শৈশবের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখা: মিসর-ভেনিস ভ্রমণে মেহজাবীনের হৃদয়ছোঁয়া অভিজ্ঞতা

এবিএনএ: ২০২৫ সালটা অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর জীবনে যেন এক নতুন যাত্রার সূচনা। কাজের ব্যস্ততার মাঝেই ব্যক্তিজীবনে এসেছে চমকপ্রদ কিছু মোড়। আদনান আল রাজীবের সঙ্গে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেছেন তিনি, আর সেই শুরুটা হয়েছে কিছু প্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে। ইউরোপ আর মিসরের সেই রোমাঞ্চকর ভ্রমণ তাঁকে দিয়েছে অমূল্য কিছু অভিজ্ঞতা, দিয়েছে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার তৃপ্তি।

শৈশবেই ইতিহাস বইয়ে মিসরের পিরামিড ও মমির ছবি দেখে যে মুগ্ধতা জন্মেছিল তাঁর মনে, তা আজও একই রকম উজ্জ্বল। আর সেই স্বপ্ন যখন সত্যি হলো কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, তখন মেহজাবীনের ভাষা হারিয়ে গিয়েছিল আবেগে। মিসরের জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করেই নিজেকে যেন এক প্রাচীন জাদুকরী জগতে আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। বহু প্রতীক্ষার পর বাস্তবে দেখা মমি যেন তাঁর হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। অনুমতি না থাকলেও সেই মুহূর্তের অনুভব গভীরভাবে গেঁথে আছে তাঁর মনে।

মেহজাবীন বলেন, “মিসরের প্রতিটি প্রাচীন নিদর্শন, সংস্কৃতি আর ইতিহাস আমাকে বিস্ময়ে বিমোহিত করেছে। এটা এমন এক দেশ, যেটার জাদু নিজের মধ্যে না নিলে বোঝানোই যায় না।”

মিসরের পর যাত্রা চলে ইউরোপের প্রেমময় শহর ভেনিসে। পানির ওপর নির্মিত সেই শহরটিকে মেহজাবীন তুলনা করেন প্রেমপত্রে লেখা এক কবিতার সঙ্গে। রাজীবের সঙ্গে সেই পথচলা, ঐতিহাসিক নগরের জলপথে হাঁটার অভিজ্ঞতা—সবকিছু যেন তাঁর হৃদয়ে এক আলাদা অনুভবের সৃষ্টি করেছে।

ভ্রমণের সময় নিজের লুক নিয়েও বেশ সচেতন ছিলেন মেহজাবীন। লাল রঙের ওয়ান শোল্ডার গাউনে, একদম হালকা মেকআপে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, “লাল শুধু রং নয়—এটা আমার কাছে ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস আর উৎসবের প্রতীক।” চুল এলোমেলো খোঁপায় বাঁধা, কানে ছোট্ট লাল ফুল, হালকা চোখের সাজ আর ন্যাচারাল লিপস্টিক—সব মিলিয়ে এক অনন্য ক্ল্যাসিক অথচ সহজ লুক।

মেহজাবীনের ভাষায়, “আমি চেয়েছিলাম নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকতে, আবার নিজের মধ্যে সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে। সেই মুহূর্তগুলো শুধু ভ্রমণ নয়, আমার আত্মার ভেতরকার এক যাত্রা ছিল।”

ভেনিসের প্রতিটি ছবি, প্রতিটি হাসি আর প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাঁর জীবনের গল্পের এক অংশ। শৈশবের স্বপ্নপূরণ আর ভালোবাসার শহরের হাতছানি—এই দুই মিলেই গড়ে উঠেছে মেহজাবীনের নতুন জীবনের রঙিন অধ্যায়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *