শিশুকে রোজার মানে কীভাবে বোঝাবেন? সহজ ভাষায় বললেই খুলে যাবে রমজানের রহস্য
রমজান এলে শিশুদের প্রশ্নের জবাব দিন ভালোবাসা ও যুক্তিতে—কেন রোজা, কীভাবে রোজা আল্লাহকে খুশি করে


এবিএনএ: রমজান এলেই শিশুদের কৌতূহল বাড়ে। বিশেষ করে যে বয়সে তারা প্রথম রোজা রাখা শুরু করে, তখন সবচেয়ে বেশি শোনা যায়—আমরা কেন রোজা রাখি? অভিভাবকদের উচিত এই প্রশ্নের জবাব ভয় বা কঠোরতা দিয়ে নয়, বরং সহজ ভাষা ও ভালোবাসা দিয়ে দেওয়া।
শিশুকে শুরুতেই বোঝানো যেতে পারে, আল্লাহকে খুশি করাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। রমজানের রোজা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি সুন্দর পথ। কয়েক ঘণ্টা না খেয়ে থাকা কষ্টকর মনে হলেও এটি আসলে আল্লাহর জন্য ছোট্ট ত্যাগ—আর এই ত্যাগেই রয়েছে বড় পুরস্কার।
আল্লাহর নির্দেশ মানাই রোজার প্রথম শিক্ষা
রোজার মূল ও সহজ ব্যাখ্যা হলো—আল্লাহ আমাদের রোজা রাখতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে কোরআন স্পষ্টভাবে রোজার কথা এসেছে। সূরা আল-বাকারা-এর ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রোজা ফরজ করা হয়েছে যাতে মানুষ তাকওয়া অর্জন করতে পারে। আবার ১৮৫ নম্বর আয়াতে রমজানের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। শিশুদের এভাবে বোঝালে তারা বুঝতে পারে—রোজা কোনো চাপ নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশ পালনের আনন্দ।
দরিদ্রদের কষ্ট বোঝা—মূল উদ্দেশ্য নয়
অনেকে বলেন, রোজা রাখলে দরিদ্র মানুষের কষ্ট বোঝা যায়। শিশুদের কাছে এটি বোঝানো সহজ হলেও এটিই রোজার প্রধান উদ্দেশ্য নয়। কয়েক ঘণ্টা না খেয়ে থাকা দিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের বাস্তব কষ্ট পুরোপুরি বোঝা যায় না। বরং রমজানে দান-খয়রাতে উৎসাহ দেওয়া হয়, সহমর্মিতা শেখানো হয়—এগুলো রোজার শিক্ষার অংশ।
তাকওয়া অর্জনই রোজার আসল লক্ষ্য
সহিহ বুখারি-তে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, ঈমান ও আল্লাহর প্রতিদানের আশায় যে ব্যক্তি রোজা রাখে, তার আগের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। রমজানে শয়তানের প্রভাব কমে যায় বলে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। তাই শিশুদের বোঝাতে হবে—রোজার লক্ষ্য কেবল না খাওয়া নয়; নিজের মন-চিন্তা ঠিক করা, ভালো কাজ বাড়ানো এবং আল্লাহর কাছে আরও কাছাকাছি যাওয়া।
শেষ কথা—শিশুর প্রশ্ন যতই কঠিন হোক, উত্তর দেওয়া জরুরি। ধৈর্য ধরে বোঝাতে পারলে রোজা তাদের কাছে শুধু নিয়ম নয়, বরং ভালোবাসা, বিশ্বাস আর আল্লাহকে খুশি করার আনন্দের অংশ হয়ে উঠবে।




