Category: অর্থ বাণিজ্য

  • লন্ডনে বাংলাদেশি পাচারকৃত অর্থ জব্দ, ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক

    লন্ডনে বাংলাদেশি পাচারকৃত অর্থ জব্দ, ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক

    এবিএনএ: 

    দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এর ইতিবাচক ফলাফল ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মালিকানাধীন বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ করা হয়েছে যা দেশবাসীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ঋণ সক্ষমতা উন্নয়ন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং।

    গভর্নর বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তারই ফল হিসেবে লন্ডনে কিছু অর্থ জব্দ হয়েছে। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। শুধু লন্ডন নয়, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থ চিহ্নিত ও ফিরিয়ে আনতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

    উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে, যেগুলো বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পরিবার–পরিজনের নামে ছিল। এদের মধ্যে রয়েছেন সালমান রহমানের পুত্র আহমেদ শায়ান এফ রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমান।

    এই অর্থ ফেরত আসবে কখন—এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “এই মুহূর্তে সম্পদ বিক্রি বন্ধ হয়েছে, যা আইনি লড়াইয়ের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। বিচার শেষ হলে তখনই সম্পদ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, বিদেশি সরকার ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে তিনি সম্প্রতি লন্ডন ও দুবাই সফর করেছেন এবং শিগগিরই সিঙ্গাপুর সফরে যাবেন। এছাড়া, অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও ফেরত আনার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    গভর্নরের ভাষায়, “এটা জনগণের টাকা, আমানতকারীর অর্থ। এসব ফেরত আনা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে যে, অন্য দেশের অর্থ আটকে রাখা অনৈতিক।”

    এই পদক্ষেপকে তিনি অর্থপাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এখন পাচারকারীরা এসব সম্পদ বিক্রি করে পালিয়ে যেতে পারবে না। এটা একটি কৌশলগত জয়।”

  • চ্যালেঞ্জের পাহাড়ে অর্থনীতি, বাজেট ঘিরে স্পষ্ট বার্তা অর্থ উপদেষ্টার

    চ্যালেঞ্জের পাহাড়ে অর্থনীতি, বাজেট ঘিরে স্পষ্ট বার্তা অর্থ উপদেষ্টার

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শুধু অর্থ মন্ত্রণালয় নয়, গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই চাপের মধ্য দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের সাবেক গভর্নর ও বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক অলিম্পিয়াড ২০২৫’-এর জাতীয় পর্যায়ের মূল পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এই অলিম্পিয়াডের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “অনেকে আমাদের সমালোচনা করেন। বলেন আমরা অদক্ষ। সমালোচনা থাকবেই, তবে এসব মন্তব্য বিদেশে আমাদের ইমেজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

    তিনি আরও বলেন, “এবারের বাজেটে কর ছাড় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বাজেট পেশের পরপরই বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। সাধারণ জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) তাদের সব শর্ত চাপিয়ে দিতে পারেনি। আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানো গেছে।”

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন, ঢাকা ব্যাংকের এমডি শেখ মোহাম্মদ মারুফ এবং পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “প্রতি দশকে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ করে বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছায়নি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি পর্যাপ্ত পরিমাণে। তরুণ বেকারত্ব বেড়েছে এবং সর্বোপরি, দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।”

    অনুষ্ঠানে এবার সারা দেশের ২০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই করা ৫ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ। এই প্রতিভাবান পাঁচজন আজারবাইজানে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ইকোনমিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

    সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর বলেন, “অর্থনীতি এক প্রয়োগধর্মী বিজ্ঞান। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অর্থনৈতিক চিন্তায় দক্ষ করে তুলতে স্কুল-কলেজ থেকেই এর জনপ্রিয়তা বাড়ানো জরুরি।”


  • এনবিআর এখনই বিলুপ্ত হচ্ছে না, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়

    এনবিআর এখনই বিলুপ্ত হচ্ছে না, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়

    এবিএনএ: 

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তি নিয়ে চলমান গুজবের অবসান ঘটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনই এনবিআর বাতিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি ঘোষিত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এখনও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত নয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য এখনও একাধিক প্রক্রিয়া বাকি। এর মধ্যে রয়েছে দুটি নতুন বিভাগ গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদের অনুমোদন, যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

    এছাড়াও আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে, যা একটি সময়সাপেক্ষ ও বিস্তারিত প্রক্রিয়া।

    অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত করার আগে রাজস্ব নীতি সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করা হবে। সবদিক বিবেচনায় এই মুহূর্তে এনবিআর বিলুপ্তির প্রশ্নই আসে না।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, কার্যকর ও টেকসই করতে সরকার এই অধ্যাদেশ গ্রহণ করলেও, তা বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    এনবিআর এখনই বিলুপ্ত হচ্ছে না—এই ঘোষণার মাধ্যমে কর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রূপান্তর নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হলো।

  • মাত্র ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স! প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

    মাত্র ১৭ দিনে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স! প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

    এবিএনএ:  প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে বছর নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই দেশে এসেছে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা (ডলার প্রতি ১২২ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যার মূল্য ১১৫৫ কোটি টাকারও বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, মে মাসের এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে—৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি।

    এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মে মাসে রেমিট্যান্স অতিক্রম করতে পারে বিলিয়ন ডলার।

    চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি এবং এপ্রিল মাসে এসেছে ২৭৫ কোটি ডলার।

    এই প্রবণতা থেকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে এই গতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি আনবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রতি যে আগ্রহ বেড়েছে, তা অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্সে আরও বড় রেকর্ড গড়তে পারে বাংলাদেশ।

  • মাত্র ১০ দিনেই দেশে এলো ৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

    মাত্র ১০ দিনেই দেশে এলো ৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

    এবিএনএ:   চলতি ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম দশ দিনে বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন গতি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৯০ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার ১১৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

    সোমবার (১২ মে) এই তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মে মাসের এই ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় কোটি লাখ ৪৯ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রতিদিন গড়ে আসত কোটি ৫১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার।

    বিভিন্ন ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে এই রেমিট্যান্স দেশে প্রবাহিত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৭ কোটি ৯০ হাজার ডলার, যার মধ্যে কৃষি ব্যাংক থেকে এসেছে কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

    বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিদেশি ব্যাংক চ্যানেল ব্যবহার করে এসেছে ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

    এককভাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে—১৭ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

    এভাবে চলমান মাসে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

  • বিদেশির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল, কিন্তু ১২% কাজেই আটকে গেল সম্ভাবনার জাহাজ

    বিদেশির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল, কিন্তু ১২% কাজেই আটকে গেল সম্ভাবনার জাহাজ

    এবিএনএ:   চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি পরিচালনা সত্ত্বেও কার্যক্রমে গতি আসছে না। দিনে ১৩৬৯টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকলেও, চলতি সময়ে গড়ে ১৭০-১৮০ কনটেইনার পরিচালিত হচ্ছে। যা মূল লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২ শতাংশ।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, এই টার্মিনাল সম্পূর্ণ চালু হলে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে। তবে বাস্তবে এমন সাফল্য ধরা দেয়নি। প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের ঘাটতি, দক্ষ জনবল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরতা।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৮৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মাণ করে। ২২ বছরের জন্য সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। প্রতিষ্ঠানটি ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ১০ মাসে তা বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ১১৯ মিলিয়ন ডলার।

    পরিস্থিতি সামান্য কিছুটা বদলায় মে, যখন সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী জাহাজ একসঙ্গে ১৭১২টি আমদানি কনটেইনার নিয়ে প্রথমবার সরাসরি পতেঙ্গা টার্মিনালে নোঙর করে। এটি আগামী জুলাইয়ে রপ্তানি নিয়ে ফিরবে। এর আগে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনার এমন ঘটনা ছিল না।

    টার্মিনালটিতে রয়েছে তিনটি জেটি, যেখানে তিনটি জাহাজ একসঙ্গে নোঙর করতে পারে। তেল খালাসের জন্যও আলাদা ডলফিন জেটি স্থাপন করা হয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত পাঁচ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডল করতে পারবে বন্দর।

    আরএসজিটিআই-এর দাবি, তারা ইতিমধ্যে ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গেটওয়ে ভেসেল পরিচালনা করেছে এবং সেবা উন্নয়নে ১৪টি আরটিজি ক্রেন ৪টি এসটিএস ক্রেন সংযুক্ত করেছে। এছাড়া আধুনিক স্ক্যানার যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কনটেইনার স্ক্যান করতে সক্ষম।

    তবে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে এপ্রিলে পর্যন্ত মোট কনটেইনার হ্যান্ডল হয়েছে মাত্র ৫২ হাজার ২৯টি টিইইউএস। অথচ প্রত্যাশা ছিল প্রতিমাসে ৪১ হাজারের বেশি হ্যান্ডলিং।

    বন্দরের রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বিদেশি পরিচালনা থেকে রাজস্ব আসছে ঠিকই, তবে গতির ঘাটতি রয়েছে। একই মত দিয়েছেন শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজনও, তবে তিনি বিদেশি অপারেটর নিয়োগকে সময়োচিত সিদ্ধান্ত বলেছেন।

    সবমিলিয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগ পরিচালনার এই মডেলটি কার্যকর হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমানে যে ধীরগতির চিত্র সামনে আসছে, তাতে প্রশ্ন উঠেছে এই বিশাল বিনিয়োগ সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

  • রিটার্ন দাখিল না করলেই এবার নজরদারিতে পড়তে হবে-এনবিআর চেয়ারম্যান 

    রিটার্ন দাখিল না করলেই এবার নজরদারিতে পড়তে হবে-এনবিআর চেয়ারম্যান 

    এবিএনএ:  ঢাকায় এক সেমিনারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, কর রিটার্ন না দেওয়া ব্যক্তিদের এবার কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।

    রবিবার বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, “কমিশনারদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। নন-ফাইলারদের শনাক্ত করে তারা কত কর সংগ্রহ করতে পারছে, তা পরিমাপ করা হবে। এই লক্ষ্যে ২০২৫ সালের বাজেটে শক্তিশালী টার্গেট নির্ধারণ করা হচ্ছে।”

    এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, দেশের মোট রাজস্বের ৯২ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আসে। সরাসরি আদায় হয় মাত্র ৮ শতাংশ। এবার কর কর্মকর্তাদের দক্ষতা মূল্যায়নের সময় এসেছে।

    তিনি আরও বলেন, “অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম না মেনে করছাড় দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে করছাড়ের ক্ষমতা থাকবে সংসদের হাতে।”

    এ বছর বাজেটে ব্যবসা সহজীকরণের নানামুখী উদ্যোগ থাকলেও রাজস্ব আহরণে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    এ সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICAB), ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (JBCCI)।

    মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোং এর অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

  • রেকর্ড কমে স্বর্ণের দাম! ২২ ক্যারেট ভরিতে কমল ৩৫৭০ টাকা

    রেকর্ড কমে স্বর্ণের দাম! ২২ ক্যারেট ভরিতে কমল ৩৫৭০ টাকা

    এবিএনএ: এ দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ফের স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণে ৩ হাজার ৫৭০ টাকা কমিয়ে এখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৭৬ টাকা।

    শনিবার সন্ধ্যায় বাজুস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার (৪ মে) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য মানের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ:

    • ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম: ১,৬১,৩০১ টাকা

    • ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি: ১,৩৮,২৫৩ টাকা

    • সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি: ১,১৪,২৯৬ টাকা

    এর আগে ২৩ এপ্রিল বাজুস একবারে ৫ হাজার ৩৪২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে দুইবার মূল্য হ্রাসে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গয়না কেনার জন্য এটি একটি আদর্শ সময় হতে পারে, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমের কথা মাথায় রেখে।

  • চাকরির সুযোগ তৈরিতে বেসরকারি খাতের বিকল্প নেই: বিডা চেয়ারম্যান

    চাকরির সুযোগ তৈরিতে বেসরকারি খাতের বিকল্প নেই: বিডা চেয়ারম্যান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি খাতের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “ব্যবসা করবে ব্যবসায়ীরা—এই নীতির ভিত্তিতে সরকারকে ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে সরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে।”

    বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৫তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    চৌধুরী আশিক বলেন, “চাকরির সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকর ও গতিশীল হতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক প্রস্তাবনা। এখন দেখা যায়, এক হাজারের বেশি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সময়ের অভাবে এর একটিও গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সারা বছর খাতভিত্তিক আলোচনা ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে।”

    তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ১ হাজার নয়, বরং ১৫টি বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিন—যেগুলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে, যেখানে থাকবে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা। ব্যবসায়ীদের মার্কেট শেয়ার ও ট্যাক্স শেয়ারের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি।”

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান, এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

  • বাংলাদেশের রেটিং পুনর্বিবেচনার আহ্বান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    বাংলাদেশের রেটিং পুনর্বিবেচনার আহ্বান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    অর্থনীতি ডেস্ক, এবিএনএ:
    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ভিত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি আয় এবং নীতি সহিষ্ণুতা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলোর রেটিং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত—এমন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    সম্প্রতি এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারী, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই দেশের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় রেটিং কিছুটা নিম্নমুখী এসেছে বলে তারা মনে করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি:

    • দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনও এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় ভালো।

    • বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণে এবং ঋণ-জিডিপি অনুপাত সহনীয় মাত্রায়।

    • রেমিট্যান্স প্রবাহরপ্তানি আয়ে ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    • মুদ্রানীতির সংস্কারডলার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, বর্তমান আর্থিক এবং কাঠামোগত সংস্কারগুলো সময়মতো ফল দেবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রেটিং মূল্যায়নের সময় সাম্প্রতিক উন্নয়নগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভালো রেটিং অর্জিত হলে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের খরচ কমবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।