Day: February 4, 2026

  • চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ, সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে তীব্র বিক্ষোভ

    চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ, সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে তীব্র বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমাতে প্রশাসনিক বদলি ও দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল টার্মিনাল অপারেটর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে কার্যত বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার শামিল। এতে রাজস্ব কমে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    বক্তারা আরও বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা অস্বচ্ছতা ও কমিশন বাণিজ্যের প্রশ্ন তুলছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পথ রুদ্ধ করতেই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় লবিস্টদের তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    সমাবেশে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’র নেতারা দাবি করেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীকরণ ও দেশীয় অপারেটরদের সক্ষমতা বাড়ালে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বিদেশি সিন্ডিকেটের হাতে বন্দর তুলে দিলে জাতীয় স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

    বিক্ষোভে সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাতসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী-সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

  • রাতে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি, ঢাকাবাসীর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন সতর্কবার্তা

    রাতে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি, ঢাকাবাসীর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে রাতের দিকে শীতের আমেজ কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাপমাত্রা সামান্য কমে যাওয়ায় রাতে ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, এ সময় ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এই সময়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা রাতের শীতল অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতার মাত্রা ছিল ৫৮ শতাংশ। আজ রাজধানীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

    এদিকে গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩৭ মিনিটে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    এবিএনএ: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা এই ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

    পররাষ্ট্রনীতি: সমমর্যাদা ও কৌশলগত বন্ধুত্ব

    ইশতেহারে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা

    প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াতের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শতভাগ সামরিক আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। এজন্য একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি এবং প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।

    সামরিক বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু ও সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    এবিএনএ: বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালায়। ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

    এর পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে ১৭৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মদদ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ও সহযোগীদের নির্মূল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, বিএলএ ভারতের কাছ থেকে সহায়তা পায়। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে তারা প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

    এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইসলামাবাদের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার এমন অভিযোগ তুলে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করে।

    রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, অমূলক অভিযোগ না করে পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দাবিগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া। ওই অঞ্চলে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • কম্বোডিয়ায় টেনিসে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট, বালিকা দ্বৈতে কোয়ার্টার ফাইনালে লাল-সবুজ

    কম্বোডিয়ায় টেনিসে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট, বালিকা দ্বৈতে কোয়ার্টার ফাইনালে লাল-সবুজ

    এবিএনএ: কম্বোডিয়ায় চলমান আইটিএফ এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৪ ডেভলপমেন্ট চ্যাম্পিয়নশিপস টেনিস প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের বালিকা দল। বালিকা দ্বৈত বিভাগে মাসতুরা আফরিন ও জান্নাত হাওলাদারের জুটি প্রতিপক্ষকে সরাসরি সেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশি এই জুটি ৬-২, ৬-২ গেমে লাওসের চানথাফন ও ফমভং জুটিকে পরাজিত করে শেষ আটে জায়গা করে নেয়। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত খেলায় আধিপত্য বজায় রাখে তারা।

    একক বিভাগেও সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। মাসতুরা আফরিন ৬-২, ৬-২ গেমে লাওসের চানথাফনকে হারান। অন্যদিকে জান্নাত হাওলাদার ৬-১, ৬-১ ব্যবধানে লাওসের ফমভংকে পরাজিত করেন।

    বালক বিভাগে বাংলাদেশের আল রাফি তিন সেটের লড়াইয়ে মঙ্গোলিয়ার ব্যাটসাইখানকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-২ গেমে পরাজিত করেন। তবে মোহাম্মদ জোবায়ের ২-৬, ২-৬ গেমে পাকিস্তানের মুয়াজ শাহবাজের কাছে হেরে যান।

    আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের অনুমোদনে এবং কম্বোডিয়া টেনিস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চলবে ৩ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। বাংলাদেশ থেকে ২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং ১ জন ক্যাপ্টেনসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল এতে অংশ নিয়েছে।

    এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক কম্বোডিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রুনাই, লাওস, ম্যাকাও, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইনস, সিঙ্গাপুর, তিমুর লাসতে, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও জাপানের অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দল দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

  • শাকিব খান আমাদের অনেক ঊর্ধ্বে, এই তুলনাই ভুল—স্পষ্ট বার্তা অপু বিশ্বাসের

    শাকিব খান আমাদের অনেক ঊর্ধ্বে, এই তুলনাই ভুল—স্পষ্ট বার্তা অপু বিশ্বাসের

    এবিএনএ: বর্তমান সময়ে শোবিজ অঙ্গনের নানা আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ট্রল সংস্কৃতি, সিনিয়র শিল্পীদের প্রতি সম্মান এবং শোরুম উদ্বোধন নিয়ে চলমান বিতর্কে খোলাখুলি কথা বলেন।

    শাকিব খানকে নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অপু বিশ্বাস স্পষ্ট ভাষায় জানান, তুলনার জায়গাটাই এখানে ভুল। তার কথায়, শাকিব খান ঢালিউডের একজন বড় মাপের অভিনেতা, যার অবস্থান অনেক উঁচুতে। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে—এটি ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক বিষয়।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ঘিরে ট্রল প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, যারা পরিচিত মুখ, বড় পরিসরে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদের নিয়েই বেশি ট্রল হয়। এমনকি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরাও ট্রলের শিকার হন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিচিত মুখকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট তৈরি করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—এ কারণেই ট্রল বেশি হয় বলে তার ধারণা।

    নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে অপু বিশ্বাস জানান, তিনি স্বভাবগতভাবেই সহজ-সরল ও স্পষ্টভাষী। মিথ্যা বলা বা কৃত্রিমতা তার স্বভাবে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ক্যামেরার সামনে বা পেছনে—সব জায়গাতেই তিনি নিজের মতো করেই কথা বলেন বলে জানান এই অভিনেত্রী।

    শোরুম উদ্বোধন বা ফিতা কাটাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, কোনো কাজই ছোট নয়। একজন শিল্পী হিসেবে এসব আয়োজনের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। শোরুম উদ্বোধনের মাধ্যমে একটি বার্তা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং ফ্যানদের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় হয় বলেও মত দেন তিনি।

  • কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    এবিএনএ ,বাগেরহাট: ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাগেরহাট-৩ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাসমান ভোটারদের ভূমিকা এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠায় হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    মোংলা ও রামপাল উপজেলা এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মূল লড়াইটি গড়ে উঠতে পারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে।

    ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একইভাবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

    তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে তিনি ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভাসমান হওয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অফিসে তালা দেওয়া, ভাঙচুর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, সামিদ আল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    এম এ এইচ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রচারণার মাইক ভাঙচুর এবং যাত্রাপুর এলাকার অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ এইচ সেলিমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কর ফাঁকির অভিযোগ সত্য হলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হতো না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।