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীপথে চলাচল না করার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে বজ্রঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে। তাই সবাইকে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় লঘুচাপ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা

    বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় লঘুচাপ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা

    এবিএনএ: দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শনিবার রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে দক্ষিণপশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    বর্তমানে মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    প্রথম দিনের পূর্বাভাস

    ১৬ মে সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।

    দ্বিতীয় দিনের পরিস্থিতি

    ১৭ মে দেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। রংপুর ও ঢাকার কিছু এলাকাতেও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

    তৃতীয় দিনের পূর্বাভাস

    ১৮ মে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগেও বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

    চতুর্থ দিনের আবহাওয়া

    ১৯ মে রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস

    ২০ মে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে কয়েকটি অঞ্চলে। এ সময় দেশের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও স্থানীয়ভাবে ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

  • টানা বৃষ্টির সতর্কতা, চার বিভাগে ভারী বর্ষণ

    টানা বৃষ্টির সতর্কতা, চার বিভাগে ভারী বর্ষণ

    এবিএনএ: দেশের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দেশের কয়েকটি বিভাগে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আগামী কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৩ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

    কোথায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশালের দু-এক জায়গায়ও বৃষ্টি হতে পারে।

    এ সময় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

    পাঁচদিনজুড়ে থাকতে পারে বৃষ্টির প্রবণতা

    আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এ সময় দেশের অন্যান্য বিভাগেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    রোববার পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে দেশের কিছু এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকতে পারে।

    তাপমাত্রায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সময় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টদেরও আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • রাতে ঢাকায় হঠাৎ ঝড়ের শঙ্কা, ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

    রাতে ঢাকায় হঠাৎ ঝড়ের শঙ্কা, ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় রাতে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন হতে পারে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    পূর্বাভাসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে সাধারণত ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দমকা হাওয়া বয়ে গিয়ে এর গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ।

    আজ রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে। আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    এবিএনএ: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোণা

    নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জ

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের এক কৃষক নিহত হন।

    অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    হবিগঞ্জ

    হবিগঞ্জে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নোয়াখালী

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলায় প্রাণহানির এ ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সতর্কতা, সিলেট–সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সতর্কতা, সিলেট–সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    এবিএনএ: দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী কয়েকদিন ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে, যার প্রভাবে কিছু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তরাঞ্চল ও সংলগ্ন অঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা অন্তত ৯৬ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে। এর ফলে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিবৃষ্টির কারণে এসব অঞ্চলের শহর ও নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, প্রাক-মৌসুমী শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই বৃষ্টিবলয় ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে, যদিও মাঝেমধ্যে স্বল্প বিরতি থাকতে পারে।

    উজানের মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, এই সময় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিছু স্থানে এর চেয়েও বেশি বা কম গতিবেগ দেখা যেতে পারে।

    টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে না পারলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    এদিকে বৃষ্টিপাত বাড়ার ফলে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুজবও নাকচ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিবৃষ্টির কারণে বরং তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি।

  • দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    এবিএনএ: প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেই খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, অফিসকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। কখনো সকালে, আবার কখনো মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৪৩ মেগাওয়াট, তখন ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

    এর আগে বুধবার দুপুরে ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    খুলনা নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মাহাফুজ বলেন, অফিস চলাকালে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে এসিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতর প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে গরম, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান খাতুন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা থাকে, আবার দীর্ঘ সময় থাকে না। এতে গরমে অসুস্থতা বাড়ছে এবং ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি। চলমান তাপদাহের কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। শুক্রবারও তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

  • তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি এলাকাতেও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকাসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এসব অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিলেট বিভাগের কিছু এলাকা এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: ৬ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ঝরে গেল কৃষকের প্রাণ

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: ৬ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ঝরে গেল কৃষকের প্রাণ

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে একদিনেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৯ জন।

    সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে সুনামগঞ্জে, যেখানে হাওরে ধান কাটার সময় পাঁচ কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন। এছাড়া রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন, নেত্রকোণায় একজন, হবিগঞ্জে একজন এবং কিশোরগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ৫ কৃষকের মৃত্যু

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচ কৃষক প্রাণ হারান। দুপুরে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

    রংপুরে বজ্রপাতে নিহত ২, আহত কয়েকজন

    রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সকালে বৃষ্টি চলাকালে বজ্রপাত হলে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন জেলে ও আশপাশের লোকজন আহত হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মিয়া ও তালেব উদ্দিন নামে দুইজনের মৃত্যু হয়। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    ময়মনসিংহে দুই উপজেলায় প্রাণহানি

    ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ধানক্ষেত দেখতে যাওয়া এক ব্যক্তি বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন আরেক ব্যক্তি; হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নেত্রকোণায় ঘাস কাটতে গিয়ে নিহত

    নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে স্থানীয়রা জানান।

    হবিগঞ্জে ধান কাটার সময় মৃত্যু

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বোরো জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন নামে এক কৃষক নিহত হন। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কিশোরগঞ্জেও বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানি

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হলুদ মিয়া নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাড়িতে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আকস্মিক বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা হাওরে কাজ না করার জন্য বারবার সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে। তবুও মৌসুমের শেষ সময়ে ধান কাটার তাড়নায় কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামছেন, ফলে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা।

  • গরম আরও বাড়ছে, ৬ জেলায় তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, সামনে বাড়তে পারে বৃষ্টি

    গরম আরও বাড়ছে, ৬ জেলায় তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, সামনে বাড়তে পারে বৃষ্টি

    এবিএনএ: দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে দেশের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তার লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কয়েকটি স্থানে এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, যদিও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে।

    পরবর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৮ এপ্রিলের পর আবারও তাপমাত্রা বাড়তে পারে, ফলে গরমের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজারহাটে ২০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপপ্রবাহ চলাকালে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। গরমের তীব্রতা বাড়লে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।