একই বিশ্বকাপে দুই ভাই, দুই দেশের জার্সি—টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
কারান ভাইদের নজিরবিহীন কীর্তিতে বিশ্বকাপে প্রথমবার আলাদা দেশের হয়ে দুই ভাইয়ের মুখোমুখি মাঠে নামা


এবিএনএ: ক্রিকেটে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নতুন কিছু নয়। তবে বৈশ্বিক মঞ্চে একই বিশ্বকাপে দুই ভাই দুই দেশের জার্সিতে মাঠে নামা—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম। এই বিরল কীর্তির নায়ক কারান ভাইদ্বয়।
চলতি আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে নিয়মিত খেলছেন স্যাম কারান। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। অন্যদিকে তার ছোট ভাই বেন কারান এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেলেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও বিশ্বকাপ দলে শুরুতে ছিলেন না তিনি। দলে জায়গা পান ইনজুরির কারণে একটি পরিবর্তনের পর।
শুক্রবার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচের আগে দলের এক অভিজ্ঞ ব্যাটার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় স্কোয়াডে পরিবর্তন আনা হয়। সেই সুযোগেই টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে বেন কারান দলে ঢোকেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওমানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস পায় জিম্বাবুয়ে, এরপর শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়ে চমক দেখায় তারা।
বিশ্বকাপে না হলেও ভিন্ন দেশের হয়ে খেলেছেন যেসব ভাই
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন নজির নতুন হলেও ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা দেশের হয়ে দুই ভাইয়ের খেলার উদাহরণ রয়েছে—
-
এড জয়স ও ডম জয়স: ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় এড জয়সের; সেই ম্যাচেই প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড দলে ছিলেন তার ভাই ডম।
-
ঋষি ধাওয়ান ও রাঘব ধাওয়ান: ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত ঋষির ভাই রাঘব ২০২৪ সালে উগান্ডার হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন।
-
ফ্র্যাঙ্ক হিয়ার্ন ও জন হিয়ার্ন: উনিশ শতকে ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার বিরল নজির গড়েছিল হিয়ার্ন পরিবার।
-
জেমস প্যাটিনসন ও ড্যারেন প্যাটিনসন: একজন অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত মুখ, অন্যজন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলেছেন।
-
অ্যালবার্ট ট্রট ও হ্যারি ট্রট: দুই ভাই দুই দেশের হয়ে খেলেছেন ক্রিকেটের শুরুর যুগে।
কারান ভাইদের হাত ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়—একই টুর্নামেন্টে দুই ভাই, দুই দেশের হয়ে মাঠে নামার বিরল মুহূর্ত।




