Tag: আইনশৃঙ্খলা

  • আমেরিকায় অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার, আতঙ্কে হোগলাপাশা

    আমেরিকায় অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার, আতঙ্কে হোগলাপাশা

    এবিএনএ, বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জ উপজেলাহোগলাপাশা ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার নির্দেশেই এলাকায় নানা অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। দূরদেশ থেকে দেওয়া নির্দেশের জেরেই সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

    সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংস হামলা

    গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কিসমত বৌলপুর গ্রামের বাসিন্দা জহর আলী খার ছেলে আলামিন খান (৪৬)-এর বাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাজু শেখ, তুষার শেখ, সাব্বির কাজি, রুবেল শেখ, সাখায়েত শিকদার, এমরান খান, ভুট্টা খান, মিরাজ খন্দকার, রাব্বি শেখ ও বিলকিস বেগমসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে আলামিন খানকে বাইরে টেনে এনে মারধর করে।

    ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং এক পা ভেঙে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

    পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলামিন খানকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় গভীর ক্ষত এবং পায়ে গুরুতর ভাঙন রয়েছে। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

    তবে পরিবারের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বিচার দাবিতে সোচ্চার পরিবার

    আলামিন খান বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। তবুও পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।”

    এলাকাবাসীর একাংশও অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন ঘটনা ঘটছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আহত আলামিন খান কবে ন্যায়বিচার পান।

  • মীরসরাইয়ে ১৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিল পুলিশ

    মীরসরাইয়ে ১৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিল পুলিশ

    এবিএনএ,মীরসরাই: মীরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ১৫০টি মোবাইলফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে মীরসরাই থানা পুলিশ। তার ধারাবাহিকতায় গত সাপ্তাহে উদ্ধার হওযা ৫ টি ফোন উদ্ধার করে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মীরসরাই থানায় এই মোবাইলফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    মোবাইল উদ্ধারকারী অফিসার এএসআই মোঃ শামিনুর রহমান সুমন বলেন ” যখন কোন ব্যক্তির মোবাইল ফোন চুরি,ছিনতাই বা হারিয়ে যাওয়ার পর জিডি করার জন্য অসহায়ের মত থানায় আসেন এবং বলেন মোবাইলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আছে তখন তাদের দেখে খুবই মায়া লাগে এবং নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিজের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে মোবাইল উদ্ধারে চেষ্টা করি”।

    মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ভুক্তভোগীদের হাতে তাদের প্রিয় ফোনগুলো তুলি দিয়ে বলেন বিভিন্ন সময় মানুষের মোবাইল হারিয়েযায়, চুরি চিন্তায় হয়ে যায় সে প্রেক্ষিতে থানায় এসে তারা জিডি করে, আমি আসার পর থেকে এই পর্যন্ত ১৫০ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি এবং গত এক সাপ্তাহে আমরা ৫টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    তিনি আরো বলেন নানা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমরা মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সব ফোন উদ্ধার করা সবসময় সম্ভব না হলেও পুলিশের আইসিটি টিম এ বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং আগামীতেও এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    দীর্ঘদিন পর নিজের হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • মিরসরাইয়ে মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি

    মিরসরাইয়ে মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি

    এবিএনএ,মিরসরাই (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মৎসঘের কেটে মাছ লুট করার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী রবি করিম। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বারইয়ারহাটস্থ একটি হোটেলে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে লিখিত বক্তব্যে রবি করিম বলেন, তার ভগ্নিপতির জমিতে তিনি মৎসঘের করেছেন। গতকাল রাতে পাশবর্তি জমির মালিক খানের কর্মচারীরা তাদের পুকুরে গভীর গর্তকরে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটে। এসম আমার ঘেরের সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। সেখান দিয়ে আমার ঘেরের সমস্ত মাছ ও পানি তাদের পুকুরে চলে যায়।

    এসময় স্থানীয়রা আমার ঘেরে থাকা মাছগুলো ধরে নিয়ে যায়। এতে আনার প্রায় ২০-২২ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। পরে তারা আমাকে সামান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে। আমি তাতে রাজি হইনি।

    এছাড়া মৎস ঘেরের জমিটাও তারা কেনার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছে। তবে উপযুক্ত মূল্য না নলায় আমরা জমিটা বিক্রি করিনি। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    এবিষয়ে সিআইপি খানের ব্যবস্থাপক দীন মোহাম্মদ জানান, আমরা কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে তার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমরা তাকে মাছের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু নির্দিষ্ট টাকার কারণে সমঝোতা হয়নি।

  • সুন্দরবনের গহীনে অভিযান! অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সহযোগী আটক

    সুন্দরবনের গহীনে অভিযান! অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সহযোগী আটক

    এবিএনএ,মাসুদ রানা,মোংলা: সুন্দরবনের শেলা নদীর মূর্তির খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর এক সহযোগীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল ও তৈয়বের খাল এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান এর আভিযানিক দল ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে ৪টি একনলা বন্দুক, ১টি ওয়ান শুটার গান, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১০ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

    আটক বনদস্যু বাহিনীর সহযোগীর নাম বাদশা শেখ (২৫)। তিনি বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে কোস্ট গার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরম্ভ করেছে। উক্ত অভিযানে সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর ৫টি আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

    সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।

  • শরণখোলায় আগুনে ভস্মীভূত ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়

    শরণখোলায় আগুনে ভস্মীভূত ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়

    এবিএনএ,শরণখোলা: বাগেরহাটের শরণখোলায় আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর ১ নং সোনাতলা ওয়ার্ডে। সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থাকা ১ নং সোনাতলা ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়টি সম্পুর্নরুপে ভস্মীভূত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ মনসুর বলেন, বিএনপি অফিসের পাশেই আমার দোকান। আমি দোকানের মধ্যেই ঘুমে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দ পেয়ে আমি দোকানের বাইরে আসলে পাশে থাকা বিএনপি অফিস পুড়তে দেখে আশেপাশের সবাইকে ডাক দেই।

    স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজু গাজী বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি রাতেই সেখানে যাই। স্থানীয়রা অফিসের সামনে থেকে দুই লিটারের একটি কেরোসিনের বোতল পেয়েছে। যা পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগানোকেই নির্দেশ করে।

    সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন বলেন, নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমেই বিএনপি অফিস ভস্মীভূত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ওয়ার্ডে উত্তাপ বিরাজ করছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

  • মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    এবিএনএ: নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে ‘মব কালচার’ আর চলতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায়ের নামে সহিংস ভিড় বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়ালে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

    মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ বা স্মারকলিপি দেওয়ার অধিকার থাকবে—কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি আর গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক ধারায় থেকেই দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমাতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন রুটিন দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে নতুন মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

  • ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে উত্তেজনা: ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকে পরে ছেড়ে দিল পুলিশ

    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে উত্তেজনা: ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকে পরে ছেড়ে দিল পুলিশ

    এবিএনএ: রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ফুল দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষকসহ মোট পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত কিছু লোকজন ওই পাঁচজনকে ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুলিশ দ্রুত তাদের সরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

    রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে থানায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কিছুক্ষণ পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সতর্ক রয়েছে।

  • তারেক রহমানকে অভিনন্দনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ: নতুন সরকারের কাছে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

    তারেক রহমানকে অভিনন্দনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ: নতুন সরকারের কাছে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান-কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

    সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, স্মৃতিচিহ্নে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জ্বালাও-পোড়াও, খুন-ধর্ষণ ও দুর্নীতির মতো অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সরকার উদ্যোগী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সংগঠনের মহাসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন বিএনপি সরকারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ।

  • ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘ; এই পথে মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতিই হবে বিরোধী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দলটি সামগ্রিক ফলাফল স্বীকার করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

    নির্বাচনী সময়ে মাঠে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নানা চাপ ও হয়রানির মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিয়েছে। ফলাফলে হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি; সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী ব্লক হিসেবে দলটির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    তিনি অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তাই বিরোধী দলে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রেখে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ অব্যাহত থাকবে। দলটি নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায়।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সদ্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জাতির জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বলেন তিনি। ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন।

    আসন্ন সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের বার্তা—জনগণের ম্যান্ডেট কোনো ছাড়পত্র নয়; এটি শর্তযুক্ত দায়িত্ব। সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা। শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অঙ্গীকারে দলটি অবিচল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • ক্ষমতায় ফেরার পর সামনে কঠিন বাস্তবতা: অর্থনীতি সচল ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ—মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতায় ফেরার পর সামনে কঠিন বাস্তবতা: অর্থনীতি সচল ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ—মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: আগামী সরকার দায়িত্ব নিলে অর্থনীতি সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির লাগাম টানাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—এমন মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, দেশের অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর ও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মতে, বহু ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে।

    তবে এই সাফল্যের মাঝেও বেদনার কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই ঐতিহাসিক বিজয় দেখে যেতে পারেননি—এটি দলের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।

    গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। ভোটের সংস্কৃতি নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্যভাবে চালু থাকলে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হওয়া এবং দলটির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির আলোকে পরবর্তী সময়ে দলটির ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ধারিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।