Category: শিক্ষা

  • রাবিতে পোষ্য কোটায় উত্তেজনা: ধাক্কাধাক্কি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর অবরুদ্ধ

    রাবিতে পোষ্য কোটায় উত্তেজনা: ধাক্কাধাক্কি, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর অবরুদ্ধ

    এবিএনএ:  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে পোষ্য কোটা ইস্যুতে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জুবেরী ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খান এবং প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপ-উপাচার্যকে দ্বিতীয় তলায় ঘিরে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও। ঘটনাস্থলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার এবং শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভসহ কয়েকজন আহত হন।

    এর আগে দুপুরে উপ-উপাচার্যদের বাসভবনে তালা ঝোলান শিক্ষার্থীরা। ফলে বাসভবনে প্রবেশ করতে না পেরে উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর জুবেরী ভবনের দিকে আসেন। তাদের লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে এক শিক্ষক এবং কর্মকর্তা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকে দিলে তিনি হেঁটে বাসায় যেতে চান। পরে আলোচনার জন্য জুবেরী ভবনে আসার সময় শিক্ষার্থীরা সামনে দাঁড়ালে ধাক্কাধাক্কি হয়। ঠিক কে প্রথম শুরু করেছে, তা নিশ্চিত নই।”

    অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    ক্যাম্পাসজুড়ে এ ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক ও প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছেন।

  • স্কুল-কলেজের সভাপতির পদে নতুন নিয়ম: শুধু সরকারি কর্মকর্তা হতে পারবেন

    স্কুল-কলেজের সভাপতির পদে নতুন নিয়ম: শুধু সরকারি কর্মকর্তা হতে পারবেন

    এবিএনএ: বেসরকারি স্কুল ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবী বা নবম গ্রেড এবং এর ওপরে থাকা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই পদে থাকতে পারবেন।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বাতিল হয়ে যাবে।

    এর আগে গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৮ নভেম্বর সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

    নতুন প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, সভাপতির পদে থাকতে হলে প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। নবম গ্রেডের নিচে নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা, পঞ্চম গ্রেড বা তার ওপরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক খন্দোকার এহসানুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, “সভাপতি নির্বাচনের নিয়মে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্যই এ পদ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অন্য পদগুলো আগের নিয়মেই থাকবে।”

  • ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন: ভিপি জিতু, জিএস মাজহারসহ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল

    ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন: ভিপি জিতু, জিএস মাজহারসহ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল

    এবিএনএ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে আব্দুর রশিদ জিতু। আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী’ প্যানেলের শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম।

    শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। ভিপি প্রার্থী জিতু পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট, আর জিএস প্রার্থী মাজহার পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩০ ভোট।

    এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ফেরদৌস আল হাসান (২,৩৯৮ ভোট) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে দর্শন বিভাগের আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা (৩,৪০২ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন।

    অন্য বিজয়ীরা হলেন—

    • শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: আবু উবায়দা উসামা (ফার্মেসি, ২৪২৮ ভোট)

    • পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক: সাফায়েত মীর (গণিত, ২৮১১ ভোট)

    • সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি (ইংরেজি, ১৯০৭ ভোট)

    • সাংস্কৃতিক সম্পাদক: শেখ জিসান আহমেদ (২০১৮ ভোট)

    • সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক: রায়হান উদ্দিন (উদ্ভিদবিজ্ঞান, ১৯৮৬ ভোট)

    • নাট্য সম্পাদক: রুহুল ইসলাম (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ১৯২৯ ভোট)

    • ক্রীড়া সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান কিরণ (বাংলা বিভাগ, ৫৭৭৮ ভোট)

    • সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (ছাত্র): মাহাদী হাসান (মাইক্রোবায়োলজি, ২১০৫ ভোট)

    • সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (ছাত্রী): ফারহানা লুবনা (গণিত, ১৯৭৬ ভোট)

    • আইটি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক: রাশেদুল ইমন লিখন (ফার্মেসি)

    • সমাজসেবা সম্পাদক: আহসান লাবিব (১৬৯০ ভোট)

    • সহ-সমাজসেবা সম্পাদক (ছাত্র): তৌহিদ হাসান (মাইক্রোবায়োলজি, ২৪৪২ ভোট)

    • সহ-সমাজসেবা সম্পাদক (ছাত্রী): নিগার সুলতানা (ফার্মেসি, ২১৬৬ ভোট)

    • স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক: হুসনী মোবারক (প্রাণিবিদ্যা, ২৬৫৩ ভোট)

    • পরিবহন সম্পাদক: তানভীর রহমান (পরিবেশ বিজ্ঞান, ২৫৫৯ ভোট)

    কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন— ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (২৪৭৫), নাবিলা বিনতে হারুন (২৭৫০), নুসরাত জাহান ইমা (৩০১৪), হাফেজ তরিকুল ইসলাম (১৭৪৬), আবু তালহা (১৮৫৪) ও মোহাম্মদ আলী চিশতী (২৪১৪)।

    নির্বাচন প্রক্রিয়া ও উপস্থিতি

    এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১,৭৪৩ জন। এর মধ্যে ৮,০০৩ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ। ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া হল সংসদে লড়েছেন আরও ৪৪৫ প্রার্থী।

    ভোটগ্রহণের আগের রাতে কিছু রাজনৈতিক সংগঠন ভোট গণনার মেশিন সরবরাহকারীকে নিয়ে আপত্তি তোলে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটগ্রহণ শেষে দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে চলে ভোট গণনা। তবে বাম সংগঠন ও ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেল নানা অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করে।

    বর্জন ও বিতর্কের মধ্যেও অবশেষে প্রকাশিত হলো বহু প্রতীক্ষিত জাকসু নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল।

  • জাকসু নির্বাচনে হল সংসদের ফল: ভিপি ও জিএস পদে যারা নির্বাচিত হলেন

    জাকসু নির্বাচনে হল সংসদের ফল: ভিপি ও জিএস পদে যারা নির্বাচিত হলেন

    এবিএনএ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনের হল সংসদে ভিপি ও জিএস পদে নির্বাচিতদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়।

    আল বেরুনী হলে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন রিফাত আহমেদ শাকিল এবং জিএস পদে জয় পেয়েছেন মুনতাসির বিল্লাহ খান।

    নবাব জয়জুন্নেসা হলে ভিপি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বুবলি আহমেদ (মার্কেটিং), আর জিএস পদে জয়ী হয়েছেন সুমাইয়া খানম।

    জাহানারা ইমাম হলে ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন গণিত বিভাগের মাহমুদা খাতুন এবং জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন পাবলিক হেলথ বিভাগের রিজওয়ানা বুশরা।

    ১০ নম্বর ছাত্র হল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল) থেকে ভিপি পদে জয় পেয়েছেন আসিফ মিয়া (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) এবং জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মেহেদী হাসান।

    ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ভিপি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শারমিন রহমান এবং জিএস পদে জয়ী হয়েছেন মেহনাজ মোহনা।

    শহীদ সালাম-বরকত হলে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন রসায়ন বিভাগের মারুফ হোসেন এবং জিএস পদে জয়ী হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের মাসুদ রানা।

    সুফিয়া কামাল হলে ভিপি পদে জয় পেয়েছেন জান্নাতুল নাইম জেরিন এবং জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন রুবিনা জাহান তিথি।

    ফল ঘোষণার পর ক্যাম্পাসজুড়ে নির্বাচিতদের সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে।

  • অনিয়মের অভিযোগে জাকসু নির্বাচন কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ

    অনিয়মের অভিযোগে জাকসু নির্বাচন কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ

    এবিএনএ:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কমিশনার অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন।

    শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার জানান, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো পরিবেশ ছিল না। এছাড়া, পদত্যাগ না করতে তাকে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হলেও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান থেকে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এদিকে জাকসুর হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হলেও কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা চলমান রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ভোট গণনার গতি বাড়াতে পোলিং অফিসারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই ফল ঘোষণা করা হবে।

    জানা গেছে, এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ এবং জিএস পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

    ছাত্রীদের ১০টি হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়া ৬৭টি পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে মাত্র ২৪টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে এর মধ্যে ২টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচিত হন।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল ভোটের অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে।

  • জাকসু নির্বাচন: হল সংসদের ভোট শেষ, কেন্দ্রীয় সংসদের গণনা চলছে

    জাকসু নির্বাচন: হল সংসদের ভোট শেষ, কেন্দ্রীয় সংসদের গণনা চলছে

    এবিএনএ:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের হল সংসদের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা।

    জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট ম্যানুয়ালি গণনা শুরু হয়। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনার কাজে পোলিং অফিসারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাতের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”

    এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ২১টি হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়। তবে বিজয়ীদের তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল। তবে ভোট চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ এনে ছাত্রদলসহ চারটি প্যানেল এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

    জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৯৭ জন। এর মধ্যে ছয় হাজার ১১৫ জন ছাত্র এবং পাঁচ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রী। প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে।

  • বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    এবিএনএ:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বৃহস্পতিবার নানা বিশৃঙ্খলা, অভিযোগ ও বিরোধিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার পরও বেশ কিছু হলে রাত পর্যন্ত ভোট চলে। বিশেষ করে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট হয়, যেখানে সর্বাধিক ভোটার সংখ্যা ৯৯১।

    তবে দুপুর গড়াতেই নির্বাচন ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানায়। অপরদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে।

    ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় ছবি নেই, কিছু হলে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আবার মেয়েদের হলে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি একে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী স্মরণ এহসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, “শুরু থেকেই প্রার্থিতা বাতিল থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত অনিয়ম চলেছে। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।”

    এদিকে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব জানান, প্রশাসনের প্রস্তুতির অভাবে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি ও ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগও তাদের পক্ষ থেকে তোলা হয়।

    দিন শেষে ছাত্রদল ভোট বর্জন করলেও শিবির সমর্থিত জোটের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি করতে চাই। তারা ফিরলেও আমরা একসাথে থাকব।”

    ভোটগ্রহণ চলাকালে একাধিক হলে সাময়িক সময়ের জন্য ভোট বন্ধ হয়ে যায় বিশৃঙ্খলার কারণে। অভিযোগ ও প্রতিবাদে ঘেরা এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন, তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।

  • ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন: বেলা বাড়ার সাথে বেড়ে চলছে ভোটারদের ভিড়

    ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন: বেলা বাড়ার সাথে বেড়ে চলছে ভোটারদের ভিড়

    এবিএনএ:  দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলের ২২৪টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    সকালেই ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ভোটকেন্দ্রে ভিড় বাড়াচ্ছেন। শহীদ রফিক-জব্বার হল ও শহীদ সালাম-বরকত হলে সকাল বেলায় ভোটদানের হার খুবই কম ছিল। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর গড়ানোর পর ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে।

    এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। ভোট গ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ৬৭ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার এবং সমসংখ্যক কর্মকর্তা সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোট শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বিশেষ ওএমআর মেশিনে গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

    প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ নারী এবং ৭৫ শতাংশ পুরুষ। যদিও ভিপি পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই, তবে জিএস পদে দুইজন ছাত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়েদের পাঁচটি হলে একাধিক পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হয়ে গেছে।

    বাম, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রসহ মোট আটটি প্যানেল অংশ নিয়েছে এ নির্বাচনে। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের শেখ সাদী হাসান ও তানজিলা হোসেন বৈশাখী, শিবিরের আরিফুল্লাহ আদিব ও মাজহারুল ইসলাম, ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’-এর আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’-এর আব্দুর রশিদ জিতু ও মো. শাকিল আলী, এবং বিভিন্ন বাম সংগঠনের সংশপ্তক পর্ষদ থেকে একাধিক প্রার্থী।

    ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। দিনের শুরুতে ভোটের গতি ধীর হলেও দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোটারদের সরব উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

  • ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন বৃহস্পতিবার

    ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন বৃহস্পতিবার

    এবিএনএ:  অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। টানা ৩৩ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন।

    ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হল এবং ১০টি ছাত্রী হলে মোট ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এ জন্য নিয়োজিত থাকবেন ৬৭ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার ও সমসংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা।

    ভোট শেষে সিনেট হলে গণনা সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছে ১৫০০ পুলিশ, ৭ প্লাটুন বিজিবি এবং ৫ প্লাটুন আনসার। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও আশপাশে টহলে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মীর মশরারফ হোসেন হল গেইট ও প্রান্তিক গেইট ছাড়া সব গেইট ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এছাড়া ভোটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে হলের ভেতরের ক্যান্টিন ও দোকান খোলা থাকবে এবং পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    একই সময়ে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাকার স্টিকার ও নির্বাচন কমিশনের স্টিকারযুক্ত যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে।

    নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • ডাকসু ভোটে চমক: সাদিক, ফরহাদ ও মহিউদ্দিনের বিপুল জয়

    ডাকসু ভোটে চমক: সাদিক, ফরহাদ ও মহিউদ্দিনের বিপুল জয়

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন এস এম ফরহাদ।

    গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সারারাত ধরে চলে ভোটগণনা। বুধবার সকালে সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

    ভিপি পদে সাদিক কায়েম ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

    জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ পদে ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

    সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও শিবির সমর্থিত প্যানেলের মো. মহিউদ্দিন খান জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।

    অন্যদিকে, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ও ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল কাদের পান ১ হাজার ৩ ভোট।

    তবে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন দাবি করেছেন, “এই নির্বাচন ছিল একটি মডেল নির্বাচন। কোনও ধরনের কারচুপির সুযোগ ছিল না।”