Tag: মেহজাবীন চৌধুরী

  • বাংলাদেশের অভিনেতাদের অভিনয়ে মুগ্ধ সোহিনী সরকার, বললেন—‘অনেকের কাজ আমরা চেটেপুটে উপভোগ করি’

    বাংলাদেশের অভিনেতাদের অভিনয়ে মুগ্ধ সোহিনী সরকার, বললেন—‘অনেকের কাজ আমরা চেটেপুটে উপভোগ করি’

    এবিএনএ: স্বাভাবিক ও সংবেদনশীল অভিনয়ের জন্য দুই বাংলাতেই জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। নিজের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের নাটক ও চলচ্চিত্রের প্রতিও রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের কাজ নিয়ে অকপট প্রশংসা করেছেন তিনি।

    সোহিনী জানান, বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের কাজ তিনি নিয়মিত অনুসরণ করেন। বিশেষভাবে তার ভালো লাগে আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীর জুটি। তার ভাষায়, এই দুজনের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি অসাধারণ, আর নিশোর অভিনয় বরাবরই তাকে মুগ্ধ করে।

    বাংলাদেশের অভিনয় জগতের কিংবদন্তি শিল্পীদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে সোহিনী বলেন, হুমায়ুন ফরিদী, সুবর্ণা মুস্তাফা, মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো অভিনয়শিল্পীরা বাংলা অভিনয়কে সমৃদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি জয়া আহসান ও অপি করিমের কাজও তার কাছে ভীষণ প্রিয়।

    তিনি আরও বলেন, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার দর্শক হিসেবে বাংলাদেশের অনেক শিল্পীর কাজ সত্যিই অসাধারণ লাগে। অনেক সময় তো এমনও হয়—ওই অভিনয় আমরা চেটেপুটে উপভোগ করি।

    বর্তমান সময়ের অভিনেত্রীদের মধ্যে তাসনিয়া ফারিণের কাজের প্রশংসা করেন সোহিনী। একই সঙ্গে নুসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয় দক্ষতাও তার নজর কেড়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে সিয়ামের বিপরীতে শবনম বুবলীর অভিনয় দেখেও তিনি প্রশংসা না করে পারেননি।

    ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান প্রসঙ্গে সোহিনীর মন্তব্য, শাকিব খান এমন একজন তারকা, যার বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজনই পড়ে না। পাশাপাশি চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও আনন্দের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, নিজের কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের কাজ যে নিয়মিত দেখেন এবং তা গভীর মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করেন—সোহিনীর বক্তব্যেই তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

  • ‘সাবা’ আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে: মেহজাবীন

    ‘সাবা’ আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে: মেহজাবীন

    এবিএনএ:  অনেক দিন ধরে দর্শক ও ভক্তরা অপেক্ষা করছিলেন মেহজাবীন চৌধুরীর বড় পর্দায় অভিষেকের জন্য। টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপন ও ওয়েব সিরিজে দাপটের পর এবার তিনি হাজির হয়েছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। সেই ছবির নাম ‘সাবা’। এই সিনেমাই তাঁকে শিখিয়েছে সাহস আর নতুন করে বাঁচার মানে।

    ‘সাবা’র কাহিনি এক তরুণীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। বাবাকে হারানোর পর অসুস্থ মাকে নিয়ে টিকে থাকার লড়াই, দুঃখ, আনন্দ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে সিনেমাটিতে। পরিচালক মাকসুদ হোসেন ও ত্রিলোরা খানের যৌথ চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবির অনুপ্রেরণা এসেছে বাস্তব জীবন থেকে। আর সেই চরিত্রকেই জীবন্ত করেছেন মেহজাবীন।

    মেহজাবীন জানান, চিত্রনাট্য পড়েই তাঁর ভেতরটা নাড়া দিয়েছিল। সহজ অথচ গভীর গল্প তাঁকে নতুন করে ভাবিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি আসলে ততটা সাহসী নই, কিন্তু সাবা আমাকে সাহসী হতে শিখিয়েছে।”

    সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ছবির ট্রেলার। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় তোলে। মা-মেয়ের সম্পর্ক, আবেগ আর সংগ্রামের বাস্তবচিত্র দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

    ছবিতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী এবং অঙ্কুর চরিত্রে আছেন মোস্তফা মনোয়ার। তাঁদের সঙ্গে মেহজাবীনের প্রথম কাজটিও দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে ‘সাবা’। টরন্টো থেকে শুরু করে বুসান, রেড সি, ওসাকা, গোথেনবার্গসহ একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। বেঙ্গালুরু উৎসবে এশিয়ান সিনেমা প্রতিযোগিতা বিভাগে পুরস্কারও জিতেছে।

    মেহজাবীন বলেন, “বিদেশি দর্শকরাও হাসির দৃশ্যে হেসেছে, কান্নার দৃশ্যে কেঁদেছে। তখন বুঝেছি, মানুষের আবেগ সারা পৃথিবীতেই এক।”

    অবশেষে পূজা উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। মেহজাবীনের বিশ্বাস, এটাই সঠিক সময় বাংলাদেশের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে পরিচিত করার। তাঁর মতে, গল্প আর প্রতিভা দিয়ে বাংলাদেশি সিনেমা বিশ্বজুড়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম।

    ‘সাবা’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি মা-সন্তানের সম্পর্কের আবেগঘন যাত্রা। আর মেহজাবীনের কাছে এটি জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যা তাঁকে করেছে আরও সাহসী, আরও মানবিক।

  • শৈশবের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখা: মিসর-ভেনিস ভ্রমণে মেহজাবীনের হৃদয়ছোঁয়া অভিজ্ঞতা

    শৈশবের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখা: মিসর-ভেনিস ভ্রমণে মেহজাবীনের হৃদয়ছোঁয়া অভিজ্ঞতা

    এবিএনএ: ২০২৫ সালটা অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর জীবনে যেন এক নতুন যাত্রার সূচনা। কাজের ব্যস্ততার মাঝেই ব্যক্তিজীবনে এসেছে চমকপ্রদ কিছু মোড়। আদনান আল রাজীবের সঙ্গে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেছেন তিনি, আর সেই শুরুটা হয়েছে কিছু প্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে। ইউরোপ আর মিসরের সেই রোমাঞ্চকর ভ্রমণ তাঁকে দিয়েছে অমূল্য কিছু অভিজ্ঞতা, দিয়েছে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার তৃপ্তি।

    শৈশবেই ইতিহাস বইয়ে মিসরের পিরামিড ও মমির ছবি দেখে যে মুগ্ধতা জন্মেছিল তাঁর মনে, তা আজও একই রকম উজ্জ্বল। আর সেই স্বপ্ন যখন সত্যি হলো কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, তখন মেহজাবীনের ভাষা হারিয়ে গিয়েছিল আবেগে। মিসরের জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করেই নিজেকে যেন এক প্রাচীন জাদুকরী জগতে আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। বহু প্রতীক্ষার পর বাস্তবে দেখা মমি যেন তাঁর হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। অনুমতি না থাকলেও সেই মুহূর্তের অনুভব গভীরভাবে গেঁথে আছে তাঁর মনে।

    মেহজাবীন বলেন, “মিসরের প্রতিটি প্রাচীন নিদর্শন, সংস্কৃতি আর ইতিহাস আমাকে বিস্ময়ে বিমোহিত করেছে। এটা এমন এক দেশ, যেটার জাদু নিজের মধ্যে না নিলে বোঝানোই যায় না।”

    মিসরের পর যাত্রা চলে ইউরোপের প্রেমময় শহর ভেনিসে। পানির ওপর নির্মিত সেই শহরটিকে মেহজাবীন তুলনা করেন প্রেমপত্রে লেখা এক কবিতার সঙ্গে। রাজীবের সঙ্গে সেই পথচলা, ঐতিহাসিক নগরের জলপথে হাঁটার অভিজ্ঞতা—সবকিছু যেন তাঁর হৃদয়ে এক আলাদা অনুভবের সৃষ্টি করেছে।

    ভ্রমণের সময় নিজের লুক নিয়েও বেশ সচেতন ছিলেন মেহজাবীন। লাল রঙের ওয়ান শোল্ডার গাউনে, একদম হালকা মেকআপে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, “লাল শুধু রং নয়—এটা আমার কাছে ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস আর উৎসবের প্রতীক।” চুল এলোমেলো খোঁপায় বাঁধা, কানে ছোট্ট লাল ফুল, হালকা চোখের সাজ আর ন্যাচারাল লিপস্টিক—সব মিলিয়ে এক অনন্য ক্ল্যাসিক অথচ সহজ লুক।

    মেহজাবীনের ভাষায়, “আমি চেয়েছিলাম নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকতে, আবার নিজের মধ্যে সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে। সেই মুহূর্তগুলো শুধু ভ্রমণ নয়, আমার আত্মার ভেতরকার এক যাত্রা ছিল।”

    ভেনিসের প্রতিটি ছবি, প্রতিটি হাসি আর প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাঁর জীবনের গল্পের এক অংশ। শৈশবের স্বপ্নপূরণ আর ভালোবাসার শহরের হাতছানি—এই দুই মিলেই গড়ে উঠেছে মেহজাবীনের নতুন জীবনের রঙিন অধ্যায়।

  • আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন সাফল্য, এবার রেইনড্যান্সে আলো ছড়াবে মেহজাবীনের ‘সাবা’!

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন সাফল্য, এবার রেইনড্যান্সে আলো ছড়াবে মেহজাবীনের ‘সাবা’!

    এবিএনএ: 

     মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত এই চলচ্চিত্র এবার জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ৩৩তম রেইনড্যান্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এই উপলক্ষে মেহজাবীন পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন—যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন।

    এর আগে ‘সাবা’ সিনেমাটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে। এরপর সিনেমাটি বুসান, রেড সি, ওসাকা, গোথেনবার্গ, ডালাসসহ বহু সম্মানজনক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়।

    রেইনড্যান্স উৎসবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি Narrative Feature বিভাগে প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি পরিচালক মাকসুদ হোসাইন প্রথম পরিচালনার জন্য মনোনীত হয়েছেন ‘ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য।

    এই সম্মানজনক স্বীকৃতিকে নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় মেহজাবীন বলেন,

    “এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন অভিনেত্রীর জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় সম্মান। আমি সত্যিই গর্বিত যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিভাবান শিল্পীদের পাশে আমার নাম উঠে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন,

    “বাংলাদেশের গল্পগুলো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে। কান উৎসবেও যেমন বাংলাদেশি সিনেমার অংশগ্রহণ হয়েছে, তেমনি ‘সাবা’ও সেই ধারারই একটি প্রতিনিধি। আমাদের শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা চলচ্চিত্র আরও এগিয়ে যাবে।”

    ৯০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই সিনেমাটিতে মেহজাবীনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী, মোস্তফা মনোয়ারসহ আরও অনেকে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে প্রশংসিত হলেও, সিনেমাটি এখনো বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি।