Category: রাজনীতি

  • প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, তবু ‘নগর ভবন’ ছুঁতে চান ইশরাক হোসেন—কেন এই নতুন সমীকরণ?

    প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, তবু ‘নগর ভবন’ ছুঁতে চান ইশরাক হোসেন—কেন এই নতুন সমীকরণ?

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের ছায়া ছাড়িয়ে নিজস্ব পরিচয় গড়ার চেষ্টা করছেন তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে গিয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া—এই অর্জন তাকে দেশের কনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের কাতারে এনে দিয়েছে। তবে ক্ষমতার মঞ্চে উঠেও তার চোখ ঢাকার পুরোনো স্বপ্নে—নগর ভবন।

    পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে রাজনীতির মাঠে

    রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না ইশরাক। বাবার মৃত্যুর পর মাঠে নামেন তিনি। খুব অল্প সময়েই শিক্ষিত, স্পষ্টভাষী ও মাঠে নামা নেতা হিসেবে দলীয় কর্মী ও নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন।

    শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতা

    ঢাকার স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেন। University of Hertfordshire থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

    সিটি নির্বাচন ও আইনি লড়াইয়ের অধ্যায়

    ২০২০ সালের বিতর্কিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে থাকা তাকে ‘লড়াকু’ রাজনীতিকের পরিচিতি দেয়। ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে তার পক্ষে রায় আসে—যা নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

    এমপি থেকে প্রতিমন্ত্রী—রাজনীতির নতুন অধ্যায়

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হওয়ার পরপরই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, কল্যাণ কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই।

    আবারও মেয়র পদে লড়াইয়ের ইঙ্গিত

    মন্ত্রীসভায় থেকেও ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতির টান ছাড়তে পারেননি ইশরাক। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানান। সমর্থকদের মতে, বাবার অসমাপ্ত নগর উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নই তার প্রধান লক্ষ্য।

    রাজপথের সংগ্রাম ও তরুণদের সংযোগ

    আধুনিক ভাষ্য, প্রযুক্তি-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের রাজনীতির এক আলাদা মুখ হয়ে উঠছেন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা, মামলা-মোকদ্দমা ও গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে কর্মীদের কাছে।

    সামনে চ্যালেঞ্জ কোথায়

    জাতীয় নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব আর ঢাকার নগর রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা—দুটি ময়দান একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই তার রাজনৈতিক যাত্রা আরও শক্ত ভিত পাবে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে কারা আসছেন সংসদে? বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সমীকরণ

    সংরক্ষিত নারী আসনে কারা আসছেন সংসদে? বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সমীকরণ

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে, যা আহ্বান করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গেজেট প্রকাশের পর নতুন সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য মনোনয়ন। এই প্রক্রিয়া ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের নারী নেত্রীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।

    বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জানিয়েছে, অধিবেশন শুরু হলেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত থেকে আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব পাবে। এতে করে সংরক্ষিত আসনে অভিজ্ঞ ও সক্রিয় নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা দলের ভেতরেই জোরালো।

    বিএনপির নারী নেত্রীদের অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ সময়ের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদেরই প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা দরকার। দলীয় রাজনীতিতে নবীনদের জায়গা করে দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করাও জরুরি বলে মত দেন তারা। এই ভারসাম্য রক্ষাই মনোনয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আরেক নারী নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন না, সুসময় এলে তারাই বেশি দৃশ্যমান হন। প্রকৃত ত্যাগীদের খুঁজে বের করে সম্মান জানানো না গেলে দলের ভেতরে হতাশা তৈরি হতে পারে। দল সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলছেন নেত্রীরা। সংসদ কেবল উপস্থিত থাকার জায়গা নয়; এখানে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও বিতর্কে দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে হয়। এ বিষয়ে হেলেন জেরিন খান বলেন, যোগ্যতা, সততা ও সংসদীয় শিষ্টাচার জানা নারীদেরই এগিয়ে আনা উচিত, যাতে সংসদের বিতর্কে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা যায়।

    আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ যাবে বিএনপির ভাগে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির ভাগেও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পড়বে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই স্পষ্ট হবে—সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের নতুন মুখগুলো কারা হচ্ছেন।

  • রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান–এর উদ্যোগে আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    দলের পক্ষে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে বিএনপির মহাসচিবের বাসভবনে যান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াতপত্র হস্তান্তর করেন।

    আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এবং মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।

  • আইনের চোখে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা: নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা

    আইনের চোখে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা: নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনের আলোকে মূল্যায়ন করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলে কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই এবং এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো দলের সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা করতে হলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মানতেই হবে। আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কার্যালয় খোলার উদ্যোগ নিলে তা বৈধতা পাবে না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব জানান, সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন শুরু হলে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কার্যক্রম এগোনোর কথাও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • কে হচ্ছেন স্পিকার-উপনেতা-চিফ হুইপ? ১৩তম সংসদের শীর্ষ তিন পদ ঘিরে জোর আলোচনা

    কে হচ্ছেন স্পিকার-উপনেতা-চিফ হুইপ? ১৩তম সংসদের শীর্ষ তিন পদ ঘিরে জোর আলোচনা

    এবিএনএ: আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদায়ী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কেউ সংসদ সদস্যদের শপথ ও প্রথম বৈঠকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে সিনিয়র কোনো সংসদ সদস্য দিয়ে প্রথম বৈঠক পরিচালনার নজির রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদের অধিবেশনেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

    এ পরিস্থিতিতে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্যদের কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে যাঁরা মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন, তাঁদের দিয়ে অধিবেশন পরিচালনার সম্ভাবনা কম। আবার যাঁদের স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাঁরাও প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারবেন না—এমন বিধান রয়েছে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইতোমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমান–কে নির্বাচিত করেছে। তবে নতুন সংসদে স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে কারা আসছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে নানামুখী আলোচনা চলছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ উপনেতা হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর নাম ঘুরে ফিরে আসছে। স্পিকার পদে আইনজীবী পটভূমির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার রীতি থাকায় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে।

    ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজানের মধ্যে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। আর চিফ হুইপ পদে জয়নুল আবেদীন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু ও নুরুল ইসলাম মনির নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

    এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে মাত্র—শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসবেন, তা সময়মতো জানা যাবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ: কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, জল্পনা তুঙ্গে

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ: কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, জল্পনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় আসন অনুপাতে দলের ঝুলিতে যাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নারী নেত্রীরা শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ কেউ বিভিন্ন পর্যায়ে লবিংও চালাচ্ছেন।

    বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে হবে। ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন নির্ধারিত হয়। এই হিসাবে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি আসন পাবে। বাকি আসনগুলো স্বতন্ত্রদের সমঝোতা ও জোটের ওপর নির্ভর করছে।

    নির্বাচন কমিশনের কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যে নাম প্রস্তাব করবে, নিয়ম অনুযায়ী তারাই নির্বাচিত হবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করা হবে।

    দলীয় সূত্র বলছে, কারা মনোনয়ন পাবেন কিংবা কোন যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে সাধারণ নির্বাচনে যোগ্য হয়েও মনোনয়ন না পাওয়া নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা মহিলা দল ও ছাত্রদলের বর্তমান-সাবেক নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথাও আলোচনায় আছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের পরিবারভুক্ত কেউ কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন কথাও ভেতরে ভেতরে শোনা যাচ্ছে।

    মনোনয়ন চূড়ান্ত না হলেও প্রত্যাশীরা বসে নেই। কেউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন, কেউ অতীতের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানাচ্ছেন।

    দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—মাহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বীথিকা বিনতে হোসাইন, নাভীলা চৌধুরী, রেহানা আক্তার রানু, নাদিয়া পাঠান পাপন, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবরিনা বিনতে আহমেদ, সাবিনা খান পপি সহ আরও অনেকে।

    সুলতানা আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি এবং নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে—এমন প্রত্যাশা তার।


    ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন জানান, দীর্ঘ সময় মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দুঃসময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সে বিবেচনায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।


    বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, সংগঠনের মাধ্যমে মানবিক ও আইনি সহায়তায় যুক্ত ছিলেন তিনি; সাম্প্রতিক সময়ে দলের কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছেন।


    সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, আগেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে—দল চাইলে আবারও সে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তিনি।

    সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগ পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনাও থামছে না।

  • ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্ক’—চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা, তদন্তের দাবি

    ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্ক’—চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা, তদন্তের দাবি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “জাতির কপালে কলঙ্কের দাগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে শনিবার রাজধানীর রামপুরায় দলটির নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে এত ত্যাগ ও আত্মদান সত্ত্বেও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পুরোনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি জাতিকে হতাশ করেছে।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

    নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, অভিযোগগুলোকে পক্ষপাতহীনভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    পর্যালোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সারা দেশ থেকে আসা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও ভোটের দিনকার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ জরুরি।

  • দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    এবিএনএ: দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা নিপীড়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের যে কোনো নাগরিক অবিচারের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতিম শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধীদল মিলেই নাগরিকদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা উচিত।

    এতিমদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের অবহেলিত এই শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা দিলে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাদের ভেতর থেকে মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহাল করা উচিত। অন্যথায় তা একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রত্যাশা। ইফতার মাহফিলটি পরিণত হয় সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক সংহতির বার্তাবাহক এক আয়োজনে।

  • শপথের রাতেই আবেগঘন শ্রদ্ধা—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেলেন বাবা–মায়ের কবর জিয়ারতে

    শপথের রাতেই আবেগঘন শ্রদ্ধা—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেলেন বাবা–মায়ের কবর জিয়ারতে

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই পারিবারিক আবেগের এক বিশেষ মুহূর্ত কাটালেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গিয়ে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করেন।

    সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকো-র স্ত্রী শর্মিলা রহমান

    দলীয় সূত্র জানায়, কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন। শপথের পর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে এমন পারিবারিক শ্রদ্ধা নিবেদনকে অনেকেই আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

    এর আগে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই আয়োজনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।

  • শপথের পর প্রথম দিনেই ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক

    শপথের পর প্রথম দিনেই ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত স্থানে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করান।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করবেন।

    দিনের কর্মসূচির শেষাংশে বিকেল ৩টায় নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শপথের পর প্রথম দিনের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনার বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।