Category: রাজনীতি

  • ১৩৩ অধ্যাদেশে তুমুল মতভেদ! ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের কড়া আপত্তি

    ১৩৩ অধ্যাদেশে তুমুল মতভেদ! ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের কড়া আপত্তি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দিয়েছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং এর মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু প্রস্তাব জোর করে পাস করানোর চেষ্টা চলছে।

    বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দলটি। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এছাড়া বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি বাতিল করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা খর্বের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

    গণভোট ইস্যুতে দলটির অবস্থান আরও কঠোর। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট জাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি বাতিলের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোট অসাংবিধানিক হয়, তাহলে একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?

    তিনি আরও জানান, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তবে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু যেসব প্রস্তাব জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হচ্ছে, সেগুলোতে কোনো আপস করবে না জামায়াত।

    সব মিলিয়ে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ ঘিরে সংসদে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: গবেষণার নামে অবমূল্যায়ন নয়

    স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: গবেষণার নামে অবমূল্যায়ন নয়

    এবিএনএ: দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কোনো ধরনের বিকৃতি বা অবমূল্যায়ন বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গবেষণা ও মতামত অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে তা যেন জাতির গৌরবময় ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতকে সম্পূর্ণভাবে ভুলে গেলে জাতি দিকভ্রান্ত হয়, আবার অতীতে আটকে থাকলেও অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া লাখো বীর সন্তানকে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, আহত যোদ্ধা এবং যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন। তাদের আত্মত্যাগেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার স্বপ্ন ধারণ করতেন এবং তার লেখালেখি ও কর্মকাণ্ডে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত তার অভিজ্ঞতা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক দলের অর্জন নয়; এটি ছিল সমগ্র জাতির সংগ্রাম। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব সবার।

    বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বিভাজন নয়, সম্মিলিত প্রয়াসেই একটি উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আহ্বান জানান—সবাই মিলে ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পবিত্র ঈদুল ফিতর দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর জন্য এবারের ঈদ ছিল বিষণ্নতায় ঘেরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও কারাবাসের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঈদের সময় অন্তত দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে জানান তারা।

    মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জানা গেছে, অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেননি। কোথাও সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা সবার মধ্যে পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, চাল ও নগদ সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না এবং প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

    এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ঈদের দিন তো দূরের কথা, এর আগেও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মীদের খোঁজখবর নেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, তারা কোনো পদ বা সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দলের আদর্শে বিশ্বাস করেই রাজপথে সক্রিয় থাকেন। কিন্তু ঈদের মতো সময়ে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

    তাদের আরও অভিযোগ, নেতারা নিজেদের প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশার দিকে নজর দিচ্ছেন না।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এমন অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেত্রী নাইনুর লিপি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল অনুকূল অবস্থানে থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হচ্ছে না। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মোংলা পৌর যুবদলের এক নেতা জানান, দুর্দিনে কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও দলীয় পর্যায়ে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন।

    এদিকে, বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সহায়তা কারা পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    তবে একই এলাকায় ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

    সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ মোংলার তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকল। এখন দেখার বিষয়, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেন কি না।

  • স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা—শ্রদ্ধা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন

    স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা—শ্রদ্ধা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে Bangladesh Nationalist Party। রোববার (২২ মার্চ) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব Ruhul Kabir Rizvi স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ঘোষণা অনুযায়ী, ২৬ মার্চ ভোর ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিনে ভোরে সাভারে অবস্থিত National Martyrs’ Memorial-এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকায় ফিরে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ Ziaur Rahman এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দোয়ার আয়োজন করা হবে।

    এর আগে ২৫ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর রমনায় Institution of Engineers Bangladesh মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন।

    দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ইতোমধ্যে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করেছে এবং একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

    রিজভী আরও জানান, দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর ইউনিট নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও নিজস্ব পরিকল্পনায় দিবসটি উদযাপন করবে।

    ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক Mirza Abbas গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর শারীরিক জটিলতার কারণে দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে তার মস্তিষ্কে প্রথম অপারেশন শুরু হয় এবং সন্ধ্যা প্রায় সোয়া ৬টার দিকে সেটি শেষ হয়। পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবারও দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অপারেশন তখনও চলছিল।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থার উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে পরিবার। এজন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ইফতারের সময় পানি পান করার মুহূর্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ওই রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    এছাড়া বিএনপির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir এবং Shafiqur Rahmanসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

    মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা: কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি

    ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের জোর আলোচনা: কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনটিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

    ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠনের প্রত্যাশা এখন সংগঠনের ভেতরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রদল

    ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ছাত্র রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

    বিশেষ করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি কিছুটা কমে গেলেও সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আবারও সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    নতুন কমিটি নিয়ে জোর গুঞ্জন

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একটি বৈঠকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরপর থেকেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অনেক পদপ্রত্যাশী নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোডাউন, ইফতার মাহফিল এবং সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

    উপরে বাঁ থেকে মমিনুল ইসলাম জিসান, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মনজরুল রিয়াদ, মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। নিচে বাঁ থেকে আমানউল্লাহ আমান, খোরসেদ আলম সোহেল, শরিফ প্রধান শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল।

    কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে

    ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এবার ‘সিলেকশন’ পদ্ধতির পরিবর্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের উদাহরণ তৈরি হয়েছে।

    ২০২৫ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এতে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

    নেতাকর্মীদের অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরাও উৎসাহিত হবেন।

    নেতৃত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতৃত্বের

    ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানিয়েছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    দলীয় সূত্র বলছে, সংগঠনের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    উপরে বাঁ থেকে বিএম কাউসার, সাইফ খান, নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, আবিদুল ইসলাম খান। নিচে বাঁ থেকে আল আমিন, মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, ইমাম আল নাসের মিশুক।

    নেতৃত্বের দৌড়ে যেসব নাম আলোচনায়

    আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৮ থেকে ২০১২ সেশনের নেতাদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন মমিনুল ইসলাম জিসান, খোরসেদ আলম সোহেল, মনজরুল রিয়াদ, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আমানউল্লাহ আমান এবং শরিফ প্রধান শুভসহ আরও কয়েকজন নেতা।

    এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সেশনের একাধিক নেতা সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    নতুন নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা

    ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের এবার নেতৃত্বে মূল্যায়ন করা উচিত।

    তারা মনে করেন, যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সাংগঠনিক দক্ষ নেতাদের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হলে ছাত্রদল আবারও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবে।

  • সংসদের আগে বিএনপি এমপিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু

    সংসদের আগে বিএনপি এমপিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দলের সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন।

    সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি

    রুদ্ধদ্বার এই কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    এছাড়া কর্মশালায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কী শেখানো হবে কর্মশালায়

    দলীয় সূত্র জানায়, এই কর্মশালায় নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের সামনে সংসদের বিভিন্ন কার্যপ্রণালী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • সংসদের আচরণবিধি

    • বিল প্রণয়ন ও তা পর্যালোচনার পদ্ধতি

    • বাজেট সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ

    • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম

    • অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপন ও আলোচনা পদ্ধতি

    অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাও নতুনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন।

    অধিবেশন আহ্বান

    আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন।

    নতুন এমপিদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব

    এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। ফলে সংসদীয় নিয়ম-কানুন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম।

    দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, কর্মশালায় এমপিদের শেখানো হবে—
    কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়, কীভাবে বিল নিয়ে আলোচনা করতে হয়, নিজের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা সংসদে উপস্থাপন করার কৌশল এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়ার পদ্ধতি।

    দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

    দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রথম দিনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা সেশন রাখা হয়েছে।

    পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এমপিরা অংশ নেবেন। বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন সংসদ সদস্যরা সংসদের কার্যক্রমে আরও দক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

  • নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কথিত ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ইস্যুতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও দিন শেষে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসে। তার দাবি, অনেক কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু এজেন্টের যোগসাজশে ব্যালট কেটে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত অন্তত ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    তাহের বলেন, সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তাদের ধারণা। তার মতে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য কারা এবং কীভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে—তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এজন্য সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, বিষয়টি স্পষ্ট করতে খলিলুর রহমানকেও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

  • ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রুলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাজনৈতিক বিষয় আদালতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায়ের চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    হাইকোর্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা, সংবিধান সংস্কার সভার শপথ, গণভোটের প্রশ্ন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে দলটি বলছে, সরকার যদি পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে।

    মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক পরিসরেই হওয়া উচিত। অতীতে বিভিন্ন ইস্যু আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির যে নজির তৈরি হয়েছে, তার ফল ইতিবাচক হয়নি; বরং তা জাতীয় অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও স্থবিরতা ডেকে এনেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের আচরণে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পিতভাবে রিট দায়ের করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব খাটানো হলে তা হবে দ্বিমুখী আচরণ এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালতকে ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পুরোনো কৌশল পরিহার করা জরুরি। দেশবাসী মনে করে, জনগণ ও জুলাই সনদকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যেকোনো প্রয়াস জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ থেকে সরে এসে সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই হতে পারে টেকসই পথ।

  • শহীদ ইউসুফের পরিবারের পাশে তারেক রহমান: সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে বাসায় গেল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

    শহীদ ইউসুফের পরিবারের পাশে তারেক রহমান: সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে বাসায় গেল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

    এবিএনএ: চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হওয়া ইউসুফের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাজধানীতে মানবিক কর্মসূচি পালন করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শহীদ পরিবারের দুর্দশার কথা প্রকাশ পাওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর দলীয় উদ্যোগে একটি প্রতিনিধি দল পরিবারটির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।

    সোমবার ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চন্দ্রিমা মডেল টাউনে শহীদ ইউসুফের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর নেতারা। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি পরিবারের কষ্টের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় সংগঠনটির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

    প্রতিনিধিদল শহীদ ইউসুফের মায়ের হাতে তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়। পাশাপাশি শহীদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় নেতাদের মতে, শহীদ পরিবারের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।