Blog

  • গরম আরও বাড়ছে, ৬ জেলায় তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, সামনে বাড়তে পারে বৃষ্টি

    গরম আরও বাড়ছে, ৬ জেলায় তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, সামনে বাড়তে পারে বৃষ্টি

    এবিএনএ: দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে দেশের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তার লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কয়েকটি স্থানে এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, যদিও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে।

    পরবর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল থেকে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৮ এপ্রিলের পর আবারও তাপমাত্রা বাড়তে পারে, ফলে গরমের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজারহাটে ২০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপপ্রবাহ চলাকালে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। গরমের তীব্রতা বাড়লে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

  • আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবি, ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ — রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

    আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবি, ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ — রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশিরাও

    এবিএনএ: আন্দামান সাগরে একটি যাত্রীবোঝাই ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানায়, ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে আন্দামান সাগরে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    সংস্থাগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেড়েই চলেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সুযোগের সীমাবদ্ধতা মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

    এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় অনেকে পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। বিদেশে কাজের সুযোগ ও ভালো আয়ের আশ্বাস দিয়ে দালালচক্র অসহায় মানুষকে জীবনঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে আন্দামান সাগর বারবার পরিণত হচ্ছে মানবিক বিপর্যয়ের মঞ্চে।

    যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকে এবং আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়। অর্থায়ন কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

    বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর সময়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায় ভবিষ্যতেও প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনায় আরও অনেক মানুষের জীবন ঝরে যেতে পারে।

  • বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    এবিএনএ,মোংলা:পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে মোংলায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার বর্ণাঢ্য আয়োজন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই লোকঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জমজমাট প্রদর্শনীর আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহু পুরোনো ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’, যা দেখতে মাঠজুড়ে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

    একসময় মোংলা ও আশপাশের এলাকায় জনপ্রিয় এই লাঠি খেলা আধুনিক বিনোদনের চাপে প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ সদস্যের একটি দল দৃষ্টিনন্দন কৌশল ও সমন্বিত প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। ঢোলের তালে তালে লাঠির ঝংকার, দ্রুত গতির কসরত এবং রণকৌশল দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে বাড়তি উত্তেজনা। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষই এই আয়োজনে মুগ্ধ হন।

    অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা জানান, বহু বছর পর এমন লোকজ আয়োজন দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। অনেকেই বলেন, এ ধরনের খেলাধুলা নিয়মিত হলে তরুণ সমাজ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, মাহবুবুর রহমান মানিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

    অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ধরে রাখতে দেশীয় খেলাধুলার বিকল্প নেই। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনা গেলে ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষ আনন্দ খুঁজে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হবে।

    লাঠি খেলার দলনেতা মো. আবুল বসার জানান, ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’ দলটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উদ্যোগেই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ভবিষ্যতে দলটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন নিয়মিত সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা।

    প্রধান অতিথি ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে লোকজ সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি সাহস, শারীরিক সক্ষমতা এবং গ্রামবাংলার বীরত্বের প্রতীক। তিনি অভিভূত হয়ে আয়োজক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    বৈশাখী এই আয়োজন শেষ হলেও দর্শকদের মনে রয়ে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের রঙিন স্মৃতি, আর সেই সঙ্গে প্রত্যাশা—এ ধরনের লোকজ উৎসব নিয়মিত হলে সংস্কৃতির শেকড় আরও দৃঢ় হবে।

  • মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ কার্যকর করতে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে প্রয়োজনে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বুরুজার্দি এ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অবরোধ নির্দেশ বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ। তার মতে, এমন অবরোধ কার্যকর করার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই।

    তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ফলে পরিস্থিতি বাস্তবে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতা উত্তেজনা বাড়াবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়—ওমান সাগর বা অন্য কোনো এলাকায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলে ইরান তা প্রতিহত করবে।

    ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সফল হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

  • মহাখালীতে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির গাড়ি—আমতলী থেকে সাতরাস্তা অচল

    মহাখালীতে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির গাড়ি—আমতলী থেকে সাতরাস্তা অচল

    এবিএনএ: রাজধানীর মহাখালী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমতলী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে কয়েক ঘণ্টা ধরে যানবাহন প্রায় স্থির হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসফেরত মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই যানজট শুরু হয়। রাত পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই মহাখালী আমতলী থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন।

    যাত্রীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেকেই বাসের ভেতরে আটকে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে যানজট মহাখালী ছাড়িয়ে গুলশানমুখী সড়ক এবং অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুরো এলাকায় যান চলাচল ধীরগতিতে নেমে আসে এবং দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

    চালকদের ভাষ্য, সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে যানজট বাড়তে শুরু করে এবং রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রায় একই ছিল। সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং ধীরগতির কারণে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

    ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালীর ওয়্যারলেস এলাকায় কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন। বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে ব্যস্ত সময়ে সড়ক বন্ধ থাকায় দ্রুতই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

    এছাড়া মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি তেলের পাম্পে বিভিন্ন পরিবহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় সড়কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অবরোধ ও জ্বালানি নিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইনের কারণে এই যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ‘মঈন বাহিনী’ নামে একটি চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে এই চক্রটি এলাকায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেছে। শুধু হাসপাতালই নয়, সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বাহিনী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা দখলের হুমকি দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক জানান, আগে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। পরে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশ ও প্রতিষ্ঠান দখলের ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    চক্রটির বিরুদ্ধে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মোড়ে তাদের সদস্যরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

    গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মঈনের সঙ্গে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সক্রিয়ভাবে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় র‍্যাব অভিযান চালিয়ে প্রথমে কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে। পরে পৃথক অভিযানে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবশেষে মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্তের ভিত্তিতে একাধিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঈন বাহিনীর চাঁদাবাজির শিকার কেউ থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শেরেবাংলা নগর থানায় মঈন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আরও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    এবিএনএ: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত অবস্থান নিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত হতে পারেনি।

    গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলে দুই দেশের মধ্যে। তবে সেই সংলাপও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়।

    সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধ শুরুর ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

    তবুও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে—এমন বার্তা দিয়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

  • ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হামে বাড়ছে আতঙ্ক—হাসপাতালে ভর্তি শত শত শিশু

    ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হামে বাড়ছে আতঙ্ক—হাসপাতালে ভর্তি শত শত শিশু

    এবিএনএ: দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি পাঁচ শিশু উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

    একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ শিশু। এদের মধ্যে ৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের হিসাব ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে মোট ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫৬ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

    এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ হাজার ২৪ জন শিশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৫৪ জনকে। পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮ হাজার ৩৬৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় যে দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, তারা ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের।

    সংক্রমণের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে শনাক্ত হয়েছে চারজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুইজন। অন্য বিভাগগুলোতে নতুন করে কোনো শনাক্ত রোগীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দ্রুত শনাক্ত, আইসোলেশন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।