এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়া-১ ও বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি রাজধানীর কূটনৈতিক ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান-বনানী অধ্যুষিত ঢাকা-১৭ আসনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে একাধিক সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো মিডিয়া কমিটি, যেখানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৫৯ জন সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদারকে আহ্বায়ক এবং জাহিদুল ইসলাম রনীকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য প্রচার, গণমাধ্যম সমন্বয় এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস সালাম। দলীয় সূত্র জানায়, ডান, বাম ও মধ্যপন্থি মতাদর্শের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণভাবেই এই মিডিয়া কমিটি গড়া হয়েছে।
তবে কমিটির যাত্রা শুরুর দিকেই আস্থার সংকটের ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় কয়েকজন সদস্য পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমনকি বিএনপির নির্বাচনী কাজে গঠিত কিছু কমিটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সংশ্লিষ্টদের অনুপ্রবেশের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মিডিয়া কমিটির প্রথম সভায় এসব বক্তব্য ঘিরে সভাকক্ষে চাপা কানাঘোষা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে পাঁচ ডজন সাংবাদিক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির মিডিয়া কমিটি নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও, আস্থার প্রশ্নে শুরুতেই যে জটিলতার আভাস মিলেছে—তা কত দ্রুত সামাল দেওয়া যায়, সেটিই এখন দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত টিমে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন- মাহমুদুল হাসান (এনটিভি অনলাইন), ইমরুল হাসান জনি (এনটিভি), উমর ফারুক (যায়যায়দিন), হাসান মোল্লা (বাংলাদেশ বুলেটিন), হাসান শিপলু (৭১ টিভি), মঈন উদ্দিন খান (নয়া দিগন্ত), আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর (ইউএনবি), খোন্দকার কাওসার (সাবেক ভোরের কাগজ), রাশেদুল হক (বাংলাবাজার পত্রিকা), মোস্তাফিজ বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শফিকুল ইসলাম শফিক শাফি (দেশ রূপান্তর), আতিকুর রহমান রুমন (দিনকাল), এরফানুল হক নাহিদ (নবযুগ), রফিকুল ইসলাম আজাদ (সাবেক ডেইলি ইন্ডিপেনডেন্ট), শরিফুল ইসলাম (জনকণ্ঠ), মোশাররফ বাবলু (টাইমস অব বাংলাদেশ), বাছির জামাল (আমার দেশ), মঈনুল আহসান (এটিএন বাংলা), ইউসুফ আলী (মাইটিভি),রাজ কুমার নন্দি-(কালবেলা), শফিউল আলম দোলন (বাংলাদেশ প্রতিদিন), জাহানারা পারভীন (ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি), কামরুল হাসান দর্পন (ইনকিলাব), গাউসুল আজম বিপু (জিটিভি), কামরুল হাসান (সমকাল), তরিকুল ইসলাম (যুগান্তর), আহমেদ সালেহীন (সময় টিভি), আল-আমিন- (ডেইলি সান), কাজী সুমন (মানবজমিন),নজরুল ইসলাম (আমাদের সময়), শাহনেওয়াজ বাবুল (চ্যানেল-২৪), মাহমুদুল হাসান (গ্রীনটিভি), মোরসালিন নোমানী (বাসস), রোমানা (বাসস), মারুফা রহমান (নিউজ২৪) মেহেদী আজাদ মাসুম (বৈশাখী টিভি), আক্তারুজ্জামান রকি (চ্যানেল-৯), বিশাল (আরটিভি), সজিব (দিনকাল), লাবনী সিদ্দিক (দিনকাল), ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার (জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন), মাহফুজ কবির মুক্তা, আব্দুল আহাদ (এসএটিভি), এনামুল হক বাবুল, জয়ন খান, কালাম ফয়েজী, আবুল কাশেম প্রমুখ।

Leave a Reply