রাজনীতি

স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: গবেষণার নামে অবমূল্যায়ন নয়

মুক্তিযুদ্ধের গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ডাক

এবিএনএ: দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কোনো ধরনের বিকৃতি বা অবমূল্যায়ন বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গবেষণা ও মতামত অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে তা যেন জাতির গৌরবময় ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতকে সম্পূর্ণভাবে ভুলে গেলে জাতি দিকভ্রান্ত হয়, আবার অতীতে আটকে থাকলেও অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া লাখো বীর সন্তানকে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, আহত যোদ্ধা এবং যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন। তাদের আত্মত্যাগেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার স্বপ্ন ধারণ করতেন এবং তার লেখালেখি ও কর্মকাণ্ডে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত তার অভিজ্ঞতা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক দলের অর্জন নয়; এটি ছিল সমগ্র জাতির সংগ্রাম। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব সবার।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বিভাজন নয়, সম্মিলিত প্রয়াসেই একটি উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আহ্বান জানান—সবাই মিলে ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button