Category: শিক্ষা

  • প্রাইমারিতে নিয়োগ পাচ্ছেন প্যানেলভুক্ত ২৪ হাজার প্রার্থী

    এ বি এন এ : অবশেষে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য প্যানেলভুক্ত প্রায় ২৪ হাজার প্রার্থীর অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।

    বুধবার এসব প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    ওই আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তা জরুরি ভিত্তিতে ফ্যাক্স যোগে বুধবারই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

    তিনি বলেন, ‘প্যানেলভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার প্রার্থী আছেন। আমাদের সিদ্ধান্ত সবাইকেই নিয়োগ দেয়া। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে আমরা জানতে পেরেছে, এখন সর্বোচ্চ ২৪ হাজার প্রার্থী আছেন। বাকিরা কেউ অন্য চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। আবার কেউ মারা গেছেন।’ ডিপিই’র একজন পরিচালক মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা এখন এই আদেশ অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা পাঠাবেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্যানেলভুক্ত এসব প্রার্থী যদিও রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাবেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। যার লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয় ৪২ হাজার ৬১১ জন।

    তিনি বলেন উত্তীর্ণদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়। কথা ছিল এ ইপ্যানেল থেকে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ১৪ হাজার জনকে নিয়োগও দেয় সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এতে প্যানেল থেকে নিয়োগ দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের অনেকে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা করেন। ওইসব মামলার একটি রায় অনুযায়ী নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শফিকুল ইসলামসহ ১০ জন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৮ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। এতে রিট আবেদনকারী ১০ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দেন।

    ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করলে তা খারিজ করেন আপিল বিভাগ। পরে অবশ্য মন্ত্রণালয় এই ১০ জনকে নিয়োগের পদক্ষেপ নেয়। জানা গেছে, এই ১০ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি নয়জনের মধ্যে সাতজন যোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, এই ১০ জনের নিয়োগের ঘটনার পর তারা চিন্ত করেছেন, একই ইস্যু হওয়ায় প্যানেলভুক্ত বাকিদেরও নিয়োগ দিতে হবে। ১০ জনের নিয়োগের ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংয়ের দেয়া মতামতেও এমন নির্দেশনা আছে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সারা দেশ থেকে দু’সপ্তাহ আগে শূন্যপদের সংখ্যা সংগ্রহ করেন। এরপরই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বুধবার নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।

  • ‘শিক্ষকরা নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন সমাজ তাদের গ্রহণ করে’

    ‘শিক্ষকরা নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন সমাজ তাদের গ্রহণ করে’

    এ বি এন এ : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘শিক্ষকদের নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন সমাজ তাদের গ্রহণ করে।’ তিনি বলেন, চরিত্র, জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় তাদেরকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে রোল মডেল হতে হবে। তখন সমাজই তাদের সুযোগ, সুবিধার কথা বলবে।
    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পরিচালনাকারী কলেজসমূহের অধ্যক্ষদের সঙ্গে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মত বিনিময় সভায় তিনি আজ এ কথা বলেন।
    বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। এ দু’বিভাগের সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরেন।
    শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে কর্মী বা যোগালি উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনারা, শিক্ষকরাই হলেন শিক্ষার মূল নিয়ামক শক্তি। এর মানোন্নয়নে কি করণীয়, বিশেষ করে শিক্ষাদান পদ্ধতি, সাবজেক্ট বাছাই ইত্যাদিতে আপনাদের মতামতকেই প্রাধান্য দেয়া হবে।’
    তবে আমাদের দেশ দরিদ্র এবং শিক্ষায় বাজেটও সীমিত, শিক্ষকদের এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে আপনাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বিষয় খুলে রাখবেন না। যেসব বিষয়ের ডিমান্ড আছে, শুধু সেসব বিষয়ই চালু রাখবেন।’
    শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা যাবে না, এমন হুশিয়ারি উচ্চরণ করে নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। ক্লাসেই সম্পূর্ণ সিলেবাস পড়াতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোন শিক্ষার্থী যদি স্বেচ্ছায় পড়তে চায়, তাহলে সীমিত আকারে তাদের কলেজ ক্যাম্পাসে পড়াতে হবে, বাইরে নয়। এছাড়া প্রাক্টিক্যাল ক্লাস না করিয়ে, পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেয়াও যাবে না।’ এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ওই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
  • একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ

    একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ

    এ বি এন এ : সর্বোচ্চ ১০টি কলেজের জন্য অনলাইনে মাত্র একবারই আবেদনের সুযোগ রেখে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

    দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে ২৬ মে থেকে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর এবং ১০ জুলাই ক্লাশ শুরুর কথা আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

    সে অনুযায়ী ভর্তির বিস্তারিত বিধান তুলে ধরে বৃহস্পতিবার নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যাতে আগের বছরের মতো মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন।

    মাধ্যমিকে এবারের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গত বছর ও তার আগের বছর (২০১৪ ও ২০১৫) উত্তীর্ণরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করেও আবেদন করা যাবে।

    ২৬ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অনলাইন ও টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে আবেদন করা যাবে। যারা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন তাদেরকেও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

    ১৬ জুন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। বিলম্ব ফি ছাড়া ১৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে।

    আর বিলম্ব ফি দিয়ে ১০ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একাদশের ক্লাস শুরু হবে ১০ জুলাই।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইনে ১৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে। গত বছর অনলাইনে একাধিকবার আবেদনের সুযোগ থাকলেও এবার একবারই আবেদন করা যাবে।

    তবে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা ফি দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

    অনলাইনে কীভাবে আবেদন করা যাবে সে বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড নির্দেশনা জারি করবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কলেজ চাইলে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে। স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে।

    বিভাগীয় সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৮৯ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।

    “অবশিষ্ট ১১ শতাংশ আসনের মধ্যে ৩ শতাংশ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সদরের বাইরের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।”

    এছাড়া এবার থেকে প্রবাসীদের সন্তান এবং বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের জন্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যে কোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হতে পারবে। ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে।

    জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

    বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের মেধাক্রম সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে।

    আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে।

    এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট গ্রেড পয়েন্ট একই হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে।

    বিদেশের প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের কোনো কলেজে ভর্তি হতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদের মান নির্ধারণ করে নিতে হবে।

    ভর্তি ফি

    মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশনচার্জসহ সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি ফি নেওয়া যাবে না।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিও বর্হিভূত শিক্ষকদের বেতনভাতা দেওয়ার জন্য ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ বাংলা মাধ্যমে নয় হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

    নীতিমালা অনুযায়ী, উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না।

    দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফি যতদূর সম্ভব মওকুফ করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফি’র বেশি নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ফি নিলে পাঠদানের অনুমতি, অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলসহ এমপিও বাতিল করে ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শিশুদের শাস্তি দেবো না- নিয়োগকালেই অঙ্গীকারনামা

    শিশুদের শাস্তি দেবো না- নিয়োগকালেই অঙ্গীকারনামা

    এবিএনএ : বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকতে অঙ্গীকার করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষকদের। নিয়োগকালেই শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন অঙ্গীকারনামা নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধে জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক স্লোগান সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে। এটি নিশ্চিত করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বিষয়টি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তি প্রদানকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ অপরাপর যে কোন কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরির্দশনকালীন কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক শাস্তি দেয়া হয় কি না, সে বিষয়টি যাচাই বাচাই করে দেখবেন এবং পরিদর্শন প্রতিবেদনে সুপারিশ করবেন।

    শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচনের মানদণ্ড ঠিক করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি দেয়া হয় না, এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের সময় তাদের নিয়োগপত্রে বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান/নির্যাতন করা যাবে না, মর্মে শর্ত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এ মর্মে নিয়োগকালে শিক্ষকদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিতে হবে।

    সকল জেলা ও উপজেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা/উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতি তিন মাস পর পর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    বিভাগীয় উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভাসহ প্রতিটি উপজেলায় প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় শারীরিক শান্তি দেয়া হচ্ছে কিনা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না, তা আলোচনা করতে হবে।

    উল্লোখ্য, ২০১০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এসব তারই সংশোধিত রূপ।

  • বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ১৩ মে

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ১৩ মে

    এবিএনএ : ত্রয়োদশতম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ১৩ মে অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকালে কলেজ পর্যায়ের এবং বিকালে স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা নেয়া হবে। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সংস্থাটি ৬ মে এ দুটি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্কুল-২ ও স্কুল পর্যায়ের প্রিলিমিনারি টেস্ট ১৩ মে বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আর কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি টেস্ট একইদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নেয়া হবে। এবার ২০টি জেলায় এ প্রিলিমিনারি টেস্ট নেয়া হবে। উত্তীর্ণদের ১২ ও ১৩ আগস্ট আটটি বিভাগীয় শহরে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে।

  • ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রণালয়ে তলব

    ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রণালয়ে তলব

    এবিএনএ : ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনায় রাজধানীর ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সভাপতিকে তলব করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২৪ এপ্রিল বিকাল ৩টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তাদের উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চলতি বছর প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে ওইদিন মন্ত্রণালয়ে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এসময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

    অভিযুক্ত ১২ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, টিএন্ডটি উচ্চবিদ্যালয়, ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইন্সটিটিউট, খিলগাঁও মডেল হাইস্কুল, ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুল, মগবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল, বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাড্ডা আলাতুন্নেছা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শেরেবাংলা রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

    মাউশির পরিচালক অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাড়তি অর্থ নেয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ও ব্যয়ের বিবরণী স্থান পেয়েছে।
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২৪ এপ্রিলের বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাড়তি ফি নেয়ার কৈফিয়ত চাওয়া হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ১৭ জানুয়ারির নির্দেশনা কে মান্য করেছে আর কে করেনি, তার প্রমাণ চাওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য থাকলে অভিভাবকরা মাউশি বা ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমে বা প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে ই-মেইলেও জানাতে পারেন বলে ওই কর্মকর্তারা জানান।

  • চলতি মাসেই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ

    চলতি মাসেই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ

    এবিএনএ : পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর এ মাসের শেষ দিক থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নতুন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরোটাই সম্পন্ন হচ্ছে অনলাইনে।

    শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে এনটিআরসিএ। এতে সহযোগিতা করবে টেলিটক।
    নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, স্কুলগুলোকে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করতে হবে না। এনটিআরসিকে নিজেদের চাহিদার কথা জানালেই শিক্ষক চূড়ান্ত করবে এনটিআরসি।

    এই প্রক্রিয়া চালু করতে এরই মধ্যে টেলিটক ও এনটিআরসিএ-এর মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এসময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম উপস্থিতি ছিলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এপ্রিল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অনলাইনে এনটিআরসিএ বরাবর আবেদন করবেন।

    আবেদনের জন্য প্রার্থীদের টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে ১৮০ টাকা ফি দিতে হবে বলে জানা গেছে।

  • আজ থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা

    আজ থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা

    এবিএনএ : সোয়া ১২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ গ্রহনে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। রোববার সকাল ১০টা থেকে এ পরীক্ষা শুরু হয়।

    আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে এবার ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে। যা গত বছরের তুলনায় এবার এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৪ জন বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন পরীক্ষায়।

    এবার মোট অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন ও ছাত্রী ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৪ জন।
    আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে ১০ লাখ ২০ হাজার ১০৯ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯১ হাজার ৫৯১ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এক লাখ ২ হাজার ১৩২ জন ও ডিআইবিএসে (ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ) ৪ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।

    এ বছর ১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০১২ সালে প্রথম শুধু বাংলা প্রথম পত্রের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। গত বছর ১৩টি বিষয়ের ২৫টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর নতুন ছয়টি বিষয়ের ১১টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে।

  • নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মোহনকে স্মরণ

    নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মোহনকে স্মরণ

    ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী প্রয়াত মাহবুবুল হায়দার মোহনকে স্মরণ করা হয়েছে।

    রোববার (২৭ মার্চ) নিউইর্য়কের প্রবাসী বাংলাদেশি সংস্কৃতি কর্মীদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    গত ২৩ মার্চ মাহবুবুল হায়দার মোহনের চতুর্থ প্রয়ান দিবস উপলক্ষে স্থানীয় মিলনায়তনে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রতিবছর এখন থেকে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মাহবুবুল হায়দার মোহনের প্রয়াণ দিবসে ‘মোহন মেলা’ আয়োজনের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলায় প্রচারিত সবচেয়ে পুরাতন ও খ্যাতনামা বাংলা টিভি নিউইয়র্ক’র সিইও মীর শিবলী।

    .

    এ সময় উপস্থিত প্রবাসী বিশিষ্টজনেরা ‘মোহন মেলা’ আয়োজনের বিষয়টিকে তাৎক্ষণিক সমর্থন দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার কথাও ব্যক্ত করেন।

    মেলার পাশাপাশি জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মোহনের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা এবং গণসংগীত উৎসব আয়োজনের প্রস্তাব আনা হয়।

    শিল্পী মোহনের স্মৃতিতে বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের কথাও ঘোষণা করা হয়।

  • সন্তান হত্যা জাতির জন্য অভিশাপ

    সন্তান হত্যা জাতির জন্য অভিশাপ

    সন্তান মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরম ভালোবাসার ধন। সন্তানের মুখের হাসি স্বপ্ন দেখায় নতুন জীবনের, তার গায়ের গন্ধ জীবনে আনে কর্মোদ্যমতা। অন্যদিকে সন্তান পৃথিবীর সব নিরাশার মাঝে আশ্রয় খোঁজে পিতা-মাতার বুকে। তাদের বুকে মাথাগুজে নির্ভার হয় সে। ভালোবাসা ও মমতার শক্ত এ ভিতের ওপর টিকে আছে মানবজাতি, দাঁড়িয়ে আছে মানবসভ্যতা। মমতার গভীর এ মেলবন্ধন না থাকলে অন্যান্য জীবগোষ্ঠির মতো হয়তো মনুষ্য জাতি এতোদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতো।

    আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে একজন মমতাময়ী মা ও তার কাছে সন্তানের আশ্রয় প্রদানের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন- ‘এবং মুসার মায়ের অন্তর অস্থির হয়ে উঠলো। যদি তার অন্তর সুদৃঢ় না করতাম তবে সে অস্থিরতা প্রকাশের উপক্রম হয়েছিলো। আর আমি তা করেছিলাম যেনো সে মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত থাকে। … অতঃপর আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না করে। এবং জানতে পারে আল্লাহর অঙ্গীকার সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ -সূরা কাসাস : ১০ ও ১৩

    কিন্তু দুর্ভাগ্য স্নেহ ও মমতার পবিত্র বন্ধনে যেনো ছেদ পড়তে শুরু করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন মায়ের কাছেও সন্তানরা হয়ে উঠছে অনিরাপদ। মায়ের আঁচলে আশ্রয় নেওয়া সন্তানের নির্মম মৃত্যু হচ্ছে মায়ের হাতেই। কখনও কখনও সন্তানের হাতেও খুন হচ্ছে প্রিয় মা-বাবা। নিকট অতীতকালে দেশবাসী এমন কিছু খবর দেখেছে। যার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ভ্রুণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের কথা না হয় বাদই দিলাম।

    ক্রমবর্ধমান এ অপরাধ প্রবণতা সমাজের বিবেকবান শ্রেণীকে ভাবিয়ে তুলেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় পিতা-মাতার কাছে যদি সন্তানের জীবন অনিরাপদ হয়ে যায়, তবে শিশুরা যাবে কোথায়? আর কেনোইবা এই নৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হলো আমাদের সমাজে?

    সমাজতাত্ত্বিকদের অভিমত হলো, বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থার ভোগবাদী মানসিকতা, তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট নৈতিক স্খলন, একক পরিবার ব্যবস্থার চাপ ও বিষন্নতা, সুশাসনের অভাব ও ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা, পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের অনুপস্থিতি; সর্বোপরি খোদাভীতি ও ধর্মীয় জীবন থেকে বিমুখতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।