Tag: আইনশৃঙ্খলা

  • নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমার সরকারি নির্দেশ

    নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমার সরকারি নির্দেশ

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বৈধ অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটবর্তী থানায় জমা দিতে হবে।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ নির্দেশনায় উপসচিব আবেদা আফসারী স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র বহন বা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে পারবেন না।

    তবে নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তাদের অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের ক্ষেত্রে ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই আদেশ অমান্য করলে দ্য আর্ম অ্যাক্ট ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি মহলের মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতেই নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে—মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে মির্জা ফখরুল

    অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতেই নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে—মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের লোমহর্ষক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে, যাতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা যায়।

    বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরি বাজার এলাকার একটি গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের পতনের পর একটি মহল নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড সেই ষড়যন্ত্রেরই নির্মম বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যথায় সুযোগসন্ধানী ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যা দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে এবং সহিংস ঘটনাগুলো তারই অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাষ্ট্রকে অচল করে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

    শোক বিবৃতিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা মোতায়েনের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

    এর আগে বিজিবি জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৫১টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বাহিনীটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী সময় মিলিয়ে মোট সাত দিন সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকবে। পরিপত্র অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হয়ে চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এই নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন বাহিনীর ৮ লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • ‘এসআইকে আগুনে পুড়িয়েছি’—ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি, হবিগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার

    ‘এসআইকে আগুনে পুড়িয়েছি’—ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি, হবিগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি থানায় আগুন দেওয়ার এবং এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন। এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাহদী হাসানকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক যুবককে আটক করে। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। আটকের প্রতিবাদে পরদিন মাহদী হাসানের নেতৃত্বে থানার সামনে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

    পুলিশ জানায়, আন্দোলনের একপর্যায়ে মাহদী হাসান সরাসরি ওসির কক্ষে প্রবেশ করে নিজেকে জুলাই আন্দোলনের নেতা দাবি করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি অতীতে থানা পোড়ানো ও পুলিশের সদস্যকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো সহিংস ঘটনার দাবি করেন, যা প্রশাসনের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরে আটক যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে হুমকির ভিডিও ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • সুন্দরবনে সশস্ত্র দস্যুদের হাতে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক অপহৃত

    সুন্দরবনে সশস্ত্র দস্যুদের হাতে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক অপহৃত

    মাসুদ রানা,এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিকসহ  তিন পর্যটক অপহৃত হয়েছেন। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার কেনুর খাল হতে তাদের অপহরন করেছে সশস্ত্র বনদস্যু বাহিনী।
    শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটলেও কথিত রির্সোট সংগঠন এ নিয়ে লুকোচুরিসহ নানা নাটকীয়তার জন্ম দিচ্ছে। অপহৃত দুই পর্যটক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দ বলে জানা গেলোও তাদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রির্সোট সংগঠনের নেতারা রির্সোট মালিকসহ দুই পর্যটককে ছাড়িয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে দেনদরবার করছে বলে জানা গেছে। তবে অপহরনের শিকার পর্যটকদের ভাগ্যে কি জুটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ জানাতে পারেনি।
    বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি)  চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত ‘রিসোর্ট গোলকানন’ এ বুকিং নিয়ে রাত যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকালে গোলকানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
    রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল হতে  পর্যটকদের তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা মুক্তিপন দাবি করেছে। তবে মুক্তিপন হিসেবে কত টাকা দাবি করেছে তারা, তা জানা যায়নি।
     এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড়।
    এদিকে এ ঘটনা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের ঢাংমারী স্টোশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী। তবে কোন দস্যু বাহিনী এ পর্যটকদের অপহর করেছে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
    বনে পর্যটক অপহরনের ঘটনায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী রিসোর্ট এলাকায় কোন ট্যুর নৌযান কিংবা পর্যটক যাতায়াত করেনি। পর্যটাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছন স্থানীয়রা।
    দাকোপ থানা পুলিশের তথ্য মতে, অপহৃত দুই পর্যটক মো: সোহেল ও জনি বলো জানানো হয়েছে।
    এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আতিকুর রহমান জানান, সুন্দরবনে অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধারে থানা ও নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালাছে।
  • র‌্যাবের গভীর রাতে অভিযান, রাজধানী থেকে অস্ত্র-গুলিসহ ধরা তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী

    র‌্যাবের গভীর রাতে অভিযান, রাজধানী থেকে অস্ত্র-গুলিসহ ধরা তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী

    এবিএনএ: রাজধানীতে অপরাধ দমনে গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ তিনজন চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। পল্লবী থানার আওতাধীন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতের অভিযানে প্রথমে শাহ আলী থানাধীন গোড়ার চটবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে পল্লবী থানার লালমাটি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফাইজুর রহমান মুক্তি ওরফে ডন মুক্তি, শাকির আহম্মেদ সুমন ওরফে হকি সুমন এবং গোলাম মোস্তাফা কামাল বাপ্পি ওরফে শুটার বাপ্পি। তারা দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর ও শাহ আলী থানাসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে মিরপুর-১ এর পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং পরে অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়।

    একই অভিযানে তাদের সহযোগী হিসেবে কুখ্যাত মাদক কারবারি বাবু ওরফে পিচ্চি বাবুকেও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    র‌্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিভিন্ন থানায় বিচারাধীন রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার​ 

    চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার​ 

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে হালিশহর থানার আলোচিত চোর সন্দেহে মোহাম্মদ ইসমাঈলকে পিটিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামি প্রান্ত দাশকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নগরের সিটি গেইট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি প্রান্ত দাশের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায়। তার বাবার নাম রণ দাশ। ​

    র‌্যাব জানায় নিহত মোহাম্মদ ইসমাঈল কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার উত্তর হালিশহর এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২২ অক্টোবর ভোর আনুমানিক চারটার দিকে মোহাম্মদ ইসমাঈল হালিশহর থানার বারুনীঘাট এলাকার ‘মা কর্পোরেশন’ নামীয় একটি বেকু গ্যারেজ এলাকায় গেলে সেখানে অবস্থানরত প্রান্ত দাশ ও তার সহযোগীরা তাকে চোর সন্দেহে আটক করে।

    এরপর তাকে গ্যারেজের ভেতরে রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে ইসমাঈল গুরুতর আহত হন।​ পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গ্যারেজ মালিক সাহাবুদ্দিনকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে পরিবারের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর মোহাম্মদ ইসমাঈলের মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ কাঞ্চন বাদী হয়ে হালিশহর থানায় পাঁচজন এজাহারনামীয় ও একজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, হালিশহর থানার ইসমাঈল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি প্রান্ত দাশ নগরের আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেট এলাকায় অবস্থান করছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার বেড়ে ৩১

    প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার বেড়ে ৩১

    এবিএনএ: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর এই ঘটনায় মোট আটককৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

    গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন—মো. জাকির হোসেন শান্ত (২৯), মো. স্বপন মন্ডল (৩০) এবং নিয়াজ মাহমুদ ফারহান (২১)।

    পুলিশ জানায়, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রমনার বেইলি রোড এলাকা থেকে মো. জাকির হোসেন শান্তকে আটক করে। অপরদিকে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর মোড় এলাকা থেকে মো. স্বপন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এ ছাড়া ডিবি সাইবার উত্তর বিভাগের একটি দল মঙ্গলবার রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাহমুদ ফারহানকে গ্রেপ্তার করে।

    ডিএমপি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। হামলা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া কার্যালয়ে সংঘটিত এই হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়।

  • নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব তথ্য নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

    এর আগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবও অংশ নেন। এর আগে একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা তফসিল ঘোষণার পর তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ইসির প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

  • সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা সরকার দৃঢ়ভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অল্প কিছু গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সেই আদর্শের সঙ্গে যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সমাজে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করা জরুরি।

    সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংবাদকর্মীদের ওপর আঘাত মানেই সত্য ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।